সাধারন প্রশ্নাবলী

১.

নারিকেল গাছের ফল পচে যাচ্ছে ও ঝরে পড়ছে – প্রতিকার কি?

গাছের মাথার কাঁদিতে কপার অক্সিক্লোরাইড ৪ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

২.

মুসুরীর সাখে সাখী ফসল হিসাবে কোন জাতের সরিষার বীজ ভাল হবে?

সাখী ফসল হিসাবে গম/মুসুরীর সাখে সংযুক্তা অসেচ জাতের সরিষার বীজ বুনলে ভাল ফলন পাওয়া যায় ।

৩.

গামের পাতার অগ্রভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে, ফ্যাকাসে মরচে দাগ হচ্ছে – এর কারণ কি?

এর্চ দস্তার অভাবে হচ্ছে, এই লক্ষণ প্রতিকারের জন্য ১৫০ লিটার হলে ৭৫ গ্রাম চিলেটেড জিঙ্ক মিশিয়ে ২ বার ( বোনার ৩ সপ্তাহও ৬ সপ্তাহ পর) পাতায় স্প্রে করতে হবে ।

৪.

কাঁঠাল গাছের বয়স ৯-১০ বছর, প্রচুর মুছি ধরছে। ফলের গায়ে কালো রং এর বিন্দুর মে দেখা যাচ্ছে এবং ফল ঝরে যাচ্ছে।

প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম ডাইসেন এম-৪৫ অথবা ব্লাইটক্স ৪ গ্রাম জলে গুলে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।

৫.

সাহেব রোগে ঢেঁড়সের ফলন কমে যাচ্ছে। কোন জাত লাগালে এ রোগ হবে না?

পারাভিন ক্রান্তি ও পুসা সাওনি জাত লাগালে এই রোগের প্রকোপ কম হয়।

৬.

বাতাবি লেবু গাছের (৭-৮ বছর) ফুল আসছে না – কি করা উচিত্‍?

গাছের গোড়ায় ফাল্গন মাসে ও আশ্বিন মাসের্র অথাত্‍ বছরে ২ বারে ১৫ কেজি গোবর সার ইঊরিয়া ২৫০গ্রাম, সুপার ফসফেট ৭৫০গ্রাম ও পটাশ ১৫০ গ্রাম দিতে হবে।

৭.

খরিফ মুরসুমে লম্বা ও সুগন্ধযুক্ত ধানের চাষ করতে চাই। কোন জাত ব্যবহার করব?

বাসমতী পি.এস.আর-৫৪৬ জাতের ধান লাগাতে ১০০ দিন লাগবে। একরে প্রায় ১৮-২০ কুইন্টাল।

৮.

কুমড়ো গাছে ফল ধরছে- কিন্ত একটু বড় হলেই পচে যাচ্ছে। প্রতিকার কি?

‌কুমড়ো গাছে অনেক সময় পুরুষ ফুল না থাকায় পরাগ মিলন হয় না। তাই ফল একটু বড় হলেই শুকিয়ে খসে পড়ে।প্রতিকার হিসাবে সকালে পাখির পালকের সাহায্যে পুরুষ ফুল থেকে রেনু সংগ্রহ করে সদ্য ফোটা স্ত্রী ফুলের গর্ভদ্ডে ছাড়িয়ে দিতে হবে।

৯.

পেপে গাছে বেশ ফল ধরছে, তবে বড় হতে না হতেই ফল ঝরে যাচ্ছে।

পেপে ধরার পর প্লানোফিক্স অথবা প্লাস্টফিড হরমোন প্রতি লিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

১০.

ধানের মাঠে ইঁদুরের উপদ্রব হয়, এর প্রতিকার কি?

মাঠের আইলের ধারের ১ টি গর্ত ছাড়া সব গর্তগুলি বন্ধ করে সেলফাস ট্যবলেট গর্তে দিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে।

১১.

খরিফ খন্দে কি কি পশু খাদ্য চাষ করা যায় ?

ভুট্টা, যোয়ার, দীনশাখ, গাই মুগের চাষ করা যায়।

১২.

গোবর সারের বিকল্প হিসাবে সবুজ সার হিসাবে বৈঞ্চা চাষ করতে চাই। বিঘা প্রতি বীজ, বোনার সময় ও কখন মাটিতে বৈঞ্চা গাছ মেশাতে হবে?

সবুজ সারের জন্য বিঘা প্রতি ৬ কেজি বৈঞ্চা বীজ লাগবে। বোরো ধান কাটার পর ঐ জমিতে বুনতে হবে এবং প্রাক মৌসুমী বৃষ্টির সুযোগে গাছের বয়স ৩৫-৪০ দিন হলে লাঙ্গল দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

১৩.

ডালিয়া কন্দ কি ভাবে সংরক্ষন করা যায় ?

গাছ শুকিয়ে গেলে কন্দ তুলে ৩-৪ দিন খোলা জায়গায় রেখে এগুলি শোধন করে একটি টবে মাটি ও বালি ভরে রেখে দিতে হবে। মাঝে মাঝে জল দিতে হবে।কচি ডগা বের হলে প্রথমবার ভেঙ্গে দিতে হবে এতে প্রচুর ডালপালা হবে। এই ডালের কাটিং থেকে ছোট পটে বালির মধ্যে চারা তৈরী করা যাবে।

১৪.

একর প্রতি নাইট্রোজেন-২০ কেজি ফসফেট -১০ কেজি ও পটাশ সার – ২০ কেজি দিতে হবে। এক্ষেত্রে কত কেজি ইউরিয়া, জিঃ সুপার ফসফেট ও মিউবিয়েট পটাশ দিতে হবে?

ইউরিয়া-৪৫ কেজি (১ কেজি নাইট্রোজেন =২.২৫ কে.জি ইউরিয়া),সি: সুপার ফসফেট-৬২.৫ কেজি,(১কেজ সিঃ সুপার ফসফেট=৬.২৫কেজি পটাশ-৩৩.২ কেজি(১ কেজি পটাশ-৩৩.২ কেজি (১কেজি পটাশ=১.৬৬ কেজি মিউরেটেই অফ পটাশ).

১৫.

খরিফ মুরশুমে কোন জাতের অড়হড়ের বীজ বোনা উচিত ভাল ফলনের জন্য?

ইউ.পি.এস-১২০ জাতের অড়হড় খারিফ মুরশুমে ভাল হয়।

১৬.

কম্পোষ্ট সার তৈরী করার জন্য একটি পাকা সারগর্ত কি মাপের করতে হবে?

পাকা কম্পোষ্ট সারগর্তের মাপ হবে ১০ ফুট x ৪ ফুট একটি আয়তকার গর্ত। রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সারগর্তের উপর ছাউনি দিতে হবে ।

১৭.

পেঁয়াজ চাষের জন্য বিঘা প্রতি ইউরিয়া, সুপার ফসফেট ও পটাশ কত দিলে ভাল হয়

বিঘা প্রতি ইউরিয়া-২৭ কেজি মিউরিয়েট অফ পটাশ-২০ কেজি ও সপার ফসফেট লাগবে ১৮৮ কেজি।

১৮.

গাছে পটাশ সার দিলে কি উপকার পাওয়া যায়?

রোগ ও পোকা আক্রমন প্রতিরোধ হয়। কান্ড শক্ত হয়, ফসলকে খরা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়।

১৯.

সরিষা গাছের শিকড় ফোলা রোস হলে কি করা উচিত?

চূন দিয়ে মাটি সংশোধন করতে হবে । যে মাঠে এই রোগ হচ্ছে সেই মাঠে পরের বছর চাষ করা উচিত নয়। সহনশীল জাত চাষ করতে হবে। বেশী নাইট্রোজেন সার দেওয়া যাবে না।

২০.

বোরো মুরসুমে হাইব্রিড ধানে বিঘা প্রতি কি পরিমাণ সার দিলে ফলন ভাল হয়?

বিঘা প্রতি সার লাগবে জৈবসার- ২ টণ, নাইট্রোজেন-৬.৫ কেজি, ফসফেট- ৯.৫ কেজি, পটাশ- ৯.৫ কেজি।

২১.

গমচাষে ৩ টি সেচ দেওয়ার সংস্থান আছে, সেচ কখন দিলে ফলন ভাল হবে?

১ম সেচ- বোনার ২০-২১ দিনে
২য় সেচ- বোনার ৭০-৭৫ দিনে
৩য় সেচ- বোনার ৯০-৯৫ দিনে
 

২২.

প্রাক খরিফ মুরসুমে চিনাবাদাম কোন মাসে বুনলে ভাল ফলন পাওয়া যায়?

মাঘ- চৈত্রের প্রথম পযর্ন্ত্য বুনলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

২৩.

মাঠে এক দেড় ফুট জল দাঁড়ায়, কোন জাতের উচ্চফলনশীল ধানের চাষ করা যেতে পারে?

বিপাশা (১৫০-১৬০ দিন)
গোলক ( ঐ )
জিতেন্দ্র ( ঐ )
সুবীর ( ঐ )
 

২৪.

ফুলকপি ভালভাবে জমাট বাঁধেনা,কান্ডের ভিতর ফাঁপা হয়,ফুল বাদামী হয়ে যায় এবং পচে যায়- প্রতিকার কি ?

বোরন অনুখাদ্যের অভাব হলে এই লক্ষণ দেখা যায়। তাই গাছে ২%(এক গ্রাম বোরাখ ১ লিটার জলে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে)।

২৫.

গম ও আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসাবে কোন জাতের সরষে বুনতে হবে?

গম ও আখের জমিতে সীতা (বি-৮৫), ভাগীরথী অথবা সরমা (আর.ডব্লিউ-৫৯) জাতের চৈতি সরষে বোনা উচিত।

২৬.

গম বোনার উপযুক্ত সময় কি-

কার্ত্তিকমাসের শেয সপ্তাহ থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গম বুনলে ফলন ভাল পাওয়া যায়׀

২৭.

উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চলে কোন জাতের গম বোনা উচিত-

সোনালী, রাজেশ্বরী, এম.ডব্লিউ-১০১৪, সোনালিকা׀

২৮.

নাবি বোনার জন্য কোন মাস পর্যন্ত গম বোনা যাবে-

অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নাবিতে বোনার উপযোগী জাত বোনা    যেতে পারে׀

২৯.

সঠিক সময়ে বোনার জন্য কোন জাতগুলি উপযোগী-

দেবা, রাজেশ্বরী, পি.বি.ডব্লিউ-৩৪৩, এল. ডব্লিউ-১০১২

৩০.

যদি সারিতে গম বুনতে হয় একর প্রতি বীজের হার (১০০ ডেসিমেল) কত-

৩৫-৪০ কেজি׀

৩১.

সারিতে গম বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব কত হবে-

৮-৯ ইঞ্চি׀

৩২.

বোনার আগে গমবীজ কি রাসায়নিক ঔষধ দিয়ে শোধন করা যাবে-

প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে থাইরাম ৩গ্রাম অথবা কার্বান্ডাজিম ২.৫গ্রাম ভাল ভাবে মিশিয়ে জমিতে বুনতে হবে׀

৩৩.

গমের ফলন পেতে হলে প্রতি বর্গমিটারে (প্রতি ৫বর্গ মিটারে) কয়টি চারা রাখা উচিত-

১০০-১২৫টি׀

৩৪.

যে জমিতে ৩-৪টি সেচ দেওয়ার সুযোগ থাকে সেই জমিতে মাটি পরীক্ষা করানো না থাকলে কি হারে রাসায়নিক সার দেওয়া যাবে-

     একর প্রতি (১০০ ডেসিমেল)

       নাইট্রোজেন- ৪০কেজি

       ফসফেট-    ২০কেজি

       পটাশ-      ২০কেজি

 

৩৫.

গম চাষে কয়টি সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় এবং মোট কত সেচের জল লাগে-

গমচাষে ৫টি সেচ দিলে অধিক ফলন পাওয়া যায়׀ গম চাষের জন্য ১২-১৫ একর ইঞ্চি জল লাগে׀

৩৬.

গম চাষে যদি ২টি সেচ দেওয়ার সুযোগ থাকে তবে সেচ ২টি কখন দেওয়া উচিত-

প্রথম সেচ দিতে হবে মুকুট শিকড় আসার সময় (বোনার ২০-২১ দিনে), দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে থোড় আসার সময় (বোনার ৬৫-৭০ দিনে)׀

৩৭.

গম চাষে যদি ৩টি সেচ দেওয়ার সুযোগ থাকে তবে কখন সেচগুলি দেওয়া উচিত-

     প্রথম সেচ মুকুট শিকড় বেরোবার সময় (বোনার ২০-২১ দিনে)

      দ্বিতীয় সেচ থোড় আসার সময় ( বোনার ৬৫-৭০ দিনে)

তৃতীয় সেচ ফুল আসার সময় (বোনার ৮০-৮৫ দিনে)

৩৮.

গমের পাতা কখনো কখনো হলদে হয়ে যায় এর কারণ কি-

জমিতে পটাশসারের অভাব হলে হতে পারে׀  জমিতে অনুখাদ্য দস্তার অভাব হলে হয়׀  জমিতে সেচের জল বা বৃষ্টির জল দাঁড়ালে׀  

৩৯.

গমের শীষ চিটে হয় বা পূর্ণরূপে পুষ্ট হয়না কেন-

জমিতে অনুখাদ্য বোরণ অথবা দস্তার অভাব হলে হতে পারে׀  অতি বৃষ্টি বা কুয়াশার জন্য এমথার বা পোলেন থলি তৈরী হয়না তাই শীষ চিটে হয় বা পূর্ণরূপে পুষ্ট হয়না׀

৪০.

গমের জমিতে অনুখাদ্য বোরণের অভাব হলে কি হারে বোরণ দেওয়া উচিত-

বিঘাপ্রতি ১৩০০ গ্রাম সোহাগা মূল সারের সঙ্গে মিশিয়ে ২-৩ বত্সর অন্তর মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে, অথবা প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম সোহাগা মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে׀ গম বোনার ২১ দিন এবং ৪৫ দিন পর স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়׀

৪১.

গমের পাতা কুঁচকে যায় এবং শীষগুলি কুঞ্চিত হয়- এর কারণ কি-

এটি একটি শিমাটোড রোগ׀ শিমাটোড মাটিতে এবং বীজে থাকে, তাই আক্রান্ত বীজ লাগানো উচিত নয়׀

৪২.

গমের জমিতে দস্তার অভাব হলে কি পরিমাণ দস্তা দেওয়া উচিত-

বিঘাপ্রতি মূল সারের সঙ্গে ৩ কেজি জিঙ্কসালফেট মিশিয়ে ২-৩ বত্সর অন্তর প্রয়োগ করতে হবে, অথবা প্রতি লিটার জলে ৫ গ্রাম জিঙ্কসালফেট এবং ২.৫ গ্রাম চুণ মিশিয়ে বোনার ৩ সপ্তাহ ও ৬ সপ্তাহ পর স্প্রে করতে হবে׀

৪৩.

গমের গাছে দস্তার অভাবজনিত লক্ষণ কি রকম হয়-

গম গাছের কান্ডের বৃদ্ধি বন্ধ হয়׀ মুকুল ও পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে যায়, দানার বিকৃতি ঘটে׀ পাতার অগ্রভাগে মরচে দাগ হয়׀

৪৪.

গমের গাছে বোরণের অভাব হলে কি লক্ষণ দেখা যায়-

গাছের মাঝের পাতাগুলিতে সাদা দাগ হয়, ঐ দাগগুলি পরে উজ্জ্বল কমলা রং হয়׀ শীষ আঁকাবাঁকা হয়, শীষ চিটে হয়׀

৪৫.

বিনাচাষে গমের চাষ পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এতে কি কি লাভ পাওয়া যায়-

আমন ধান কেটে গম বুনতে দেরী হয়ে যায়, ফলে গমের ফল আশানুরূপ হয়না׀ এই সমস্যা এড়াতে জমি তৈরী না করে বিনাচাষের গম বোনার যন্ত্রের সাহায্যে বীজ বুনলে দ্বিমুখী লাভ হয়, যেমন জমি তৈরীর খরচ কম হয় এবং সময়মত বীজ বোনা যায়׀

৪৬.

বিনাচাষে গম বোনার যন্ত্র বা জিরোটিলেজ মেশিনটির দাম কত এবং কিভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়-

এই যন্ত্রের দাম মোটামুটি ২২,০০০টাকা׀ এই যন্ত্রটি ট্রাকটার দিয়ে ব্যবহার করতে হয়׀

৪৭.

একবিঘা জমিতে এই যন্ত্রে বীজ বুনলে কতটাকা সাশ্রয় হয়-

সাধারণত বিঘা প্রতি ৩৫০ টাকা সাশ্রয় হয়׀

৪৮.

এক একর জমিতে (১০০ ডেসি) গম বুনতে কত সময় লাগে, যদি এই যন্ত্রে গম বোনা যায়-

মাত্র ৪৫ মিনিটে׀

৪৯.

গম বোনা যন্ত্রে এক সঙ্গে কি কি কাজ হয়-

এই যন্ত্রে গম বুনলে একই সঙ্গে ৯টি সারিতে গমবোনা, সার দেওয়া ও বোনার পর গম বীজ ঢেকে দেওয়া যায়׀

৫০.

চীনা বাদামের কটি শ্রেণী আছে-

      গুচ্ছজাত (ভার্জিনিয়া)

ছড়ানো বা আধছাড়ানো (স্প্যানিশ)

৫১.

চীনা বাদামের গুচ্ছজাত ও ছড়ানো জাতের মধ্যে পার্থক্য কি-

 

গুচ্ছজাত (বোনারপর)

ছড়ানোজাত (বোনারপর)

ফুল আসা শুরু

২০-২৪দিন

২৪-৩০দিন

পেগের সূচনা

২৪-৩২দিন

৩৪-৪০দিন

শুঁচি বৃদ্ধির সূচনা

৩৩-৩৭দিন

৪০-৪৫দিন

মেয়াদ

স্বল্প

মেয়াদি

 

মাঝারি

মেয়াদি

 

বাদামের রং

লম্বাটে বাদামী

ঘনলাল

৫২

চীনাবাদামের চাষ কোন আবহাওয়াতে ভাল হয়-

এটি তাপ সংবেদনশীল ফসল׀ তাপমাত্রা না বাড়লে ফুল হয় না׀ সাধারণত গাছের বৃদ্ধি ২০-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ও ফলের বৃদ্ধির জন্য ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দরকার হয়׀ 

৫৩.

চীনাবাদাম চাষ কখন করা যেতে পারে-

      বছরে তিনটি ঋতুতে চাষ করা যেতে পারে ,যেমন-

রবি মরশুমে -  বীজ বুনতে হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে׀ 

 প্রাক খরিফ মরশুমে- জানুয়ারী -মার্চে׀ 

 খরিফ মরশুমে-  এপ্রিল- জুনে׀ 

৫৪.

কোন মরশুমে চীনাবাদাম চাষ করলে ফলন সব চেয়ে বেশী হয়-

প্রাক খরিফ মরশুমে চাষ করলে সবচেয়ে বেশী ফলন হয়׀ 

৫৫.

পশ্চিমবঙ্গের জন্য কয়েকটি চীনাবাদামের উন্নতজাত ও তাদের মেয়াদ সম্বন্ধে তথ্য-

     জাত- জে-১১, গুচ্ছজাত-১০০-১০৫ দিন׀ 

 জে.এল-২৪ , গুচ্ছজাত-৯৫-১০০ দিন׀ 

  এ.কে-১২-২৪, গুচ্ছজাত-৯৫-১০০ দিন

৫৬.

একর প্রতি চীনাবাদামের চাষ করতে কত বীজের দরকার হয়-

একর প্রতি ৫০-৬০ কেজি (খোসা ছাড়ানো) বীজ দরকার׀

৫৭.

একর প্রতি চীনাবাদামের চাষে রাসায়নিক সার কি পরিমাণ দেওয়া উচিত-

        একর প্রতি সারের পরিমাণ-

  নাইট্রোজেন- কেজি

  ফসফেট-  ১২  কেজি

  পটাশ- ১৮ কেজি

৫৮.

পশ্চিমবঙ্গের উপোযোগী কি কি জাতের সূর্যমূখীর চাষ করা যায়-

কে.বি.এস.এইচ-১,৪৪, এম.এস.এফ.এইচ-১৭,প্যাক-৩৬ মরডেন׀ 

৫৯.

সূর্যমুখীর চাষ আমাদের রাজ্যে কখন চাষ করলে ফসল ভাল হয়-

অগ্রহায়ণ মাস সূর্যমুখী বীজ বোনার আদর্শ সময়׀ 

৬০.

একর প্রতি কত বীজ লাগে সূর্যমুখী চাষ করতে-

একর প্রতি  ২-৪ কেজি বীজ লাগে জাত অনুযায়ী׀ 

৬১.

একর প্রতি সূর্যমুখী চাষে কত পরিমাণ রাসায়নিক সার লাগবে-

একর প্রতি নাইট্রোজেন- ২৪ কেজি ফসফেট- ১৬ কেজি, পটাশ- ১৬ কেজি׀ 

৬২.

চৌরি সরিষার (মাঘি সরিষা) কয়েকটি উন্নত জাত কি কি-

অগ্রণী (বি-৫৪) ও পাঞ্চালি׀ 

৬৩

চৌরি সরিষা কখন বুনতে হবে-

আশ্বিণের মাঝামাঝি থেকে কার্ত্তিকের প্রথম সপ্তাহ׀ 

৬৪.

চৌরি সরিষা কত দিনে কাটার উপযুক্ত হয়-

৭০-৮৫ দিন׀ 

৬৫.

পশ্চিমবঙ্গে শ্বেত সরিষার কি কি জাত চাষ করার উপযোগী-

বিনয় (বি-৯), সুবিনয়, ঝুমকা׀ 

৬৬.

শ্বেত সরিষার মেয়াদ কত দিন-

জাত অনুযায়ী  ৯০-১০০ দিনে ফসল তোলা যায়׀ 

৬৭.

একর প্রতি কি পরিমাণ রাসায়নিক সার দেওয়া উচিত-

নাইট্রোজেন- ৩২ কেজি, ফসফেট- ১৬ কেজি, পটাশ- ১৬ কেজি׀ 

৬৮.

পশ্চিমবঙ্গের উপযোগী রাই সরিষার জাত কি কি-

সীতা (বি-৮৫), ভাগীরথী, সরমা, সংযুক্তা অসেচ׀

৬৯.

রাই সরিষা কত দিনে পাকে-

জাত অনুযায়ী ৯৫-১১৫ দিন׀ 

৭০.

সাথি ফসল হিসাবে কোন ফসলের সঙ্গে সরিষার চাষ করা যায়-

    গমের সঙ্গে রাই সরিষা׀ 

আখের সঙ্গে রাই সরিষা׀ 

৭১.

সেচের সংস্থান না থাকলে কোন জাতের সরিষার চাষ করা যাবে-

সংযুক্তা অসেচ জাত (রাই)

৭২.

দুটি সেচ দিতে পারলে কোন জাতের সরিষার চাষ করা উচিত-

বিনয়, সুবিনয় ও ঝুমকা জাতের শ্বেত সরিষার চাষ করা উচিত׀ 

৭৩.

দেরীতে বা নাবিতে কোন কোন জাতের সরিষার চাষ করা যাবে-

দেরীতে বোনার জন্য (অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে) সরমা জাতের রাই সরিষার জাত লাগানো উচিত׀ 

৭৪.

খরিফ তিল হিসাবে কোন জাত বোনা উচিত-

রমা (৮০-৮৫ দিন পাকতে লাগে)

৭৫.

ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বোনার উপযোগী তিলের জাত কি-

রমা׀ 

৭৬.

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিল বোনার উপযোগী জাত-

তিলোত্তমা׀ 

৭৭.

পাট ও আউশ ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী তিলের কোন জাত চাষ করা যেতে পারে-

এইচ টি- ১, পি টি- ১

৭৮.

ভাদ্র মাসের তিল বোনার উপযোগী জাত কি-

রমা ও তিলোত্তমা׀ 

৭৯.

রাজ্যে সয়াবিনের বীজ বোনার আদর্শ সময় কখন-

আষাঢ় মাস অর্থাত বর্ষার প্রথমেই׀ 

৮০.

সয়াবিনের উন্নত কি কি জাত পশ্চিমবঙ্গে চাষের উপযোগী-

বীরসা সয়াবিন-১, পি.কে.-৪৭২, জে.এস.-৮০-২১, জে.এস.-৩৩৫, এন.আর.সি.-২০

৮১.

একর প্রতি সয়াবিনের চাষে বীজ কত লাগে এবং কি দূরত্বে বীজ বুনতে হয়-

একর প্রতি বীজ বুনতে লাগে ৩০কেজি এবং দূরত্ব- ৪৫×১০ সেমি׀ 

৮২.

সয়াবিনের মাঠে কি পরিমাণ চারা থাকা দরকার-

প্রতি বর্গমিটারে ২২-২৪টি গাছ থাকবে׀ 

৮৩.

সয়াবিন চাষে হেক্টর প্রতি কত সার লাগে-

      নাইট্রোজেন- ২০ কেজি  ফসফেট-  ৬০ কেজি

  পটাশ- ২০ কেজি

৮৪.

কলাই বোনার উপযুক্ত সময় কি-

ভাদ্রমাসের প্রথমার্ধ׀ 

৮৫.

কলাইয়ের কি কি উন্নত জাত আছে-

কালিন্দী, সারদা, উত্তরা, গৌতম׀ 

৮৬.

কলাই চাষে একর প্রতি বোনার জন্য কত বীজ লাগে-

একর প্রতি ১০-১২ কেজি׀ 

৮৭.

পশ্চিমবঙ্গের উপযোগী মুগের জাত কি কি-

    সোনালী-      ৬০-৬৫ দিন׀      পান্না-           ৫৫-৬০ দিন׀      সম্রাট-           ৬০-৬৫ দিন׀      পুশা বিশাল ৩- ৫৫-৬০ দিন׀      পন্থ মুগ ৪-     ৭০-৭৫ দিন׀

৮৮.

মুগ বোনার সময় কখন-

ফাল্গুন- চৈত্রমাস এবং ভাদ্র মাস׀ 

৮৯.

বিঘা প্রতি কত কেজি মুগের বীজ লাগে-

বিঘা প্রতি বীজ লাগে ৬ কেজি׀ 

৯০.

সাথী ফসল হিসাবে মুগের সাথে কোন কোন ফসলের চাষ করা যেতে পারে-

আখ-মুগ, তিল-মুগ, অড়হড়-মুগ, ভুট্টা-মুগ ইত্যাদি׀ 

৯১.

এক বিঘা মুগ ডাল চাষের জন্য জীবাণুসার কত লাগে-

২০০ গ্রাম রাইজোবিয়াম লাগবে׀ 

৯২.

অড়হড়ের উন্নত জাতগুলি কি কি-

উপাস-১২০, ২০/১০৫, চুনী, শ্বেতা׀ 

৯৩.

অড়হড়ের কোন জাত কখন বোনার উপযোগী-

       উপাস-   জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস׀

     ২০/১০৫- আশ্বিনের প্রথম- মাঝামাঝি׀

     চুনী-     জ্যৈষ্ঠ- আষাঢ়׀

       শ্বেতা-   জ্যৈষ্ঠ- আষাঢ়׀

৯৪.

বিঘা প্রতি চাষের জন্য অড়হড়ের বিভিন্ন জাতের কত বীজ লাগে-

         উপাস-১২০, শ্বেতা, চুনী-  ৪কেজি,

     ২০/১০৫- ১০কেজি׀

৯৫.

খেসারীর উন্নত জাত কি কি

নির্মল (বি-১), রতন (বায়ো এল-২১২)

৯৬.

পয়রা ফসল চাষের জন্য খেসারী কখন বুনতে হবে-

পয়রা হিসাবে আমন ধান কাটার ২-৩ সপ্তাহ আগে একর প্রতি ৩০-৪০ কেজি বীজ বুনতে হবে׀ 

৯৭.

মুসুরের উন্নত জাত কি কি-

আশা (বি-৭৭), রঞ্জন (বি-২৫৬), সুব্রত (ডব্লিউ.বি.ইউ-৫৮), মল্লিকা (কে-৭৫)

৯৮.

একর প্রতি মুসুরের কত বীজ লাগে-

একর প্রতি ১২-১৪ কেজি বীজ লাগে׀ 

৯৯.

ছোলার উন্নত জাত কোনগুলি-

মহামায়া- ১, মহামায়া-২, অনুরাধা׀ 

১০০.

ছোলার জন্য একর প্রতি কত বীজ লাগে-

২০-২৫ কেজি׀ 

১০১.

মটরের উন্নত জাত কি কি-

ধূসর-(বি-২২), জি.এফ.-৬৮, ডি.ডি.আর- ২৩

১০২.

মটর চাষের জন্য একর প্রতি কত বীজ লাগে-

২০-২২ কেজি׀ 

১০৩.

মটর বোনার সময় কখন-

কার্ত্তিক-অগ্রহায়ণ মাস׀ 

১০৪.

মাটি পরীক্ষা করলে কি কি বিষয়ে জানা যায়-

মাটির অম্লত্ব, মাটির ক্ষারত্ব, মাটির দ্রবণীয় লবণের পরিমাণ, মাটির জৈব কার্বনের শতকরা হিসাব, গ্রহণযোগ্য ফসফেট, গ্রহণযোগ্য পটাশ, অনুখাদ্য׀ 

১০৫.

অনুখাদ্য দস্তার অভাবে কি পরিস্থিতিতে হতে পারে-

জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকলে বালুমাটিতে দস্তার অভাব হয়׀   জমিতে চুন বেশী বা ঘন ঘন দিলে দস্তার অভাব দেখা যায়׀   জমিতে পটাশ বেশী থাকলে দস্তার অভাব হয়׀ 

১০৬.

দস্তার অভাবে ধানের ও আলুর কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে-

ধানের ক্ষেত্রে রোয়ার ২-৩ সপ্তাহ পর গাছের নিচের দিকের পাতায় ছোট ছোট হালকা বাদামী দাগ দেখা যায় পরে দাগ গুলি বড় হয় এবং পাতা শুকিয়ে যায়׀   আলুর ক্ষেত্রে পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধূসর বাদামী / তামাটে দাগ দেখা যায়׀ 

১০৭.

বাড়িতে কি কি ভাবে জৈব কীটনাশক তৈরী করা যেতে পারে-

     নিমপাতা ২৫০ গ্রাম ও নিমছাল ২৫ গ্রাম, ২ লিটার জলে ফুটিয়ে দেড় লিটার জল করতে হবে׀   ঠান্ডা  করে ৫ লিটার জল মিশিয়ে সব্জীর পাতা খাওয়া প্রতিহত করার জন্য ৭ দিন অন্তর ৩ বার স্প্রে করতে হবে׀ 

নিমবীজ ৫০গ্রাম (শুকনো) গুঁড়ো করে ১ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে  হবে׀   এতে বেগুনের লেদা পোকা, ধানের পামরী পোকা, কপি ও আলুর পাতা খাওয়া পোকার আক্রমণ প্রতিহত হবে׀ 

১০৮.

পিঁয়াজ চাষের জন্য বিঘা প্রতি কত বীজের প্রয়োজন হয়-

বিঘা প্রতি ৫০০ গ্রাম׀ 

১০৯.

বীজতলাতে কখন পিঁয়াজের বীজ বুনতে হবে-

কার্ত্তিকের মধ্যে׀ 

১১০.

পিঁয়াজের কত দিনের চারা মূল জমিতে রোপন করা উচিত-

৩০-৩৫ দিনের চারা, অগ্রহায়ণ মাসের মধ্যে রোপন করতে হবে׀ 

১১১.

পশ্চিমবঙ্গে পিঁয়াজ চাষের উপযোগী জাত কি-

সুখসাগর׀ 

১১২.

প্রতি বিঘায় পিঁয়াজ চাষের জন্য কি কি সার লাগে-

      নাইট্রোজেন- ১২কেজি׀ 

        ফসফেট- ৩০ কেজি׀  

       পটাশ- ১২ কেজি׀ 

১১৩.

কোন প্রকার মাটিতে পিঁয়াজ ভাল হয়-

কালো এঁটেল মাটিতে׀ 

১১৪.

আলুর জলদি ধসা রোগ কখন হয়-

ভিজে ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় আলুতে এই রোগ হয়׀  এই রোগের লক্ষণ প্রথমে পাতায় ছোট ছোট বাদামী দাগ দেখা যায় পরে এই দাগগুলি গোলাকার টার্গেট বোর্ডের আকার ধারণ করে এবং পাতা নষ্ট হয়ে যায়׀ 

১১৫.

আলু গাছের জলদি ও নাবী ধসা রোগ কি ঔষধ দিয়ে দমন করা যায়-

এই রোগটি মাটি বাহিত ছত্রাক রোগ, তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষ জরুরি׀  এছাড়া তামাঘটিত ছত্রাক নাশক ঔষধ যেমন ব্লাইটক্স- ৫০, ৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে ৩-৪ বার ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে׀ 

১১৬.

পশ্চিমবঙ্গে চাষযোগ্য আলুর জাত কি কি-

       কুফরি জ্যোতি׀ 

          কুফরি চন্দ্রমুখী׀ 

        কুফরি চিপসোনা- ১׀  

কুফরি চিপসোনা- ২׀ 

 

১১৭.

আলু বসানোর সঠিক সময় কখন-

      কুফরি জ্যোতি- কার্ত্তিক মাসের শেষে লাগাতে হবে׀ 

      কুফরি চন্দ্রমুখী- কার্ত্তিক মাসের মাঝামাঝি׀  

কুফরি চিপসোনা- ১ এবং চিপসোনা-২ কার্ত্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে লাগাতে হবে׀ 

 

১১৮.

হেক্টর প্রতি আলুর জন্য কত সার লাগে-

         নাইট্রোজেন- ২০০ কেজি׀  

        ফসফেট- ১৫০ কেজি׀ 

 পটাশ- ১৫০ কেজি׀  

১১৯.

সংকর ভূট্টার জাত কি-

ডেকাস হাইব্রিড׀ 

১২০.

প্রতি হেক্টরে সংকর ভূট্টা বোনার জন্য কত বীজ লাগবে-

১৫-২০ কেজি׀