বড় বড় মাটির পাত্রে বা হাঁড়িতে ডিমপোনা বা চারাপোনা পরিবহনই আমাদের প্রচলিত
পদ্ধতি৷
৩০-৪০ লিটারের হাঁড়িতে সময় ও দূরত্ব সাপেক্ষে প্রায় ৫০ হাজার ডিমপোনা, অথবা
২-৩ হাজার ধানিপোনা অথবা ৬০০-১০০০ চারাপোনা পরিবহণ করা যায়৷ সাধারণতঃ যে জল থেকে ডিমপোনা সংগৃহীত হয় সেই জলই পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে
ব্যবহৃত হয়৷ ডিমপোনা
পরিবহণের সময় জলে অল্ল লালমাটি মেশানো হয়৷ লালমাটি আলোক রোধ করে এবং জল ঠান্ডা
রাখে তাছাড়া পরিবহণকালে পোনাদের মৃতদেহ বা বর্জ্য
পদার্থ চাপা দিয়ে পচনরোধ এবং
জলে দূষিত গ্যাসের জন্মরোধে সহায়তা করে৷ সময় সময় জেলেরা ছোট ন্যাকড়া দিয়ে হাঁড়ির তলা ছেঁচে দূষিত পদার্থ সহ লালমাটি
তুলে ফেলে দেয়৷ প্রয়োজনে জল পরিবর্তন করে৷ এইভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাত্রে ঝাঁকানি দিতে দিতে জেলেরা ২ দিনের উপর পথ
অতিক্রম করে ট্রেন,ট্রাক,বাস ইত্যাদিতে৷ অল্পদূরত্বে মাথায়, বাঁকে, গরুর গাড়ী বা রিক্সাভ্যানেও পরিবহণ করা হয়৷ বর্তমানে এই পরিবহণ ভঙ্গুর মাটির পাত্রের পরিবর্তে
আলুমিনিয়ামের হাঁড়িও
ব্যবহৃত হয়৷ তবে
আলুমিনিয়ামের হাঁড়িকে তাপ রোধের জন্য ভিজা মোটা কাপড়
জড়িয়ে রাখা দরকার৷ চারাপোনা পরিবহণের জন্যও এইসব হাঁড়ি ব্যবহার করা হয় এবং একইভাবে
ঝাঁকানি দিতে দিতে, জল পালটিয়ে চারাপোনার পরিবহণ করা হয়৷ পোনার আকার
অনুসারে পাত্রে সংখ্যা নির্দিষ্ট হয়৷ আবার যাত্রার সময়ের দৈর্ঘ্যের উপরও এই সংখ্যা নির্ভরশীল অর্থাত্ পোনা বড় হলে
সংখ্যায় কম যাবে এবং সময় দীর্ঘ হলে সংথ্যায় আরো কম যাবে৷ চারাপোনা বা বড়পোনা পরিবহণের জন্য সাধারণতঃ বড় বড় ড্রাম, ধাতব চৌবাচ্চা
ব্যবহার করা হয়৷ সম্প্রতি মোটা ক্যানভাসের জলরোধক চৌবাচ্চা ট্রাক
- ট্রেলারের মাঝে বিছিয়ে দিয়ে বড় চৌবাচ্চার আকার করে জলপূর্ণ করে বড় চারাপোনা
এমন কি প্রজননক্ষম বড় মাছও স্থানান্তর করা যায়৷ অবশ্য চৌবাচ্চার ওপরে পাতলা জালের আবরণ দিয়ে মাছ লাফিয়ে যাওয়া বন্ধ করা হয়৷

|