প্রাণীদের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
গরুর রোগ ও প্রতিকার
|
|
গরুর রোগ হলে খাওয়ার রুচি না থাকা, কম খাওয়া বা
না খাওয়া, চুপচাপ পড়ে থাকা, দুর্বল হয়ে যাওয়া আবার অনেক সময় শুল বেদনার জন্য ছটফট করা, উত্পাদন কমে
যাওয়া, শরীরের ওজন কমে যাওয়া, লোম খসখসে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি৷
|
মিল্ক ফিভার / ঠুনকো রোগ
|
এই রোগ সাধারণতঃ বাচ্চা দেওয়ার সপ্তাহের মধ্যে হয়৷ বেশীর ভাগ
ক্ষেত্রে ২ দিনের মধ্যেই হয়৷ বাচ্চা দেওয়ার আগে
খাবারে কম ক্যালসিয়াম থাকলে বা গাই-এর রক্তে কম ক্যালসিয়াম থাকলে এই
রোগ হয়৷
|
লক্ষণ
|
-
এই রোগ হলে গরুর হঠাত করে দুধ কমে যাবে, কাঁপতে থাকবে,
শরীরে জোর কমে যাবে৷ দাঁড়াতে পারবে না৷ শরীর ঠান্ডা হয়ে যাবে৷
চোখের তারা বড় হয় লালা ঝরে, এমন ভাবে শুয়ে থাকে যে ঘাড়
বেঁকিয়ে মাথা পেটের উপর পড়ে, শ্বাস কষ্ট হয়৷
|
প্রতিকার
|
-
ক্যালসিয়াম জাতীয় ইনজেকশন যেমন মাইফেক্স, ক্যালরোরোল,
ক্যালমেক্স ইত্যাদি শিরায় দিতে হবে, পরে খাবারে ক্যালসিয়ামের
পরিমাণ বাড়তে হবে৷
|
কিটোসিস
|
এই রোগ হয় গাই বাচ্চা দেওয়ার ৬ - ৮ সপ্তাহ পরে, বিশেষ
করে যখন খুব বেশী দুধ দেয়৷ এর কারণ হল কম শ্বেতসার জাতীয়
খাদ্য৷
|
লক্ষণ
|
-
এই রোগে স্নায়বিক অসুস্থতা দেখা দেবে৷ সাধারণ ভাবে
তাপমাত্রা, নাড়ীর মাত্রার কোন হেরফের হবে না৷ তবে শ্বাস ও
মূত্র থেকে মিষ্টি গন্ধ বেরোবে৷ ম্যাস
জাতীয় খাবার না খেয়ে খড় চিবুবে৷
|
প্রতিকার
|
-
গ্লুকোজ জাতীয় ঔষধ শিরায় দিতে হবে৷
যেমন- ডেক্সট্রোজ ২৫ - ৫০ শতাংশ ও রিনটোজ ৫০ শতাংশ
ইত্যাদি৷
|
| |
 |
|
|
শুকরের রোগ ও প্রতিকার
|
 |
শুকরের নানা প্রকার রোগ হতে পারে৷
|
শুকরের কলেরা (সোয়াইন ফিভার)- এটি একটি ভাইরাস জনিত ছোঁয়াচে রোগ এবং
হঠাত মৃত্যু ঘটতে পারে৷ অল্পবয়সী শুকরের এই রোগ বেশী
দেখা যায়৷
|
লক্ষণ
|
-
এই রোগে তাপমাত্রা বেড়ে ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ১০৮ ডিগ্রী
ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়৷ সাথে পাতলা পায়খানা
ও বমি হয়৷ খিদে কমে যায়৷ চোখ ও নাক দিয়ে পুরু রস বের
হয়৷
|
প্রতিরোধ
|
-
আক্রান্ত শুকরকে কেবলমাত্র সিরাম সহযোগে চিকিত্সা করলে কিছুটা সুফল
পাওয়া যায়৷
|
শুকরের কৃমি রোগ- এটি শুকরের একটি প্রধান রোগ৷
সাধারণত গোল বা সুতা কৃমির দ্বারাই শুকর বেশী আক্রান্ত হয়৷
|
লক্ষণ
|
-
এই রোগে শুকরের ওজন ঠিকমত বাড়ে না৷ পুষ্টিকর খাবারও কাজে
লাগে না৷ শুকর
দুর্বল হয়ে পড়ে৷
|
প্রতিরোধ
|
-
একমাস বয়স থেকে শুকরকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে৷ এরপর প্রতিমাসে একবার
করে ঐ ওষুধ খাইয়ে যেতে হবে৷ ওষুধের পরিমাণ প্রতি
কেজি ওজনের জন্য ২০০ মিলি গ্রাম (০.২ গ্রাম) পাইপারজিন এডিপেট পাউডার
খাওয়াতে হবে৷
|
এঁষো রোগ (এফ.এম.ডি.)- এটি একটি ভাইরাস জনিত ও ছোঁয়াচে রোগ৷
গরুর মত শুকরের এই রোগ হতে পারে বছরের যে কোন সময়ে৷
|
লক্ষণ
|
এই রোগ হলে মুখে ও পায়ে ঘা হয়, পায়ের ক্ষুরের মাঝে ও জিভের আশেপাশে,
ভিতরে ও মাড়িতে, দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়৷ ক্ষিদে কমে যায়৷
|
প্রতিরোধ
|
কোন জীবানুনাশক ওযুধ মিশ্রিত জলে যেমন ২ ভাগ তুঁতে বা ফটকিরি মিশ্রিতজলে
পায়ের ঘা ও মুখের ঘা ধুয়ে দিতে হয়৷ পায়ের ঘায়ে পটাশ জল বা হিমাক্স, সোরিন
জাতীয় কোন মলম ব্যবহার করা যায়৷
|
রক্তশূন্যতা (আনিমিয়া)- এটি একটি অপুষ্টি
জনিত রোগ৷ যেসব বাচ্চা চরতে যায় না কিংবা খাবারে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রণ,
কপার, কোবাল্ট বা ভিটামিন-বি থাকে না তাদের রক্ত কমে যাওয়া অসুখ হয়৷
|
লক্ষণ
|
এই রোগে বাচ্চা বাড়ে না, ভাল খায় না, শুকিয়ে যায়, হাঁপাতে থাকে,
ছোটাছুটি করে না এবং মারা যায়৷ গায়ের চামড়া,
চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়৷
|
প্রতিরোধ
|
হাফ কেজি জলে হাফ কেজি ফেরাস সালফেট ও ১০০ গ্রাম মধু মিশিয়ে মায়ের
বাঁটে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়৷ তাছাড়া
আয়রন ইনজেকশন (ইমফেরাম) বা আয়রন টনিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়৷
|
শুকরের রোগের কিছু লক্ষণ ও কারণ-
|
লক্ষণ |
কারণ |
১) হঠাত মৃত্যু হলে |
১) সোয়াইন ফিভার (কলেরা রোগ), সোয়াইন ডিসেন্ট্রি (পাতলা পায়খানা)
খাবারে বিষক্রিয়া৷ |
২) পাতলা পায়খানা হলে |
২) সাধারণ উদরাময় (এনটেরাইটিস), পেটে কৃমি, ডিসেন্ট্রি, সোয়াইন
ফিভার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবার বেশী আঁশযুক্ত৷ |
৩) চামড়া ও লোম খারাপ হলে |
৩) লবণ ও প্রোটিনের অভাব৷ |
৪) রক্তশূন্যতা |
৪) আয়রণ, কপার ও কোবাল্টের ও ভিটামিন-বি এর অভাব৷
|
৫) রাতকানা |
৫) ভিটামিনের অভাব৷ |
৬) বাচ্চা শুকরের লোমহীন অবস্থা হলে |
৬) আয়োডিনের অভাব৷ |
৭) খোড়ানোভাব, রিকেট, প্যারালাইসিস হলে |
৭) ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন- এ, ডি,ও বি এর অভাব৷ |
৮) ক্ষিদে কমে যাওয়া |
৮) প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অভাব৷ |
৯) প্রজনন ক্ষমতা কমে গেলে বা বৃদ্ধি হলে |
৯) খুব বেশী মোটা বা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, ভিটামিন- এ ও ই এর
অভাব৷ |
১০) কম দৈহিক বৃদ্ধি হলে |
১০) দানাশস্যের অভাব, কম খেতে দেওয়া, পুষ্টিকর খাবার না দেওয়া৷
খাবারে মিনারেল ও ভিটামিনের অভাব৷ কৃমি রোগ ইত্যাদি৷ |
 |
|
|
| |
ছাগলের রোগ ও প্রতিকার
|
 |
১) কৃমি রোগ- এই রোগে ছাগল খুব বেশী আক্রান্ত হয়৷ সাধারণতঃ আসকারিস জাতীয় গোলকৃমি,আফিস্টোম, লিভার ফ্লুক, চ্যাপ্টা কৃমি দ্বারা বেশী আক্রান্ত
হয়৷ চারণ ভূমি ও বাসস্থান থেকে এই
রোগ ছড়াতে পারে৷ লক্ষণ- এই রোগে পাতলা পায়খানা
হয়৷ ঠিকমত ওজন বৃদ্ধি হয় না, শরীর শুকিয়ে যায়, পুষ্টিকর
খাবারেও বৃদ্ধি হয় না৷ খাওয়া কমে যায়, দুর্বল হয়ে
যায়৷ মৃত্যুও হতে পারে৷ চারণভূমিতে
মলের সাথে এই কৃমি ছড়িয়ে পড়ে৷ চিকিত্সা ব্যবস্থা-
বর্ষার আগে ও পরে নিয়ম করে কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হয়৷ তবে
কৃমির আক্রমণ যেহেতু যে কোন সময় হতে পারে তাই প্রতিমাসে একবার কৃমির ঔষধ
খাওয়ানো দরকার৷ আসকারিস জাতীয়
গোলকৃমি হলে পাইপ্যারাজিন আডিপেট পাউডার প্রতি ৪৫
কেজিতে ১০ গ্রাম হারে বা ছাগল পিছু ৩ গ্রাম করে খালিপেটে সকালে খাওয়াতে হয়,
এরপর ২০ দিন পর আবার খাওয়াতে হয়৷ লিভার বা আস্ফিষ্টোম ফ্লুক হলে ডিসটোডিন ট্যাবলেট প্রতি কেজির জন্য
১০০ - ১৫০ মিগ্রা
হারে বা অক্সিক্লোজানাইড লিকুইড ২ - ২.৫ মিলি প্রতি ছাগল পিছু দেওয়া যায় বা প্রতি ৫ কেজি ওজনের
জন্য ১ মিলি দেওয়া হয়৷ ২)
ছাগলের ছোঁয়াচে প্লুরো নিউমোনিয়া রোগ- লক্ষণ- এই জ্বর (১০৪ ডিগ্রি - ১০৭ ডিগ্রি
) শ্বাসকষ্ট, প্রথম অবস্থায় নাক দিয়ে জল বেরোয়, পরে হলুদ হয়ে যায়৷ কাশি হয়, দিনদিন রোগা হয়ে যায়, স্টেথো লাগালে বোঝা যায় বুকে
জল জমেছে, খিদে কমে যায়৷ এক সপ্তাহের মধ্যে ছাগলটি মারা
যায়৷ চিকিত্সা- টেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশান বেশী মাত্রায়
শিরায় করতে হবে তত্ক্ষণাত বা সালফামেজাথিম (৩৩১/৩%) হলে ৩০ মিলি
একবারে ইনজেকশান দিতে হবে৷ ৩)
গোট পক্স বা বসন্ত রোগ- এটি একটি ভাইরাস ঘটিত ছোঁয়াচে রোগ৷ লক্ষণ- এই রোগ দেখা দিলে প্রথমে জ্বর, সর্দি, চোখ ও নাক
দিয়ে জল পড়ে, পালান, মুখে, কানে, ক্ষত বা জলফোস্কা দেখা যায়৷ এই জলফোস্কা অনেকসময় পেকে পুঁজ হয়৷
বাচ্চারা আক্রান্ত হলে মারা যায়৷ বড়দের দ্রুত চিকিত্সা
করতে হয়৷ এই রোগের স্থায়িত্বকাল ২
- ৭ দিন৷ চিকিত্সা ও
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- আক্রান্ত ছাগলগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে হবে৷ কোন আন্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন ক্ষতে
লাগাতে হবে৷ তার আগে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিয়ে ক্ষত
ধুয়ে দিতে হয়৷ প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা হিসাবে টিকা দিতে
হবে৷ বসন্ত রোগে কোন ছাগল মারা গেলে তাকে মাঠে ও অন্য
কোন খোলা জায়গায় ফেলা উচিত নয়৷ চুন মাখিয়ে গর্তে পুঁতে
দিতে হয় মৃত ছাগলটিকে৷ ৪) এঁসো
রোগ- ভাইরাস জনিত এই রোগ ছাগলেরও দেখা যায়৷ বিশেষত
বর্ষার সময় এই রোগের প্রার্দুভাব বেশী দেখা যায় এবং খুব দ্রুত অন্যান্য
ছাগলের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে৷ লক্ষণ- এই রোগে
মুখের ভিতরের দিকে, জিহ্বায়, ঠোঁটে, পায়ের ক্ষুরে ঘা হয়৷
এফ.এম.ডি. ভ্যাকসিন বছরে দুবার নিলে এই রোগের আক্রমণ হয় না৷ ৫) পেট ফোলা বা ব্লোট- অনেক সময় নতুন সবুজ ঘাস প্রচুর
পরিমাণে খেয়ে ফেললে পেট ফুলে যায়৷ বাঁ দিকের পেট ফুলে
যায়৷ শ্বাসকষ্ট হয়৷ ছাগল ছটফট করতে
থাকে৷ বেশী পেট ফুলে গেলে ছাগল মারা যায়৷ চিকিত্সা ও প্রতিকার- এক কাপ তিসির তেল খাইয়ে দিলে
স্বস্তি পায়৷
তাছাড়া ব্লোটোসিল ২০ মিলি ১২ ঘন্টা অন্তর খাওয়ালে রোগ
সেরে যেতে পারে৷ তবে অত্যধিক পেট ফুলে গেলে সুঁচ ফুটিয়ে
গ্যাস বের করে দিতে হয়৷ কচি সবুজ ঘাস বেশী করে খাওয়ানো
ঠিক নয়, সুবাবুলের পাতাও বেশী খাওয়াতে নেই৷
|
 |
|
|
ভেড়ার
রোগ ও প্রতিকার
|
 |
ক্রমিক সংখ্যা
|
রোগের নাম
|
প্রকৃতি ও
প্রকাশ
|
রোগ লক্ষণ
|
নিয়ন্ত্রণ ও
নিবারণ
|
১)
|
এনথ্রাক্স
|
এই জীবানু মাটির ভিতর বহু বছর জীবিত থাকে এবং বাতাসের
সংস্পর্শে এলে স্পোর সৃষ্টি করতে পারে।
জীবানুটি শরীরের মধ্যে কোন একটি ক্ষতের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে অথবা শ্বাস
দ্বারা বা খাদ্যরূপে গৃহীত হয়।
সুপ্তাবস্থা ১-৫ দিন।
|
বহুক্ষেত্রে রোগটি অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং
অসুস্থতার কোন পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই নাক এবং পায়ূ থেকে রক্ত স্রাবসব মৃত
পড়ে থাকতে দেখা যায়।
|
মৃত ভেড়াকে মাটির ১.৮ মিটার গভীরে পুঁতে ফেলা দরকার।
জীবিত ভেড়াদের টিকা দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাণী চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
|
২)
|
ব্ল্যাক কোয়ার্টার
|
এটি একটি তীব্র সংক্রামক রোগ।
|
প্রথমে খোঁড়াতে দেখা যায়, তারপর পায়ের ওপর দিকে স্ফীতি
সৃষ্টি হয় যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং চামড়ার নীচে গ্যাস জমে।
চলাফেরা করতে যন্ত্রণা হয়, ক্ষিদে কমে যায় এবং রোমন্থন
বন্ধ হয়ে যায়। শরীরের
তাপমাত্রা ও শ্বাস প্রশ্বাসের হের বেড়ে যায়।
রোগ সূচনার ১২-৪৮ ঘন্টার মধ্যে আকষ্মিক মৃত্যু হয়।
|
আক্রান্ত অঞ্চলগুলিতে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়স পর্যন্ত সমস্ত
ভেড়াকে লোম কাটার আগেই প্রতি বছর টিকা দিতে হবে।
|
৩)
|
মারাত্মক ধরণের ইডেমা
|
ব্ল্যাক কোয়ার্টার-এর সমগোত্রীয়।
|
ঐ
|
ঐ
খোজাকরণ, লোম ছাঁটা, প্রসব এবং শল্য চিকিত্সার সময়
যথোপযুক্ত চিকিত্সা করলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব হ্রাস পায়।
|
৪)
|
বটিউলিজম
|
এটি জৈব বিষ উত্পন্ন করে।
|
আক্রান্ত ভেড়াগুলি প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
|
আক্রান্ত ভেড়াগুলিকে জবাই করার জন্য আলাদা করে নেওয়া হয়।
অন্যদের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়।
|
৫)
|
জোনস্ রোগ
|
দীর্ঘকাল স্থায়ী, দূরারোগ্য ও সংক্রামক রোগ।
জল ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়।
|
আক্রান্ত প্রাণী দূর্বল হয়ে পড়ে।
বিশেষ গন্ধময়, ফেনাযুক্ত পাতলা পায়খানা হয়।
|
আক্রান্ত ভেড়াগুলিকে জবাই করার জন্য আলাদা করে নেওয়া হয়।
কঠোর স্বাস্থ্য বিধি পালন করা প্রয়োজন।
|
|
| |
ক্রমিক সংখ্যা
|
রোগের নাম
|
প্রকৃতি ও প্রকাশ
|
রোগ লক্ষণ
|
নিয়ন্ত্রণ ও নিবারণ
|
৬)
|
নীল জিহ্বা
|
একটা মশার মতো পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়।
|
২-৪ দিনের সুপ্তাবস্থার পর উচ্চ তাপমাত্রা সহ রোগটি
আত্মপ্রকাশ করে। প্রাণীটি
নিস্তেজ হয়ে পড়ে, খাবারে অরুচি আসে, কিন্তু তৃষ্ণার্ত থাকে। গিলতে অসুবিধা হয় আর মুখ থেকে দুর্গন্ধ
বেরোয়।
|
রোদ না লাগিয়ে উপযুক্ত যত্নে রাখা দরকার। প্রাণী চিকিত্সকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
|
৭)
|
ভেড়ের বসন্ত
|
ছোঁয়াচে রোগ, প্রায়ই দেখা যায়।
|
সুস্থ্য ও আক্রান্ত ভেড়াদের মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ
সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। উচ্চ
তাপমাত্রা, চোখ ও নাক থেকে স্রাব বের হওয়া, মুখ থেকে লাল ঝরা, খাদ্যে
অরুচি এবং চলার অক্ষমতা। যে
অঞ্চলে রোগ দ্রুত ছড়ায় সেখানে রোগটি খুব তীব্র এবং মৃত্যুর হার বেশী হতে
পারে।
|
চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। আক্রান্ত ভেড়াকে মাঠে ছাড়া উচিত নয়। মৃত ভেড়াকে চুন মাখিয়ে মাটিতে গর্ত করে
পুঁতে ফেলতে হয়।
|
৮)
|
পেস্টেডেজ পেটিটস রুমিন্যান্টস (পি. পি. আর.)
|
ভেড়া ও ছাগলের একটি মারাত্মক ভাইরাস ঘটিত রোগ।
|
উচ্চ তাপমাত্রা এবং নাক দিয়ে সর্দি ঝরা দিয়ে সূচনা, যা
পরে আরও প্রকট হয় এবং শেষে পাতলা পায়খানা হয়। সাধারণতঃ নিউমোনিয়ার ফলে মারা যায়।
|
|
|
| |
 |
|
|
খরগোশের রোগ ও প্রতিকার
|
 |
মিক্সোমাটোসিস
(Myxomatosis)
|
এটি খরগোশের একটি প্রাণনাশক রোগ৷ আঙ্গোরা, ফ্লেমিস
রাবিট, জ্যাক রাবিট ইত্যাদি প্রজাতির খরগোশের এই রোগ
প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশী৷ এই
ভাইরাস পক্স ভাইরাস শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত৷ রোগগ্রস্ত অবস্থায় খরগোশের প্রজনন ঘটালে
মুখ, নাক, ঠোঁট, কান, চোখের পাতা ইত্যাদি অঙ্গে ইডেমা হয়৷ কান দেহ থেকে ঝুলে পড়তে
পারে৷ কখনও
কখনও শ্বাসকষ্ট হয়৷
|
চিকিত্সা- এই রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নেই৷ রোগের লক্ষণ
অনুযায়ী চিকিত্সা করতে হয়৷
সেফালেক্সিন বা এনরোফ্লক্সাসিন জলের সাথে মিশিয়ে খরগোশকে খাওয়ানো যেতে পারে৷
|
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- অসুস্থ খরগোশকে মেরে
ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে৷
-
ফর্মালিন বা ৩ শতাংশ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দিয়ে খরগোশের খামার
জীবাণুমুক্ত করতে হবে৷
-
প্রতিষেধক টীকা পাওয়া গেলে খরগোশকে টীকা দিতে হবে৷
|
সালমোনেল্লেসিস
(Salmonellosis)
|
সালমোনেল্লা টাইফিমুরিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের কারণ৷ এই রোগে
খরগোশের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও পাতলা পায়খানা হয়৷ গর্ভবতী খরগোশের
গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷
এই রোগে খরগোশের মৃত্যুহার অনেক বেশী৷
|
চিকিত্সা- এনরোফ্লক্সাসিন বা সেফালোক্সিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিন
নামক আন্টিবায়োটিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়৷
|
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- খরগোশের খামার পরিষ্কার রাখতে হবে৷
-
দুষিত জল বা খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করতে হবে৷
-
মৃত খরগোশেকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে৷ -
খরগোশের খামারটিকে ভালভাবে জীবাণুমুক্ত
করতে হবে৷
|
পরজীবী ঘটিত রোগ
(Parasitic diseases)
|
হেপাটিক কক্সিডিওসিস
(Hepatic Coccidiosis)
|
আইমেরিয়া স্টাইডি নামক পরজীবী এই রোগের কারণ৷ সাধারণত কম বয়স্ক খরগোশের এই রোগ হয়৷
|
-
চিকিত্সা- সালফাকুইনক্সালিন ডেরিভেটিভ এই রোগের খুব ভাল ঔষধ৷
খাদ্যে শতকরা ০.০২৫ ভাগ হিসাবে ও পানীয় জলের শতকরা ০.০৪ ভাগ হিসাবে এই ঔষধ
খরগোশটিকে খাওয়ালে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়৷
|
ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিস
(Intestinal Coccidiosis)
|
আইমেরিয়া সিকিওলা, আইমেরিয়া ফ্লাভেসেনস, আইমেরিয়া ইন্টেসটিনালিস,
আইমেরিয়া ইরেসিডুয়া, আইমেরিয়া ম্যাগনা, আইমেরিয়া মোডিয়া, আইমেরিয়া পারফোরানস,
আইমেরিয় পিরিফর্মিস- এই আটটি প্রজাতির আইমেরিয়া ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিসের
কারণ৷
|
লক্ষণ- এই রোগের প্রধান কয়েকটি লক্ষণ হল পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত
আসবে, ক্ষুধামন্দাভাব, পেট ফুলে থাকবে এবং চকলেট রঙের মলত্যাগ করবে৷
|
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- খরগোশের খামার মিয়মিতভাবে জীবানুমুক্ত করতে
হবে৷
-
খাবার ও জলের পাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে৷ -
খাদ্যে কক্সিডিওসিস রোধকারী ঔষধ মেশাতে হবে৷
|
 |
|
|
হাঁসের রোগ ও প্রতিকার
|
 |
সাধারণ ভাবে অন্যান্য পাখীর তুলনায় হাঁসের রোগ অত্যন্ত কম৷ হাঁসের রোগ হয়েছে তা কতগুলি লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে৷
যেমন-
|
-
খাওয়া বন্ধ করে দেয়৷
-
পায়খানার রঙের পরিবর্তন হয়৷
-
হাঁস ঝিমুতে শুরু করে৷
-
নাক ও চোখ দিয়ে জল পড়ে৷
-
পা ও ডানার পক্ষাঘাত হয়, খুঁড়িয়ে চলে৷
|
রোগ কি কি ভাবে ছড়াতে পারে-
|
-
সুস্থ হাঁস রোগাক্রান্তর সংস্পর্শে আসলে৷
-
বায়ু বাহিত হয়ে৷
-
খাবারের সাথে৷
-
জলের মাধ্যমে৷
-
বন্য পাখীদের মাধ্যমে৷
-
ইঁদুর, ব্যাঙ প্রভৃতির মাধ্যমে৷
-
ডিমের মাধ্যমে৷
|
হাঁসের টিকা-
|
-
ডাক কলেরা- এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ৷ ৪ - ৫ মাস বয়সের হাঁস আক্রান্ত হয়৷ এই
রোগের লক্ষণ ক্ষুধামন্দা, জ্বর, সাদা জলের মত বা হালকা সবুজ রঙের মল,
শ্বাসকষ্ট ও চলাফেরায় অসুবিধা হয়৷
|
চিকিত্সা- সালফামেজাথিন (৩৩%) ৩০ মিলি ৫লিটার জলে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে৷
|
-
ডাক প্লেগ- ভাইরাসজনিত এই রোগটি মাঝারি থেকে বয়স্ক হাঁসের মধ্যে
দেখা যায়৷ এই রোগের লক্ষণগুলি হল অবিন্যস্ত
পালক, ঝিমুনি, সবুজ জলের মত পায়খানা, চোখের পাতা ফুলে চোখে পিছুটি পড়া,
নাক দিয়ে জলপড়া, দুর্বল, হাটতে না পারা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি৷
|
চিকিত্সা- এই রোগের ভাল কোন চিকিত্সা নেই৷
|
-
আফলাটক্সিকোসিস- এটি একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ছত্রাক জনিত রোগ৷ এই রোগের লক্ষণগুলি হল ক্ষুধামন্দা, আলস্যভাব,
ঝিমুনি, ডানা ঝুলে পড়া, খিচুনি, মেরুদন্ড ও ঘাড় ধনুকের মত পিছনে
বেঁকে যাওয়া, ডিম পাড়া বন্ধ করা প্রভৃতি৷
|
চিকিত্সা- রোগ ধরা পড়লে প্রথমে খাবার পরিবর্তন করতে হবে৷ গ্লুকোজের জল দিতে হবে৷ প্রোটিন ও
ভিটামিনযুক্ত খাবার
বেশী
পরিমাণে দিতে হবে৷
|
প্রতিরোধ-
|
-
পানীয় জল ও খাবার পাত্র সব সময় ভাল করে শোধন করতে হবে৷
-
ভেজা ও পুরানো খাবার দেওয়া যাবে না৷
-
খাদ্যকে ভাল ভাবে শুষ্ক করে সংরক্ষণ করতে হবে৷
-
খাবারের সাথে ছত্রাকনাশক পদার্থ ব্যবহার করতে পারলে ভাল হয়৷ যেমন- জেনসিয়ান ভায়োলেট (২.০৫ ), প্রোপায়নিক
আসিড (০.০৫%) ইত্যাদি৷
|
 |
|
|
মুরগীর
রোগ ও প্রতিকার
|
 |
রোগ হলে প্রাথমিকভাবে কতগুলি লক্ষণ দেখা যায় যেমন, না খাওয়া বা কম
খাওয়া, উত্পাদন কমে যাওয়া, ঝিমুনি, স্বাভাবিক হাঁটাচলা বন্ধ করা, লতি ও ফুল
ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি৷
|
রোগের বিভিন্ন কারণগুলি হল-
-
ভাইরাস
-
ব্যাকটেরিয়া
-
ছত্রাক
-
মাইকোপ্লাজমা
-
প্রোটোজোয়া
-
অপুষ্টিজনিত
-
পরিবেশগত ইত্যাদি
|
ভাইরাল রোগ
|
(১) রাণীক্ষেত-
প্রচলিত নাম চুনা হাগা৷
পাখী হাঁ করে ঠোঁট তুলে
শ্বাস নেয়৷
ঝিমুনী ও ধীরে ধীরে পক্ষাঘাত হয়৷ ক্ষুধামন্দা ও তেষ্টা পায়৷
বড় মুরগীর নাকে শব্দ হয়৷ |
(২) ম্যারেক্স- ডানা ও পাখায় পক্ষাঘাত হয়৷
সাধারণত মৃত্যুর
সময় একটা পা সামনে ও আরেকটা পা পিছনে টানটান করে মরে পড়ে থাকে৷
মৃত্যুর হার
৬০ - ৭০ শতাংশ৷ এই রোগের কোন চিকিত্সা নেই তবে টিকা দিলে রোগ হয়
না৷ |
(৩) গামবোরো- সাধারণত ২
- ৮ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চা আক্রান্ত হয়৷
এই রোগে পাখীর প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার ফলে সাধারণ রোগে পাখীরা
মারা যায় যেমন- কক্সিডিয়া, কোলাই, ছত্রাক ইত্যাদি৷
এই রোগের কোন চিকিত্সা হয়
না৷ তবে টিকার দ্বারা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ |
প্রোটোজোয়া
|
(১) কক্সিডিয়া- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশী থাকলে ডিপ
লিটারে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব৷ ভিজা লিটারের মাধ্যমে এই
রোগের প্রাদুর্ভাব হয় এবং ছড়ায়৷ এতে রক্ত পায়খানা হয়, শরীর থেকে জল বেরিয়ে
যায়, পাখী ঝিমুতে থাকে এবং মারা যায়৷ বর্যার দিনে এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুব
বেশী৷ আম্প্রোলিয়াম, কক্সিডিওষ্টাট ইত্যাদি দিয়ে এই রোগের প্রকোপ কমানো
যায়৷ |
 |
|
|
কোয়েলের রোগ ও প্রতিকার
|
 |
ব্রুডার নিউমোনিয়া
|
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচ্চা কোয়েলের মৃত্যু হতে পারে, যদি না
ব্রুডারে থাকাকালীন তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়৷ তাই ব্রুডিং করার সময়
অর্থাত প্রথম দুই সপ্তাহ বাচ্চা কোয়েলকে নজরে রাখতে হবে৷
কারণ ঐ সময় আসপারজিলাস ফিউমিগেটাস নামক ছত্রাকের প্রভাবে এই ব্রুডার নিউমোনিয়া
হয়৷
|
-
রোগের লক্ষণ - বাচ্চাপাখী ঝিমিয়ে পড়ে, দুর্বল হয়ে পড়ে, খাওয়া
দাওয়াবন্ধ হয়ে যায়৷ জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে৷ চোখ লাল হয়ে
যায়, চোখ থেকে রস বেরোতে থাকে৷ এই রোগে মৃত্যুর হার
শতকরা ২ - ৩ ভাগ৷
কিন্তু আক্রান্তের হার
শতকরা ৫০ ভাগ৷
|
চিকিত্সা - ২ গ্রাম ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট ১০০ কেজি খাবারের সাথে
মেশাতে হবে৷
আন্টিবায়টিক খাওয়াতে হবে৷
পাশাপাশি প্রাণীচিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে৷
|
কোয়েল ডিজিজ
|
কোয়েল ডিজিজের আর এক নাম আলসারেটিভ এনটারাইটিস৷
এটি কোয়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ৷
|
-
রোগের লক্ষণ - পাতলা পায়খানা, দুর্বল হয়ে পড়ে, খিচুনি হয়,
ক্ষুদ্রান্ত্রে ও শিকামে ঘা হয়ে যায়৷
|
চিকিত্সা - আন্টিবায়টিক খাওয়াতে হবে৷
পাখী খুব বেশী মারা গেলে স্থানীয় চিকিত্সকের কাছে পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ
খাওয়াতে হবে৷
|
 |