|
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পান-এর চাষ,
রোগ,পোকা মাকড় ও তার প্রতিকার |
|
|
|
|
|
|
|
|
পান ফসলের
রোগ পোকা ও প্রতিকার |
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
| |
|
|
|
পান সম্বন্ধে কয়েকটি কথা
পান একটি অত্যন্ত লাভজনক অর্থকরী ফসল৷ "পান" খুব "সুখী" ফসল৷
তাই এর চাষের পদ্ধতিরও খুব নিবিড় এবং ব্যয় বহুল৷
উপরন্তু আর্দ্র-গরম আবহাওয়ায় এর চাষ হয়
বলে পোকা-মাকড় এবং ছত্রাক জাতীয় রোগের উপদ্রব পানের ক্ষেত্রে আপেক্ষিকভাবে
অনেক বেশী
৷ প্রায়শঃই পানচাষীরা বিভিন্ন সঙ্কটের সম্মুখীন হন৷
এই সব কথা মনে রেখেই, পান চাষীদের বৃহত্তর স্বার্থে বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতিতে পানের চাষ অবহিত করা হচ্ছে৷ |
|

|
| |
জমি নিবার্চন |
নতুন পান বরোজ তৈরী করার জন্য উঁচু দোঁয়াশ মাটিযুক্ত জমি,
যেখানে জল নিকাশের সুবন্দোবস্ত আছে, এমন নিবার্চন করা ভালো৷
বরোজ
নির্মান করার জন্য উচু জমির মাটি মৃদুখার থেকে স্বাভাবিক (পি.এইচ ৭.০-৮.০)
বিক্রিয়াযুক্ত হওয়া দরকার৷
|
|

|
|
|
| |
জমি তৈরী ও মাটি শোধন |
তিন চার বার ভাল করে চাষ দিয়ে বরোজের মাটি তৈরী করা উচিত৷
চৈত্র-বৈশাখ মাসে ১ মাস ধরে স্বচ্ছ
পলিথিনের চাদর দিয়ে ঢেকে রেখে মাটি শোধন করে নিতে হবে৷
উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য মাঝে মধ্যে, সপ্তাহে ১ দিন, বিকালের দিকে
চাদর সরিয়ে অল্প জল ছিটিয়ে আবার চাদর দিয়ে মাটি ঢেকে দিতে হবে৷
৬০ মি.লি ফরম্যালিন ১০ লিটার জলে গুলে প্রতি বর্গ মিটার জমিতে প্রয়োগ করে
পলিথিন চাদরে ও ৪-৫ দিন ঢেকে রেখে দেওয়া হয়৷
এই ভাবে মাটি শোধন করলে মৃত্তিকা
বাহিত রোগ কম হয়৷ মাটি শোধনের
২০-২৫ দিন পর লতা বসাতে হবে৷ |
|

|
|
|
| |
লতা লাগাবার সময় |
বছরের যে কোন সময়েই লতা বা বিচন লাগানো যায় তবে পরীক্ষা
করে দেখা গেছে যে আশ্বিন-কার্ত্তিক ও ফাল্গুন মাসে লতা লাগানো হলে ভাল ফল
পাওয়া যায় ৷ |
|

|
|
|
লতা ও জাত নির্বাচন |
পানের লতা বা কাটিং লাগানোর জন্য সতেজ, রোগমুক্ত ৪-৫ বছরের
পুরানো বরোজ থেকে লতা বা কাটিং সংগ্রহ করা উচিত৷
গাছের উপরকার এক মিটারের মধ্যে থেকেই
কাটিং সংগ্রহ করা উচিত৷
লতা বা কাটিং সংগ্রহের আগে সেই বরোজে
০.৫%
বোর্দ্রো মিশ্রণ
বা কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার জলে
৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে
স্প্রে করে নেওয়া উচিত৷
সম্ভব হলে ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে দুবার এই স্প্রে করা যেতে পারে৷
লতা সংগ্রহের ৫-৬ দিন আগে গাছের ডগার দিকে ২-৩ সেমি. ভেঙ্গে দিলে ভাল হয়
৷ |
|

|
|
|
উচ্চফলনশীল জাত |
ক) বাংলা পান-
এলাকায় সবথেকে বেশী
৷ ফলন ও
বেশী৷ পান পাতা আকারে বড় ৷
পানের স্বাদ স্বাভাবিক
৷ কোন ঝাঁঝালো
গন্ধ থাকে না
৷ খ)
সাঁচী পান - ঝাঁঝাল
স্বাদ যুক্ত এই পানের চাষ খুব কম হয়
৷
ফলন কম হয়
৷ চাহিদা কম৷ গ) মিঠা পান -
বাজার দর অত্যন্ত বেশী৷
পান
সুস্বাদু ও সুগন্ধিযুক্ত৷
ফলন বাংলা পান থেকে কম৷
বিদেশে এই পানের চাহিদা বেশী ও দামও ভাল
৷ |
|

|
|
|
লতা শোধন |
লতা মাটিতে লাগানোর আগে ০.৫% বোর্দো মিশ্রণে
স্ট্রেপটোসাইক্লিন ২৫০ মি.লি. গ্রা.(প্রতি ৪ লি.
জলে) এবং কার্ব্বোফিউরান (প্রতি লি. জলে ১ গ্রাম) এর জলীয় দ্রবণে ২৫-৩০ মিনিট
চুবিয়ে শোধন করে নিতে হবে৷ এরপর কার্টিং বা লতা ছায়াতে রেখে গায়ে লেগে থাকা
দ্রবণ শুকিয়ে নিয়ে তার পর লাগাতে হবে৷
লাগানোর ৭ দিন আগে পিলি বা লাইনগুলো ১% বোর্দো মিশ্রণ দিয়ে ভালোমত ভিজিয়ে
নেওয়া উচিত ৷
প্রতি বর্গমিটারে ৩ লিটার হারে
ভিজিয়ে নিতে হবে৷ কাটিং এর দৈর্ঘ্য ১৫ সেমি. হলে গাছের স্থায়ীত্ব
বাড়ে এবং নতুন পাতা বেশী উত্পন্ন হয়
৷ |
|

|
|
|
লতা লাগাবার দূরত্ব |
দুটি পিলি বা লাইনের মধ্যে ৫০-৬০ সেমি এবং দুটি কার্টিং বা
লতার মধ্যে ১০-১৫ সেমি দূরত্ব রাখতে হবে
৷ লাইনগুলি উত্তর দক্ষিণ বরাবর করার
প্রচলন আছে ৷ |
|

|
|
|
সার প্রয়োগ |
প্রতি ৫
কাঠা জায়গায় বছরে ক্যান (CAN)
৮ কেজি, সিঙ্গিল সুপার ফসফেট
১৫ কেজি,
মিউরেট অফ পটাশ
১৬ কেজি, সরিষা, নিম বা বাদাম খইল
১০০ কেজি
দেওয়া যাবে ৷ সার
ও খইল ভাগে ভাগে বছরে ৫-৬
টি ভাগে প্রয়োগ করা যেতে
পারে ৷
বিভিন্ন রকম খইল দেওয়া উচিত৷ এছাড়া
পুকুরের পাঁক শুকনো করে তাতে চূণ মিশিয়ে মাটি রেখে ঐ মাটি পান বরোজে দেওয়া
যাবে৷ শুধু পুকুরের
পাঁক শুকনো করে বরোজে দিলে মাটির পি-এইচ কমে যাবে৷
ফলে পান বরোজে রোগ বেশী হবে ৷ পান গাছের খাবার লতার গোড়ায় দেওয়া যাবে না৷
পুরাতন পদ্ধতি বদলাতে হবে৷
দুটি পিলির (লাইন) মাঝ খানেই অল্প ২ ইঞ্চি খুঁড়ে
খইল বা রাসায়নিক সার দিতে হবে৷
খইল বাড়িতে পচিয়ে তারপরে বরোজে দিলে গাছ ভালভাবে খেতে পারে এবং
রোগ জীবাণূ কম হবে ৷ পান বরোজের উচ্চতা ২ মিটার
রাখা উচিত৷
বিশেষ করে শীতকালে পান বরোজের চারদিকের ঘেরা ভালভাবে নিতে হবে
৷উত্তরের ঠান্ডা বাতাস পান বরোজে রোগের সৃষ্টি করে
৷ ৫০%-৭৫%
ছায়া জাল (Shead net) তৈরী করা যেতে পারে৷
প্রথম
বছর খরচ কিছুটা বেশী হলেও ৩-৪ বছর কোন রকম খরচ হয় না৷ |
|

|
|
|
সেচ |
পান বরোজে যাতে রসের অভাব না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে৷
গরমের সময় প্রতি দিনই হালকা সেচ দিতে হয়৷
অন্য সময় প্রয়োজন অনুসারে সেচ
দিতে হবে৷
শীতকাল বা অন্য সময়ে সাধারণত ৩-৪ দিন অন্তর সেচ দিতে হবে৷
|
|

|
|
|
ফসল তোলা
ও ফলন
|
ফাল্গুন মাসে লাগানো হলে প্রথম পান পাতা তোলা শুরু হবে ৬-৭ মাস পরে৷
বর্ষাকালে পান লাগানো হলে প্রথম পাতা তোলা শুরু হবে ৫-৬ মাস
পরে৷ বর্ষাকালে ১৫ দিন অন্তর এবং শীতকালে ১ মাস অন্তর পাতা লাভজনক৷
ফলন- সাঁচী এবং বাংলা পানে বছরে গড়ে গাছ পিছু ৫০-৬০ টি পাতা এবং
মিঠাপানে ৪০-৫০টি পাতা পাওয়া যায়৷ সাধারণত
১০ বছরের পর বরোজ আর লাভজনক থাকে না৷
|
|

|
|
|
লতা নামানো ও বরোজে মাটি
দেওয়া |
পান গাছ প্রয়োজনমত নামানো হয় (যাকে ভাঁজ দেওয়া বলা হয়) ৷লতা
পান বরোজের ছাদে ঠেকে গেলে পুনরায় শোধন করা পাটকাঠি পুঁতে লতাটি নামিয়ে কাঠির
সঙ্গে বেঁধে দিতে হয়৷
নীচের অংশের পাতা তুলে পাকানো লতাটি মাটি দিয়ে চাপা
দিতে হবে৷ সদ্যকাটা মাটি যতটা সম্ভব বিছিয়ে সূর্যকিরণ দ্বারা শোধন করে বরোজে
ফেলা উচিত৷ লতা
নামাতে দেরী হলে গাছের আগার ক্ষতি হয়৷ বর্ষাকালে লতা নামানোর সময় খেয়াল
রাখতে হবে যাতে নীচের পাতাটি মাটির থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে থাকে৷
অন্যথায় বরোজের গাছে রোগ সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷
|
|

|
|
|
পান ফসলের রোগ ও তার প্রতিকার |
গোড়া পচা রোগ(ফাইটপথোরা) |
রোগের লক্ষণ অনেকে একে ঢলে পড়া রোগ বলে থাকেন৷ এই রোগ
মৃত্তিকা বাহিত রোগ৷ কালো কালো দাগ নীচের দিকে মাটির সংলগ্ন পর্বের মধ্যে
দেখা যায়৷
পচা দুর্গন্ধ গ্যাস পাওয়া যায়, আক্রান্ত স্হান সবসময় ভেজা ভেজা খাকবে৷ |
প্রতিকার
গাছের গোড়া ১% বোর্দু মিশ্রণ দিয়ে ১ মাস অন্তর ভিজিয়ে দিতে হবে৷ এছাড়া ৪
গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার
জলে স্প্রে করতে হবে৷ |
| |
গোড়া পচা রোগ(সক্লেরেশিয়াম জনিত)
 |
রোগের লক্ষণ স্থানীয় ভাসায় একে গেঁদি,
গেন্দি বা মদুয়া
বলে৷মাটির উপরের অংশে
লতায় এই রোগ দেখা যায়৷ পচন দেখা যায়, তন্তুগুলি ছিঁড়ে
বেরিয়ে যায়৷ গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে এবং গাছ শুকিয়ে যায়৷
পচা জায়গার উপরে সাদা তুলোর মতো ছত্রাকের আবরণ দেখা যায়
৷ |
প্রতিকার
আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে নষ্ট করে দিতে হবে৷ এই জায়গায় চুন বা কাঁচা
গোবর জল প্রয়োগ করলে রোগ কম ছড়ায়৷
বাদাম ও তিসির খোল সমপরিমানে মিশিয়ে প্রয়োগ করলে রোগ কম হয়৷ |
| |
পাতায় দাগ রোগ (কলিটো
টাইকাম জনিত) |
পাতায় কালো বা বাদামী রঙের দাগ দেখা যায়৷
প্রতিটি
বাদামী বা কালো দাগের চারপাশে কিছুটা হলদে রঙের দাগ হয়৷ পাতাতে আক্রমণ বেশী
হলে তা কান্ডে ছড়িয়ে পরে এবং ডাঁটা ও বোঁটার উপর সরু লম্বা বাদামী দাগ যায়৷ |
প্রতিকার
বর্ষার শুরু থেকে ০.৫%
বোর্দু মিশ্রণ ৩-৪ বার ১৫-২০ দিন অন্তর বা ঘটিত ওষুধ
যেমন- কপার অক্সিক্লোরাইড
প্রতি
লিটার জলে ৪ গ্রাম বা কার্বেন্ডাজিন ১ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে গাছের
ডাঁটায় এবং
পাতার উভয় দিকে স্প্রে করলে রোগের প্রকোপ কমে৷ |
| |
ব্যাকটেরিয়া
জনিত পাতায়
দাগ রোগ
|
লক্ষণ প্রথমে পাতায় কালো রঙের অসংখ্য
দাগ দেখা যায়৷ দাগের চারপাশে হলুদ দাগ দেখা যায়৷
পাতার উল্টোদিকে হলুদ অংশটি সম্পূর্ণ ভেজা ভেজা হয়৷
কিন্তু কলিটোটাইকাম জনিত রোগের পাতার উল্টোদিকের অংশটি শুকনো থাকে৷
অনেক সময় এই রোগটি গাছের কান্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে৷
কান্ডটি ভেজা ভেজা আঠালো হয়৷ |
প্রতিকার
এই রোগ দমনের জন্য বোর্দু মিশ্রণ ০.৫%
৩-৪ বার ১৫ দিন অন্তর পাতার উভয় দিকে ভালভাবে স্প্রে
করতে হবে৷ |
|
|
পোকা
|
পানের পাতায় জাব
পোকা
|
লক্ষণ
সবুজ রঙের ছোট , নরম এই পোকাগুলি রস শুষে খায়৷
এদের আক্রমণে লতার
বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও পাতা কুঁকড়ে যায়৷
এদের দেহ নিঃসৃত মিষ্টিরস তলার
পাতাগুলির ওপর কালো ঝুলের মত প্রলেপ সৃষ্টি করে৷
জানুয়ারী মাসের শেষের দিক থেকে ফেব্রুয়ারী -মার্চ মাস পর্যন্ত এদের
আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়৷
|
প্রতিকার
ম্যালাথিয়ন প্রতি লিটার জলে ১.৫ মিলি হারে পাতার নীচের দিকে স্প্রে করতে
হবে৷
|
|
|
পানের পাতায় জাব
পোকা

|
|
|
পানের পাতায় সাদা কালো মাছি
|
লক্ষণ
এরা পাতার রস শুষে খায়৷ এদের আক্রমণে পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়৷
হলদে রঙের ছোপ ছোপ দাগ৷
বর্ষাকালের ঠিক আগে ও পরে বিশেষতঃ অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এদের আক্রমণ
বেশী হয়৷
|
প্রতিকার
ম্যালাথিয়ন প্রতি লিটার জলে ১.৫ মিলি হারে পাতার নীচের দিকে
স্প্রে করতে হবে৷ |
পানের পাতায় সাদা কালো মাছি
 |
|

|
| |
বোর্দো মিশ্রণ প্রস্তুত পদ্ধতি |
১% বোর্দো মিশ্রণ প্রস্তুত করণ
প্রতি লিটার জলের
জন্য ১২০ গ্রাম কলিচূন ও ১০০ গ্রাম তুঁতে পৃথকভাবে স্বল্প জলে দিয়ে মাটির
পাত্রে একরাত ভিজিয়ে রাখতে হবে৷
পরের দিনের সকালে ঐ ভেজানো চূন ও তুঁতে ভালভাবে ছেঁকে আস্তে আস্তে মেশাতে
হবে, এবং কাঠের কোন দন্ড দিয়ে নাড়তে হবে যাতে চূন ও তুঁতে ভালভাবে মিশে৷ ঐ মিশ্রণে তুঁতের অনুপাত ঠিক হয়েছে কিনা
জানার জন্য পরীক্ষা মূলক হিসাবে একটি ব্লেড বা কাস্তের মরু অংশ ডোবালে যদি
দেখা যায় যে, ব্লেড বা কাস্তের
উপর মরচে দাগ, তখন ঐ মিশ্রণে
আরও কিছু পরিমাণ
চূনের দ্রবন মেশাতে হবে৷ |
০.৫% বোর্দো মিশ্রণ প্রস্তুত করণ
প্রতি লিটার জলের জন্য ৬০ গ্রাম কলিচূন এবং ৫০ গ্রাম তুঁতে পূর্বের পদ্ধতি
অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে৷ |
|

|
|
|
উন্নত পান চাষের চাবি কাঠি |
· নতুন পান বরোজ নির্মাণের পূর্বে মাটির
জীবাণূ মুক্ত করা৷
· পুরানো বরোজে জীবাণূমুক্ত/ শোধিত মাটি দিতে হবে৷ ·পানের চারা লাগানোর পূর্বে বোর্দু
মিশ্রণ (০.৫%) + স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন
(২৫০ পি.পি.এম.)+ কার্বোফিউরান
(০.১%)-এর
দ্রবণে
৩০মিনিট শোধন৷ · বর্ষার আগে থেকে এক মাস অন্তর ১%
বোর্দু মিশ্রণ মাটিতে ৪ বার প্রয়োগ এবং ১৫ দিন অন্তর ০.৫% বোর্দু মিশ্রণ ৮
বার
পান গাছের ডাঁটায় এবং পাতার উভয় দিকে স্প্রে করতে হবে৷ · স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন
(০.১%) ও বোর্দু মিশ্রণ (০.৫%) পাতায় স্প্রে করুন৷
· জিঙ্ক সালফেট (০.৪%) এবং ম্যানিজ সালফেট (০.১%) ৬০ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে
করুন৷
|
|
|
|

|
বিশেষ সতর্কীকরণ |
যেহেতু বরোজ থেকে উত্পাদিত পানের পাতাগুলি সরাসরি আমরা
খাওয়ার জন্য ব্যবহার করে থাকি সেইহেতু যতটা সম্ভব কম পরিমাণ রাসায়নিক ঔষধপত্র
ব্যবহার করা যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন৷ কারণ ব্যবহৃত এই সকল
রাসায়নিক দ্রব্যের রেসিডুয়াল ইফেকট (অবশিষ্টাংশের ক্ষতিকারক দিক) মানব
স্বাস্থের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর যাহার ফল স্বরূপ আলসার, ক্যানসারের মত
মারণব্যাধি দেখা যায়৷
ডি.এ.পি. সার বেশী দেওয়া যাবে না, এবং গাছের ডগার দিকে ৬-৮ইঞ্চি সার
মেশানো জল স্প্রে কর যাবে না৷ |
|

|
|
|
পানের পোকা মাকড় ও তার নিয়ন্ত্রণ |
পান ফসলে সাদা ও কালো মাছি, জাবপোকা,
আঁশপোকা, দয়েপোকা, কৃমির আক্রমণ দেখা যায়৷
প্রতিকার
ক) নিমের
নিয্যার্স পাঁচ কেজি নিমবীজের গুঁড়ো একটা কাপড়ে পুঁটুলি বেঁধে ১৬
লিটারের একটিন জলে সারারাত ডুবিয়ে রাথতে হবে৷ পরদিন সকালে অর্থাত ১২ ঘন্টা
পরে নিমবীজ ভেজানো পুঁটুলিটা ঐ জলে ভালভাবে নিংড়ে নিতে হবে৷
ঐ নির্যাসকে
প্রায় দশ গ্রাম গুঁড়ো সাবান সামান্য জল দিয়ে মেশাতে হবে৷
এই ভাবে প্রাপ্ত
নির্যাসকে জল মিশিয়ে ১০০ লিটার করে নিতে হবে৷
ঐ মিশ্রণ ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে
বরজে স্প্রে করতে হবে৷ এছাড়া বাজারে নিমতেল কিনতে পাওয়া যায়৷
প্রতি লিটার জলে ৫ মিলি নিমতেল ভালো করে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে
৷
অথবা খ) তামাক পাতার জল-
২০০ গ্রাম মোতিহারী তামাকের ডাঁটা ৩০
গ্রাম সাবানসহ ২ লিটার জলে ভালভাবে ফোটাতে হবে৷ ভালভাবে আধঘন্টা মত ফোটানোর
পর তা ভালভাবে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিতে হবে৷ যে নির্যাসটা পাওয়া যাবে তা দশ
গুণ জল মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে৷
মাছি জাতীয় কীট ও জাবপোকা দমনে এই নির্যাস যথেষ্ট কার্যকরী৷ |
|

|
|
|