মুরগী পালন

                     

মুরগী পালন কেন

মুরগী চাষ করার বিভিন্ন পদ্ধতি

মুরগী পালনের পরিকল্পনা ও উপকরণ

উপযুক্ত বাসস্থান- শর্ত

বাড়ন্ত বাচ্চার পালন

আলোর ব্যবস্থা

ভালো ডিম পাওয়ার শর্ত

ব্রয়লার চাষ

মুরগীর খাদ্য

রোগ ও তার প্রতিকার

নমুনা প্রকল্প

এক নজরে মুরগী পালন

 

মুরগী পালন কেন

১) এটি একটি লাভজনক প্রকল্প

২) এতে বাড়ীর বাচ্চা বুড়ো মেয়ে থেকে বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থান হয়

৩) মুরগী চাষ গরীব বা অতি গরীব পরিবারের পক্ষে করা সম্ভব

৪) কম মূলধন দিয়েও মুরগী চাষ সম্ভব

৫) মুরগী চাষে শুধু পয়সা রোজগারই হয় না বরং পরিবারের খাদ্য মানও অনেক বেড়ে যায়  শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই অতি উত্তমরূপে মুরগীর ডিম ও মাংসে পাওয়া যায়

৬) মুরগীর মল অতি উত্তম সার বর্তমানে আবার মাছের  খাদ্য রূপেও ব্যবহার করা হয়

মুরগী চাষ করার বিভিন্ন পদ্ধতি

১) মুক্তাঙ্গান পদ্ধতি - এতে পুরোপুরি খোলা জায়গায় মুরগী ছেড়ে পোষা হয়  এই পদ্ধতিতে সাধারনতঃ মুরগীকে কোন খাবার দেওয়া হয় না

২) আবদ্ধ পদ্ধতি - এটি আবার দুপ্রকার (ক) ডিপ লিটার ও (খ) কেজ বা খাঁচা

  • (ক) ডিপ লিটার- বদ্ধ ঘরের মধ্যে ডিপ লিটারের সাহায্যে মুরগী পালন করা হয় এটিই সব চাইতে প্রচলিত পদ্ধতি

  • (খ) কেজ খাঁচা- এই পদ্ধতিতে প্রাথমিক রচ একটু বেশী হলেও এই পদ্ধতি ডিপ লিটারের চাইতে অনেক ভাল

মুরগী পালনের উপযুক্ত পরিকল্পনা ও উপকরণ

১) উপযুক্ত পরিকল্পনা- কেমন ফার্ম তৈরী করবে, ডিম দেওয়া (লেয়ার) না মাংস (ব্রয়লার), কোন পদ্ধতিতে চাষ করবে, সেই হিসাবে ফার্মের পরিকল্পনা করতে হবে

২) প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্রয়- ভাল বাচ্চা, ভাল খাদ্য, ঔষধ, টিকা প্রভৃতি কোথা থেকে কেনা হবে

৩) কেমন খরচ হবে

৪) মুরগীর পরিচর্যা

৫) মুরগীর ঘর

৬) স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যবস্থা

৭) শ্রমিক ও উপকরণগুলির ঠিক মত ব্যবহার

৮) উত্পন্ন ডিম বা মাংস, সার এমন কী খাদ্যের বস্তার বিক্রির ব্যবস্থা করা

উপযুক্ত বাসস্থান- শর্ত

১) ঘরে প্রচুর আলো বাতাস খেলা করার ব্যবস্থা থাকতে হবে

২) ছাতের উচ্চতা এমন হতে হবে যাতে গরমের সময় খুব গরম না হয়  ছাদের উচ্চতা ১০ - ১২ ফুট হওয়া ভালো

৩) মেঝে উঁচু করতে হয় যাতে স্যাঁতস্যাঁতে না হয়

৪) চতুর্দিকে ১ - ১.৫ ফুট উঁচু দেওয়াল তার উপরে ধাতব তার জালি ব্যবহার করতে হয়

৫) ব্রুডিং ঘর হলে তার গার্ড, মেঝে, তাপ ও আলোর ব্যবস্থা করতে হবে

 

ব্রুডিং ও উপকরণ

ব্রুডিং বাচ্চাগুলি যখন হ্যাচার থেকে বেরিয়ে আসে তখন তার দেহে খুব কম পালক থাকে  তাই শরীর থেকে প্রচুর তাপ বেরিয়ে যায় পরিবেশ ঠান্ডা থাকলে বাচ্চা মরে যাবে এই অবস্থা থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতে গেলে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চাদের গরম রাখার ব্যবস্থা করা হয়, একে বলে ব্রুডিং ব্রুডিং এর জায়গা বাচ্চা আসার অন্ততঃ ২৪ ঘন্টা আগে তৈরী করতে হবে

ব্রুডারকে বিভিন্নভাবে গরম রাখার ব্যবস্থা করা যায়, যেমন-

১) বিদ্যুত, ২) প্রাকৃতিক গ্যাস, ৩) কয়লার উনুন, ৪) কেরোসিন ল্যাম্প ব্রুডারের তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট দিয়ে শুরু করতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট করে কমাতে কমাতে ৭৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত নিয়ে আসতে হবে ২৪ ঘন্টাই তাপের ব্যবস্থা রাখতে হবে ব্রুডারে সবকিছু ঠিক মতো আছে কিনা তা বাচ্চাদের অবস্থা ও চলাফেরা দেখে বোঝা যাবে য়েমন-

১) তাপ বেশী হলে - বাচ্চাগুলি ঝিমুবে, এবং তাপের উত্স থেকে অনেক দূরে থাকবে

২) তাপ কম হলে - বাচ্চাগুলি তাপের উত্স-এর কাছে গাদাগাদি করে থাকবে

৩) খুব বাতাস হলে - হোভারের পিছনে যেখানে বাতাস কম লাগে সবগুলি গাদাগাদি করে থাকবে             

৪) সবকিছু ঠিক থাকলে -  বাচ্চাগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘোরাফেরা করবে

 

লিটার বস্তু-  লিটার হল মেঝের উপর মুরগীদের জন্য বিছানা এ তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মুরগীদের ক্ষেত্রে আরামদায়ক হয় সাধারণতঃ তিন ধরনের বস্তু লিটার  হিসাবে ব্যবহার হয় (১) ধানের তুষ, (২) কাঠের গুঁড়া, (৩) কাঠের চাঁছা অংশ

বাড়ন্ত বাচ্চার পালন

নয় সপ্তাহ থেকে ২০ সপ্তাহের বয়সের বাচ্চারা এই দলে পড়ে

(১)অল্প জায়গায় বেশী পাখী রাখা চলবে না এদের জন্য জায়গার তালিকা-

মেঝে

খাবার জায়গা

জলের জায়গা

১.৫ বর্গফুট প্রতি পাখি পিছু

২ - ১০ সপ্তাহ ২.৫ ইঞ্চি প্রতি পাখি পিছু

৭.৫ ইঞ্চি প্রতি পাখি পিছু

১০ - ২০ সপ্তাহ ৪ ইঞ্চি প্রতি পাখি পিছু

(২) ভাল গ্রোয়ার ম্যাস দিতে হবে

(৩) দরকার হলে ১৬ সপ্তাহ বয়সের আগে ঠোঁট কাটতে হবে

উপযুক্ত সংখ্যক জলের ও খাবার পাত্র দিতে হবে

লেয়ার প্রতি পালন -

লেয়ার ডিপ লিটার বা কেজ্ যে পদ্ধতিতেই পালন করা হোক কতগুলি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যেমন-

(১)  ঘরটিকে আগের মতই পরিস্কার জীবাণু মুক্ত করতে হবে খাবার, জলের জায়গাগুলিও উপযুক্তভাবে পরিস্কার করতে হবে

(২)  খাবারও গ্রোয়ার ম্যাস থেকে লেয়ার ম্যাস খাওয়াতে হবে

(৩)  গাদাগাদি করে রাখা চলবে না তাতে ডিম পাড়া কমে যায়, জায়গার দরকার   

মেঝে

খাবার

জল

১.৫ বর্গফুট প্রতি পাখি

৩ ইঞ্চি প্রতি পাখি

১ ইঞ্চি প্রতি পাখি

বর্তমানে খাঁচায় (কেজ)-এ চাষ করাটাও অতি জনপ্রিয়

এতে খাঁচার মাপ- 

১২ ইঞ্চি চওড়া, ১৯ ইঞ্চি লম্বা, ১৫ ইঞ্চি উচ্চতা পিছনে, ১৭ ইঞ্চি উচ্চতা সামনে, দোতলা করা যায় আর প্রতি খাঁচায় ৩টি পাখি রাখা যাবে

আলোর ব্যবস্থা

ডিম পাড়া মুরগী খুব সহজে আলো দ্বারা প্রভাবিত হয়  ডিম পাড়ার সময় আলোর সময় কখনও কমাতে নেই

(১) ২০ সপ্তাহ বয়সে দিনে ১০ ঘন্টা আলোই যথেষ্ট

(২) ১৬ ঘন্টা আলো চলবে যতদিন ডিম দেবে 

ভালো ডিম পাওয়ার শর্ত

ডিম ভেঙ্গে যাওয়া বা ডিমের খোসা নরম হওয়ার অনেক কারণ আছে  ডিম ভাঙ্গা, দুর্বল খোসা কমাবার কতগুলি প্রতিরোধ ব্যবস্থা -

  • বেশী পরিমাণ ক্যালসিয়াম খাদ্যে থাকতে হবে

  • ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত খাদ্যে ঠিক থাকতে হবে

  • ভিটামিন-ডি থ্রির পরিমাণ ঠিকমত থাকতে হবে

  • মেঝের চাইতে ডিম পাড়া বাক্সে ডিম পাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে

  • ডিম ভাঙ্গা বা খাওয়ার অভ্যাস যাতে মুরগীর না হয় তার দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে

ব্রয়লার চাষ

ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাংসের জন্য যে মুরগী পোষা হয় এবং মাত্র ৬ - ৭ সপ্তাহ বয়সে যার মাংস ব্যবহার করা হয় তাকে বলে ব্রয়লার   সংকরায়নের মধ্য দিয়ে এই চরিত্রে মুরগীর ওজন হয় ৬ - ৭ সপ্তাহে ১.৫ থেকে ২ কেজি

ব্রয়লার মুরগীর জন্য ঘর করতে গেলে এই শর্তের উপর নজর রাখতে হবে-

  • ঘরের মেঝে থেকে ১ - ১.৫ ফুট উঁচু হতে হবে

  • ঘরের উচ্চতা মাঝে ১২ - ১৪ ফুট ও প্রান্তে ৭ - ৮ ফুট হতে হবে

  • পাশে ২ ফুট উঁচু দেওয়াল ও উপরে তার জালি দিতে হবে
  • খুব ভাল বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে কারণ ব্রয়লার দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে এর বেশী অক্সিজেন দরকার হয়

ব্রয়লার এর ঘরে পর্যাপ্ত সংখ্যায় খাবার জলের পাত্র থাকতে হবে পাত্রগুলি লম্বা ও এমন হতে হবে যাতে দুই দিক থেকেই খেতে পারে গরমের দিনে বেশী সংখ্যক জলের পাত্র দিতে হবে

বয়স

জলের জায়গার মাপ পাখী প্রতি

বয়স

খাদ্যের জায়গার মাপ পাখী প্রতি

- ১৫ দিন

১/২ ইঞ্চি

-৪ দিন

১ ইঞ্চি

১৬ - ৫৬ দিন

১ ইঞ্চি

১৫ - ৪২ দিন

২ ইঞ্চি

 

৪৩ - ৫৬ দিন

৩ ইঞ্চি

 

ব্রয়লার ফার্মের প্রধান খরচ (প্রায় শতকরা আশি ভাগ) খাবার এর জন্য  তাই যত কম খেয়ে বেশী বৃদ্ধি পাবে বা মাংস তৈরী হবে ফার্মে ততই লাভ হবে এর হিসাবকে বলা হয় এফ.সি.আর

                   

এফ.সি.আর  =    মোট কত কেজি খাবার খেয়েছে

                 মোট কত কেজি মুরগীর ওজন হয়েছে

মুরগীর খাদ্য

লেয়ারের ক্ষেত্রে ( আই.এস.আই)

 

স্টার্টার

গ্রোয়ার

লেয়ার

- ৮ সপ্তাহ

- ১৮ সপ্তাহ

১৮ সপ্তাহের বেশী

প্রোটিন

২০ %

১৬ %

১৮ %

বিপাকীয় শক্তি (কি.ক্যালরি)

২৬৪০

২৫৩০

২৭৪০

 

ব্রয়লার

 

স্টার্টার

ফিনিসার

- ৫ সপ্তাহ

- ৭ সপ্তাহ

প্রোটিন

২২ %

২০ %

বিপাকীয় শক্তি (কি.ক্যালরি)

৩০৫০

৩২০০

 

লেয়ার ম্যাস (প্রতি ১০০ কেজি হিসাবে)

উপাদান

স্টার্টার

গ্রোয়ার

লেয়ার

       

হলদে ভুট্টা

৩১ কেজি

৩১ কেজি

৩৮ কেজি

রাইস পোলিস

৩৫ কেজি

৪৫ কেজি

৩৪ কেজি

বাদাম খোল

২২ কেজি

১৫ কেজি

১৭ কেজি

মাছের গুঁড়ো

১০ কেজি

৭ কেজি

৬ কেজি

ধাতব লবন

২ কেজি

২ কেজি

৩ কেজি

ভিটামিন এ, বি২, ডি৩

২০ গ্রাম

২০ গ্রাম

৩০ গ্রাম

আন্টিবায়টিক ফিড সাপ্লিমেন্ট

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

নেফটিন

১৫০ গ্রাম

১৫০ গ্রাম

-

আম্প্রল

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

-

অস্টার সেল

-

-

২ কেজি

 

ব্রয়লার ম্যাস (প্রতি ১০০ কেজি হিসাবে)

উপাদান

স্টার্টার

ফিনিসার

- ৫ সপ্তাহ

- ৭ সপ্তাহ

     

ভুট্টা

৪০ কেজি

৪২ কেজি

বাদাম খোল

৩০ কেজি

২৯ কেজি

ফিস মিল

১১ কেজি

১০ কেজি

রাইস পোলিস

১৩ কেজি

১২ কেজি

আনিমাল ফ্যাট

৩ কেজি

৪ কেজি

খনিজ লবন

৩ কেজি

৩ কেজি

ভিটামিন এ, বি২, ডি৩

২৫ গ্রাম

২৫ গ্রাম

এ পি এফ ১০০

২০ গ্রাম

২০ গ্রাম

টি এম ২৫

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

আম্প্রল

৫০ গ্রাম

৫০ গ্রাম

নেফটিন

১০০ গ্রাম

১০০ গ্রাম

 

রোগের মধ্যে আফলাটক্সিকোসিস এর প্রাদুর্ভাব খুব বেশী হয় বর্ষা ঋতুতে  তখন ভুট্টা, বাদাম খোলে প্রচুর ছত্রাক জন্মায় ঐ ছত্রাকই আফলা টক্সিন উত্পন্ন করে এই টক্সিন যুক্ত খাবার খেলে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয় তা হল-

  • বৃদ্ধির হার কমে যায়

  • এফ.সি.আর কমে যায়

  • মৃত্যুর হার বাড়ে

  • ডিম পাড়া কমে

  • ভিজে খাবার বা তার উপাদান কখনও কিনতে নেই

রোগ ও তার প্রতিকার

রোগ হলে প্রাথমিকভাবে কতগুলি লক্ষণ দেখা যায় যেমন, না খাওয়া বা কম খাওয়া, উত্পাদন কমে যাওয়া, ঝিমুনি, স্বাভাবিক হাঁটাচলা বন্ধ করা, লতি ও ফুল ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি

রোগের বিভিন্ন কারণগুলি হল-

  • ভাইরাস

  • ব্যাকটেরিয়া

  • ছত্রাক

  • মাইকোপ্লাজমা

  • প্রোটোজোয়া

  • অপুষ্টিজনিত

  • পরিবেশগত ইত্যাদি

ভাইরাল রোগ

(১)  রাণীক্ষেত- প্রচলিত নাম চুনা হাগা  পাখী হাঁ করে ঠোঁট তুলে শ্বাস নেয়  ঝিমুনী ও ধীরে ধীরে পক্ষাঘাত হয় ক্ষুধামন্দা ও তেষ্টা পায়  বড় মুরগীর নাকে শব্দ হয়

(২)  ম্যারেক্স-  ডানা ও পাখায় পক্ষাঘাত হয়  সাধারণত মৃত্যুর সময় একটা পা সামনে ও আরেকটা পা পিছনে টানটান করে মরে পড়ে থাকে  মৃত্যুর হার ৬০ - ৭০ শতাংশ এই রোগের কোন চিকিত্সা নেই তবে টিকা দিলে রোগ হয় না

(৩)  গামবোরো-  সাধারণত ২ - ৮ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চা আক্রান্ত হয়  এই রোগে পাখীর প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার ফলে সাধারণ রোগে পাখীরা মারা যায় যেমন- কক্সিডিয়া, কোলাই, ছত্রাক ইত্যাদি  এই রোগের কোন চিকিত্সা হয় না তবে টিকার দ্বারা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়

প্রোটোজোয়া

(১)  কক্সিডিয়া-  বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশী থাকলে ডিপ লিটারে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব ভিজা লিটারের মাধ্যমে এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয় এবং ছড়ায় এতে রক্ত পায়খানা হয়, শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়, পাখী ঝিমুতে থাকে এবং মারা যায় বর্যার দিনে এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশী আম্প্রোলিয়াম, কক্সিডিওষ্টাট ইত্যাদি দিয়ে এই রোগের প্রকোপ কমানো যায়

 

মুরগীর টিকা

লেয়ার-

   

রোগের নাম

কোন সময় দেবেন

টিকা দেবার বয়স

ম্যারেক্স

বছরে যে কোন সময়

১ দিন বয়সে (সাধারণত হ্যাচারীতেই দেওয়া হয়ে থাকে)

রাণীক্ষেত

- ৪ দিন বয়সে (এফ স্ট্রেন)

রাণীক্ষেত

 

- ৬ সপ্তাহ বয়সে (এফ স্ট্রেন)

রাণীক্ষেত

১০ - ১২ সপ্তাহ বয়সে (আর টু বি)

বসন্ত

৩ সপ্তাহ বয়সে (পি পি ভি এল)

বসন্ত

৮ সপ্তাহ বয়সে (পি পি সি ই ডি এল)

 গামবোর

১৫ - ১৮ দিন বয়সে (যদি ডাক্তারবাবু পরামর্শ দেন)

     

ব্রয়লার-

রাণীক্ষেত

৫ দিন বয়সে রাণীক্ষেত (এফস্ট্রেন)

রাণীক্ষেত

৩০ দিন বয়সে রাণীক্ষেত (এফ স্ট্রেন)

     

মুরগীর টিকাকে উপযুক্ত কার্যকরী করতে গেলে কতগুলি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে-

(১)  ভাল কোম্পানির টিকা কিনতে হবে

(২)  যথাযথ তাপমাত্রায় সুরক্ষিত করতে হবে

নমুনা প্রকল্প

৫০০ ব্রয়লার চাষের একটি পরিকল্পনা

(৬ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করতে হবে)

 

মুলধনী খরচ

ঘর বাবদ

২০০০০.০০ টাকা

বিভিন্ন আনুষঙ্গিক যেমন লাইট, জল ও খাবার পাত্র ইত্যাদি @ ৫টাকা প্রতি পাখী

  ২৫০০.০০ টাকা

মোট

২২৫০০.০০ টাকা

 

আবর্ত খরচ

৫০০ বাচ্চার দাম (৫% বেশী দেবে) @ ১৪ টাকা প্রতি বাচ্চা

৭০০০.০০ টাকা

খাবার @ ৩.২ কেজি প্রতি পাখী, মোট ১৬০০ কেজি @ ১০ টাকা প্রতি কেজি

১৬০০০.০০ টাকা

লিটার, টিকা, ভিটামিন,ইলেকট্রিক ইত্যাদি @ ৩ টাকা

১৫০০.০০ টাকা

মোট

২৪৫০০.০০ টাকা

 

আয়

মাংস, প্রতি পাখী ১.৬ কেজি, মোট ৮০০ কেজি @ ৩৫ টাকা প্রতি কেজি

২৮০০০.০০ টাকা

লিটার চটের ব্যাগ বিক্রি করে @ ৪ টাকা প্রতি পাখী

২০০০.০০ টাকা

মোট

৩০০০০.০০ টাকা

 

নেট লাভ = ৩০০০০ - (২৪৫০০ + ২২৫০০ এর ২% ) = ৩০০০০ - ২৪৯৫০ = ৫০৫০.০০ টাকা

প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই রকম একটি ব্যাচ বের করতে হবে

তা হলে মাসিক আয় হবে ( ৩০০০ × ২/৩ × ২) =                                   ৬৬৫০.০০ টাকা

 

১০০০ লেয়ার এর ফার্ম (হোয়াইট লেগ হর্ণ)

মুলধনী খরচ

ঘর বাবদ

৩৫০০০.০০ টাকা

আনুষঙ্গিক  লাইট, জল ও খাবার পাত্র

৫০০০.০০ টাকা

মোট

৪০০০০.০০ টাকা

 

আবর্ত খরচ

বাচ্চা (৫% বেশী দেবে) @ ১০ টাকা

১০০০০.০০ টাকা

খাবার ১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত @ ৩ কেজি প্রতি পাখী, মোট ৩০০০ কেজি @ ৮ টাকা  কেজি

২৪০০০.০০ টাকা

খাবার ১৮ থেকে ৯৬ সপ্তাহ  পর্যন্ত   প্রতি পাখী ৬০ কেজি = ৬০০০০ কেজি,   @ ৮ টাকা  প্রতি কেজি

৫৬০০০০.০০ টাকা

 টিকা, ভিটামিন, লাইট ইত্যাদি বাবদ @ ১০ টাকা

১০০০০.০০ টাকা

মোট

৬০৪০০০.০০ টাকা আয়

 

ডিম ৯০%  ৯০০ ডিম প্রতি দিন

৫৪৬ দিন = ৪৯১৪০০ @ ১.২৫ টাকা

                    ৬১৪২৫০.০০ টাকা

চটের ব্যাগ লিটার ইত্যাদি @ ৬ টাকা

                        ৬০০০.০০ টাকা

৯৬ সপ্তাহের পর পাখী @ ৩৫ টাকা

                       ৩৫০০০.০০ টাকা

মোট

                      ৬৫৫২৫০.০০ টাকা

 

নেট লাভ = ৬৫৫২৫০ - (৬০৪০০০ + ৪০০০০ এর ১০% )

            = ৫৫২৫০.০০ টাকা, ৯৬ সপ্তাহে  =                মাসিক রোজগার = ২৫০০.০০ টাকা

এক নজরে মুরগী পালন

  • উন্নত প্রজাতির একটি মুরগী বছরে গড়ে ২৫০ - ৩০০ টি ডিম দেয় যার একটির ওজন গড়ে ৫০ - ৬০ গ্রাম

  • রোড আইল্যান্ড রেড (আর.আই.আর), লেগহর্ণ উন্নত প্রজাতির  মুরগী

  • মুরগী প্রায় ৬ মাস বয়সে ডিম পাড়তে শুরু করে এবং ১৮ মাস পর্যন্ত লাভজনক ভাবে ডিম পাড়ে

  • ভাল বাচ্চা পেতে হলে মোরগ-মুরগীর অনুপাত ১:৮ - ১০ হওয়া উচিত

  • ব্রয়লার মুরগী ছয় সপ্তাহ বয়সে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের হয় এবং বাজারজাত করা যায়
  • মুরগীর ডিম ফুটে বাচ্চা হতে সময় লাগে ২১ দিন
  • একদিনের মুরগী বাচ্চার ওজন ৩৬ - ৪০ গ্রাম

  • মুরগীর ঘরে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম আলো মিলিয়ে দিনে ১৬-১৭ ঘন্টা আলো লাগে

  • ২০ সপ্তাহের উপরের বয়সের মুরগীর জন্য ২.৫ - ৩ বর্গফুট মাপের মেঝে দরকার

  • ৮০ সপ্তাহে প্রতি মুরগী মোট ৫২ কেজি খাদ্য খায়
  • পাঁচ মাস বয়সের পাখী প্রতিদিন ৬৫ - ৭০ গ্রাম খাদ্য খায়

  • আট সপ্তাহ বয়সের ব্রয়লার পাখী দিনে ১৬০ গ্রাম খাদ্য খায়  মুরগীর ডিমের উপাদান- (১০০ গ্রাম হিসাবে)

জল

প্রোটিন

ফ্যাট

শর্করা

ছাই

৭৩.৭

১২.৯

১১.৫

০.৯

১.০

  • মুরগীর মাংসের উপাদান-  (১০০ গ্রাম হিসাবে)

জল

প্রোটিন

ফ্যাট

শর্করা

৭৪.৮

১৮.২

৬.২

০.৭৮