সবুজ
গো-খাদ্য
|
|
|
|
|
|
|
| |
সবুজ গো-খাদ্যের চাষ কেন ?
|
ক) সবুজ গো-খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, বিভিন্ন প্রকার খনিজ
পদার্থ, ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান থাকে, ফলে এইসব খাদ্য
হিসাবে ব্যবহার করলে এমন সব গবাদি পশু ও পাখি পাওয়া যাবে যার থেকে বেশী
পরিমান দুধ, মাংস, চামড়া, ডিম ইত্যাদি পাওয়া যেতে পারে।
খ) সবুজ গো-খাদ্য ব্যবহারে গবাদি পশু
পাখির দুধ ও ডিমের গুণগত মান বাড়ায়।
গ) সবুজ গো-খাদ্য খাওয়ালে গবাদি পশুর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
ঘ) সবুজ গো-খাদ্য ব্যবহারে গবাদি পশুর
খাওয়ার খরচ কম
হয় ও স্বাভাবিক ভাবেই এতে প্রাণিজ উত্পাদনের খরচ কমে।
ঙ) সবুজ গো-খাদ্যের শিকড়গুলি নানাধরনের
হয় যা কিনা জমিতে জৈব সারের মাত্রা বাড়িয়ে মাটির গঠনের উন্নতি
করে, ফলস্বরূপ
জমির জল ধারন ও বাতাস চলাচলের ক্ষমতার উন্নতি হয় ও জমির
শক্তি বাড়ায়।
চ) সবুজ গো-খাদ্যের চাষ ভূমিক্ষয় রোধে
সাহায্য করে।
ছ) সবুজ গো-খাদ্যে যে বিশেষ সবুজ অংশ
(ক্যারোটিন) পাওয়া যায় যা কন্সেন্ট্রেট বা প্রচলিত গো-খাদ্য থেকে সচরাচর
পাওয়া যায়
না।
|
|
 |
কি কি সবুজ গো-খাদ্যের চাষ সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে হয়ে থাকে
?
|
| |
১) গাছ - ক) শুঁটি জাতীয় - সুবাবুল, বকফুল, সজনে, শিরিষ
ইত্যাদি।
|
খ) ঔষধ জাতীয় - নিম, আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, জারুল, বেল ইত্যাদি।
|
গ) সাধারণ -
কাঁঠাল, পিপুল, জাম, আম, কুল পেয়ারা, গোলাপজাম, গোগুল ইত্যাদি।
|
২) গুল্ম - ক)
শুঁটি জাতীয় - বারোমেসে - স্টাইলো,
সেন্ট্রোসিমা, সিরাট্রো, অপরাজিতা, ক্যালাপোগেনিয়াম, সিম,
ডেসমোডিয়াম, বনকুলথি ইত্যাদি।
|
খ) শস্য জাতীয় (ঋতু
ভিত্তিক) - ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, যব, জই, টিওসেন্টি ইত্যাদি।
|
গ) তৃণ জাতীয় -
বারোমেসে -সংকর নেপিয়ার, প্যারা, পাসপালাম (কোদেঘাস), এন্ডোপোগান
(সাদাবাহার), দূর্বাঘাস, অঞ্জন, গিনি, থিন নেপিয়ার, সিগন্যাল, রোডস, এমিলিসু, দুধেলো
ইত্যাদি।
ঋতু
ভিত্তিক - দীননাথ ইত্যাদি।
|
|
 |
সবুজ
গো-খাদ্যের চাষ পদ্ধতি
|
সবুজ
গো-খাদ্যের নাম
|
উপযোগী জমি
|
বপণের
সময়
|
বীজের
হার (বিঘা প্রতি)
|
সারের
মাত্রা (বিঘা প্রতি)
|
আনুমানিক ফলন (বিঘা প্রতি)
|
ভুট্টা
|
জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত যেকোন জমি
|
খুব শীত ছাড়া বছরের যেকোন সময়
|
৭.০ - ৮.০ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৫-৬ কেজি,
ফসফেট ২.৫ - ৩.০ কেজি ও পটাশ ২.৫ - ৩.০ কেজি
|
৫০ - ৬০ কুইন্টাল
|
জোয়ার
|
ঐ
|
আষাঢ় থেকে শ্রাবণ
|
২.০ - ২.৫ কেজি
|
ঐ
|
৪৫ - ৫০ কুইন্টাল
|
বাজরা
|
ঐ
|
বৈশাখ থেকে শ্রাবণ
|
২.০ - ২.৫ কেজি
|
ঐ
|
৪০ - ৪৫ কুইন্টাল
|
ওটস (যই)
|
জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত উঁচু জমি
|
কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ
|
১০.০ - ১০.৫ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৪.০ কেজি,
ফসফেট ৪.০ কেজি
|
৪৫ - ৫০ কুইন্টাল
|
বরবটি
|
জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত যেকোন জমি
|
খুব শীত ছাড়া বছরের যেকোন সময়
|
৪.০ - ৫.০ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ২.০ কেজি,
ফসফেট ৫.০ কেজি
|
১৬ - ২০ কুইন্টাল
|
গাইমুগ
|
দোয়াঁশ থেকে বেলে দোয়াঁশ
|
ভাদ্র আশ্বিন মাসের রসযুক্ত জমিতে
|
৩.০ - ৩.৫ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৩.০ কেজি,
ফসফেট ৭.০ কেজি
|
২০ - ২৫ কুইন্টাল
|
বারসীম
|
জল নিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত উর্বর জমি
|
কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ
|
৪.০ - ৫.০ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৩.০ কেজি,
ফসফেট ৮.০ কেজি
|
৬০ - ৭০ কুইন্টাল
|
লুসার্ন
|
ঐ
|
ঐ
|
২.০ - ২.৫ কেজি
|
ঐ
|
৩০ - ৩৫ কুইন্টাল
|
স্টাইলো
|
যেকোন জমি
|
ফাল্গুন থেকে ভাদ্র
|
৮০০ -১০০০ গ্রাম
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ২.৫ কেজি,
ফসফেট ৫.০ কেজি
|
৪৫ - ৭০ কুইন্টাল
|
গিনি
|
মাঝারি থেকে উচ্চ দোয়াঁশ
|
ফাল্গুন থেকে আশ্বিন
|
৭৫০ - ৯০০ গ্রাম
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৮ কেজি,
ফসফেট ৫.০ কেজি ও ৪ কেজি নাইট্রোজেন প্রতি কাটিং-এর পর
|
১০৫ - ১৩৫ কুইন্টাল
|
রোডস
|
বেলে থেকে দোয়াঁশ
|
ঐ
|
৭০০ - ৯০০ গ্রাম বীজ অথবা ৬০০০ কাটিং
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৮ কেজি ও ৪
কেজি নাইট্রোজেন প্রতি কাটিং-এর পর
|
৭০ - ৮০ কুইন্টাল
|
কোয়েক্স
|
নিচু জমি
|
ফাল্গুন থেকে ভাদ্র
|
২.০ - ২.৫ কেজি
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৮ কেজি ও
পটাশ ৪.০ কেজি
|
৯৫ - ১০৫ কুইন্টাল
|
দীননাথ
|
বেলে, দোয়াঁশ ও অম্ল জমি
|
ঐ
|
২৫০ - ৩০০ গ্রাম বীজ
|
জৈব সার - ১.৫ টন অথবা যতটা সম্ভব নাইট্রোজেন ৮ কেজি,
ফসফেট ৪.০ কেজি ও ৪ কেজি নাইট্রোজেন প্রতি কাটিং-এর পর
|
৬৫ - ১০৫ কুইন্টাল
|
|
|
|
এই সমস্ত
ফসল বোনার আগে কালচার বা জীবাণু সার বীজের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে বোনা উচিত,
অন্যথায় ফসল ভাল হয় না।
তবে যেসব জমিতে আগে এই সব ফসলের চাষ হয়েছে সেখানে জীবাণু সারের প্রয়োজন নেই।
|
|
 |