টার্কি পালন

   

ভূমিকা

বিভিন্ন জাত

ভারতে টার্কি পালন

পালন পদ্ধতি

খাদ্যের মাত্রা

অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ
 

ভূমিকা

টার্কি মূলতঃ মাংসের জন্য পালন করা হয় এবং পাশ্চাত্য দেশে বিশেষতঃ আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানী, ফ্রান্স, ইটালি ইত্যাদি দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 এর আদি উত্সভূমি হল উত্তর আমেরিকা। যখন আমেরিকা আবিষ্কার হয় (১৫০০ সাল নাগাদ) তখন স্পেনীয় অভিযানকারীরা টার্কি ইউরোপে নিয়ে আসেন। সেই সমস্ত টার্কির ক্রমোন্নতির ফলেই আরকের উন্নত জাত যথা, লার্জ হোয়াইট বা ব্রডবেষ্টেড হোয়াইট, ব্রডবেষ্টেড ব্রোঞ্জ, বেল্টসভিলি স্মল হোয়াইট, হোয়াইট হল্যান্ড ইত্যাদি জাতের উদ্ভব হয়েছে।

 বর্তমানে প্রচলিত জাতের টার্কির বিজ্ঞান সম্মত নাম মেলিয়াগ্রিস গালোপাভো। যদিও টার্কি নামের উত্স সম্বন্ধে সঠিক ভাবে জানা যায় না, তবে অনেকের অনুমান আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের ভাষাতে ফারকির অপভ্রংশ হয়তো এটা। ভারতে মূলতঃ ব্রডবেষ্টেড লার্জ হোয়াইট, ব্রডবেষ্টেড ব্রোঞ্জ এবং বেল্টসভিলি হোয়াইট পালন করা হয়।

                                                                                                                                                   
 

বিভিন্ন জাত

ব্রডবেষ্টেড ব্রোঞ্জ

এটা ইংল্যান্ডে পাওয়া যায়।পালকের রং কালো এবং বুকের তলায় হালকা সবুজ মিশ্রিত ব্রোঞ্জ রং থাকে এবং স্ত্রী পাখির (হেন্) -এর ওজন ৭ থেকে ১১ কিলোগ্রামের মতো এবং পুরুষের (টম্) ওজন ১১ থেকে ১৮ কিলোগ্রাম পর্য্যন্ত হয়। ডিম পাড়ার হার এবং বাচ্চা ফোটার হার কম।  

 

ব্রডবেষ্টেড লার্জ হোয়াইট

আমেরিকাতে পাওয়া যায়, পালকের রং সাদা। ব্রডবেষ্টেড ব্রোঞ্জ এবং হোয়াইট হল্যান্ড-এর সংকরায়ণের মাধ্যমে উত্ভাবিত হয়েছে।এ ডিম পাড়ার হার কম।

 

বেল্টসভিলি স্মল

যদিও আকারে ছোট কিন্তু ডিম পাড়ার হার ও বাচ্চা ফোটার হার অনেক ভালো। হোয়াইট হল্যান্ড, বোরবোন রেড, নারাঙ্গাসেট ইত্যাদি স্বীকৃত জাত আছে।

                                                                                                                                                   

ভারতে টার্কি পালন

যদিও ভারতে খৃষ্টানদের মধ্যে বহুদিন থেকেই টার্কি মাংস প্রচলিত, তবু ভারতে টার্কির পালন একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়ে গিয়েছে। এদেশে মাংসের দাম বেশী হওয়ার কারণে খৃষ্টানরাও একমাত্র বিশেষ কোন অনুষ্ঠান, যথা- বড়দিন, নববর্ষ ইত্যাদি দিনে তা খেতে আগ্রহী হন। কিন্তু পাশ্চাত্য দেশে সারাবছরই ব্যাপকভাবে চলে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, প্রতিবছর আমেরিকাতে ২৩ লাখ টন, ব্রিটেনে ৩ লাখ টন, জার্মানীতে ২.৩৫ লাখ টন, ইটালিতে ২.৭ লাখ টন উত্পাদিত হয়। মাথাপিছু বছরে টার্কি মাংস ভক্ষণের হার আমেরিকাতে ৮.৫ কেজি, ব্রিটেনে  ৪.৫ কেজি. জার্মানীতে ৩.২ কেজি এবং ইসরাইলে ১৩ কেজি যা মোট পোল্ট্রী মাংস ভক্ষণের হিসাবে আমেরিকাতে ১৮%, বুজি’এসে ১৭%, জার্মানীতে ২৪%, ইটালিতে ২৮% ও ইসরাইলে ৩৪%। সুতরাং আশা করা যায়, আমাদের দেশেও আগামীদিনে এর ব্যাপক প্রচলন হবে, যেমন করে মুরগীর প্রচলন হয়েছে। টার্কি মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং মোলায়েম। কিন্তু এর চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম এবং শ্বেত মাংস হিসাবে পরিগণিত। বিভিন্ন ঋতু ও আবহাওয়াতে টার্কি সহজে পালন করা যায়। তবে আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং আবহাওয়া এই মুহুর্তে এর ব্যাপক প্রসারে কিছুটা প্রতিবন্ধক।

১)  এর F.C.R. কিছুটা বেশী হওয়ার জন্য ব্রয়লারের তুলনায় অধিক খাদ্য লাগে।

২)  গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে ডিম উত্পাদন কম হওয়াতে বাচ্চা উত্পাদন কমে যায়, ফলে সারা বছর চাহিদা মতো যোগান দেওয়া সম্ভব হয় না।

৩)  পাখীর ওজন সবচেয়ে বেশী অর্থাত ৭ কেজি বা তার বেশী হওয়ার জন্য খুচরো চাহিদা মেটানো অসুবিধাজনক আবার হিমায়িত মাংসের

প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা।

এই সমস্ত অসুবিধা সত্ত্বেও চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগে এই সমস্ত অসুবিধা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। টার্কির ডিমের গড় ওজন  ৮৫ গ্রাম। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ২৮ দিন লাগে। ইনকিউবেটরে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং টার্ণিং-এর প্রয়োজন মুরগীর মতোই (১০০০ ফা., ৬০% R.H ). এবং প্রতিঘন্টায় একবার ৯০ ডিগ্রী ঘোরানো প্রয়োজন।   

                                                                                                                                                   

পালন পদ্ধতি

টার্কির ব্রুডিং এবং পালন পদ্ধতি মোটোমুটি মুরগীর মতোই। ব্রুডিং-এর তাপমাত্রা সামান্য বেশী লাগে। তাই শুরুতে ১০০০ ফা. ব্রুডারের তাপমাত্রা রাখা হয়। তারপর প্রতি সপ্তাহে ৫০ ফা. করে কমানো হয় । প্রথম কয়েকদিন অনেকসময় নিজে থেকে খেতে চায় না, তাই ম্যাসে সামান্য জলে দিয়ে ভিজিয়ে খাইয়ে দিতে হয়। কিন্তু সেই ভেজা খাবার যেন কোনমতেই ২-৩ ঘন্টার বেশী না থাকে।

টার্কির খাদ্য প্রথমে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত স্টার্টার ম্যাস থেকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিনের মাত্রা কমিয়ে ক্যলোরির মাত্রা বৃদ্ধি করতে হয়।

                                                                                                                                                   

খাদ্যের মাত্রা

বয়স (সপ্তাহ)

খাদ্যের ধরণ

প্রোটিনের মাত্রা (%)

খাদ্যশক্তি মাত্রা

(কিলো ক্যালোরি প্রতি কেজি)

০ - ৬

স্টার্টার ম্যাস

১৮

২৮০০

৭ - ৮

প্রথম গ্রোয়ার ম্যাস

২৬

২৮০০

৯ - ১৬

দ্বিতীয় গ্রোয়ার ম্যাস

২২

৩০০০

১৭ থেকে বিক্রয় অবধি

ফিনিসার ম্যাস

১৬

৩৫০০

বয়স অনুযায়ী খাদ্যের প্রয়োজন ও F.C.R.

বয়স (সপ্তাহ)

দেহের ওজন (গ্রাম)

সপ্তাহে খাদ্যের প্রয়োজন

(কেঃ জিঃ)

ক্রমপুঞ্জিত খাদ্যের প্রয়োজন

(কেঃ জিঃ)

F.C.R.

প্রথমদিন

৫৫

--

--

--

০ - ৪

৫৬৮

০.৬০৬

০.৬০৬

১.০৭১

৫ - ৮

১৩১৫

১.৯৯৪

২.৬০০

১.৬১৫

৯ - ১২

২৯৮৯

৩.৫১৪

৬.১১৪

২.০৪৭

১৩ - ১৬

৪১৩৭

৫.০০৯

১১.১২৩

২.৭০৫

১৭ - ২০

৪৭৮৭

৫.২২৭

১৬.৩৫০

৩.৪১৯

২১ - ২৪

৬১৭৫

৫.৯৪১

২২.২৯১

৩.৬১৯

টার্কি পালন মুরগীর মতোই (১) মুক্ত, (২) অর্ধমুক্ত ও (৩) নিবিড় বা আবদ্ধ পদ্ধতিতে পালন করা যায়। তবে আমাদের মতো জনবহুল দেশে নিবিড় পদ্ধতিতে পালনই শ্রেয় এবং তাতে ডীপ লিটার পদ্ধিতিই শ্রেয়।

ডীপ লিটার পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় মেঝে, খাবার এবং জলের পাত্রের প্রয়োজন নিম্নরূপ

বয়স (সপ্তাহ)

প্রয়োজনীয় মেঝের ক্ষেত্রফল (বঃ ফুঃ)

খাবারের জায়গা

(ইঞ্চি)

জলের জায়গা

(ইঞ্চি)

০ - ৪

০.৭৫

১/২

৫ - ৮

১.২৫

১ ১/২

২/৩

৯ - ১২

১.৭৫

১৩ - ১৬

২.৫০

১৭ এবং উর্দ্ধে

৪.০০

২ ১/২

১ ১/২

ব্রিডিং-এর জন্য

৪.৫০

১ ১/২

স্ত্রী পাখী সাধারণতঃ বছরে ৭০ থেকে ৮০ টা ডিম পাড়ে । সাধারণতঃ ৩ বছর বয়স পর্য্যন্ত বংশবৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা যায় ।     

                                                                                                                                                   
 

বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ করুন : -

উপ অধিকর্তা, প্রাণী-সম্পদ বিকাশ (মুরগী বিপণন)  রাজ্য মুরগী খামার, টালিগঞ্জ, ৪২, গ্রাহাম রোড,

কোলকাতা - ৭০০ ০৪২

দূরভাষ - ০৩৩-২৪১১ ৫৩১৪