কোয়েল পালন

                                            

কোয়েল পালন কেন করবেন

কোয়েলের জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

ব্রয়লার কোয়েল

কোয়েলের প্রজনন

কোয়েলের বাসস্থান ও পালন পদ্ধতি

কোয়েল পাখীর খাবার ও ব্যবহার

কোয়েলের ডিম ও মাংস

কোয়েলের ডিম ও মাংসের খাবার তৈরীর পদ্ধতি

কোয়েলের রোগ ও প্রতিকার

কোয়েল পাখী পালনের প্রকল্প

কোয়েলের বাচ্চা ও ডিম কোথায় পাবেন

কোয়েল পালনের প্রশিক্ষণ কোথায় পাবেন

আর্থিক সহযোগীতা

 

এক নজরে কোয়েল পালন

 

কোয়েল পালন কেন করবেন

কোয়েল এক বিশেষ ধরনের পাখী যা হিন্দিতে বটের (Bater) এবং বাংলায় তিতির পাখী নামে পরিচিত এই পাখীর বৈজ্ঞানিক নাম কটুরনিক্স কটুরনিক্স জাপোনিকা জাপানি কোয়েলের মাংস ভীষণ সুস্বাদু এবং সংপৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা ব্রয়লার অপেক্ষা কম এবং পাঁঠার মাংসের তিনভাগের একভাগেরও কম ফলে হৃদরোগীর পক্ষে কোয়েলের মাংস গ্রহণযোগ্য অপরদিকে কোয়েলের হাড়ের তুলনায় মাংসের ভাগ বেশী থাকে এবং কোয়েলের মাংসের ড্রেসিং পার্সেন্টেজ ব্রয়লারের মতোই প্রায় ৭৫ শতাংশ শিশুখাদ্য হিসাবে কোয়েলের মাংস নরম, সহজে হজমকারী ও পরিপাককারী

কোয়েলের মাংস ও ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে

কোয়েলের বৃদ্ধির হার

কোয়েলের বৃদ্ধির হার বেশী ৫ - ৬ সপ্তাহ বয়সে বিক্রির জন্য ব্যবহার করা হয় এই সময়ে গড় ওজন হয় প্রায় ১৫০ গ্রাম

কোয়েলের জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

কোয়েল পাখীর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে মোট ১৭ -১৮ দিন ০ - ৩ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত পাখীকে স্টার্টার বা বাচ্চা পাখী বলে ৪ - ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত পাখীকে গ্রোয়ার বা জোয়ান পাখী বলে  ৬ সপ্তাহ বয়সের বেশী পাখীকে লেয়ার বা পরিণত বা পূর্ণ বয়স্ক কোয়েল বলা হয়

পরিণত পুরুষ ও স্ত্রী পাখীর ওজন-

পরিণত পুরুষ পাখীর ওজন গড়ে ১৫০ - ১৭০ গ্রাম এবং স্ত্রী পাখীর ওজন গড়ে ১৮০ - ১৯০ গ্রাম হয়

কোয়েলের ডিম পাড়ার বয়স-

কোয়েল পাখী সাধারণতঃ ৬ - ৭ সপ্তাহ বয়সের পর থেকে ডিম দিতে শুরু করে এবং ১০ সপ্তাহ বয়সের পর থেকে পুরোপুরি ডিম দিতে শুরু করে  কোয়েল সাধারণতঃ বিকেলের দিকে ডিম দিতে ভালোবাসে

কোয়েলের ডিমের ওজন-

কোয়েলের প্রতিটি ডিমের ওজন গড়ে ১০ - ১২ গ্রাম হয়

মোট ডিমের সংখ্যা-

কোয়েল পাখী বছরে গড়ে মোট ২৫০ - ২৮০ টি ডিম দেয় এবং কোয়েল টি যদি ১০০টি ডিম পাড়ে তাহলে ঐ ডিমের মধ্যে ৭৫টি  সঠিক ডিম বা বাচ্চা উত্পাদনে সক্ষম এমন ডিম বা ফার্টাইল ডিম হবে

বাচ্চা কোয়েল পাখীর ওজন-

একদিনের কোয়েনের ওজন ৭ গ্রাম হয়

কোয়েল পালনের জন্য পুরুষ ও স্ত্রী পাখীর সংখ্যা

বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কোয়েল পালন করতে গেলে ১টি পুরুষ কোয়েলের সাথে ৩টি স্ত্রী কোয়েল পাখী রাখতে হবে

 

কোয়েল পাখীর বৈশিষ্ট্য-

  • কোয়েল খুব তাড়াতাড়ি ওজনে বাড়ে বা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে

  • খুব তাড়াতাড়ি যৌনপ্রাপ্তি ঘটে ৬ - ৭ সপ্তাহ বয়স থেকেই ডিম দিতে শুরু করে এবং ডিম পাড়ার হারও খুব বেশী এবং তা একনাগাড়ে ২৫০ - ২৭০ দিন

  • কোয়েল পাখী পালন করতে গেলে জায়গা খুব কমই লাগে

  • কোয়েল পাখীর কোন রোগ হয় না বললেই চলে

  • অন্যান্য মাংসের তুলনায় কোয়েলের মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক কম থাকে ফলে যে কোন বয়সের লোকেরা বা হৃদরোগে আক্রান্ত এমন লোকেও কোয়েলের মাংস গ্রহণ করতে পারে

ব্রয়লার কোয়েল

ব্রয়লার কোয়েলকে ৪ সপ্তাহ বয়সে বাজারে বিক্রি করা যায়

৪ সপ্তাহ বয়সে ওজন

১২৫ গ্রাম

৫ সপ্তাহ বয়সে ওজন

১৪০ - ১৫০ গ্রাম

সাতটি কোয়েল থেকে

১ কেজি মাংস পাওয়া যায়

 

কোয়েলের মাংস-

কোয়েলের মাংস খুবই সুস্বাদু, নরম যা সহজে হজম করা যায়   কোয়েলের মাংসে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন থাকে এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে  মাংসের রং সাধারণত লাল রঙের   

কেন কোয়েলের মাংস মুরগীর মাংসের চেয়ে বেশী পছন্দকরা হয়

  • মুরগীর মাংসের চেয়ে কোয়েলের মাংস বেশী সুস্বাদু

  • কোয়েলের মাংস বাচ্চাদের শরীর এবং মস্তিষ্ক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

  • কোয়েলের মাংস গর্ভবতী মহিলা ও মায়েদের সহজপাচ্য খাদ্য হিসাবে কাজ করে

  • কোয়েলের মাংসে ফ্যাট ও ক্যালরি কম থাকে কিন্তু ফসফোলিপিড বেশী থাকে যার ফলে কোলেস্টেরলের ভয় থাকে না বা কম থাকে

কোয়েলের ডিম-

কোয়েলের ডিম আকারে মুরগীর ডিম অপেক্ষা অনেক ছোট এবং তা মুরগীর ডিমের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এবং ওজনে ১০ গ্রামের মতো   ডিমের কুসুম বা ডিমের হলুদ অংশ বা ইয়ক এবং ডিমের সাদা অংশ বা আলবুমিনের অনুপাত হল ৩৯:৬১, যা মুরগীর ডিমের অনুপাতের চেয়ে বেশী

মাংস ও ডিম উত্পাদনে কোয়েল পালনে সুবিধা-

        কোয়েলের কিছু কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে যা খুবই পছন্দকর মাংস ও ডিম উত্পাদনে   সেগুলি হল-

  • কোয়েলকে খুব তাড়াতাড়ি বাজারজাত করা যায়  প্রায় ৫ সপ্তাহ বয়সে মাংসের জন্য ব্যবহার করা হয়  

  • তাড়াতাড়ি যৌবনপ্রাপ্তি ঘটে (কোয়েল ৬ - ৭ সপ্তাহে ডিম দিতে শুরু করে)

কোয়েলের প্রজনন

কোয়েলের প্রজননের উদ্দেশ্য হল ভাল জাতির পাখীর উত্পত্তি তথা ডিম ও মাংসের মাত্রা বৃদ্ধি করা 

কোয়েলের প্রজননে লক্ষ্য রাখা উচিত, যাতে অন্তঃপ্রজনন দ্বারা উত্পন্ন বিপরীত প্রভাবকে কম মাত্রায় রাখা যায় 

একত্রে সমাগম করানোর স্থিতিতে কম সে কম ২০ টি পুং ও ৪০ - ৬০টি স্ত্রী পাখী রাখা প্রয়োজন

কোয়েলে মিলন সাধারণত সমষ্টি মিলন বা ব্যাক্তিক মিলন দ্বারা করা হয়

  • নিষেক ক্ষমতা

কোয়েল থেকে উর্বর ডিম পাওয়ার জন্য পুং ও স্ত্রী কোয়েল সমসংখ্যায় রাখা আবশ্যক নয়  গবেষণা দ্বারা দেখা গেছে যে পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত ১:২ বা ১:৩ হলেও ভাল বাচ্চা হয়  যদি কোয়েলকে বেশী পরিমাণে রাখা হয় সেক্ষেত্রে একটি পুরুষ কোয়েল ও স্ত্রী কোয়োল ৩ - ৫টি রাখা যায়

 

ডিম উত্পাদন

কোয়েল ৭৫ শতাংশ ডিম বিকাল ৩ - ৬টার মধ্যে দেয় এবং বাকী ২৫ শতাংশ ডিম রাত্রে দেয়  ৬সপ্তাহ বয়সে কোয়েল ডিম উত্পাদন শুরু করে  কোয়েলের ৭ - ৮ সপ্তাহ বয়সে ৫০ শতাংশ এবং সর্ব্বোচ্চ অর্থাত ৮০ শতাংশ উত্পাদন ৯ - ১০ সপ্তাহ বয়সে দেয়  উপযুক্ত পরিবেশে ৭০ - ৯০ শতাংশ সর্ব্বোচ্চ উত্পাদন পাওয়া যায়  উপযুক্ত পরিচর্যায় কোয়েল বত্সরে ২৫০-৩০০টি  ডিম দেয় প্রতি বছরে কোয়েলের ডিমের ওজন সর্ব্বোচ্চ অবস্থায় ১১ গ্রাম হয়    

ইনকুবেটরে কোয়েলের বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি

ভালো বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিম ও বাচ্চার মৃত্যুর হার কমানোর জন্য ডিমকে ভালো করে ফরম্যালডিহাড গ্যাসে ২০ মিনিট রাখতে হবে  হ্যাচারে বা হ্যাচিং ইনকুবেটরের তাপমাত্রা যেন ৩৭.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ৯৯.৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয় ১৪  দিন       পর্যন্ত ডিমকে দিনে ছয়বার সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঘোরানোর ব্যবস্থা করতে হবে ১৫ দিনের মাথায় ডিমকে হ্যাচারে আনতে হবে ঐ সময় আর ডিম ঘোরানোর প্রয়োজন থাকে না এবং ১৮ দিনের মাথায় ঐ ডিম থেকে বাচ্চা পাওয়া যায়

কোয়েলের বাচ্চা ফোটানোর জন্য কি ধরনের ডিম ব্যবহার করা উচিত

  • ডিমের আকার ও ওজন যেন ৮ - ১০ গ্রামের নীচে না হয়

  • ডিমের রঙ সাদা বা বাদামী রঙের ছোপযুক্ত যেন হয়
  • ডিমের খোলা যেন হাত দিলে ভেঙ্গে যায় এমন না হয় যেন একটু শক্ত হয়
  • গ্রীষ্মেকালে ৩ দিনের বেশী এবং শীতকালে ৫ - ৭ দিনের বেশী পুরনো ডিম বাচ্চা ফোটানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়

মা বা ব্রুডি কোয়েলকে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটানো

বাস্তবিকভাবে ব্রুডি কোয়েলকে ডিমে বসালে সে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে পারে  কিন্তু এই পদ্ধতি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে করা যায় না কিন্তু জাপানি স্ত্রী কোয়েল বাসাতে সহজে তা দিয়ে বাচ্চা তৈরী করতে পারে

কোয়েলের বাসস্থান ও পালন পদ্ধতি

কোয়েল বাচ্চার ব্রুডিং

বাচ্চাকে ব্রুডারে রাখা এক বিশেষ ধরনের পদ্ধতি  এই পদ্ধতিতে বাচ্চা প্রায় ০ - ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখতে হয় কারণ গায়ের তাপমাত্রা ঠিকমতো থাকা ঐ সময় ভীষণ জরুরী লক্ষ্য রাখতে হবে ঐ সময় যেন তাপমাত্রার বিশেষ কোনো হেরফের না হয় তাপমাত্রা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাচ্চা কোয়েল ঐ সময় মারা যেতে পারে  তাপমাত্রা ব্রুডারে রাখার প্রথমদিকে ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ৯৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট রাখতে হবে এইভাবে এক সপ্তাহ চলার পর প্রতি সপ্তাহে ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট করে কমাতে হবে

 

কোন বয়সের পাখীর কতটা জায়গা লাগবে

ব্রুডিং করার সময়ে  প্রতিটি পাখীর ৭৫ স্কোয়ার সেন্টিমিটার জায়গা লাগবে  ৩ - ৬ সপ্তাহ বয়সের পাখীর জন্য ১৫০ - ১৭৫ স্কোয়ার সেন্টিমিটার জায়গা লাগবে ৬ সপ্তাহ বয়সের ওপরের পাখীর ২০০ - ২৫০ স্কোয়ার সেন্টিমিটার জায়গা লাগবে খাবারের জায়গা কোয়েল প্রতি এবং বয়স অনুযায়ী ১ - ২ সেন্টিমিটার রাখতে হবে

 

কোয়েল বাচ্চা পালনের আবশ্যকতা

কোয়েল বাচ্চা পালনের জন্য বাচ্চাদের ঘরের কিছু অন্য আবশ্যকতা আছে, যেটা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এগুলো নিম্নরূপ-

  • বাতাসের আগমন-  হাওয়া আসা যাওয়ার জন্য জানলাগুলো এমনভাবে বানাতে হবে যা পর্যাপ্ত মাত্রায় ventilation-এ সাহায্য করে

  • আলোর ব্যবস্থা-  কোয়েল ঘর এমন ভাবে তৈরী করতে হবে যাতে আলো সর্বত্র সমানভাবে থাকে যদি বাচ্চাদের খাঁচায় রাখা হয় তবে ২৪ ঘন্টা আলো থাকলে ভালো হয় যদি তাপ দেওয়ার জন্য বাল্ব ছাড়া অন্য কোন কিছু ব্যবহার করা হয় তবে ব্রুডারে প্রতি ১০০ বর্গফুট ক্ষেত্রফলে ৪০ ওয়াট বা ব্রুডারের প্রতি কক্ষের জন্য ১৫ ওয়াটের বাল্ব লাগাতে হবে আলো দেওয়ার জন্য, যেটা খুব উত্তম

  • মেঝের পরিমাপ-  তিন সপ্তাহ বয়সের বাচ্চাদের জন্য ব্রুডারের তা দেওয়া ও খোলা জায়গায় প্রত্যেকস্থান ৭৫ বর্গসেমি প্রতি বাচ্চা পিছু রাখা উপযুক্ত এক সপ্তাহ বয়সের বাচ্চাদের জন্য মেঝেতে একটা মোটা কাগজ বিছিয়ে দিলে বাচ্চাদের চলতে সুবিধা হয়

  • খাবার ব্যবস্থা-  বাচ্চাদের উত্তম বৃদ্ধির জন্য ভাল খাবার ব্যবস্থা অত্যন্ত আবশ্যক কোয়েলের বাচ্চা তৈরীর কিছুক্ষণ পরেই খাবার দেওয়া শুরু করতে হবে প্রথম দিনে রুটির টুকরো করে দেওয়া যায় এরপরে ২ ইঞ্চি চওড়া ও ২ ইঞ্চি গভীর গ্যালভানাইজড লোহার চাদর দিয়ে তৈরী খাবার পাত্র দেওয়া যায় খাবার পাত্রের উপর ০.৫ ইঞ্চি ০.৫ ইঞ্চি তার জালি থাকলে খাবার নষ্ট হয় না কোয়েল বাচ্চার জল খাবার পাত্র একটা ছোট প্লেটের উপর প্লাস্টিকের মগ উপড়ে বানানো যেতে পারে

কোয়েল পালন পদ্ধতি

মুরগীর মত ডিপ লিটার এবং খাঁচা দুই পদ্ধতিতেই কোয়েল পালন করা সম্ভব খাঁচা পদ্ধতিতে পাখী পালন করলে খরচ একটু বেশী লাগে, কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে এবং মৃত্যুর হারও অনেক কম হয় খাঁচা পদ্ধতিতে বাচ্চাদের জন্য ও বাড়ন্ত পাখীদের জন্য আলাদা আলাদা খাঁচা তৈরী করতে হবে এই পদ্ধতিতে  বর্গফুটে ৫টি পূর্ণবয়স্ক পাখী পালন করা যায়

প্রতি বর্গফুট জায়গাতে কতগুলি পাখী রাখা যেতে পারে

পাখী / বয়স

খাঁচা / খাঁচা পদ্ধতি

ডিপলিটার পদ্ধতি

বাচ্চা পাখী

৮ - ১২ টি

৮ - ১০টি

জোয়ান / বাড়ন্ত পাখী

৫ - ৭ টি

৪ - ৫ টি

লেয়ার / ডিমপাড়া পাখী

৪ - ৬ টি

২ - ৫ টি

 

ব্যাটারী বা খাঁচাতে কোয়েল পালন পদ্ধতি-

বাচ্চা থেকে বড় হওয়ার সময় পর্যন্ত ও বড় হওয়ার পর ডিম পাড়ার সময় আলাদা আলাদা খাঁচা ব্যবহার করতে হবে  এই সব খাঁচাগুলোকে একটা ছাউনির মধ্যে রাখতে হবে এই ছাউনির মাপ হল সর্বাধিক ৩০ ফুটছাউনির লম্বাদিকটা পূর্ব-পশ্চিম বরাবর রাখতে হবে, আর দৈর্ঘ্য নির্ভর করছে খাঁচার সংখ্যার উপর ছাউনির উচ্চতা হবে মাঝখানে ১০ - ১২ ফুট আর দুপাশে ঢালু হয়ে ৬ - ৭ ফুট হবে ছাদের চালা আসবেসটস বা টিন বা খড় বা অন্য কোন উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে বৃষ্টির ঝাপটা যাতে ভিতরে না যেতে পারে তার জন্য কার্নিশের ব্যবস্থা করতে হবে মেঝে যাতে স্যাঁতস্যাঁতে না হয় মেঝে ১ - ২ ফুট উঁচু করতে হবে

 

আবশ্যক ব্যবস্থা-

  • আলোর ব্যবস্থা-  কোয়েলের বৃদ্ধি ও ডিম দেওয়ার ক্ষমতা, প্রজনন অঙ্গের বিকাশ ও বেশী ডিম দেওয়া বিষয়গুলি প্রতিদিন প্রাপ্ত আলোর অনুসারে নিয়ন্ত্রণ করা যায়  আলোর বিভিন্নতায় শারীরিক প্রক্রিয়া দ্বারা পাখীদের বিকাশ, উত্পাদন ও প্রজনন নিয়ন্ত্রিত হয় ডিম দেওয়া পর্যন্ত কোয়েলকে প্রতিদিন ১৪ - ১৮ ঘন্টা আলোর প্রয়োজন

  • তাপমাত্রা- কোয়েল ঘরের তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রী - ৭০ডিগ্রী ফারেনহাইট থাকা উচিত

  • ডিম না দেওয়া পাখীর ছাঁটাই প্রয়োজন

কোয়েল পালন করতে গেলে কতগুলি বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে -

  • মুরগীর মতো কোয়েলের ঠোঁট কাটা হয় সাধারণত ৩ - ৪ সপ্তাহ বয়সে ঠোঁট কাটলে ভালো হয়

একনজরে বিভিন্ন বয়সের কোয়েলের তাপমাত্রা, মেঝের পরিমাণ, খাবার জায়গা ও জলের জায়গা

 

০ - ৩ সপ্তাহ

৪ - ৫  সপ্তাহ

৬ সপ্তাহের বেশী

তাপমাত্রা (ডিগ্রী- ফারেনহাইট)

১০০ - ৭০ ডিগ্রী- ফারেনহাইট

স্বাভাবিক

স্বাভাবিক

মেঝের পরিমাণ (স্কোয়ার সেমি / পাখী)

৭৫

১১০

১৫০

খাবার জায়গা

( সেমি / পাখী)

২.৫

জলের পরিমাণ

( সেমি / পাখী)

১.৫

২ 

কোয়েল পাখীর খাবার ও ব্যবহার

কোয়েল পাখীর দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সর্বদাই সুষম খাদ্য দিতে হবে ৫ সপ্তাহ  পর্যন্ত একটি  কোয়েল বাচ্চা প্রায় ৪০০ গ্রাম খাবার খায় তারপর থেকে একটি পাখী গড়ে ২০ - ২৫ গ্রাম খাবার খায় বছরে একটি পাখী মোট প্রায় ৮ কেজি খাবার খায় ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোনোর পরে সাধারণত দুইদিন হলুদ ভুট্টাকে গুঁড়ো করে খাওয়াতে হয় তারপর সুষম খাদ্য স্টার্টার, গ্রোয়ার, লেয়ার খাবার দিতে হয়

  • স্টার্টার (০ - ৩ সপ্তাহ)- কোয়েলের জীবনচক্রের প্রথম তিন সপ্তাহ খুব গুরুত্বপূর্ণ  এবং এদের বিশেষ পরিচর্যা দরকার  এই বয়সে দ্রুত বর্ধনশীল বাচ্চার শরীরের ওজন প্রতি গ্রাম খাবার মাত্রা দ্বারা বেশী বৃদ্ধি হয়

কোয়েলের শরীরের ওজন, খাদ্যগ্রহণ ও খাবারের দক্ষতা

বয়স

সপ্তাহ

শারীরিক ওজন

খাদ্য পরিমাণ

গ্রা. / পাখী / দিন

খাবার দক্ষতা / গ্রাম ওজনে বৃদ্ধির জন্য খাবারের পরিমাণ

পুং

স্ত্রী

৭.২

৭.৪

-

১.৩৩

২২.৮

২৩.৫

১.৩৩

৪৭.৩

৪৮.০

১.৯৭

৮২.৩

৮৮.৪

১৩

২.১৭

১০০.৫

১২০.৬

১৫

২.৭৯

১২৭.৯

১৪০.৩

১৭

৩.১৮

১৩৫.৩

১৫০.০

১৯

৩.৯৮

১০

(বয়স্ক)

১৪৫.৮

১৭০.৮

২২

৩.০০

(ডিম দেওয়া)

 
  • গ্রোয়ার (৪ - ৫ সপ্তাহ)-  ৩ সপ্তাহ পর থেকে শরীরের বৃদ্ধি প্রথম থেকে কিছুটা কম হয়

  • ফিনিসার (৬ সপ্তাহ পরে)-  কোয়েলের ডিম দেওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ মাস হয়

পাখীর বয়সের সাথে সাথে দৈনিক গড় খাবারের পরিমাণ

পাখীর বয়স

পাখী / দিনের গড় খাবারের পরিমাণ

১ম সপ্তাহ

৪ গ্রাম

২য় সপ্তাহ

১০ গ্রাম

৩য় সপ্তাহ

১৫ গ্রাম

৪র্থ সপ্তাহ

২০ গ্রাম

৫ম সপ্তাহ

২২ গ্রাম

৬ষ্ঠ সপ্তাহ

২৫ গ্রাম

 

পাখীর বয়সের সাথে  দৈনিক গড় ওজন

পাখীর বয়স

ওজন (গড়)

০ দিন

৫ - ১০ গ্রাম

১ম সপ্তাহ

২০ - ২৫ গ্রাম

২য় সপ্তাহ

৪০ - ৪৫ গ্রাম

৩য় সপ্তাহ

৯০ - ১০০ গ্রাম

৪র্থ সপ্তাহ

১০০-১২০ গ্রাম

৫ম সপ্তাহ

১২০ - ১৫০ গ্রাম

৬ষ্ঠ সপ্তাহ

১৫০ - ১৭০ গ্রাম পুরুষ

১৭০ - ১৯৯ গ্রাম স্ত্রী

 

স্টার্টার, গ্রোয়ার ও ফিনিসার খাবার তৈরীর ফর্মুলা-

কোয়েলের প্রারম্ভিক খাবার (স্টার্টার মেস) বাড়ন্ত বাচ্চার খাবার, প্রজননক্ষম পাখীর খাবার প্রতি ১০০ কেজি হিসাবে

উপাদান

প্রারম্ভিক খাবার

গ্রোয়ারের খাবার

লেয়ারের খাবার

ভুট্টা

৪৫ কেজি

৫৫ কেজি

৫২ কেজি

সোয়াবিন মিল

২৩ কেজি

২০ কেজি

২২ কেজি

বাদাম খোল

১৭ কেজি

১০ কেজি

৮ কেজি

ধানেরকুঁড়ো

৩ কেজি

৪ কেজি

৬ কেজি

মাছের গুঁড়ো

১০ কেজি

৮ কেজি

৬ কেজি

খনিজ লবণ

১.৫ কেজি

২.৫ কেজি

৩.৫ কেজি

কলিচুন

-

-

২ কেজি

লবন

০.৫ কেজি

০.৫ কেজি

০.৫ কেজি

ভিটামিন-এ,বি২,  ডি,

০.০২ কেজি

০.০৪ কেজি

০.১ কেজি

ভিটামিন-কে

০.০০৪ কেজি

০.০০৪ কেজি

০.০২ কেজি

১০০ কেজি

১০০ কেজি

১০০ কেজি

 

খাবার তৈরী করার সময় ভালো করে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন খাবারের গুঁড়ো খুব বেশী বড় না হয়  বড় হলে কোয়েল খেতে পারবে না এর সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঠিক সময়ে জল দেওয়া হয় এবং এই জলের সাথে প্রয়োজন হলে কিছু আন্টিবায়টিক দেওয়া যেতে পারে

কোয়েলের খাবার দেবার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

  • কোয়েলকে বাচ্চা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার দিতে হবে

  • কোয়েলের পরিমাণ মত নির্দিষ্ট খাবার না দিয়ে ওদের স্ব-ইচ্ছায় খাবার খেতে দিতে হবে

  • প্রথম সপ্তাহে খাবার পাত্র পুরো ভরা খাকবে এবং কিছু খাবার মেঝেতে থাকবে খাবার কাগজে ছড়িয়ে দিতে হবে

  • পাখীদের সংখ্যা ও বয়স অনুসারে খাবার পাত্র তৈরী হলে খাদ্য কম নষ্ট হয়, সঙ্গে সঙ্গে পাখীও ভালভাবে খায়

  • খাদ্য পাত্রে পাখীদের বয়স অনুসারে খাবার জায়গা দিতে হবে যাতে ওদের প্রয়োজন মত খাবার খেতে পারে

  • খাবার পাত্র বেশী উঁচুতে রাখলে পাখী সহজে খাবার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না খাবার পাত্রের উচ্চতা পাখীর পিঠের সমতল হতে হবে

  • খাদ্য খারাপ হওয়া রোধ করার জন্য পাত্র খাবার দিয়ে অর্ধেকের বেশী ভরা উচিত নয় এবং এছাড়া দিনে দুবার খাবার দেওয়া উচিত

  • খাদ্য এক সপ্তাহের বেশী বানিয়ে রাখা যাবে না, এতে খাদ্যে অবস্থিত ভিটামিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এতে গন্ধ ও স্বাদহীন হয়ে যায়

  • ৬সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবার পরিমাণ পাখী প্রতি ৫০০ গ্রাম  হয় এর পরে ২২ - ২৩ গ্রাম / পাখী / দিন হয়

  • পাখীদের পান করার জন্য পরিস্কার জল দিতে হবে গরমের সময় জলের পাত্র দ্বিগুণ করে দিতে হবে

কোয়েলের ডিম ও মাংস

কোয়েলের ডিমের মোট ওজন ১১ গ্রাম যা হয় মুরগীর ডিমের এক পঞ্চমাংশ  আকারে ছোট হলেও এটা মানুষের খাদ্যের সমস্ত পুষ্টিকর উপাদান প্রদান করতে সম্পূর্ণ সক্ষম কোয়েলের ডিমের খোলস সাধারণত হালকা স্লেট রঙের উপর গাঢ় কালো রঙের ছিটছিট ইতস্তত ছড়ানো থাকে, কিন্তু পুরো সাদা খোলের ডিমও পাওয়া যায়

ডিমের ভৌতিক ও রাসায়নিক গঠন- কোয়েলের ডিমের সাদা ভাগ এবং কুসুম পুরো ডিমের ওজনের যথাক্রমে ৫৭ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ হয়  কোয়েলের ডিমে মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টিতত্ত্ব প্রায় থাকে যেটা খুব সহজপাচ্য হয়

 

কোয়েলের মাংস-  কোয়েলের মাংস খুব সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ভোজনরসিকদের একটি উত্তম খাদ্যরূপে প্রচলিত  কোয়েল পালকদের বেশী লাভ এবং ক্র্রয়কারীদের বেশী গুণের মাংস সুলভে দেওয়ার জন্য কোয়েলকে ৫ সপ্তাহ বয়সে যখন ওজন ১৩৫ গ্রাম হয় তখন কাটা হয়, কিন্তু এটা বাজারের চাহিদা ও উত্পাদন মূল্যের উপর নির্ভর করে

বিপণনের জন্য তৈরী কোয়েল মাংস পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে-

  • কাটার ১২ ঘন্টা আগে কোয়েলকে খাবার দেওয়া বন্ধ করতে হবে যাতে পাখীদের পাকস্থলীতে খাবার না থাকে  এর ফলে বিক্রিত কোয়েল সংক্রমণ থেকে দূরে থাকে এই সময় কোয়েলের খাবার জন্য পর্যাপ্ত জল দিতে হবে যাতে জল না পেয়ে পাখী মারা না যায়                     

  • কোয়েল তৈরীর প্রক্রিয়া-  মারার আগে না খাওয়ানো (১২ ঘন্টা) মারার আগে পরীক্ষা রক্ত বের করা গরম জলে ডোবানো পাখা ছাড়ানো মাথা কাটা তেল গ্রন্থি ও সন্ধি কাটা ধোয়া ভিতরের অঙ্গ বাইরে বের করা শব পরীক্ষা  ধোয়া ঠান্ডা করা (৪ ঘন্টা) জল বের করা প্যাকিং যাতায়াত সংরক্ষণ পরিবহন

  • খাওয়ার যোগ্য ও অযোগ্য ভাগ-  Processed পাখীতে খাবারযোগ্য মাংস পরিমাণ পাওয়াও এক আবশ্যক গুণ যা ক্রেতার পছন্দের জন্য আবশ্যক প্রায় ৫ সপ্তাহ বয়সের কোয়েলে প্রাপ্ত খাওয়ার যোগ্য মাংস ও অযোগ্য মাংসের মাত্রা ৬৮ শতাংশ ও ৩২ শতাংশ হয় স্ত্রী পাখীতে পুং পাখী অপেক্ষা জনন অঙ্গের ওজন বেশী হওয়ার জন্য এতে খাদ্য যোগ্য মাংসের মাত্রা পুং পাখী অপেক্ষা কম হয়

কোয়েলের ডিম ও মাংসের খাবার তৈরীর পদ্ধতি

কোয়েলের ডিম ও মাংস পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় ও ছোট হওয়ার জন্য এই সকল পদার্থকে বিভিন্ন উপাদেয় হিসাবে ব্যবহারের প্রচুর সম্ভাবনা আছে

  • আচার বানানো-  এটা আসলে এক ধরনের রন্ধন প্রণালী যাতে Weak Acid অথবা খাওয়ার তেলে নুন ও মসলা মিশিয়ে একটি সুস্বাদু রান্না করা যায়

  • কোয়েলের ডিমের আচার-  কোয়েলের ডিমের আচার বানানো বিভিন্নধাপে করা হয়

ডিম সেদ্ধ, খোসা ছাড়ানো ও আচারের মশলা তৈরীর প্রণালী - আচার বানানোর পদ্ধতি অনুযায়ী মশলা বানানোর জন্য তেলে ভাল করে ডিম ভাজতে হবে অথবা  ডিমে অম্ল, লবন ও মশলা মিশিয়ে রাখা যায়  আচারের মশলা ৩ শতাংশ Acetic Acid  অথবা সাদা ভিনিগার ও জল অর্ধেক ২মাত্রা মিশিয়ে নুন ও মশলা, রসুন, আদা দিয়ে বানাতে হবে আচারের এই মশলা ৮৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ২০ মিনিট গরম করে মিশাতে হবে সব মশলা ভাল করে পরিস্কার ও শুকিয়ে আলাদা আলাদা বাটতে হবে ছাড়ানো আদা ও রসুন বাটতে হবে

মশলা তৈরীর পদ্ধতি

মশলা মিশ্রনের উপাদান

কোয়েলের ডিমের আচারের জন্য উপাদান

উপাদান

ভাগ

উপাদান

ভাগ

লবন

১০

ভিনিগার

৫০০

লাল লঙ্কা

২০

জল (মিলি)

৫০০

এলাচ

১০

লবন (গ্রাম)

৮০

জোয়ান

১০

মশলার মিশ্রণ (গ্রাম)

২০

দারুচিনি

১০

আদা (ছাড়ানো / গ্রাম)

২০

জীরা

২০

রসুন (ছাড়ানো / গ্রাম)

২০

লবঙ্গ

৭.৫

কোয়েল ডিম

১৫০

 

হলুদ

১০

 

কোয়েলের ডিমের আচার বানানোর পদ্ধতি-

ডিম সেদ্ধ করার প্রণালী

 

মশলা তৈরীর প্রণালী

কোয়েলের তাজা ডিম

 

ভিনিগার ও লবণ মেশানো

সেদ্ধ করা

 

মশলার মিশ্রণ বানানো

সেদ্ধ করা ডিম ছাড়ানো

 

উপকরণ তৈরী করা

ধোয়া ও পাত্রে রাখা

 

উপকরণ ভাল ভাবে মেশানো

 

মশলা ডিমে মেশানো

 
 

৭২ ঘন্টা রেখে দেওয়া

 
 

প্যাকিং ও সংরক্ষণ

 
 

কোয়েলের মাংস খাওয়া ছাড়াও এর আচার বানানো যায়  কোয়েলের আকার ছোট হওয়ার জন্য কাটা মাংসের আচার টুকরো করা ছাড়া বানানো যায় স্বাদ ও পছন্দ অনুযায়ী ডিমের মত মাংসের আচার বানানোর জন্য নিম্নের দুটো পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় - ভিনিগার ও বনস্পতি তেল দ্বারা

প্রথম পদ্ধতিতে কোয়েল কাটার পর ওকে ৮ - ১০ মিনিট  ১৫ IB চাপে প্রেসার কুকারে রান্না করা হয়  আচারের মিশ্রণ, ভিনিগার, লবণ ও মশলা মিশ্রণ ও জল মেশানো হয় একে ডিমের আচারের মত তৈরী করা হয় জীবানুবিহীন এক পাত্রে  কোয়েল মাংস রেখে উপর থেকে আচারের মশলা দিতে হয় ভালোভাবে মেশানোর পরে ঢেকে ৪ দিন পর্যন্ত ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিতে হবে এর পরে আচার খাবার যোগ্য হয় এই আচারের সাধারণ বা ফ্রীজের উষ্ণতায় ২ মাস রাখা যায়

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে সরষের তেলে মশলা দিয়েও আচার বানানো যায়  এই জন্য কাটা কোয়েলকে লবণ, মশলা ইত্যাদি মিশিয়ে সরষের তেলে ৮৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উষ্ণতায় ভাজতে হবে পরে ভিনিগার ঢেলে মেশাতে হবে একে গরম করে একটু ঠান্ডা করতে হবে একটি পরিস্কার পাত্র তেলে বানানো মাংসের আচার সাধারণ ২৯ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড-এ ৫ মাস পর্যন্ত গুণের কোন পরিবর্তন ছাড়া রাখা যায় আচার বানানোর সময় ও পরে সংক্রমণ সম্ভাবনা কমানোর জন্য খুব সাবধানে করতে হবে

কোয়েলের মাংসের আচারের  উপাদান-

ভিনিগার দিয়ে- কাটা কোয়েল ১কেজি (গিবলেট সহ)

উপাদান

মাত্রা

উপাদান

মাত্রা

ভিনিগার

৭৫০ মিলি

জল

৭৫০ মিলি

লবণ

১৫০ গ্রাম

মশলা মিশ্রণ

৩০ গ্রাম

আদা  (ছাড়ানো )

৩০ গ্রাম

রসুন

৩০ গ্রাম

 

তেল দিয়ে- কাটা কোয়েল ১কেজি (গিবলেট সহ)

উপাদান

মাত্রা

উপাদান

মাত্রা

ভিনিগার

২৫০ মিলি

সরষের তেল

১০০ মিলি

লবণ

৩৫ গ্রাম

লাল লঙ্কা

১২ গ্রাম

লবঙ্গ

৫ গ্রাম

জীরা

৩ গ্রাম

দারুচিনি

১ গ্রাম

   

এলাচ

৫ গ্রাম

জোয়ান

৫ গ্রাম

রসুন (ছাড়ানো)

১০ গ্রাম

আদা (ছাড়ানো)

১০ গ্রাম

 

মাংসের আচার বানানোর নিয়ম-

  • ভিনিগার দ্বারা- প্রসাধিত কোয়েল, রান্না (প্রেসার কুকার), মশলা, সেদ্ধ করা, সেদ্ধ করা মাংসে মশলা ঢালা, শোষণ, সংরক্ষণ

  • তেল দ্বারা- প্রসাধিত কোয়েল, সরষের তেলে লবণ ও মশলা দেওয়া, ভিনিগার দেওয়া, সেদ্ধ করা, সাধারণ তাপমাত্রায় ঠান্ডা করা, পাত্রে ঢালা, সংরক্ষণ

তন্দুরী কোয়েল-

কোয়েলের তন্দুরী বানানোর জন্য কোয়েল মাংস নরম হতে হবে  এই ধরনের সুস্বাদু রান্না তৈরী করার ও বিক্রির জন্য উপযুক্ত বয়স, রান্নার সঠিক পদ্ধতি, শোষণ সময়, রোষ্ট করার নির্দিষ্ট সময় উষ্ণতা, প্যাকিং ও সংরক্ষণ জানা আবশ্যক তন্দুরী কোয়েল রান্না করা হয় নিম্ন উপায়ে-

কোয়েল কাটা- গ্রোয়ার স্বাস্থ্যবান এবং ৫ সপ্তাহ বয়সের কোয়েল যার ওজন প্রায় ১৩০ - ১৪০ গ্রাম হবে তন্দুরী কোয়েল রান্নার জন্য উপযুক্ত কোয়েলকে কাটার পর ১৫ মিনিট পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে হবে যাতে সমস্ত জল ঝরে যায় কাটার সময় সাবধান থাকতে হবে যাতে চামড়া না কেটে যায়  

মশলা- সমস্ত শুকনো বাটা মশলা, কাটা পেঁয়াজ, রসুন ও আদা নিয়ে একসাথে পিষতে হবে এবং ভিনিগারের সাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট মত বানাতে হবে

তন্দুরী কোয়েল বানানোর উপকরণ-

উপাদান

মাত্রা

উপাদান

মাত্রা

লবণ

৩৫ গ্রাম

বনস্পতি ঘি

১০০ গ্রাম

লাল লঙ্কা গুঁড়ো

১২ গ্রাম

লবঙ্গ

৫ গ্রাম

জীরা

৫ গ্রাম

   

দারুচিনি

৫ গ্রাম

জোয়ান

৩ গ্রাম

এলাচ

৩ গ্রাম

হলুদ

৫ গ্রাম

পেঁয়াজ

১০০ গ্রাম

রসুন

২০ গ্রাম

আদা

২০ গ্রাম

কাটা গিবলেট সহ কোয়েল

১ গ্রাম

 

শোষণ- কাটা কোয়েলে নুন লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখতে হবে  এরপরে ওর চামড়ায় ও ভিতরে একটি ব্রাস  দিয়ে মশলার মিশ্রণ লাগাতে হবে এবং একঘন্টা রাখতে হবে ঘরের তাপমাত্র বা ফ্রিজে যাতে মশলা ও মাংস ভাল করে মিশে যায় 

রোস্টিং- এই কার্য বিদ্যুত, গ্যাস বা মাটির তৈরী তন্দুরে করা যায় মাটির তৈরী তন্দুর কম খরচে ও সহজে বানানো যায় এই তন্দুরে আধ ঘন্টা আগে কাঠ জ্বালাতে হবে যখন কাঠের ধোঁয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন তন্দুরের ভিতর সমভাবে দিতে হবে যাতে   সমস্ত জায়গায় মাঝারী ও সমান ভাবে গরম হয় মশলা লাগানো কোয়েলকে লোহার হুক দিয়ে আগে থেকে কিছু উপরে তন্দুরের মধ্যে ঝুলিয়ে দিতে হবে যাতে রোস্টিং প্রক্রিয়া একটার সঙ্গে আর একটা না লাগে তন্দুরের উষ্ণতা কোয়েলের ওজন অনুপাতে ১৫ - ২০ মিনিট এবং প্রায় ৩৭৫ডিগ্রী ফারেনহাইট করতে হবে কিছু সময় পরে তন্দুর থেকে বাইরে এনে ওর চামড়ায় একটি ব্রাস দিয়ে বনস্পতি ঘি বা শুদ্ধ ঘি লাগাতে হবে যাতে পুড়ে না যায় ওকে পুরো রোস্ট হওয়া পর্যন্ত রোস্ট করতে হবে এই ধরনের তন্দুর কোয়েল খাবার পক্ষে উপযুক্ত

সংরক্ষণ - যদি সংরক্ষণ করতে হয় তবে ওদের তন্দুর থেকে বের করে সাধারণ উষ্ণতায় রাখতে হবে  পলিথিনের থলিতে রেখে সংরক্ষণ করতে হবে একে ২১ - ৫৬ দিন পর্যন্ত রাখা যায় ফ্রিজের উষ্ণতায় এদের গুণের কোন পরিবর্তন হয়না এবং এদের রাখা যায়

তন্দুরী রান্নার পদ্ধতি-  কাটা কোয়েল (চামড়া সহ) মশলা তৈরী করা ও কোয়েলে লাগানো শোষণ (১ ঘন্টা) রোস্টিং (৩৭৫ ± ১৫ডিগ্রি ফারেনহাইটে ১৫ - ২০ মিনিট) সাধারণ উষ্ণতায় ঠান্ডা করা প্যাকিং (বেশী ঘনত্বের পলিথিনে) সংরক্ষণ

 

ভবিষ্যত সম্ভাবনা- উপরে বানানো পদ্ধতি ছাড়া কোয়েলের মাংসের উপযোগী বিভিন্ন প্রকার রান্নার বিকাশের সম্ভাবনা আছে-

  • লবণযুক্ত কোয়েল- কোয়েলের মাংসকে ১২ ঘন্টা ৩ - ৪ ডিগ্রী উষ্ণতায়  নুন, চিনি, নাইট্রেট মিশিয়ে রাখতে হবে  এরপরে ইনকিউবেটরে যাকে আগে থেকে ঠান্ডা করা আছে বন্ধ করে রাখতে হবে

  • তন্দুর কোয়েল- কাটা কোয়েলকে লম্বা করে দুভাগে ভাগ করে প্রত্যেক অর্ধেক ভাগে মশলা লাগিয়ে তন্দুরে রোস্ট করতে হবে সমস্ত ক্রিয়ায় প্রায় ৩০ - ৪৫ মিনিট লাগে যা কোয়েলের আকার ও তন্দুরের উষ্ণতার উপর নির্ভর করে

  • কোয়েলের গন্ধযুক্ত উত্পাদন- এই উত্পাদন পুরানো মাংসের জল শোষণ দ্বারা তৈরী করা হয়

  • কোয়েলের মাংস বাচ্চাদের খাবার- কোয়েলের মাংসে বেশী প্রোটিন ও অল্প ফ্যাট হওয়ার জন্য এদের মাংস বাচ্চাদের খাবার বানানোর চেষ্টা চলছে এই খাবার বাচ্চাদের জন্য একটি শীঘ্র পাচনযোগ্য প্রোটিন উত্স হিসাবে উপযোগী হবে

  • কোয়েলের কৌটো বন্ধ খাবার- ভারতীয় স্বাদ অনুসারে সময় ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে তিন-চারটে কোয়েলের মাংস বানিয়ে কৌটোয় বন্ধ করে রাখা যায়

  • কোয়েল সসেজ- মুরগী, ছাগল ও শূকর মাংসের সসেজের মত বেশী বয়সের কোয়েলের মাংসকে বনস্পতি তেল বা অন্যর সঙ্গে মিশিয়ে সসেজ তৈরী করা যেতে পারে

এইভাবে কোয়েলের ব্যবহার উত্পাদক ও ক্রেতাদের জন্য সমানভাবে লাভজনক  উত্পাদককে বিক্রয় মূল্যের বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকা আবশ্যক নতুবা বেশী মূল্য হলে এদের বিক্রয়ে বিপরীত প্রভাব পড়ে আমাদের দেশে এই ধরনের সুলভ খাবার বানানোর অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ক্রমাগত চেষ্টা চলছে যাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় ভবিষ্যতে এই ধরনের আরো অনেক পদার্থ জনসাধারনের  জন্য বাজারে পাওয়া যাবে যা  ব্যবহারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে তথা পোলট্টির বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে

কোয়েলের রোগ ও প্রতিকার

ব্রুডার নিউমোনিয়া

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচ্চা কোয়েলের মৃত্যু হতে পারে, যদি না ব্রুডারে থাকাকালীন তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা যায়  তাই ব্রুডিং করার সময় অর্থাত প্রথম দুই সপ্তাহ বাচ্চা কোয়েলকে নজরে রাখতে হবে কারণ ঐ সময় আসপারজিলাস ফিউমিগেটাস  নামক ছত্রাকের প্রভাবে এই ব্রুডার নিউমোনিয়া হয়  

  • রোগের লক্ষণ -  বাচ্চাপাখী ঝিমিয়ে পড়ে, দুর্বল হয়ে পড়ে, খাওয়া দাওয়াবন্ধ হয়ে যায়   জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে  চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ থেকে রস বেরোতে থাকে  এই রোগে মৃত্যুর হার শতকরা ২ - ৩ ভাগ   কিন্তু আক্রান্তের হার শতকরা ৫০ ভাগ

  • চিকিত্সা -  ২ গ্রাম ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট ১০০ কেজি খাবারের সাথে মেশাতে হবে  আন্টিবায়টিক খাওয়াতে হবে পাশাপাশি প্রাণীচিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে

কোয়েল ডিজিজ

কোয়েল ডিজিজের আর এক নাম আলসারেটিভ এনটারাইটিস  এটি কোয়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ

  • রোগের লক্ষণ - পাতলা পায়খানা, দুর্বল হয়ে পড়ে, খিচুনি হয়, ক্ষুদ্রান্ত্রে ও শিকামে ঘা হয়ে যায়

  • চিকিত্সা - আন্টিবায়টিক খাওয়াতে হবে  পাখী খুব বেশী মারা গেলে স্থানীয় চিকিত্সকের কাছে পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাওয়াতে হবে

কোয়েল পাখী পালনের প্রকল্প

অল-ইন-অল-আউট পদ্ধতিতে ৫০০টি কোয়েল পাখী পালন

স্থায়ী মূলধন-

ঘর তৈরী- বাড়ন্ত পাখীর জন্য ১৮০ বর্গফুট এবং বাচ্চাদের জন্য ৫০ বর্গফুট ধরে মোট ২৩০ বর্গফুটের তৈরীর খরচ / বর্গফুট ৬০.০০ টাকা হিসাবে

১৩৮০০.০০ টাকা

দুটি ব্যাটারী কেস / ২০০০ টাকা হিসাবে (২ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত প্রতিপালনের জন্য )

৮০০০.০০ টাকা

হপার, ড্রিঙ্কার এবং অন্যান্য দ্রব্যাদির জন্য ব্যয় মাথাপিছু ৩.০০ টাকা হিসাবে

১৫০০.০০ টাকা

মোট

১৯৩০০.০০ টাকা

 

কার্যকরী মূলধন (একদফা পাখীর জন্য)

৫০০ টি সদ্যজাত বাচ্চাপাখীর জন্য প্রতিটি ৩.০০ টাকা হিসাবে

১৫০০.০০  টাকা

খাবারের মূল্য মাথাপিছু ৫৩০ গ্রাম করে ৫০০টি পাখীর জন্য মোট ২৬৪ কেজি, ১০.০০ টাকা প্রতি কেজি

২৬৫০.০০  টাকা

ঔষধ লিটার, বিজলী বাতি ইত্যাদির জন্য মাথাপিছু ১.০০ টাকা হিসাবে

৫০০.০০  টাকা

মোট

৪৬৫০.০০  টাকা

প্রকল্পের জন্য ব্যয় (১৯৩০০+৪৬৫০) টাকা = ২৩৯৫০ টাকা, সুতরাং ৮টি অনুরূপ দফার জন্য বা প্রায় এক বছরের জন্য পৌনঃপৌনিক ব্যয় (৪৬৫০ x ৮) = ৩৭২০০ টাকা

 

এক চালান বাবদ আয়

৫টির মৃত্যুহার ধরে ৪৯০ টি কোয়েলের বিক্রয়মূল্য মাথাপিছু ১৬.০০ টাকা হিসাবে

৭৮৪০.০০  টাকা

বস্তা বিক্রয় বাবদ

   ৪০.০০ টাকা

সার বিক্রয় বাবদ

  ৭০.০০  টাকা

মোট

৭৯৫০.০০  টাকা

৮টি চালান বাবদ মোট আয় = (৭৯৫০ x ৮) টাকা = ৬৩৬০০ টাকা, সুতরাং মোট লাভ বছরে = (৬৩৬০০-৩৭২০০) টাকা = ২৬৪০০ টাকা

কোয়েলের বাচ্চা ও ডিম কোথায় পাবে

  • রাষ্ট্রীয় মুরগী খামার, টালীগঞ্জ, ৪২ গ্রাহাম রোড, কোলকাতা-৪০

  • রাষ্ট্রীয় মুরগী খামার, পোষ্ট / জেলা - মেদিনীপুর

  • রাষ্ট্রীয় মুরগী খামার, পোস্ট- দুর্গাপুর, জেলা- বর্ধমান

এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মত্স্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, ফার্ম ও সম্প্রসারণ অধিকরণের মোহনপুরস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন  পোঃ-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জেঃ- নদীয়া

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কোয়েল পালনের জন্য আরও বিস্তারিত খবর নীচের ঠিকানা থেকে পাওয়া যাবে-

  • ডাইরেক্টর সি.এ.আর.আই (সেন্ট্রাল এভিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট)

      পোঃ- ইজ্জতনগর, জেঃ- বেরিলী, উত্তরপ্রদেশ-২৪৩১২২

  • ডিপার্টমেন্ট অফ লাইভ স্টক প্রোডাকশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট হরিয়ানা আগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, হিসার, হরিয়ানা

  • ডিপার্টমেন্ট অফ পোলট্রি সায়েন্স

    ইউনিভার্সিটি অফ আগ্রিকালচার সায়েন্সস, হেব্বাল, ব্যাঙ্গালোর-    ৫৬০০২৪

  • এ.ভি.এম. হেচারিজ আন্ড পোলট্রি ব্রিডিং সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড

     ২৫/৩২৭, রঙ্গাই গোদার স্ট্রিট, কোয়েম্বাটর- ৬৪৩১২২

  • অধিকর্তা, সেন্ট্রাল পোলট্রি ব্রিডিং ফার্ম,

     ভারত সরকারের বিভিন্ন জায়গাতে-

এরি, কোলোনী, গোরগাঙ(পূর্ব) মুম্বাই- ৪০০৬৫ * হিসারঘাটা, ব্যাঙ্গালোর(উত্তর)- ৫৬০০৮৮  * নয়াপল্লী, ভুবনেশ্বর- ৭৫১০১২ *ইনড্রাস্টিয়াল এরিয়া, চন্ডীগড়- ১৬০০০২

অধিকর্তা রিসার্চ স্টেশন- তামিলনাডু, ভেটেরিনারী আন্ড আনিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, নন্দনাম, চেন্নাই

কোয়েল পালনের প্রশিক্ষণ কোথায় পাবেন

  • সহ-অধিকর্তা, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, টালীগঞ্জ পোলট্রি ফার্ম

       ট্রেনিংয়ের মেয়াদ-২১ দিন

আর্থিক সহযোগিতা

প্রশিক্ষণ পাবার পর আর্থিক সহযোগিতার জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন-

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া স্বনির্ভর হবার সুযোগ গ্রহণ করা যেতে পারে নিম্নলিখিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে-

  • ডি.আর.ডি.সি.

  • এম.জি.এম.ওয়াই.

  • প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা

  • ই.এ.এস. (কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প)

  • রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক

  • নাবার্ড

  • মাইনরিটি ফিনান্সিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন

  • রাষ্ট্রীয় বানিজ্যিক ব্যাঙ্ক সমূহ

  • পশ্চিমবঙ্গ তপশিলী জাতি ও উপজাতি উন্নয়ন নিগম

  • পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেনী উন্নয়ন নিগম

এই সমস্ত ব্যাপারে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দপ্তর, জেলায় উপ-অধিকর্তা এবং ব্লকে প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন আধিকারিকের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন 

  • অর্থের উত্স-  তপশিলীজাতি ও উপজাতিভুক্তদের জন্য অনুদান-১০,০০০ টাকা

এক নজরে কোয়েল পালন

  • কোলেস্টেরল কমান কোয়েলের মাংস খান

  • শীতকালে বৃদ্ধির হার বেশী আর মৃত্যুর হার কম হয়

  • কোয়েল পালনে কোনরকম প্রতিষেধক টীকা বা কৃমিনাশক ঔষধের বাড়তি ঝামেলা নেই

  • সাধারণত ৩৫ - ৪০ দিনে পাখী বিক্রি করা যায়  তখন ওজন হয় প্রায় ১৪০ - ১৫০ গ্রাম

  • ডিম ফুটে বাচ্চা হতে সময় নেয় ১৫ - ১৭ দিন

  • কোয়েল প্রজননক্ষম হতে সময় নেয় ৫০ - ৫৫ দিন

  • বছরে প্রায় ২৮০ টি ডিম দেয়

  • ডিমের ওজন গড়ে ১০ - ১২ গ্রাম হয়

  • কোয়েলের ডিমে ও মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ মুরগীর ডিম ও মাংসের চেয়ে বেশী

  • কোয়েলের ডিম ও মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ মুরগীর ডিম মাংসের চেয়ে কম

  • প্রজননের ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রী পাখীর সংখ্যার অনুপাত ১:৩

  • ডিমের সাদা অংশ ও কুসুমের অনুপাত মোটামুটিভাবে ৩: ২