চিংড়ি (গলদা) চাষ

 

 

ভূমিকা

স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ি চেনার উপায়

ফসল তোলা এবং বাজারজাত করা

গলদা চিংড়ির চারা মজুতের পরিমাণ

চিংড়ি চাষে পরিপূরক খাদ্যের তালিকা

গলদা চিংড়ি চাষের পুকুর

রোগের হাত থেকে বাচাঁন

নার্শারী বা লালন পুকুর

চুন প্রয়োগ

সার প্রয়োগ

প্রাপ্তিস্হান

সনাক্তকরণ

চারা মজুত

খাদ্য প্রয়োগ

চিংড়ির চাষে জল ও মাটির গুণাগুণ

 

ভূমিকা

বিদেশে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান প্রভৃতি প্রাচ্যের দেশগুলোতে চিংড়ি (গলদা) চাষে লাভ করায় ভারতে ও এই চাষে সরকারী প্রচেষ্ঠায় মত্স্যচাষীদের মধ্যে উত্সাহ সৃষ্টি হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যেমে এই চাষে উত্সাহী মাছ চাষীদের যুক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে এছাড়া গলদার বাজার দর বেশী হওয়ায় মাছ চাষীরা এগিয়ে আসছেন
দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে যে যে দ্রব্য রপ্তানী করে বিদেশী মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে তাতে চিংড়ি একটি বিশেষ স্হান অধিকার করেছে
চিংড়ি চাষে ব্যাপকভাবে যাতে মাছ চাষীরা এগিয়ে আসেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদের এই চাষের বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এতে সকলেই উপকৃত হবেন

 

 


 

প্রাপ্তিস্হান

মিষ্টি জলের খাল, বিল, নদী, হ্রদ, মোহনা, পুকুর ও খাড়ী এলাকায় এদের পাওয়া যায় গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলিতে যথা- ভারত, পাকিস্হান, বর্মা (মায়ানমার) ও বাংলাদেশে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও কেরলায় গলদা চিংড়ি পাওয়া যায়

 

সনাক্তকরণ

গলদা চিংড়ির চারার আকার সাধারণত: ৯ সে.মি. ধরা হয়এ সময়ে শিরোবক্ষের খোলসটিতে ৬-৮টি সমান্তরাল স্পষ্ট কালো দাগ দেখা যায় পরিণত অবস্হায় এগুলো লোপ পায় শিরোবক্ষের অংশটি দেহের অন্য অংশ থেকে উন্নত হওয়ায় মাথার অংশ মোটা হয় রষ্ট্রাম বা মাথার সামনের খাড়াঁটি লম্বা ও বাকাঁনো এর উপরিভাগে ১২ থেকে ১৪টি কাটাঁ এবং নীচের ভাগে ১১ বা তার চেয়ে বেশী কাটাঁ থাকে


 

স্ত্রী ও পুরুষ চিংড়ি চেনার উপায়

পুরুষ চিংড়ি: পুরুষ চিংড়ি বৃদ্ধি স্ত্রী চিংড়ি চেয়ে বেশী শিরোবক্ষ মোটা ও আকারে বড়ো হয় নিম্নোদর অপেক্ষাকৃত সরু দেখায় আর একটি বৈশিষ্ট্য হল পুরুষ চিংড়ির মোটা লম্বা দাঁড়া বিশিষ্ট দ্বিতীয় ভ্রমনপদ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তরনপদের ভেতরের দিকের পদের (ENDOPODITE) গোড়ায় সংলগ্ন লোমশ এপেন্ডিকস ম্যাসকুলিনা দেখা যায় এছাড়া প্রথম উদর খন্ডের তলার খোলসের মাঝখানে একটা ছোট শক্ত কাঁটার মত দেখা যায় জুভেনাইল অবস্হায় একমাত্র এপেন্ডিকস ম্যাসকুলিনা দেখেই করতে হয় কারন তখন অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায় না

স্ত্রী চিংড়ি : স্ত্রীচিংড়ি মাথা ও দ্বিতীয় বাহু অপেক্ষাকৃত অনেকটা ছোট থাকে এবং নিম্নোদরের নীচের দিকে ডিম ধারনের জন্য নিম্নোদর অপেক্ষাকৃত চওড়া হয় পিঠের খোলস বড় হয় এবং উভয় দিকে নেমে এসে ডিমগুলি ঢেকে রাখতে সাহায্য করে

চিংড়ি (গলদা) : পোষ্ট লার্ভা বা ধানী অবস্হায় পৌঁছাতে প্রায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগে এই সময়ে এরা ১১ বার খোলস ছাড়ে প্রতিবারে খোলস ছাড়ার পর এদের কিছুটা রুপান্তর ঘটে পোষ্ট লার্ভা অবস্হায় এরা ৩ সে.মি. আকারের বড়ো হয় ২-৩ মাস বয়সে যখন ৬-৭ সে.মি. মাপে পৌঁছা তখন সাব অডান্ট অবস্হায় পৌঁছায়

 

 

 

গলদা চিংড়ি চাষের পুকুর

চিংড়ি চাষের পুকুর দীর্ঘ আয়তকার হলেই ভাল  আয়তন দেড় থেকে চার বিঘার মধ্যে থাকলেই ভালো প্রতি বছর জল নিকাশ করে তলদেশ দোষ শূণ্য করা চিংড়ি চাষের পক্ষে একান্ত প্রয়োজনী  গ্রীষ্মকালে জল গরম হলে যাতে পাম্প বা অন্য কোন উপায়ে জল দেওয়া যায় তার ব্যবস্হা রাখা প্রয়োজন অন্য মাছের সাথে মিশ্র চাষে ২/৩ মিটার গভীর পুকুরের ক্ষেত্রে পাড় থেকে নেমে আসা ঢাল ২:১ বা ৩:১ থাকা বাঞ্ছণীয় যেখানে চিংড়ির বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ থাক চিংড়ি চাষের পক্ষে পুকুরের তলদেশের মাটি বেলে-ভাবাপন্ন হওয়া প্রয়োজন বেলে দোঁয়াশ মাটিই চিংড়ি চাষের উপযোগী

 

নার্শারী বা লালন পুকুর

গলদা চিংড়ি চাষে লালন (নার্শারী) পুকুরের প্রয়োজনীতা আছে ছোট ছোট লালন পুকুরের শিশু অবস্হার চারা ছেড়ে (প্রতি হে: ১০-১৫ লক্ষ) ২/৩ মাস লালন করে পালন পুকুরে মজুত করার সময় সুস্হ উজ্জ্বল বর্ণের নিদ্দিষ্ট প্রজাতির চারা পেতে অসুবিধা হয় না  ২০মি. × ১০মি. অথবা ২৫মি. × ৫মি. মাপের ছোট ছোট পুকুরে চিংড়ির চারা (পোষ্ট লার্ভা  ১মি.-১.৫মি.) প্রতিপালনে সুবিধা হয়  নার্শারী পুকুর সহজেই শুকিয়ে ফেলে তলদেশ দোষমুক্ত/ শত্রুমুক্ত করা যায়  এছাড়া পুকুরের জল নিকাশ করে সব চারা মাছ সংগ্রহ করা যায়

 

চুন প্রয়োগ

চিংড়ি চাষের পুকুর বিঘাপ্রতি ভাল করে ৪০-৬০ কেজি চুন দেওয়া দরকার  প্রয়োজনে প্রতিমাসে প্রতি বিঘা ভাল করে ৫-৬ কেজি চুন দেওযা যেতে পারে, জলের pH ৮.৫ এর বেশী হলে ২/৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করে চিংড়ি চারা ছাড়া ভাল

সার প্রয়োগ

আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পোনা মাছের সাথে চিংড়ি চাষ হচ্ছে এক্ষেত্রে প্রস্তুতির সময় অল্প মাত্রায় খৈল (১৫০-২০০ কেজি প্রতি হেক্টর) এবং গোবর সার (৭৫০-১০০ কেজি প্রতি হেক্টর) দেওয়া হয় গোবরের পরিবর্তে মুরগীর মল (২৫০ কেজি প্রতি হেক্টর) দিলে ভাল হয় যদি দেশী বা বিদেশী পোনা মাছের সাথে চিংড়ি চাষ একত্রে হয় তাহলে প্রতি হেক্টর প্রতি মাসে ৩৬ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট দিতে হবে  নতুন কাটা পুকুরের তলদেশ একদম জৈব সার থাকে না বলে চাষের শুরুতে ৫-১০ হাজার কেজি গোবর সার প্রতি হেক্টরে দেওয়া যেতে পারে

চারা মজুত

সাধারণত: পুকুরের চুণ ও সার প্রয়োগের দু সপ্তাহের পরে (মহুয়া খইল দেওয়া হলে ২-৩ সপ্তাহের পরে) চারা মজুত করা হয়  সকাল বেলা ঠান্ডা জলে চারা ছাড়া উচিত  ২০ডিগ্রী সেন্টিড্রেটের এর নীচে হলে চারা না ছাড়াই ভাল   পুকুরে/জলাশয়ে চিংড়ির চারা মজুতের হার কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে-

১) চারার মাপ ও জলাশয়ের রকম

২) একক চাষ বা অন্য মাছের সাথে মিশ্র চাষ

৩) সহযোগী মাছের প্রজাতি ও সংখ্যা

৪) জলের গুনাবলী ও মাটির উর্বরতা

৫) সারের রকম ও পরিমাণ

৬) পরিপূরক খাদ্যের গুণ ও পরিমাণ

৭) জলবদল, বায়ু সঞ্চালন ইত্যাদি

পরিচালন ব্যবস্হার সুবিধা-

মিশ্র চাষে চারা মজুতের হার অর্ধেক কমিয়ে ফেলা হয় সহযোগী মাছ হিসাবে কাতলা, রুই, সিলভার কার্প, (অবস্হা অনুযায়ী পার্শে ও ভাঙন) ছাড়া যেতে  পারে মৃগেল ও সাইপ্রিনাস ছাড়লে চিংড়ির উত্পাদন ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়

 

গলদা চিংড়ির চাড়া মজুতের পরিমাণ (প্রতি হেক্টরে )

 
পুকুরের রকম চারা চিংড়ির রকম ও আকার

মজুতের হার

প্রতি হেক্টর

 

চাষের  মেয়াদ আনুমানিক বৃদ্ধি (দৈর্ঘ্য  ওজন) বাচাঁর আনুমানিক হার
  একক চাষ মিশ্র চাষ  
 

আতুর পুকুর

ক)

সাধারণ

ভাবে

পোষ্ট লার্ভা

(ধানী)
১-১৫ সেমি:

২-৫

লাখ

-

২-৩ মাস

 ৫-৭ সেমি:/৭-১০ গ্রাম

 

খ)

বায়ু সঞ্চালক

  ঐ

১৫-২০

লাখ

-

২-৩ মাস

৫-৭ সেমি:/৭-১০ গ্রাম

 

মজুত পুকুর

ক)

সাধারণ

ভাবে

 

 

জুভেনাইল

(চারাপোনা) ৫-৭ সেমি:

৫০,০০০-  ৬০,০০০

কার্প (৪ই.-৬ই.)

৪০০০ - ৫০০০

৩-৪ মাস

১৫-১৭ই./ ৫ সেমি:

৬০-৮০%

চিংড়ি

১৫০০ - ৩০০০

৩-৫০ গ্রাম

খ)

 বায়ু সঞ্চালক

  যন্ত্র ব্যবহার করে

 

 ১-১৫ লাখ

কার্প (৪ই.-৬ই.)

১০,০০০-১৫,০০০

৩-৪ মাস

চিংড়ি

২০,০০০-২৫,০০০

 

 

 

 

খাদ্য প্রয়োগ

গলদা চিংড়ি সাধারণত নিশাচর এরা দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকে আর রাতে বিচরণ করে জলের নীচে প্রানী বা উদ্ভিদ জাতীয়, টাটকা বা পচনশীল যা পা সবই খায় খাদ্যের উপাদান হিসাবে দেওয়া হয় চালের খুদ, গমের ভূষি, বাদাম খইল, সয়াবিনের খইল, ফিসমিল, কুচো চিংড়ির গুড়ো, কুচো মাছ, ঝিনুকের মাংস, গেড়ি গুগলির মাংস ইত্যাদি  উদ্ভিজ্জ্য ও প্রানীজ খাদ্য্ ১:৩ অনুপাতে মিশিয়ে ও চিংড়ির খাবার তৈরী করে খাবার হিসাবে দেওয়া হয় অবশ্য খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে পুকুরের স্বাভাবিক খাদ্য উপস্হিতি ও মজুত চারার পরিমানের উপর বড় চারাকে মধ্য রাত্রে একবার খাবার দিতে পারলে ভাল হয় অন্যথায় দৈনিক বিকেলে একবার খাদ্য দিলেই চলে চওড়া পাত্রে বা ট্রে জাতীয় পাত্রে মন্ডের আকারে ঢেলা করে পুকুরের কিনারে অগভীর জলে ডুবিয়ে রাখা হয়

 

চিংড়ি চাষে পরিপূরক খাদ্যের তালিকা

পরিপূরক খাদ্যের একটি তালিকা দেওয়া হল :

পরিপূরক খাদ্যের নাম

 চিংড়ি চারার ওজন

 পরিপূরক খাদ্যের  দৈনিক পরিমান

দৈনিক কতবার খাবার দেওয়া হয়

ক্রাম্বলার

২ গ্রাম পর্যন্ত

 মজুত চারার সমগ্র ওজনের ২০%

৩ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৩ অংশ

স্টারটার-১

 ৬-১৫ গ্রাম পর্যন্ত

মজুত চারার সমগ্র ওজনের ১০%

৩ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৩ অংশ

স্টারটার-২

৬-১৫ গ্রাম পর্যন্ত

 মজুত চারার সমগ্র ওজনের ৮%

৩ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৪ অংশ  

গ্র্রোয়ার-১

১৬-৩০ গ্রাম পর্যন্ত

 মজুত চারার সমগ্র ওজনের ৪%

৪ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৪ অংশ

গ্র্রোয়ার-২

 ৩০-৫০ গ্রাম পর্যন্ত

 মজুত চারার সমগ্র ওজনের ২-৪%

৪ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৪অংশ

ফিনিসার

৫০ গ্রাম থেকে উর্দ্ধে

মজুত চারার সমগ্র ওজনের ২-৪%

৪ বার প্রতিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্যে ১/৪ অংশ

বি:দ্র: - চওড়া মাটির পাত্রে বা ট্রেতে মন্ডের আকারে খাবার দিলে ভাল হয় দুই ঘন্টার মধ্যে খাবার শেষ হয়ে গেলে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে দুই ঘন্টার মধ্যে খাবার শেষ না হলে খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে

 

ফসল তোলা এবং বাজারজাত করা

সাধারণত: খেপলা জাল ব্যবহার করে চিংড়ি ধরা হয় কখনো কখনো ৪-৫ সেমি ফাঁসের বেড়াজাল দিয়ে পুকুরে জাল টেনে চিংড়ি ধরা হয় এতে জলের তলদেশ ঘুলিয়ে যাওয়ার চিংড়ির মৃত্যু হতে পারে সম্পূর্ণ ফসল তোলা একমাএ জল নিকাশ করেই সম্ভব মাছ ধরার কাজ সকালে শুরু করে দুপুরের আগে শেষ করা উচিত পুকুর থেকে তোলার পর চিংড়ি কয়েক ঘন্টা বাঁচে  ফলে বাজারজাত করার সুবিধা হয় এছাড়া ঝুড়ির মধ্যে জলজ উদ্ভিদ চাপা দিয়ে চিংড়ি গুলিকে টাটকা অবস্হায় বাজার জাত করা যায় আবার জল ছিটিয়ে বা বরফকুচি চাপা দিয়ে টাটকা অবস্হায় বাজার জাত করা যায়

 

রোগের হাত থেকে বাচঁতে

অক্সিজেনের ঘাটতি, তাপমাত্রা অস্বাভাবিকতা, সংখ্যায় বেশী ছাড়া ইত্যাদি কারণে চিংড়ির মড়ক হতে পারে  চিংড়ির রোগ তার সমস্যা ও তার নিবারণের জন্য এখন ও পর্যন্ত তেমন কোন গবেষণালব্ধ হয়নি  তাই চিংড়ির রোগে মড়কের হাত থেকে রক্ষা পেতে বা রোগ প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন-
১) জলাশয়ের চিংড়ির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া

২) চুন প্রয়োগ, বায়ুঞ্চালন, জল বদল ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণ করে জলীয় পরিবেশ উন্নত করা

৩) প্রয়োজন তো উপযুক্ত ও উন্নতমানের খাদ্য প্রয়োগ করা  

পুকুরের উত্পাদন ক্ষমতা, জলীয় পরিবেশ, আকার, চারা মজুতের হার খাদ্য পরিবেশন, আবহাওয়া ইত্যাদির উপর গলদা চিংড়ি বৃদ্ধিই ও বাচাঁর পরিমাণ নির্ভর করে

চারা মজুতের পর ফসল তোলা পর্যন্ত বাচাঁর হার বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভরশীল পোষ্ট লার্ভা (১.১৫ সেমি) মজুত করে ঠিকভাবে পরিচর্যা করলে বাচাঁর হার ৫০% - ৭০% ২/৩ মাসের জুভেলাইন চারার বাঁচার হার ৭০% - ৯০% দীর্ঘকালীন চাষের চেয়ে কম সময়ের চাষে বাচাঁর ও উত্পাদনের পরিমান বেশী ৩-৮ মাসের সাধারণ চাষে বাচাঁর আর ৫০% এবং ৬-৮ মাসের চাষে বাচাঁর হার ৩০% - ৪০% মিশ্র চাষে হেক্টরে দুটি ফসলে ২×১৫০০০ চিংড়ির চারা মজুত করে বত্সরে ৮৫০-৬০০ কেজি চিংড়ি পাওয়া যায় এবং তার সাথে অন্যান্য মাছ থেকে পাওয়া যায় ১৫০০-২২০০ কেজি একক চিংড়ি চাষ সঠিক পদ্ধতিতে করলে প্রতি হেক্টরে ২×৫০,০০০ চারা মজুত করে বত্সরে ১৫০০-২২০০ কেজি উত্পাদন হবে

চিংড়ির চাষে জল ও মাটির গুণাগুণ

 

১) অল্প সংখ্যক চিংড়ীর চারা এবং কম পরিমাণে আহারদান- যথেষ্ট পরিমাণ জৈব পদার্থ জলাশয়ের তলায় জমতে দেয় না যাই হোক চিংড়ী চারার উপযুক্ত জীবন ধারন এবং বেঁচে থাকার জন্য জলাশয়ের তলাকার মাটিকে বিশেষ অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে সবচেয়ে ভাল উপায় হল পুকুর বা জলাশয়কে সম্পূর্ণ শুকনো করে ফেলা এ অবস্থা জৈব পদার্থের সঙ্গে খনিজ পদার্থে সংযোগ (mineralisation of organic) ঘটাবে

২) মাটির pH (অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব পরিমান)  সংশোধনের ক্ষেত্রে চুন প্রয়োগ একটি ভাল উপায় এটা জীবানু নাশকও বটে জমিতে অন্য খনিজ উপাদানের সংযোগ ঘটাতেও সাহায্য করে যদি মাটির pH এর মান ৭.৫ এর নীচে না থাকে তাহলে কমপক্ষে ৩০০-৫০০ কিলো চুন প্রতি হেক্টরে দেওয়া যেতে পারে মাটির pH এর মান যেখানে কম অর্থাত যেখানে মাটির pH এর মান ৩ সেখানে কি ধরনের চুন ব্যবহার করা হবে, তার উপর নির্ভর করে চুন প্রয়োগ করতে হবে  কি ভাবে মাটিতে পাথুরে চুন এবং ভেজা মেশানো চুন ব্যবহার হবে তার নির্দেশ বর্ণিত হল  

 

মাটির পি.এইচ (pH)

পোড়া চুন * (টন/হেঃ)

ভেজাচুন**

(টন/হেঃ)

৫.০

৯.২

১৭.০

৫.৫

৬.৯

১২.৭

৬.০

৪.৬

৮.৫

৬.৫

২.৩

৪.২

*পুকুর তৈরীর সময়                **চাষের সময়

 

সার প্রয়োগের মাত্রা (যা মাটির জৈব কার্বণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে)

মাটিতে জৈব কার্বণ (%)

কাঁচা গোবর (কেজি/হেঃ)

শুকনো মুরগীর লিটার (কেজি/হেঃ)

৫০০

১৭৫

০.৫

১০০০

৩৫০

০.২৫

২০০০

৭০০

 

৪) একই ভাবে মাটির নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস এর পরিমাণের ওপর নির্ভর করে রাসায়নিক সার দেওয়া যেতে পারে  

 

পর্যাপ্ত নাইট্রোজেনের উপর নির্ভর করে ইউরিয়ার ব্যবহার

মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন

 (মি.গ্রা/১০০গ্রা. মাটি)

ইউরিয়ার ব্যবহার (কেজি/হেঃ)

১২.৫

১০০

২.৫০

৫০

৫০.০

২৫

 

পর্যাপ্ত ফসফরাসের উপর নির্ভর করে সুপার ফসফেটের ব্যবহার

মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন

(মি.গ্রা./১০০গ্রা. মাটি)

ইউরিয়ার ব্যবহার (কেজি/হেঃ)

১.৫

১০০

৩.০

৫০

৬.০

২৫