মাছ চাষ খামারের বিভিন্ন ধরণের পুকুর ও তাদের গঠন পদ্ধতি

 

বিভিন্ন রকমের পুকুর, তার মাপ ও অনুপাত

নতুন পুকুর কাটার জন্য স্থান নির্বাচন

মত্স্য খামারের নক্সা ও পরিকল্পনা

পুকুর তৈরীতে বাঁধ বা পাড

বিভিন্ন রকমের পুকুর, তার মাপ ও অনুপাত

আধুনিক মাছ চাষের খামারে বিভিন্ন রকমের পুকুর থাকা প্রয়োজন যেমন ডিম ফুটিয়ে পোনা তোলার জন্য আঁতুড় পুকুর বা লালন পুকুর দরকার তারপর চারাপোনার জন্য পালন পুকুর এই পালনপুকুরের পরিমাণ লালনপুকুরের মোট আয়তনের কমপক্ষে পাঁচগুণ হওয়াই চাই এবং অধিক পক্ষে বিশগুণ পর্যন্ত করা যেতে পারে সবই নির্ভর করছে খামারে উত্পাদিত চারা পোনার সংখ্যার উপর এবং তার কতগুলি পালন পুকুরে আঙ্গুলে পোনা হিসাবে বড় করা হবে

আঁতুর পুকুরে ডিম
লালন পুকুরে পোনা

তবেই তো টাকা
 হাতে যাবে না গোনা

লালন পুকুরে চালা পোনা বড় করে মজুত পুকুরে রাখা হয় লালন পুকুরে যে পরিমাণ চালা পোনা উত্পন্ন হয় তার সবটাই যদি মজুত পুকুরে রাখা হয় তবে খামারে মজুত পুকুরের মোট আয়তন লালন পুকুরের বিশগুণ হওয়া প্রয়োজন অর্থাত্ আপনার খামারে যদি পাঁচ একর পরিমাণ লালন পুকুর থাকে তবে একশত একর পরিমাণ মজুত পুকুর থাকা দরকার

ছোট বড় মেজো
নানারকম কেজো
পুকুর থাকা চাই
খামার হবে তাই

কিন্ত অধিকাংশ মাছচাষী বেশীরভাগ চারাপোনা বিক্রি করে অল্প কিছু লালনপুকুরে রাখেন এবং তার থেকে অনেক আঙ্গুলে পোনা বিক্রি করে অবশিষ্ট কিছু মজুত পুকুরে ছাড়েন এতেই লাভ বেশী তাই মজুত পুকুরের মোট আয়তন এত বেশী না থাকলেও চলে

তাই আপনার খামারের আঁতুর পুকুরের মোট আয়তন যদি এক একর হয় তবে লালন পুকুরের মোট আয়তন কমপক্ষে পাঁচ একর এবং মজুত পুকুরের মোট আয়তন কমপক্ষে তার পাঁচগুণ বা পঁচিশ একর হওয়া বাঞ্ছনীয় প্রয়োজন মত অধিক অনুপাতে বিশগুণ করা যেতে পারে

আঁতুর পুকুর - আকারে ছোট ও অগভীর এবং প্রতি বত্সর শুকিয়ে যায় এমন হওয়া দরকার সাধারণতঃ মাপে ৫ - ১০ কাঠা এবং তিন থেকে চার ফুট জল থাকে এমন হওয়া চাই


লালন পুকুর - আকারে তার চেয়ে বড় এবং একটু বেশী গভীর হওয়া প্রয়োজন সাধারণতঃ মাপে ১০ কাঠা থেকে ২০ কাঠা এবং এক বিঘা পরিমাণ এবং জলের গভীরতা চার থেকে ছয় ফুট হলেই চলে

মজুত পুকুর - তার চেয়ে বড় এবং গভীর হয় মাপে ১-৩ বিঘা বা এক একর পরিমাণ এবং গভীরতা ছয় থেকে আট ফুট

আধুনিক মত্স্য খামারে মাছের প্রজননের জন্য পাকা মাছ রাখারও প্রয়োজন আছেগর্ভবতী পাকা মাছেদের নিয়মিত আহার ও পরিচর্যার সাথে প্রজননের উপযুক্ত  আলাদা পুকুর থাকা দরকার একে পাকামাছের পুকুর বলে আসলে এগুলি এক বা একাধিক বড় মাপের মজুত পুকুর বলা চলে

খামারে রোগ মড়ক নিবারণের জন্য হাসপাতাল পুকুরেরও প্রয়োজন আছে কোন পুকুরে হঠাত্ মাছের মড়ক দেখা দিলে, সমস্ত মাছ জাল দিয়ে তুলে অন্যত্র স্থানান্তর করে বাঁচান যায় আবার রোগ আক্রান্ত মাছকে আলাদা রাখা উচিত রোগ বিস্তার কম হয় এবং চিকিত্সার সুবিধা হয় এ পুকুর মাপে একটি বড় পালন পুকুরের মত হলেই চলে

বাজারে নিত্য মাছ পাঠাবার জন্য খামারে একটি বাজার পুকুরও থাকা দরকার যেখানে খামারের উদ্ধৃত্ত মাছ জমা করে রাখা যাবে এবং সহজে জাল দিয়ে টেনে তুলে ভোরবেলাতেই বাজারে পাঠান যাবে তবে হ্যাঁ, মাছের খামারে সজাগ এবং কঠোর প্রহরার ব্যবস্থা করতে ভূলবেন না

 

নতুন পুকুর কাটার জন্য স্থান নির্বাচন

খামার তৈরীর জন্য স্থান নির্বাচনে অনেকগুলি বিষয় বিচার করে দেখা দরকার যাতে কম খরচে হয় এবং পুকুর কাটার পর যাতে জল থাকে এবং অন্যান্য বিপর্যয়ের মধ্যে না পড়তে হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা একান্ত কর্তব্য তাই স্থান নির্বাচনে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন 

ক) স্থানের অবস্থান - কেমন জায়গায় তা আগে দেখতে হবে রাস্তাঘাট শহর বাজার ইত্যাদির সাথে যোগাযোগের সুযোগ আছে কিনা এবং সর্বাগ্রে খামার আপনার সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে এবং পরিচালনায় রাখা যাবে কিনা তা বিচার করে দেখা প্রয়োজন

খ) জমির আয়তনে আপনার প্রয়োজনীয় পুকুরগুলির স্থান সংকুলান হবে কিনা তা দেখা দরকার

গ) জমির উপরিতলের চিত্র কেমন তা দেখা দরকার পুকুর কাটার জন্য উঁচু ঢিবিজমি নিশ্চয়ই বেছে নেবেন না এতে খরচ অনেক বেশী পড়বে অবশ্য যদি আপনি ইঁটের ভাঁটা করেন সে কথা আলাদা তবু ইঁটের ভাঁটা যারা করেন, তারা যদি একটু পরিকল্পনা মত গর্ত খোঁড়েন তবে বিনা খরচায় একটি চমত্কার মাছের খামার হতে পারে আবার রাস্তা যারা তৈরী করেন তারাও যদি একটু পরিকল্পনা করে দুপাশের মাটি কাটেন তবে সুন্দর সুন্দর পুকুর হতে পারে

ঘ) পতিত জলাশয়ের ব্যবহার - যাই হোক মাছ চাষের খামার তৈরীর জন্য জায়গাটি উঁচু পাহাড়ী বা সমতল না হলেই ভাল পুকুর কাটার জন্য নীচু গর্তমত পতিত জমি পছন্দ করুন মজে যাওয়া বিল বা পুরাতন দীঘি, পতিত উদ্ধার করে পছন্দ মত বা স্থান সংকুলান মত বিভিন্ন পুকুরে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে এইসব ক্ষেত্রে দেখতে হবে দীঘি বা বিলের তলায় পাঁক শক্ত হয়ে জমে গেছে কিনা

তলায় থাকলে নরম পাঁক
  সেখানে পুকুর কাটা থাক

যদি তলায় পাঁক শক্ত হয়ে জমে না গিয়ে থাকে তবে এ কাজে অগ্রসর হওয়া উটিত নয় কারণ শষ্ক জলাশয়ের বা পতিত নীচু জমির তলে যদি নরম পাঁক থাকে তবে সেখানে আল বা বাঁধ দাঁড়াবে না আর সেই এলাকা ভাগ করে আপনার পরিকল্পনা মত বিভিন্ন পুকুর তৈরীও হবে না

পুকুর কাটায় নীচু জমি
খরচ বরং হয় কমই
 

এই সমস্ত নীচু জমি বা মজে যাওয়া জলাশয়ের মধ্যভাগে বেশী গভীর হয় তাই বাঁধ দিয়ে এইসব অগভীর বা কিনারা অঞ্চলে আপনার অগভীর পুকুরগুলি যেমন আঁতুর পুকুর, লালন পুকুর ইত্যাদি নির্মাণ করুন এবং গভীর মধ্যাংশে গভীরতর পুকুরগুলি সাজিয়ে নিন তাহলেই আপনার খামার গঠনের পরিকল্পনা স্বল্পব্যয়ে ফল হবে

তলায় থাকলে কাঁকর বালি
সেখান ছেড়ে দূরে চলি

ঙ) মাটির রকম - যে মাটিতে পুকুর কাটবেন সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক জায়গায় গর্ত খুঁড়ে আগে দেখে নিন, নীচের স্তরের মাটি কেমন ? অর্থাত্ আপনার প্রয়োজনীয় গভীরতায় বা পুকুরের তলদেশে কেমন মাটি দাঁড়াবে নীচে কেবলমাত্র বালি মাটির স্তর থাকলে সেখানে পুকুর না কাটাই ভাল চূণা পাথর বা কাঁকর মাটিও পরিত্যাগ করে চলবেন নদীর আশেপাশে ও শুকনো নদীর উপরে বালি মাটির স্তর বেশী তাই সেখানে পুকুর কাটলে জল থাকে না

পুকুর তৈরীর পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী মাটি এঁটেল-দোআঁশ পলিমাটি অথবা এঁটেল মাটি কালো পলিমাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশী, লালমাটির বা হলদে মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম যদি এমন জায়গায় আপনার পুকুর হয় যেখানে জল থাকে না তবে পুকুরের তলদেশে কাদামাটি ফেলে এ সমস্যা দূর করা যায়

পুকুরের প্রাণ জল
না থাকলেই অচল

চ) জল সরবরাহ - খামারের পুকুরগুলি যাতে উপযুক্ত পরিমাণ জলে পূর্ণ থাকে তার ব্যবস্থা থাকা দরকার নিকটের কোন খাল, নদীস্রোত বা জলাশয় থেকে জলের প্রয়োজন মেটান যেতে পারেতাই যে জমিতে পুকুর কাটানো হবে সেই জমিতে জল নিষ্কাষণ এবং প্রবেশের সুবিধা অসুবিধা আছে কিনা দেখে নেবেন  আমাদের দেশে বৃষ্টিপাত মোটামুটি ভালঅধিকাংশ পুকুরই আকাশ নির্ভর অর্থাত্ বৃষ্টির জলে ভরে থাকেতাই প্রয়োজন মত বৃষ্টির জল ঢুকিয়ে নেবার বা বার করে দেবার ব্যবস্থা থাকা দরকার এছাড়া নলকূপের সাহায্যেও পুকুরে জল ভরা যায় আধুনিক মত্স্যচাষ খামারে নলকূপ অপরিহার্য কারণ আকাশের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে থাকা ঠিক নয়বৃষ্টিপাত অনেক সময় বিলম্বিত হয় তাছাড়া আপনি হয়ত একটু আগেভাগে পোনা উত্পাদন করতে চান অথবা গ্রীষ্মের তাপে জল কমে যাওয়ায় মাছ মরছে, পুকুরে জল বাড়াতে হবেএইসব ক্ষেত্রে নলকূপ খুব উপযোগী

বানের জলে ভেসে যায়
এমন স্থানে পুকুর নয়

ছ) বন্যাক্রান্ত স্থানে খামার তৈরী পরিকল্পনা গ্রহণ না করাই উচিত যদি না বন্যার জল খামার থেকে দূরে ঘুরিয়ে দেবার পথ থাকে মাছ চাষের পুকুরকে সব সময় প্লাবনের হাত থেকে বাঁচাতে হবে

 

মত্স্য খামারের নক্সা ও পরিকল্পনা

আপনার খামারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুকুরগুলির অনুপাত ঠিক রেখে পছন্দমত স্থানে তা গঠনের জন্য একটা নক্সা আগে করা দরকার আগেই এদের আকার, আয়তন, গভীরতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছি পছন্দমত স্থানটি সর্বাগ্রে জরিপ করে তার একটা নক্সা তৈরী করুন সেই নক্সায় জমির উপরিতলের চিত্র অর্থাত্ কোনদিক কতখানি উঁচু নীচু বা গভীর সব উল্লেখ থাকা দরকার এবং এই নক্সা অনুসারে গভীরতর দিকে আপনার বড় পুকুরগুলি এবং অগভীর অংশে ছোট পুকুরগুলি সাজিয়ে নিন পুকুরগুলির মাপ নক্সার উপরে এগুলি ঠিক ঠিক এঁকে নিতে হবে এগুলি তৈরী করতে যে বাঁধ তুলতে হবে তার স্থানও রাখতে হবে

পুকুর হবে গভীর যত
  বাঁধ হবে চওড়া তত

পুকুর তৈরীতে বাঁধ বা পাড়

পুকুর তৈরীতে বাঁধ বা পাড় গঠন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুকুরের মাপ ও জলধারণ ক্ষমতা ও গভীরতার উপর বাঁধের চওড়া, উচ্চতা ও ঢাল নির্ভর করে সাধারণতঃ অগভীর ছোট পুকুরের বাঁধের উপরিভাগ তিনফুটের মত চওড়া হলেই চলে তবে গভীর বড় পুকুরের বাঁধের উপরিভাগ ছয়ফুট মত চওড়া হওয়া প্রয়োজন বাঁধ চওড়া হলে স্থায়ী হয় এবং রাস্থা হিসাবে ব্যবহারের সুবিধা হয় বাঁধ নির্মানে নিম্নলিখিত সাবধানতা অবলম্বল করা প্রয়োজন-

ক) বাঁধ যখানে দাঁড়াবে তার তলায় মাটি যেন নরম না হয়

খ) বাঁধের লাইন বরাবর দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সব ঘাস বা গাছপালা চেঁছে পরিষ্কার করে দিতে হয় এই সব ঘাস কোদালে কেটে চাপ চাপ আকারে সরিয়ে রাখা ভাল পরে বাঁধ নির্মাণ হয়ে গেলে বাঁধের ঢালে গলন রোধের জন্য এদের সাজিয়ে বসিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় বাঁধের তলায় ঘাস বা গাছপালা থাকলে বাঁধ ভাল জমে না এবং জল চুঁইয়ে বেরিয়ে যায়

গ) বাঁধকে দৃঢ় করতে এবং পুকুরের জল যাতে চুঁইয়ে বেরিয়ে না যায় সেই জন্য বাঁধের মধ্যস্থলে নিশ্ছিদ্র এঁটেল মাটির দেওয়াল প্রয়োজন যে মাটিতে জলধারণ ক্ষমতা কম সেখানে বাইরে থেকে এঁটেল মাটি এনে এইরূপ করা উচিতবাঁধের লাইন বরাবর মধ্যস্থলে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে একটা নালা কেটে তার মধ্যে এঁটেল মাটির ভিত দিয়ে তারপর দেওয়াল তুললে ভাল ফল পাওয়া যায়

ঘ) বাঁধের মাটি ফেলার সময় প্রতি ছয় ইঞ্চি উচ্চতায় জল ছিটিয়ে পিটিয়ে মাটি বসানো দরকার তারপর আবার মাটি ঢেলে ধীরে ধীরে বাঁধ উঁচু করে তুলতে হয় তবেই বাঁধ ভাল জমে এবং দাঁড়ায়

বাঁধের মাথা জল ছাড়িয়ে
 দুফুট মত দাও বাড়িয়ে

ঙ) বাঁধের উচ্চতা-পুকুরের সর্বোচ্চ জলসীমার উর্ধে অন্তত দুই ফুট থাকা উচিত কিন্তু নতুন তৈরী বাঁধ ধীরে ধীরে কিছুটা বসে যায় তাই প্রতি ফুটে প্রায় তিন ইঞ্চি পরিমাণ বেশী উচ্চতা দিতে হয় অর্থাত্ আপনার পুকুরে যদি জল থাকে সর্বোচ্চ ছয় ফুট তবে আট ফুট উঁচু বাঁধ আপনার দরকার কিন্তু আট ফুট উঁচু বাঁধ দাঁড় করাতে গেলে প্রতিফুটে তিন ইঞ্চি হিসাবে আরো চব্বিশ ইঞ্চি বা দুই ফুট উঁচু বেশী করতে হবে অর্থাত্ বাঁধ করতে হবে দশ ফুট উঁচু

এক - দুই দিলে ঢাল
বাঁধ থাকে বহুকাল
 

চ) বাঁধের ঢাল - ছোট পুকুরে ১:২ এবং বড় পুকুরে ১:২.৫ বা ১:৩ হওয়াই ভাল কারণ উঁচু বাঁধ পলি বা দোআঁশ মাটিতে বাঁধ কম অনুপাতে তৈরী করলেও জলে গলে ঢাল আপনিই ১:২ বা ১:২.৫ হয়ে যায় এবং বাঁধ নেমে আসে তখন বাঁধে আবার মাটি দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে অবশ্য পুকুরের ভিতর দিকে অর্থাত্ যেদিকে জল থাকে সে দিকেই ঢাল বেশী হওয়া দরকারপুকুরের বাইরের দিকের ঢাল ১:১ হলেও চলে আবার বাঁধের দুপাশেই যদি জল থাকে তবে দুপাশেই ঢাল বেশী অনুপাতে থাকা দরকার

বাঁধের ঢাল ১:২ অনুপাতের অর্থ হল প্রতি একফুট উচ্চতায় বাঁধের পাদদেশে দুই ফুট ঢালের বিস্তার আর ১:১ এর অর্থ প্রতি ফুট উচ্চতায় পাদদেশে সমান দূরত্বে ঢালের বিস্তার অর্থত্ একটি দশফুট উঁচু এবং উপরে ছয়ফুট চওড়া বাঁধের পাদদেশ মোট কতটা চওড়া হবে যদি তার বাইরের দিকে ঢালের অনুপাত ১:১ এবং ভিতর দিকে ১:২ হয় বাইরের ঢাল উচ্চতার সমান অর্থাত্ ১০ ফুট + বাঁধের চওড়া মধ্যস্থল ৬ ফুট + ভিতর দিকের ঢাল উচ্চতার দ্বিগুণ অর্থাত্ ২০ ফুট = মোট ৩৬ ফুট চওড়া হবে

ছ) বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুকুরের জলসীমার নির্দিষ্ট উচ্চতায় একটি সিমেন্ট পাইপ (৮ ইঞ্চি - ১২ইঞ্চি ব্যাস) আড়াআড়ীভাবে বাঁধের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া ভাল এতে হঠাত্ বৃষ্টিপাতে পুকুরে প্লাবন রোধ করা যায় বাড়তি জল ঐ পাইপ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে বাঁধ ছাপিয়ে বা কোন অংশ ভেঙে বেরবার সম্ভবনা থাকে না বাঁধে কখনও ফাটল দেখা দিলে বা ইঁদুর বা কাঁকড়ার গর্ত দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে এঁটেল মাটি দিয়ে তখনই বন্ধ করা উচিত