জিওল মাছের চাষ
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সাধারণ তথ্য
|
মাগুর, সিঙ্গি, কই, শাল, শোল, ল্যাঠা
ইত্যাদি জিওল মাছ নামে পরিচিত৷ জিওল মাছ পুষ্টিকর মাছ৷ এ মাছের চাহিদা এবং
দাম বেশী৷ হাজা, মজা বিলে জিওল মাছ নিজের থেকে জন্মায় এবং বড় হয়৷ এইসব মাছের
অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে, বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে৷ জলে কম অক্সিজেনে এবং
বেশী কার্বন ডাইঅক্সাইডে বাঁচতে পারে বিশেষ করে, যেসব পুকুর কোন কাজে আসে না
সেই সমস্ত পুকুরে জিওল মাছ চাষ করে উত্পাদন বাড়ান যেতে পারে৷
নার্শারী কিংবা আঁতুড় পুকুর বর্ষাকালের পর শীতকালে প্রায়ই খালি পড়ে থাকে৷ ঐ সমস্ত পুকুরে জিওল মাছ চাষ করা যায়৷ ময়লা জলের পুকুরে জিওল মাছ চাষ করা যায়৷
মাছ
তাড়াতাড়ি বাড়ে৷ যে সকল মিশ্র মত্স্য চাষ করা হয়, সেখানে সাইপ্রিনাস
কার্পিওর পরিবর্তে মাগুর, সিঙ্গিমাছ দিযে চাষ করা হয়৷
|
|
 |
পুকুর নির্বাচন
|
ছোট বড় সব পুকুরেই জিওলমাছ চাষ করা
যায়৷ গরমের সময়
১.৫ হতে ২ ফুট জল থাকলে ভাল হয়৷ পুকুরের উপরিভাগের জলজ
উদ্ভিদ পরিষ্কার করে দেওয়া ভাল৷ মহুয়া খৈল আবশ্যিক নয়৷
|
|
|
মাগুর সিঙ্গি চারাপোনা ছাড়ার সংখ্যা
|
প্রতি হেক্টরে ৫০,০০০ মাগুর যায়
প্রতিটি ওজন ৮ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম এবং সাইজ ৮ সেমি হতে ১২ সেমি৷ সিঙ্গিমাছের
চারা ৭০,০০০ হতে ১,০০,০০০
/ হেক্টর যার প্রতিটির ওজন ৬ গ্রাম হতে ৮ গ্রাম এবং
সাইজ ৭ সেমি হতে ১০ সেমি৷
|
|
 |
খাবার পরিবেশন
|
২ ভাগ ফিশমিল বা শুকনা মাছের গুড়া
এবং ১ ভাগ ধানের কুড়ো মিশিয়ে দিনে ২ বার খাবার দিতে হয়৷ পুকুরে যত চারাপোনা
ছাড়া হয় তার ওজনের শতকরা ৪ ভাগ হতে ৫ ভাগ খাবার দিতে হয়৷ মাছ বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে খাবার বাড়াতে হয়৷ মাগুর মাছ গোবর ভাল খায়৷ পুকুরের কোণায় ৭০০ কেজি হতে
৮০০ কেজি গোবর / হেক্টর মাসে ১০-১৫ দিন দিতে হয়৷ টুকরা কেঁচো, গেড়ীর মাংস
জিওলমাছের খাদ্য৷ সরিষা, বাদাম খোল , নষ্ট হওয়া চাল, গমের গুড়ো খাবার হিসাবে
দেওয়া যেতে পারে৷
|
|
 |
জিওল মাছ চাষ কতদিন করা হয়
|
জিওলমাছ চাষ করা হয় ৫ হতে ৬ মাস৷ শেষের মাসে খাবার বাড়াবার দরকার নেই৷ মাছের বৃদ্ধি প্রতিদিন ১ গ্রাম৷ গরমে
মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়৷ পাঁচ মাসে মাগুর মাছ প্রতিটি ১৫০ গ্রাম হইতে ২০০
গ্রাম হয়৷ মাগুর মাছ চাষে ক্ষতি কম হয়৷ শতকরা ৮০ ভাগ মাছ পাওয়া যায়৷ কই ও
সিঙ্গি মাছ চাষ পদ্ধতি মাগুরের মত৷
কই চারামাছ ছাড়া হয় ১,০০,০০০ হতে ১,২৫,০০০ / হেক্টর প্রতিটি চারা কই মাছের
ওজন ৪ গ্রাম হতে ৫ গ্রাম৷ খাবার মাছের ওজনের শতকরা ৪ ভাগ হতে ৫ ভাগ৷ কইমাছ
চাষ কালীন সময় ৭-৮ মাস৷ কই মাছ বৃষ্টির সময় উপরে উঠে আসে- এই মাছ বর্ষার আগে
পুকুর থেকে ধরে নিলে ভাল হয়৷
সিঙ্গি মাছের খাবার মাছের ওজনের শতকরা ২ ভাগ হতে ৩ ভাগ৷ মাগুর মাছের খাবার
অনুযায়ী সিঙ্গি
ও কই মাছের খাবার দিতে হয়৷
|
|
 |
মাছ ধরা
|
খেপলা জাল, টানা জাল দিয়ে মাছ ধরা
যায়৷ সব মাছ তুলতে হলে পুকুরের জল পাম্প দিয়ে শুকনা করে মাছ ধরা যায়৷ ছোট
পুকুর হলে মাছ ধরার সমস্যা নাই৷ জিওলমাছ চাষ লাভজনক৷ খরচ কম, আয় বেশী৷
|
|
 |
বাঁশের খাঁচায় জিওল মাছের চাষ
|
বাঁশের খাঁচায় যার আয়তন ২মি. বাই ১মি. বাই ৭৫ সেমি. বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরী করা
হয়৷ খাঁচার উপর বাদ দিয়ে চারিদিকে ঢাকা
থাকে৷ খাঁচাগুলি পুকুরের জলে এরূপভাবে বসানো হয় যাতে খাঁচার অর্ধেক অংশ জলে
থাকে৷ ঐ ধরণের খাঁচায় ২০০ হতে ৩০০ মাগুর বা সিঙ্গি বা কই মাছ ছাড়া হয়৷ পুকুরের ন্যায় এখানে খাঁচায় খাবার দেওয়া হয়৷ ৫-৬ মাস পরে খাঁচা উঠিয়ে নেওয়া
হয়৷ এই চাষে শতকরা ৯০ ভাগ মাছ বেঁচে থাকে৷ মাছের বৃদ্ধিও কম হয়
না৷ সবরকম
জলায় বিশেষ করে পতিত জলাশয়ে এইরকম খাঁচা বসিয়ে পুষ্টিকর মাছের উত্পাদন সহজ করা
যাবে৷
পুকুরে জিওল মাছের চাষ, গ্রামীন অর্থনীতির সহায়ক৷
মাগুর ও সিঙ্গির সর্বোচ্চ উত্পাদন ৫টন/হেক্টর/৬মাস করা সম্ভব৷
|
|
 |