কমদামী মত্স্যজাত খাদ্যবস্তু

কম দামী মাছ ও চিংড়ি থেকে দামী ব্যবসায়িক পণ্য সামগ্রীর প্রস্তুতি

ভূমিকা

চিংড়ির আচার

মাছের পাঁপড়

মাছের আচার

মাছের স্যান্ডউইচ

মাছের ঝুরিভাজা

মাছের কাটলেট

মাছের পাকস্থলী

মাছের স্যুপ

মাছের টিকিয়া

ভূমিকা

সমুদ্রে জেলেরা যখন মাছ ধরতে যান তখন তাদের লক্ষ্য থাকে চিংড়ি বা  বেশী  দামী মাছ ধরবার দিকে, সেই অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ধরণের বিশেষ জাল ব্যবহার করে থাকেন, সেই দামী মাছ ও চিংড়ি ধরতে গিয়ে অনেক সময় অনেক কমদামী মাছও জালে ধরা পড়ে׀ এইসব কমদামী মাছ, ছোট মাছ সাধারণত সমুদ্রের জলে ফেলে দেওয়া হয়׀ এগুলো জলে দেওয়ার কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে বাজারে তাদের কম দাম পাওয়া, আকার ছোট হওয়া এবং অনেক রকমের মাছের সংমিশ্রন হওয়া জাহাজের ওপারে কোল্ড স্টোরে জায়গার অভাব হওয়া এবং বেশী চিংড়ি-ধরা ও সংরক্ষণে বাধা সৃষ্টি করা׀   এক সংবেদনে দেখা গেছে যে ফেলে দেওয়া মাছের পরিমাণ বছরে ১৭০-৩৯০ লক্ষ টন যা গড়ে দাঁড়ায় ২৭০ লক্ষ টন׀  

তটবর্তী এলাকায় অধিকাংশ মাছ পর্যন্ত পরিমাণে ধরা হচ্ছে এবং কোন কোন মাছ এত বেশী পরিমাণে ধরা হচ্ছে যে তাদের আমদনি বছরের পর বছর কমে যাচ্ছে׀  এই অবস্থায় জেলেদের দৃষ্টি পড়েছে গভীর জলের মাছের দিকে׀  আগের দিন গুলোতে এই গভীর জলের মাছ অনেক পরিমাণে ধরা পড়ার সম্ভাবনা, কিন্তু ওই গভীর জলের মাছগুলোর সঙ্গে গ্রাহকরা পরিচিত নয় তাদের আলাদা আকার, রং এবং স্বাদের জন্য, তাই বাজারে এই সব মাছ এলেও সেগুলো তত্ক্ষণাত গ্রাহকদের কাছে গ্রহনযোগ্য না হওয়ার সম্ভাবনা׀  তাই বাজারে ওই সব মাছের দাম খুব কম হওয়ার সম্ভাবনা׀  

আমাদের ল্যান্ডিং সেন্টারগুলোর দূরবস্থার জন্য এবং বরফের অভাবে অধিকাংশ মাছের কোয়ালিটি খারাপ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পশু ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়, সময়মত বরফ প্রয়োগ করে এবং উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই মাছগুলোর কোয়ালিটি ভাল রাখা যায় এবং পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার না করে সোজাসুজি মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়׀  

আজকাল মিঠা জলের মাছ (Fresh water fish) চাষ খুব বেশী হচ্ছে׀   মিঠা জলে অনেক সময় ছোট মাছ পাওয়া যায় যা দিয়ে নানা রকম দামী ব্যবসায়িক পণ্য বানানো যায়׀   মিঠা জলের বড় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি) দিয়েও নানা পণ্য বানানো যায়׀  

উপরে বর্ণিত এই তিন প্রকার মাছ (সমুদ্রে ধরার পর ফেলে দেওয়া কম দামী মাছ, গভীর সমুদ্রের মাছ এবং মিঠা জলের মাছ) ব্যবহার করে এবং কমদামী ছোট চিংড়ি ব্যবহার করে দামী ব্যবসায়িক পণ্য উত্পন্ন করা যায়׀  এই উত্পাদনে কোন দামী যন্ত্রপাতী লাগে না׀  এইগুলো তৈরীর পদ্ধতি খুব সরল׀  এক সপ্তাহের ট্রেনিং নিয়ে জেলে পরিবারের মহিলারা এই পণ্য তৈরী করতে পারেন׀  অবশ্য কোয়ালিটির দিকে কড়া নজর রাখতে হবে׀  বিদেশের বাজারেও ওই সব পণ্যের চাহিদা আছে׀  

চিংড়ির আচার

চিংড়ির আচার তৈরী করা হয়েছে׀  পেরা পিনিঅপসিস স্টাইলিফেরা (কাড়িকাড়ি) নামক চিংড়ি দিয়ে যা সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এর মধ্যে খুব বেশী পরিমাণে পাওয়া যায় এবং দামও সস্তা থাকে׀  এছাড়া মেটাপিনিয়াস এফিনিসও (হোয়াইট প্রণ) ব্যবহার করা যায়׀ চিংড়ির আচার তৈরীর উপাদানগুলির তালিকাগুলি দেওয়া হল-

উপাদান

পরিমাণ

খোসা ছাড়ানো চিংড়ি

১ কিলোগ্রাম

সরষে দানা

৪ গ্রাম

মেথি দানা

৪ গ্রাম

খোসা ছাড়নো রসুন

১০০ গ্রাম

সবকটি মিক্সারে মিশিয়ে লেই বানিয়ে নিন (লেই নম্বর ১)

খাসা ছাড়ানো আদা

২৫ গ্রাম

কাঁচা লঙ্কা

৩০ গ্রাম

গুড়ো লঙ্কা

৩০ গ্রাম

জল মিশিয়ে লেইবানিয়ে নিন (লেই নম্বর ২)

গুড়ো হলুদ

৫ গ্রাম

গুড়ো জিরে

৩০ গ্রাম

লবণ

৮০ গ্রাম

চিনি

৫ গ্রাম

তেল ডবল রিফাইন্ড

২৫০ মিলিলিটার

ভিনিগার

৩০০ মিলিলিটার

বেনজয়িক আসিড

২৫০ মিলিগ্রাম

তৈরীর ধাপ

* বাজার থেকে কিনে আনা চিংড়ি বার বার পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে যে পর্যন্ত না চিংড়িতে লেগে থাকা বালি ও অন্যান্য অনাবশ্যক পদার্থ দূর হচ্ছে׀

* এবার চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে পরিষ্কার বাতাবরণে׀  

* ছাড়ানো চিংড়ির ওজন নিতে হবে׀  

* উত্পাদনের তালিকায় বর্ণিত পরিমাণের অর্ধেক নুন ছাড়ানো চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ (আধঘন্টা) রেখে দিতে হবে׀  

* রসুন, আদা ও কাঁচালঙ্কা মিক্সারে একসঙ্গে লেই বানাতে হবে (১নং লেই)׀

* গুড়ো লঙ্কা, গুড়ো হলুদ এবং গুড়ো জিরে জল মিশিয়ে লেই বানিয়ে নিন (২নং লেই)׀

* তালিকায় বর্ণিত পরিমাণের অর্ধেক তেল কড়াইতে ঢালুন এবং তেল গরম হওয়ার পর নুন-মিশ্রিত চিংড়ি ঢেলে দিন ও ভাজতে থাকুন׀  প্রথমে প্রচুর জল বেরোবে׀  সেই জল ফেলা চলবে না׀  কড়াইতেই শুকোতে হবে׀  জল শুকিয়ে যাওয়ার পর তেলে হাল্কা ভেজে চিংড়ি ছেকে তুলে আলাদা পাত্রে রাখুন׀  

* কড়াইতে যে তেল পড়ে থাকবে, তার সঙ্গে বাকী তেল ঢেলে দিন׀  

* অল্প গরম তেলে আধা ভাঙ্গা মেথি ও সর্ষে ঢেলে দিন এবং ১-২ মিনিট হাল্কা আঁচে ভাজুন׀  

* এবার রসুন-আদা-কাঁচালঙ্কা দিয়ে তৈরী লেই তেলে ঢালুন׀  অর্ধেক নুন যা আলাদা রাখা ছিল-তা এই মশলাতে ঢালুন ও ভাজতে থাকুন׀  

* যখন ১নং লেই আধা-ভাজা হবে, তখন ২নং লেই কড়াইতে ঢালুন ও ভাজতে থাকুন- যতক্ষণ পর্যন্ত ভাজা মশলার গন্ধ না বেরোয়׀  

* চিনি ঢালুন ও একটু নাড়ুন׀  

* ভাজা চিংড়ি যা আলাদা রাখা ছিল-তা এবার কড়াইতে ঢালুন ও মশলার সাথে কম আঁচে ভাজতে থাকুন׀  খেয়াল রাখুন মশলা কড়াইয়ের নীচে লেগে না যায়׀

* ভাজা তখন বন্ধ করবেন যখন তেল ছেড়ে দেবে এবং সুন্দর ভাজা গন্ধ বেরোবে׀  

* কড়াই উনুন থেকে সরিয়ে পাখার তলায় ঠান্ডা করতে দিন׀  

* ঈষদুষ্ণ ভাজা চিংড়িতে ভিনিগার বেনজোথিক আসিড ঢালুন এবং ভাল করে মেশান׀  চিংড়ির আচার তৈরী׀  

* বোতল ঈষদুষ্ণ জলে ভাল করে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিন׀  

* চিংড়ির আচার বোতলে ভরুন׀  লক্ষ্য রাখুন যেন আচারের উপর তেলের এক স্তর জমা হয়׀  

* বোতলে লেবেল লাগান׀  

* চিংড়ির আচার পারিপার্শ্বিক তাপমানে ৭ মাস গ্রহণযোগ্য׀  

মাছের আচার

ভোলা ভেটকী, তেলাপিয়া জাতীয় মাছের আচার বানানো যায়׀  এক্ষেত্রে মাছকে প্রথমে আঁসমুক্ত করে মাথা কেটে ফেলা হয়׀  পেটের নাড়িভুড়ি বার করে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া হয়׀  তারপর ফুটন্ত জলে দশমিনিট ফুটিয়ে নেওয়া হয়׀  তারপর মাছগুলো জল থেকে তুলে একটু ঠান্ড করা হয়׀  যখন ঈষদুষ্ণ থাকে তখন মাছের চামড়া ছাড়িয়ে ফেলা হয়׀  এরপর হাত দিয়ে কাঁটা আলাদা করে মাছের পেশী আলাদা করা হয়׀  এই আলাদা করা পেশী থেকে আচার বানানো হয়׀  এক্ষেত্রে ২টি কড়াই লাগে׀  এক কড়াইতে মাছের পেশী তেলে ভাজা হয় এবং অন্য কড়াইতে পূর্ব বর্ণিত পদ্ধতিতে মশলা ভাজা হয়׀  উপাদান চিংড়ির আচারের মতই׀  কেবল তেল (ডবল রিফাইন্ড বাদাম, সানফ্লাওয়ার, তিল তেল- সর্ষের তেল নয়) ২৫০ মিলিলিটারের জায়গায় ৫০০মিলিলিটার এবং ভিনিগার ৩০০মিলিলিটারের জায়গায় ৪০০মিলিলিটার লাগবে׀  প্রথমে মাছ ভাজবার জন্য অর্ধেকের বেশী তেল ব্যবহার করতে হবে׀  এক কড়াইতে চিংড়ি ও অন্য কড়াইতে মশলা ভাজা হয়׀  মশলা ভাজা হলে তা চিংড়ির কড়াইতে ঢালা হয় এবং চিংড়ির সঙ্গে মশলা আরও কিছুক্ষণ ভাজা হয়׀ অন্যান্য সব ধাপ চিংড়ির আচার তৈরীর মতই׀  

মুরলা, চেলা জাতীয় ছোট মাছ থেকেও চমত্কার আচার বানানো যায়׀  এক্ষেত্রে ছোট মাছ পেট টিপে পরিষ্কার করে ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়׀  তারপর অর্ধেক নুন মিশিয়ে রাখতে হয়׀  তারপর ৪০০মিলিলিটার তেল নিয়ে তাতে ঐ ১কেজি ছোট মাছ ভাল করে ভাজতে হবে (Deep fry) ভাজার পরে যে তেল পড়ে থাকবে তাতে মশলা ভাজতে হবে׀  মশলা ইত্যাদির পরিমাণ চিংড়ির আচারের উপাদানের সমান׀  মশলা ভাজার পদ্ধতি ও ক্রম চিংড়ির আচারের মত একই প্রকার׀  ভিনিগার ৪০০মিলিলিটার লাগবে׀  

মাছের পাঁপড়

উপাদান

পরিমাণ

কলাইয়ের ডাল গুড়ো

১০০ গ্রাম

কাঁটা মুক্ত সিদ্ধ মাছের পেশী

৮০ গ্রাম

লবণ

৬ গ্রাম

সোডিয়াম কার্বোনেট

১.৫ গ্রাম

সোডিয়াম বাইকার্বোনেট

১.৫ গ্রাম

আদা

২ গ্রাম

রসুন

২ গ্রাম

বানানো ধাপ

* ভোলা ভেটকি মাছের পেশী পূর্ব বর্ণিত পদ্ধতিতে তৈরী করুন׀

* আদা রসুনের পেস্ট তৈরী করুন׀

* মাছের পেশীর পেস্ট বানাতে হবে ইলেকট্রিক মিক্সার-এ׀

* ৮০ গ্রাম মাছের পেস্ট ১০০ গ্রাম কলাই ডালের পাউডার ও অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মেখে গোলা বানাতে হবে׀ অনেকক্ষণ ধরে চটকাতে হবে যতক্ষণ না গোলাটা নরম হয়ে যাছে׀  সাধারণত বাইরে থেকে জল দিতে হয় না׀  মাছের মধ্যের জলেই গোলা বনে যায়׀

* গোলা থেকে ছোট ছোট লেচি বানাতে হয় এবং তা বেলে পাতলা পাঁপড় বানাতে হয়׀ বেলবার সময় সামান্য তেল ব্যবহার করা যাবে׀

* পাঁপড় রোদে শুকোতে হবে׀

* পাঁপড় ১০০ গেজ পলিথিন প্যাকেটে ঢোকাতে হবে এবং প্যাকেট গরম দিয়ে সিল করে দিতে হবে׀

* পাঁপড় ৬মাস ভাল থাকে׀

মাছের ঝুরিভাজা

উপকরণ

পরিমাণ

কাঁচা ছোলার বেসন

১০০ গ্রাম

মাছের পেশী

৭০ গ্রাম

সোডিয়াম বাইকার্বোনেট

১০০ গ্রাম

কাঁচা লঙ্কার পেস্ট

২.৫ গ্রাম

লবণ

২.৫ গ্রাম

আদা

২.০ গ্রাম

রসুন

২.০ গ্রাম

বানানোর ধাপ

* ভোলা ভেটকি মাছের পেশী আগে বর্ণিত পদ্ধতিতে তৈরী করুন׀

* আদা ও রসুন তৈরী করুন׀

* মাছের পেশীর পেস্ট বানাতে হবে ইলেকট্রিক মিক্সারে׀ ৭০ গ্রাম মাছের পেস্ট ও ১০০গ্রাম ছোলার বেসন অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে (যা উপরে দেওয়া আছে) মিশিয়ে নরম গোলা তৈরী করুন׀ প্রয়োজন মত জল ব্যবহার করতে হবে׀

* এ গোলা তেল মাখানো ছাঁচে ফেলে পিস্টনে চাপ দিয়ে লম্বা লম্বা কাঠি সোজা গরম তেলে ভাজুন যতক্ষণ না সোনালী বাদামী রং আসে׀

* প্রস্তুত করা ঝুরিভাজা ১০০ গেজ পলিথিনের প্যাকেটে ভরে তাপ দিয়ে সিল করুন׀

* এই ঝুরিভাজা ১৪ দিন প্যাকেটে কুড়মুড়ে থাকে׀

মাছের স্ট্যান্ডউইচ

উপকরণ

পরিমাণ

মাছের পেশী

১ কিলোগ্রাম

সরিষা দানা

৪ গ্রাম

মেথি দানা

৪ গ্রাম

কাঁচা লঙ্কা

২০ গ্রাম

মিক্সারে লেই প্রস্তত করুন

১নং লেই

রসুন (ছাড়ানো)

১০০ গ্রাম

আদা (ছাড়ানো)

২৫ গ্রাম

গুড়ো লঙ্কা

১৫ গ্রাম

  জল মিশিয়ে লেই    প্রস্তত করুন

২নং লেই

গুড়ো জিরা

৩০ গ্রাম

গুড়ো হলুদ

৫ গ্রাম

তেল

৫০০ মিলিলিটার

লবণ

২৮ গ্রাম

চিনি

৫ গ্রাম

দারচিনি

৪ গ্রাম

বেটে লেই বানান

৩নং লেই

এলাচি দানা

২ গ্রাম

মাখন

২০০ গ্রাম

পাতিলেবু

৩-৪টি

ধনেপাতা প্রয়োজন মত

বানানোর ধাপ

* ভোলা ভেটকি মাছের পেশী পূর্ববর্ণিত পদ্ধতিতে তৈরী করুন׀

* এক্ষেত্রে দুটি কড়াই ব্যবহার করা হয়׀

* প্রথমে কড়াইতে ৩৫০মিলিলিটার তেল গরম করে মাছের পেশী ভাজা হয়׀

* দ্বিতীয় কড়াইতে পূর্ব বর্ণিত পদ্ধতিতে মশলা ভাজা হয় ১৫০ মিলিলিটার তেলে׀ মশলা ভাজা হয়ে গেলে গরম মশলার ৩নং লেই ঢেলে ২-৩ মিনিট ভাজতে হবে׀  মশলা ভাজার ক্রম ও পদ্ধতি চিংড়ির আচারের মত একই প্রকার׀  তফাত শুধু এই যে অন্যান্য মশলা ভাজার পর ৩নং লেই ঢেলে ২-৩ মিনিট ভাজতে হয়׀

* মশলা ভাজা হয়ে গেলে তা অন্য কড়াইতে মাছ ভাজার সঙ্গে ঢেলে একসঙ্গে ভাজতে হবে ঢিমি আঁচে যতক্ষণ না ভাজা মাছ ও মশলার সুগন্ধ বেরোয়׀

* আঁচ থেকে কড়াই সরিয়ে নিন এবং ফ্যানের তলায় রেখে ঠান্ডা করুন׀

* একটু ঠান্ডা হওয়ার পর মাখন মিশিয়ে দিন׀

* ৩-৪টি লেবুর রস চিপে মিশিয়ে দিন  স্বাদ অনুযায়ী লেবু মেশান׀

* ধনে পাতা ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে দিন׀

* পাউরুটির টুকরো সেঁকে ২পিস পাউরুটির মধ্যে উপরে বর্ণিত পেস্ট বিছিয়ে দিন׀  টোস্ট বিছানোর পূর্বে একটু টমাটো সস পাউরুটিতে লাগিয়ে নিলে খেতে খুব সুস্বাদু হবে׀

মাছের কাটলেট

বস্তু পরিচয়

গত কয়েক বছরে মাছ ধরার নৌকাগুলিতে যান্ত্রিকতা বাড়ার সাথে সাথে এবং নতুনতম মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে মাছ ধরার পরিমাণ, বিশেষ করে কম গুরুত্বপূর্ণ নানাধরণের মাছ ধরার পরিমাণ যথেষ্ট বেড়েছে׀ জেলেদের অধিক আয় এবং স্বল্প ব্যবহার্য্য মাছের অধিক ব্যবহারের জন্য এই ধরণের কম গুরুত্বপূর্ণ মাছের থেকে বৈচিত্রপূর্ণ এবং সৌখিন বস্তু উত্পাদন প্রয়োজন׀  কেন্দ্রীয় মত্স্য প্রযুক্তি সংস্থার উদ্ভাবিত নানা বস্তুর মধ্যে একটা হল মাছের কাটলেট׀  এই বস্তু বানানোর জন্য মূল কাঁচামাল হল সেদ্ধ মাছ অথবা মাছের কিমা (গোটা মাছের থেকে মাংস বাছার যন্ত্রর মাধ্যমে বাছা মাছের অংশ)׀

উপকরণ

সেদ্ধ মাছ

১০০০ গ্রাম

নুন

২৫ গ্রাম (স্বাদ অনুযায়ী)

তেল

১২৫ মিলি

কাঁচালঙ্কা

১৫ গ্রাম

আদা

২৫ গ্রাম

পেঁয়াজ

২৫০ গ্রাম

সেদ্ধ আলু

৫০০ গ্রাম

গোলমরিচ গুঁড়ো

৩ গ্রাম (স্বাদ অনুযায়ী)

লবঙ্গ গুঁড়ো

৩ গ্রাম

দারুচিনি

২ গ্রাম

ডিম

৪ টা

টোষ্ট বিস্কুটের গুঁড়ো

২০০ গ্রাম

বানানোর পদ্ধতি

* মাছের টুকরো গুলোকে ২০ মিনিট ধরে জলে সেদ্ধ করুন

* এরপর জল নিংড়ে ফেলে দিন (গোটা মাছের ক্ষেত্রে মাছের আঁশ ছাড়িয়ে ৩০ মিনিট  ধরে সেদ্ধ করুন এবং জল নিংড়ে ফেলে দিন)

* মাছের ছাল, আঁশ এবং কাঁটা আলাদা করুন

* নুন, হলুদ ভালভাবে মিশিয়ে নিন

* পেঁয়াজকুচিগুলিকে লালচে করে ভাজুন৷  লঙ্কা ও আদা ভেজে নিন এবং সব কিছু সেদ্ধ মাছের টুকরো গুলোর সাথে মিশিয়ে দিন৷

* এরপর চটকে নেওয়া আলুর মন্ড এবং মশলা মিশিয়ে নিন৷  

* প্রায় ৪০ গ্রামের মতো নিয়ে এক একটা গোল্লা করুন৷  এবার গোল্লাগুলিকে ফেটানো ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে নিন৷  তারপর টোষ্ট বিস্কুটের গুড়োতে সবদিক মাখিয়ে নিন এবং ফ্রিজে রেখে দিন৷  

* খাওয়ার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে বরফ গলিয়ে নিন, তারপর গরম তেলে ভেজে পরিবেশন করুন৷  

মাছের পাকস্থলী

উত্পাদিত দ্রব্য

মাছের পাকস্থলী একটি প্রচলিত শুষ্ক মত্স্য জাত দ্রব্য যা বিদেশে রপ্তানী করা হয়৷ এই ব্যবসা প্রধানত গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্ত্তী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ৷  এই দ্রব্য বিশেষত মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে রপ্তানী করা হয়৷  এই সব দেশে এই দ্রব্য বিশেষত মদ্য শোধনের কাজে ব্যবহৃত হয়৷  চীন দেশে নিম্নমানের পাকস্থলী যা 'সাগো' নামে পরিচিত সুপ তৈরী করতে ব্যবহার হয়৷  ভারতবর্ষে অবশ্য এই দ্রব্যের ব্যবহার নাই৷

মিষ্টি জলের এবং নোনা জলের কিছু কিছু মাছের মেরুদন্ড সংলগ্ন ব্লাডার এবং পাকস্থলী বের করে ভালভাবে ধুয়ে শুকোতে হবে৷  মিষ্টি জলের মাছের পাকস্থলী সামুদ্রিক মাছের পাকস্থলীর চাইতে বেশী স্বচ্ছ হয়৷  ভারতবর্ষে মাছের এয়ার ব্লাডার সাধারণত সামুদ্রিক মাছ যেমন দাঁড়ামাছ, জুমাছ, কেটফিস এবং ঈলমাছ থেকে বের করা হয়৷  উচ্চ মানের তাজা মাছের পাকস্থলীর রং সাদা থাকে৷  পাকস্থলীগুলি পাতলা, স্বচ্ছপ্রায় এবং শক্ত থাকে৷ মাছের পাকস্থলীর মুখ্য উপাদান জিলেটিন৷ মাছের গুণাবলীর উপর পাকস্থলীর দাম নির্ভর করে৷  কালোদাগ যুক্ত পাকস্থলীর দাম কম হয়৷  

মাছের শুষ্ক পাকস্থলীকে সময় সময় জিলেটিনও বলা হয় যদিও জিলেটিন একটি পাকস্থলীজাত দ্রব্য৷  

প্রস্তুত প্রণালী

প্রস্তুত প্রণালীর উপর পাকস্থলীর গুণাবলী নির্ভর করে৷  সাধারণত তিনটি উপায়ে উহা করা যায়

* এয়ার ব্লাডারকে সামুদ্রিক বা মিষ্টি জলে ভালভাবে ধুয়ে রৌদ্রে ভালভাবে শুকোতে হবে৷

* এয়ার ব্লাডারকে কেটে তার ভিতরকার পাতলা পর্দাটি বের করতে হবে৷  পরিষ্কার জলে ভালভাবে ধুতে হবে এবং একটি কাঠের খন্ড দিয়ে কুপিয়ে চ্যাপটা করতে হবে৷  এই চ্যাপটা পর্দাটি রৌদ্রে ভালভাবে শুকিয়ে শক্ত করতে হবে৷

* এয়ার ব্লাডারটি বের করে হাত দিয়ে ছিড়ে টুকরো করতে হবে৷ তারপর চুণের গুড়ো মিশিয়ে রৌদ্রে শুকাতে হবে৷

শোধন প্রণালী

কোন কোন সময় দেখা যায় যে শুষ্ক ব্লাডারটি হলদে রং ধারণ করেছে৷  এতে প্রমাণিত হয় যে ব্লাডারটি নিম্নমাণের৷ এই রকম অবস্থায় ব্লাডারটিকে ৪-৫ঘন্টা উষ্ণ গরম জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে৷  ভিতরের পাতলা পর্দা এবং রক্তকণা হাত দিয়ে বের করতে হবে৷  তারপর রৌদ্রে শুকাতে হবে৷  সর্বশেষ রিপোর্টে দেখা যায় যে উত্পাদিত দ্রব্যের মান উন্নত করে তার রপ্তানী এবং মূল্য দুইই বাড়ানো যায়৷

মাছের স্যুপ

বস্তু পরিচিতি

সবজি, মাংস, ডিম, চিকেন প্রভৃতিবিভিন্ন পদার্থের স্যুপ পাউডার খুবই জনপ্রিয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ব্যপকহারে পাওয়া যায় প্রোটিন, ভিটামিন, ফ্যাট এবং খনিজ লবণ প্রভৃতি খাদ্য উপাদানে ভরা এইসব পাউডার যাইহোক মাছের স্যুপে ততটা প্রচলিত নয়  কিন্তু আমাদের দেশে ধরা কমদামী মাছকে কাজে লাগিয়ে একই গুণসম্পন্ন বস্তু বানানো সম্ভব  

প্রধান উপকরণ

কাটা বাছা সেদ্ধ মাছ

৭৫০ গ্রাম

নুন

১৭০ গ্রাম

ডালডা (ফ্যাট)

১২৫ গ্রাম

পেঁয়াজ

৭৫০ গ্রাম

ধনিয়া

১২ গ্রাম

ষ্টার্চ

২৫০ গ্রাম

গুড়ো দুধ

১০০ গ্রাম

চিনি

৩০ গ্রাম

গোলমরিচ গুঁড়ো

১৫ গ্রাম

আসকরবিক আসিড

১.৫ গ্রাম

কার্বলিক মিথাইল সেলুলোজ

০৩ গ্রাম

মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট

১০ গ্রাম

বানানোর পদ্ধতি

মাছের মিশ্রিতকরণ

সেদ্ধ মাছটিকে ১৫০ মিলি জল নিয়ে একটা ব্লেন্ডারের সাহায্যে ভাল করে মিশিয়ে ফেলুন

ভাজা উপকরণের মিশ্রিতকরণ

উপরের টেবিলে যেমন দেওয়া আছে সেইমত পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে ডালডায় ভাজুন, পেঁয়াজ লালচে হয়ে গেলে ধনিয়া গুঁড়ো এবং গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে নাড়ুন, তারপর উনুন থেকে নামিয়ে রাখুন  

ভাজা পেঁয়াজ এবং আর সমস্ত উপকরণ (দুধ ছাড়া) মাছের সাথে মিশিয়ে দিন এবং ব্লেন্ডারের সাহায্যে ঘন লেই বানিয়ে ফেলুন

শুষ্ককরণ

আলুমিনিয়াম ট্রেতে সমগ্র মিশ্রণটিকে পাতলা স্তরের আকারে বিছিয়ে দিন এবং কৃত্রিম শুষ্ককরণ যন্ত্রের (Dryer) প্রায় ৭০ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় শুকনো করুন

চুর্নীকরণ এবং দুধ মিশ্রিতকরণ

শুকনো বস্তুগুলিকে গুঁড়ো করে তার সাথে গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে দিন  সমগ্র মিশ্রণটিকে ভাল করে গুঁড়ো করে সমপ্রকৃতি বিশিষ্ট (Homogenous) বস্তুতে পরিণত করুন

প্যাকিং

স্যুপ পাউডারগুলি নিরন্ধ্র পলিথিনের পাতলা স্তর যুক্ত আলুমিনিয়ামের ফয়েলের ব্যাগে বা ক্যানে ভরে রাখুন  (এভাবে ১বছর পর্যন্ত এগুলিকে সংরক্ষণ করে রাখা যায়)

খাওয়ার জন্য বানানো

৫-গ্রাম স্যুপ পাউডার ১০০মিলি জলে দিয়ে ৫-মিনিট ধরে ফোটান এবং তারপর টেবিলে বিতরন করুন  

মাছের টিকিয়া

বস্তু পরিচয়

শুকনো, ভেজে বিতরণ উপযোগী পাপড় আমাদের দেশের বেশীরভাগ জায়গায় খুবই বিখ্যাত, এতে প্রধান বস্তু হিসাবে থাকে শর্করা এবং লবণ ও আরো কয়েকটি উপাদান৷ এটি মশলা সহ বা মশলা ছাড়াও হতে পারে৷  বিভিন্ন ভাষায় এই বস্তুগুলি বিভিন্ন নামে পরিচিত যথা কোন্ডাত্তম ভাষায়, তামিলে ভাথাল, কানাড়াতে সান্ডিং গস, তেলেগুতে ওড়িয়ালু এবং বাংলায় টিকিয়া৷ মাছের প্রোটিনে ভরপুর এমনই এক বস্তু উপকরণ ও বানানোর পদ্ধতি নীচে দেওয়া হল-

উপকরণ

তৈরী করা মাছ

২ কিগ্রা

কর্ণফ্লাওয়ার

১ কিগ্রা

টেপিওকা

২ কিগ্রা

নুন

৫০ গ্রাম

জল

৩.৫ লিটার

বানানোর পদ্ধতি

* যন্ত্র চালিত গ্রাইন্ডারের সাহায্যে তৈরী করা মাছটিকে ১-লিটার জল দিয়ে ১০-মিনিট ধরে সংমিশ্রণ করুন৷

* কর্ণফ্লাওয়ার, টেপিওকা, ষ্টার্চ, নুন এবং বাকি জল মিশিয়ে দিন এবং সমগ্র মিশ্রণটিকে ১-ঘন্টা ধরে ভালভাবে মিশিয়ে নিন৷

* সংমিশ্রিত মন্ডটিকে আলুমিনিয়ামের ট্রেতে সমানভাবে ১-২মিলি স্তর হিসাবে বিছিয়ে দিন এবং ৩-৫ মিনিট ধরে বাষ্পে সেদ্ধ করুন৷

* ঠান্ডা করুন ঘরের তাপমাত্রায়৷

* এরপর আপনার পছন্দমতো সাইজে কেটে নিন এবং রোদে শুকনো করুন৷ ভাল হয় যদি কৃত্রিম ড্রায়ারে (শুকনো করার যন্ত্রে) ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রেখে শুকনো করুন ২০শতাংশের কম আর্দ্রতা পর্যন্ত৷

* সিল করা পলিথিন ব্যাগ বা কাঁচের বোতলে আপনার সুবিধামত পরিমাণ নিয়ে প্যাক করুন এবং শুকনো ঠান্ডা জায়গায় মজুত করুন বাজারে পাঠানোর আগে পর্যন্ত৷

* এই বস্তুগুলিকে দুবছর পর্যন্ত ভাল অবস্থায় মজুত করে রাখা যায়৷

* যদি রঙীন পাপড় বানাতে চান, অনুমতিপ্রাপ্ত খাওয়ার রং মেশাতে পারেন যখন অন্যান্য মাছের সাথে মেশানো হয়৷

* সাধারণত এ ধরনের বস্তু তেলে ভেজে সহকারী পদ বা সাইড ডিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়৷