|
রাষ্টীয় কৃষি বীমা যোজনা
(ভারত সরকার,
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং
সাধারণ বীমার যৌথ উদ্যোগ)
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
| |
প্রকল্পের
লক্ষ্য
|
১) প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কীট, পতঙ্গ
এবং রোগের কারণে বিজ্ঞাপিত ফসলের ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের বীমার নিরাপত্তা এবং
আর্থিক সহায়তা দেওয়া ।
২) কৃষকদের প্রগতিশীল কৃষিপ্রথা গ্রহণে, উচ্চমানের বীজ, সার, ব্যবহারে এবং
উন্নততর প্রয়োগ কৌশলে প্রোত্সাহিত করা।
৩) কৃষি আয়কে স্থিতিশীল রাখা- (বিশেষ করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বছরগুলিতে)
|
 |
প্রকল্পটির
বৈশিষ্ট্য
|
১) অন্তভূর্ক্ত ফসল : খারিফ মরসুমে
পশ্চিমবঙ্গে আমন ও আউস ধান কৃষি বীমার অন্তর্ভূক্ত। রবিমরসুমে পশ্চিমবঙ্গে
নিম্নলিখিত ফসলগুলি কৃষি বীমার অন্তর্ভূক্ত-
ক) বোরো ধান, গম,
খ) তৈলবীজ-সরিষা, তিল এবং তিসি
গ) ডালশস্য-ছোলা, মসুর মুগ, কলাই, অড়হর
ঘ) অর্থকরী বানিজ্যিক ফসল-আলু
২)অন্তভূর্ক্ত কৃষক : সমস্ত কৃষক, তত্সহ ভাগচাষী, প্রজাস্বত্ব-ভোগী চাষী
যাঁরা এই প্রকল্পটির বিজ্ঞাপিত অঞ্চলে বিজ্ঞাপিত ফসল চাষ করবেন, তাঁরাই এই
বীমার আওতায় আসতে পারবেন।
ক) আবশ্যিক ভিত্তিতে- যে সকল কৃষক বিজ্ঞাপিত ফসল ফলাবে এবং কোনও
অথর্লগ্নীকারী সংস্থার কাছ থেকে মরসুমীর কৃষিকার্য নিমিত্ত ঋণ গ্রহন করবেন অর্থাত্
ঋণকারী কৃষক।
খ) ঐচ্ছিক ভিত্তিতে- অপর সমস্ত কৃষকদের ব্যাঙ্কে একাউন্ট থাকা
আবশ্যিক।
|
 |
অন্তভূর্ক্ত
ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যতিক্রম
|
ক) প্রাকৃতিক বিপযর্য়হেতু আগুন, বজ্রপাত।
খ) ঝড়, শিলাবৃষ্টি, ঘুণির্ঝড়, টাইফুন, সামুদ্রিক তুফান ঝঞ্ঝা ।
গ) হারিকেন, টনের্ডো।
ঘ) বন্যা, জলস্ফতি, ধ্বস।
ঙ) খরা, শুষ্ক আবহাওয়াজনিত ক্ষতি ।
চ) কীট, কীটানু রোগ ইত্যাদি ।
কিন্ত যুদ্ধজনিত, পারমাণবিক বা বিদ্বেষপ্রসুত ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য
প্রতিরোধযোগ্য এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে না।
|
 |
বীমাকৃত রাশি /
অন্তভূর্ক্তিরসীমা
|
বীমাকৃত রাশি বীমাকৃত ফসলের নূন্যতম
থেশোল্ড উত্পাদনের মূল্য পর্যন্ত সন্প্রসারিত করা যেতে পারে । প্রকল্পের
অন্তর্গত বিজ্ঞাপিত অঞ্চলের যে কোন কৃষক বাড়তি প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ১৫০% গড়
ফসল উত্পাদনের মূল্য পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারেন । শস্য্ঋণ গ্রহণকারী
কৃষকদের ক্ষেত্রে বীমাকৃত রাশি কমপক্ষে গৃহীত অগ্রিম ঋণ রাশির সমান হতে হবে ।
শস্যঋণ প্রদানের পদ্ধতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং নাবার্ড এর পরিচালিত নিয়ম অনুযায়ী
নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
|
 |
প্রিমিয়ামের
হার
|
বিভিন্ন মরসুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য
জি.আই.সি ও রাজ্য সরকার দ্বারা নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম দিতে হয় ।
পশ্চিমবঙ্গে রবি এবং খরিফ মরসুমে বিজ্ঞাপিত ফসলের
NORMAL প্রিমিয়াম নিম্নরূপ
:
|
শস্য
|
NORMAL প্রিমিয়াম
|
১) বোরো ধান
|
২.০০ %
|
২) আমন ও আউস ধান
|
২.৫ %
|
৩) গম
|
১.৫ %
|
৪) তৈলবীজ (সরিষা, তিল ও তিসি)
|
২.০ %
|
৫) ডাল শস্য (ছোলা,মুগ,মুসুর,কলাই,অড়হর)
|
২.০ %
|
প্রত্যেক ফসলের
Actuarial প্রিমিয়ামও
গণনা করা হয় । Actuarial প্রিমিয়াম
Normal প্রিমিয়ামের থেকে কম হয়, তাহলে
Actuarial প্রিমিয়াম বাস্তবিক হিসাবে গণ্য হয় ।
আলু – যেহতু বার্ষিক বানিজ্যিক ফসল, সেহেতু প্রিমিয়াম
Actuarial হারে নেওয়া
হয় । রবি ২০০৩-২০০৪ এ প্রিমিয়াম পরিবতর্ন সাপেক্ষ।
|
 |
প্রিমিয়ামের
ভর্তুকি
|
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা
প্রিমিয়ামের শতকরা একটি অংশ অনুদান হিসাবে পাবেন।
|
| |
অঞ্চলভিত্তিক
প্রস্তাবনা এবং বীমার একক
|
আঞ্চলিক প্রস্তাবনা
(Area Approach)
ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি চালু হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গে রবি মরসুমে কোন কোন অঞ্চল
বিজ্ঞাপিত হয়েছে তা নিকটতম ব্যাঙ্ক অথবা জি আই সি-র শস্যবীমা কার্যালয়ে জানা
যাবে। পশ্চিমবঙ্গে রবি মরসুমে ধান, গম, তৈলবীজ এবং আলুর বীমা ব্লকভিত্তিক এবং
ডাল শস্যের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক হবে। ধান ফসলের
ক্ষেত্রে কিছু জেলা আপাততঃ পঞ্চায়েত ভিত্তিতে বিজ্ঞাপিত হয়েছে।
|
 |
মরসুমীয়
বিবরণ
|
ক) ঋণকারী কৃষকদের জন্য মরসুমগুলি
নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত
|
খারিফ
|
রবি
|
১)ঋণ গ্রহণের সময়
|
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর
|
অক্টোবর থেকে পরের বত্সর মার্চ
পর্যন্ত
|
২)আবেদন পত্র (Declaration)
গ্রহণের শেষ দিন জি আই সি অফিসে
|
৩০ নভেম্বর
|
৩১ মে
|
|
খ) ঋণ গ্রহণ করেননি এমন সমস্ত
কৃষকদের কাছ থেকে তথ্য সম্বলিত প্রস্তাব পত্র গ্রহণের শেষ তারিখ-
খরিফ মরসুম- ৩১ জুলাই
রবি মরসুম- ৩১ ডিসেম্বর
যে সমস্ত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অঋণী কৃষকেরা এই বিমার আওতায় আসতে চাইবেন, সেই
ব্যাঙ্কে নিধার্রিত তারিখের মধ্যে (৩১ শে আগষ্ট- খরিফ মরসুম অথবা ৩১ শে
জানুয়ারী-রবি মরসুম) বীমা প্রস্তাব জি.আই.সি. কে পাঠাতে হবে।
|
 |
ক্ষতি
পূরণ এবং পদ্ধতি
|
যদি কোনও নিধারিত (বিজ্ঞাপিত)
ক্ষেত্রের ফসলের পরিমাণ ঐ অঞ্চলের জন্য নিদ্দির্ষ্ট থ্রেশোল্ড ফলনের (যা ফসল
পরিমাপক পরীক্ষা সি.সি.ই দ্বারা নিরুপিত করা হয়েছে) থেকে কম হয় তবে ঐ অঞ্চলের
সকল শস্যবীমাকৃত কৃষকেরা ঐ নিদ্দির্ষ্ট ফসলের দরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধরা
হবে এবং ক্ষতিপুরণ পাবেন।
|
ক্ষতিপুরণের ফর্মূলা নিম্নরূপ :
ফলনের ঘাটতি
X কৃষকের বীমাকৃত রাশি
=ক্ষতিপূর্তি রাশি
(CLAIM AMOUNT)
থ্রোশোল্ড
ফলন
নিদির্ষ্ট অঞ্চলের জন্য ফলনের ঘাটতি
থ্রোশোল্ড ফলন (-) ঐ অঞ্চলের জন্য প্রাপ্ত মরসুমের আসল ফলন। প্রত্যেক মরসুমে
ফসলের ফলন সি.সি.ই দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে রাজ্য
সরকারের ব্যুরো অফ এপ্লায়েড ইকনমিক্স এবং স্ট্যাটিস্টিক্সকে এই ফলন জি.আই.সি
কে দিতে হবে।
|
 |
ক্ষতিপুরণের
অনুমোদন এবং নিস্পত্তির পদ্ধতি
|
যে সব বিজ্ঞাপিত ক্ষেত্রে ক্ষতিপুরণ
দেওয়া হবে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির নামে চেক দেওয়া হবে এবং তত্সহ
ক্ষতিপুরণের তথ্য সমুহও দিয়ে দেওয়া হবে। শাখা ব্যাঙ্কগুলির কাজ হবে তাদের
নোটিশ বোর্ডে প্রাপকদের নাম ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত একটি তালিকা/বিবরণ
প্রকাশ করা।
|
 |