মাছ চাষে কৃত্রিম খাদ্য প্রয়োগ

 

কৃত্রিম খাদ্যের গুণাগুণ

কৃত্রিম খাদ্যের রকমভেদ

পরিপুরক খাদ্য প্রয়োগের মাত্রা

পরিপূরক খাদ্য প্রয়োগের পদ্ধতি

 

আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক মাছ চাষের পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক সংযোজন হল বাইরে থেকে যোগান দিয়ে মাছকে সরাসরি পুষ্টিকর কৃত্রিম খাদ্য খাওয়ানো׀

সার প্রয়োগের ফলে পুকুরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধির পক্ষে পর্যাপ্ত নয়׀ তাই, মাছের দ্রুত বৃদ্ধি তথা মাছের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির জন্যই আজকাল সব দেশেই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিপূরক হিসাবে নানা রকমের পুষ্টিকর কৃত্রিম খাদ্যের যোগান দেওয়া হয়׀

কৃত্রিম খাদ্যের গুণাগুণ

মাছের কৃত্রিম খাদ্য নির্বাচনে যে বিষয়গুলি বিচার-বিবেচনা করে দেখতে হয় সেগুলি হল

১) খাদ্য বস্তুটি সহজে, স্থানীয়ভাবে জোগাড় করা সম্ভব কিনা এবং এটি সস্তা দামের কিনা׀

২) খাদ্য বস্তুটি গ্রহণ করার ব্যাপারে মাছের যথেষ্ট আগ্রহ ও আসক্তি আছে কিনা׀

৩) খাদ্য বস্তুটি মাছের বৃদ্ধিতে কতটুকু সাহায্য করে׀

৪) খাদ্য বস্তুটি ব্যবহারে খাদ্য মাছ রুপান্তর পড়তা থাকে কিনা׀ অর্থাত খাদ্য বস্তুটি ব্যবহারে মাছের যে বাড়তি উত্পাদন পাওয়া যায় তা বিক্রি করে খাদ্য বাবদ খরচের অতিরিক্ত কিছু অর্থলাভ হয় কিনা׀

                                                                                                                

কৃত্রিম খাদ্যের রকমভেদ

মাছের কৃত্রিম খাদ্য হিসাবে উদ্ভিদজাত ও প্রাণিজাত বিভিন্ন রকমের বস্তুর ব্যবহার বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে׀ তবে, আমাদের দেশে এর ব্যবহার খুব বেশীদিন আগের নয়׀ প্রচলিত প্রাণিজাত খাদ্যের মধ্যে প্রধান প্রধান বস্তুগুলি হল, ফিসমিল বা মাছের গুঁড়ো, রেশম কীটের পিউপা, ভেড়া-ছাগলের নাড়ীভূঁড়ি, কসাই খানার ছাট মাংস, রক্ত ইত্যাদি׀

উদ্ভিদজাত খাদ্যের মধ্যে বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত হয় সরষের খোল, বাদাম খোল, সয়াবীন চূর্ণ, চালের কুঁড়ো, গমের ভূষি, জলে ভেজা বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও মানুষের খাওয়ার অযোগ্য চাল, ডাল, গম ইত্যাদি׀ প্রাণিজাত খাদ্যের মধ্যে ফিসমিল, রেশম কীটের পিউপা আমাদের দেশে মোটেই সহজলভ্য নয়, স্বল্প মূল্যের তো নয়ই׀ কসাইখানার নানারকম আবর্জনা সংগ্রহ করা সর্বত্র সহজ নয়׀ এইসব কারণে আমাদের দেশে মাছের কৃত্রিম খাদ্য হিসাবে প্রাণিজাত খাদ্যের ব্যবহার এখনও বিশেষ প্রচলিত হয়নি׀

উদ্ভিদজাত খাদ্যের মধ্যে সহজলভ্যতা ও স্বল্পমূল্যের বিচারে আমাদের দেশে সাধারণত চালের কুঁড়ো ও সরষের বা বাদাম খোল সমান অনুপাতে মিশিয়ে পরিপুরক খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়׀ এতে উত্পাদন ব্যয়ও অনেকটা কমে׀ বাদাম খোলের দাম অপেক্ষাকৃত বেশী তাই সরষের খোলের ব্যবহারই অধিক প্রচলিত׀

পরিপুরক খাদ্য প্রয়োগের মাত্রা

বিভিন্ন ধরনের চাষে বিভিন্ন মাত্রায় কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করতে হয়, যেমন

১) আঁতুড় পুকুরের ক্ষেত্রে প্রথম ৫দিন ডিমপোনার দেহের মোট ওজনের ৩-৪ গুণ (১লক্ষ ডিমপোনার ওজন ১৪০গ্রাম), পরের ৫দিন ৫-৬ গুণ এবং তারপর ৮-১০ গুণ হিসাবে খাদ্য দিতে হয়׀

২) পালন পুকুরে ধানিপোনা থেকে চারাপোনা চাষের ক্ষেত্রে মাছের দেহের ওজনের শতকরা ৪-৫ ভাগ হিসাবে খাদ্য ব্যবহার করতে হয়׀

৩) মজুত পুকুরে চারা মাছ থেকে বড় মাছ চাষের ক্ষেত্রে অথবা মিশ্র মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাছের দেহের ওজনের শতকরা ২-৩ ভাগ হিসাবে খাদ্য ব্যবহার করতে হয়׀

পরিপূরক খাদ্য প্রয়োগের পদ্ধতি

হিসাব অনুযায়ী দৈনিক যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয় সেই পরিমান খাদ্যবস্তুকে মোটামুটি সমান দুভাগে ভাগ করে নিতে হবে׀ একটি ভাগ থাকবে শুকনো অবস্থায় এবং অপর ভাগটি  জলে মাখা অবস্থায় মন্ডাকারে׀

এইবার পুকুর পাড় থেকে কিছুটা দূরে নির্দিষ্ট ২-৩ জায়গায় অল্প অল্প করে বেশ অনেকটা সময় নিয়ে জলের ওপর ছড়িয়ে দিতে হবে׀  এইভাবে সকালের দিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য দেওয়া হলে দেথা যাবে যে পুকুরের প্রায় সব মাছই ঐ সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে ভিড় করছে׀  মনে রাখা দরকার, সময়সূচী মেনে নির্দিষ্ট পরিমানে খাবার প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া সম্ভব׀