মত্স্য চাষ গোষ্ঠী |
গঠন প্রনালী, কার্য্যক্রম ও ভূমিকা |
মত্স্য চাষ গোষ্ঠী |
পশ্চিমবঙ্গে মাছ দুলর্ভ বস্তু৷ প্রয়োজনের তুলনায় উত্পাদন অনেক কম৷ মাছের প্রয়োজন যেখানে ৮.৮ লক্ষ টন সেখানে বছরে উত্পাদন ৪.০২ লক্ষ টন৷ এর মূল কারণগুলি হচ্ছে, (১) জনসংখ্যা বৃদ্ধি, (২) মাছের চাহিদা অনুযায়ী উত্পাদন কম, (৩) মূল্যবৃদ্ধি, (৪) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ না হওয়া৷ মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য, মত্স্য চাষীদের নিয়ে এই গোষ্ঠীর সৃষ্টি৷ এই গোষ্ঠী নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা নয়৷ এ সংস্থা উপকরণ এবং কারিগরি বিদ্যার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি করা৷ ৮ হতে ১০ জন একত্রিত হয়ে এই গোষ্ঠী গঠন করতে পারে৷ |
১৯৭৯ সালে সেপ্টেম্বর মাস হতে মত্স্য চাষ গোষ্ঠীর কাজ আরম্ভ হয়েছে৷ কম সংখ্যক মত্স্যচাষী নিয়ে এই গোষ্ঠী পরিচালনার পক্ষে সুবিধাজনক (৮ হতে ১০ জন)৷ প্রত্যেক সদস্যের মাছ চাষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকা দরকার৷ গোষ্ঠীর ৪ হেক্টর (৩০বিঘা) জলা থাকা প্রয়োজন৷ প্রত্যেক সভ্যের নিজস্ব পুকুর কিংবা লিজ নেওয়া জলা থাকা প্রয়োজন৷ যে সকল ব্যক্তি বংশ পরম্পরায় মাছ চাষে নিযুক্ত ও অভিজ্ঞ তাদের জলা না থাকলেও সহযোগী সভ্য হিসাবে নেওয়া যেতে পারে৷ সমুদ্রোপকূলে যে সব গোষ্ঠী, তাদের প্রত্যেকের সমুদ্রে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা (বছরে অন্তত ৩০ দিন ) থাকা প্রয়োজন৷ সমুদ্রে দাঁড় বাওয়া, মত্স্য বিপননের জন্য অভিজ্ঞ স্থানীয় ২ জনকে সহযোগী সদস্য হিসাবে নেওয়া যেতে পারে৷ এই গোষ্ঠীর মূল কাজ হচ্ছে, মত্স্যচাষের উপকরণ এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজ কর্মের মনোভাব দরিদ্র মত্স্যজীবীদের ও মত্স্য চাষীদের মধ্যে এনে দেওয়া৷ আমাদের দেশের গ্রামীন দরিদ্র মানুষ এককভাবে দুর্বল ও সংগতিহীন৷ সেই কারণে এ ধরণের সংগঠন গড়ে তোলা একান্ত দরকার যার মাধ্যেমে গোষ্ঠী নিরাপত্তাবোধ জন্মান যায় এবং উন্নয়নের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য হয়৷ এই গোষ্ঠীর মাধ্যেমে, ছোট মাছ চাষীদের অসুবিধাগুলি মত্স্য দপ্তরের নজরে আনা যায়৷ এ ছাড়া, মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির যাবতীয় খবরাখবর খুব সহজেই সকলের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব৷ সুতরাং, স্বল্প আয় ও অসুবিধাগ্রস্ত মত্স্যচাষীদের এ গোষ্ঠী বিশেষ প্রয়োজন৷ |
মত্স্য চাষ গোষ্ঠী হচ্ছে মাছ
চাষীদের নিয়ে তৈরী এমন এক সংস্থা যার প্রধান কাজ হচ্ছে সরকারী আধা-সরকারী,
সমবায় সমিতির আর্থিক সাহায্য ও কারিগরী প্রশিক্ষণ দান এবং সর্বপ্রকারের করিগরী
সহায়তা গ্রহন ও পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করা৷ এক কথায়, একত্রিত হয়ে মাছ চাষ ও তার বিপনণ ব্যবস্থার সংস্থা৷
মত্স্য উত্পাদক গোষ্ঠীর দায়িত্ব হচ্ছে নির্দ্ধারিত পরিমাণ মত্স্য উত্পাদনের
বার্ষিক লক্ষমাত্রা অর্জন করা৷ স্থানীয় সহজলভ্য সম্পদ ব্যবহার করে কিভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষ করা যায় এবং
মত্স্য চাষ প্রকল্প প্রনয়নের ব্যবস্থা করা৷
এই গোষ্ঠীর অন্ততঃ ২ বত্সর নিজেদের জলাশয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষে সাহায্য করবে
মত্স্য সম্প্রসারণ আধিকারিক৷
|
কোন পুকুরে এবং কোন সভ্যের
পুকুরে কি প্রকার মাছ চাষ হবে সেটা গোষ্ঠী সঠিকভাবে ঠিক করবে ও গোষ্ঠীর সভ্যদের
পুকুর থেকে উত্পাদিত ফসল বিক্রির লভ্যাংশের শতকরা ২০ হতে ২৫ ভাগ কেন্দ্রীয়
তহবিলে জমা রাখতে হবে, এতে এমন সময় আসবে যখন কেন্দ্রীয় তহবিল হতে মাছ চাষ করা
যাবে৷
কেন্দ্রীয়
তহবিল হতে গোষ্ঠী পঞ্চায়েতের কাছ থেকে খাস পুকুর
(Vested tank)
বন্দোবস্ত নিতে
পারবে এবং সভ্যদের মধ্যে পরিচালনার ভার দেওয়া যেতে পারে৷
এর ফলে
কেন্দ্রীয় তববিল বাড়িয়ে এবং লোকের কর্ম সংস্থান হবে৷
জাল, হাপা ভাড়া
দিয়েও কেন্দ্রীয় তহবিল বৃদ্ধির সহায়ক হবে৷
|