মাছের মড়ক ও প্রতিকার

 

মাছের মড়কের কারণ ও প্রতিকার

  •  ভৌত

  • ছত্রাকজনিত

 তাপমাত্রা বৃদ্ধি

 পাখনা পচা রোগ

 অত্যাধিক ঘোলা

 ফুলকা পচা রোগ

  •  রাসায়নিক

  • জীবাণুজনিত

 অক্সিজেনের ঘাটতি

পাখনা ও লেজ পচা রোগ

 বিষাক্ত গ্যাস

উদরি বা শোথ রোগ

 বিষ প্রয়োগ

চোখের রোগ

ক্ষত রোগ

তাপমাত্রা বৃদ্ধি

জলাশয়ে মাছ বেশি ঘন করে ছাড়লে, আহারের অভাবে এবং পরিবেশ দূষিত হয়ে অথবা জঙ্গল বেশী থাকলে, আবর্জনা পচে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং তলদেশে দূষিত গ্যাস সঞ্চারের ফলে সাধারণত পুকুরে মাছের মড়ক দেখা দেয় এছাড়া দূষিত পরিবেশে বিভিন্ন রোগের আক্রমণেও মাছ মারা যায়
মাছের মড়কের কারণগুলি প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়-
(১) ভৌত (২) রাসায়নিক এবং (৩) জৈব

 

১)  ভৌত কারণগুলির মধ্যে (ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গ্রীষ্মে বহু মাছ মারা যায়
জলের তাপমাত্রা ৩৮ডিগ্রি সেঃ এর ওপর না ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার প্রয়োজন মত পুকুরে অন্য জল ভরে গভীরতা বাড়িয়ে অথবা জলে ছায়ার ব্যবস্হা করা দরকার
 

অত্যাধিক ঘোলা

জল অত্যাধিক ঘোলা হলেও মাছের মড়ক হয় জলে পলিমাটির মিশ্রণ বা সবুজকণার আধিক্যে এরূপ ঘটা সম্ভব ফুলকোর উপর পলিমাটি অথবা সবুজকণা জমে গিয়ে অথবা শেওলায় জড়িয়ে গিয়ে মাছের মড়ক হয় পলিমাটি যাতে থিতিয়ে যায় সেই ব্যবস্হা করা দরকার চূণ প্রয়োগে ঘোলা জল পরিষ্কার হয় সূর্যের আলো ঢেকে দিলে সবুজকণার মৃত্যু হয় তাই পুকুরের জল সুজিপানা বা তেপাতিপানা দিয়ে সপ্তাহ খানেক ঢেকে রাখলেই এদের বিস্তার রোধ করা যায় এছাড়া সাইমাজাইম(ট্যাকাজাইম-৫০) ২-৪ কেজি জলে গুলে প্রতি একর জলে ছড়িয়ে দিলে সবুজকণা নিয়ন্ত্রিত হয়

 

 

অক্সিজেনের ঘাটতি

রাসায়নিক কারণগুলির মধ্যে অক্সিজেনের ঘাটতিতে ব্যাপকভাবে মাছ মরতে দেখা যায় পুকুরে জঙ্গলের আধিক্য, সবুজকণার বিস্ফোরণ অথবা তলদেশে পচনশীল জৈব পদার্থ বেশী হলেই এরকম হয়ে থাকে ফলে দিনমানে সূর্যের আলোকে পুকুরের জলে অক্সিজেনের সমতা বজায় থাকলেও রাতের আঁধারে ঘাটতি পড়ে এবং ভোরের দিকে এই ঘাটতি চরম হয় তখন সমস্ত মাছ ওপরে ভেসে ওঠে এবং ওপর তলের জল ও বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে চায় এই অবস্হায় সকালে যদি মেঘলা থাকে এবং হাল্কা বৃষ্টি হয় তবে মাছের মড়ক অবশ্যম্ভাবী কারণ উপর তলের অক্সিজেন সমৃদ্ধ জল অল্প বৃষ্টির জলে ঠান্ডা ও ভারী হয়ে নীচে তলিয়ে হারিয়ে যায় কয়েকদিন মেঘলা থাকার পর হঠাত সামান্য বৃষ্টিপাতেও অনুরূপ অবস্হার সৃষ্টি হয় এবং মাছ মারা যায় অক্সিজেনের ঘাটতিতে মাছ ভাসতে দেখা গেলে, বিঘা প্রতি জলে ৮-১০ কেজি পরিমাণ কলিচূণ গুলে ভালভাবে জলের উপরে চারিদিকে ছড়িয়ে দিলে সুফল পাওয়া যায় অথবা বিঘা প্রতি জলে ৫০০ গ্রাম পটাশ পারম্যাঙ্গানেট জলে গুলে ছড়িয়ে দিতে হয়   এছাড়া পুকুরের জল বড় বড় লাঠি দিয়ে চারিদিকে থেকে পিটিয়ে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে যাতে বেশী মেশে সেই চেষ্টা করা উচিত সম্ভব হলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ অন্য জল পুকুরে প্রবেশ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে

 বিষাক্ত গ্যাস

বিষাক্ত গ্যাস যেমন মিথেন, এমোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি পচা পুকুরের তলদেশে জন্মায় এবং মাছের মড়কের কারণ হয় এই সমস্ত গ্যাসের সাথে সাথে অক্সিজেনের ঘাটতিও দেখা যায় ফলে মাছের ব্যাপক মৃত্যু ঘটে এই সময়ে জলে অথবা তলদেশের পাঁকে এইসব গ্যাসের দূর্গন্ধ পাওয়া যায় পুকুরে পচা ড্রেন এসে পড়লেও এইরূপ মড়ক হতে পারে প্রতিকারে ভেসে ওঠা মাছ জাল টেনে অন্যত্র সরিয়ে রাখা উচিত এবং পুকুরের তলদেশ ভালভাবে চূণ দিয়ে (বিঘা প্রতি ৪০- ৫০ কেজি হারে) ঘেঁটে দিয়ে শোধনকরা উচিত কিছুকাল পরে যখন পাঁকে দুর্গন্ধ থাকে না তখন মাছেদের ফিরিয়ে আনা চলে মাছ সরানো সম্ভব না হলে, অল্প হারে চূণ দিয়ে (৮-১০ কেজি) মড়ক সাময়িকভাবে ঠেকান যায়, তবে আবার দেখা দেয়

বিষ প্রয়োগ

বিষ প্রয়োগের ঘটনায় অথবা পার্শ্ববতী চাষের জমি থেকে ধুয়ে আসা কীটনাশক বিষে প্রায়ই মাছের মড়ক হতে শোনা যায় এইসব ক্ষেত্রে শুরুতেই যদি পুকুর থেকে মাছ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা যায় তবেই কিছু প্রতিকার সম্ভব, কিছু মাছ বাঁচান যেতে পারে  অন্যথায় নিরূপায় দর্শকের ভূমিকা নিতে হয় এইসব বিষের প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি বিষ প্রয়োগের লক্ষণ হিসাবে দেখা যায়, সমস্ত মাছ জলের উপর ভেসে ওঠে, জল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য লাফ দিতে থাকে এবং মাতালের মত ব্যবহার করতে থাকে বা জলের মধ্যে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে

 জৈব কারণ

(ক) একই জাতের বড় মাছ ছোটোদের খেয়ে থাকে
(খ) মত্স্যভূক মাছের পেটে বহু মাছ মারা পড়ে
(গ) মত্স্যভূক প্রাণী যেমন কুমির, উদবিড়াল, পাখি, ব্যাঙ, কীট, পতঙ্গ ইত্যাদি
(ঘ) পরজীবী, ক্ষুদ্র প্রাণী, জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি রোগের কারণ থাকে

জৈব কারণে মাছের মড়ক সাধারণতঃ ব্যাপক আকারে হয়না এবং হঠাত  অনেক মাছ মারা যায় না নিত্য কয়েকটি মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায় এবং এই সময় কারণগুলিকে দূর করা বা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে অবাঞ্ছিত মাছেদের পুকুরে মাছ চাষের আগেই নিয়ন্ত্রিত করে পরে মাছ ছাড়া উচিত মত্স্যভূক প্রাণীদের বিভিন্ন পন্থায় নিয়ন্ত্রনে আনা যায় পরজীবীদের আক্রমণে মাছের রোগ প্রধানত নিম্নলিখিত কারণে হয়ে থাকে

পাখনা পচা রোগ

(১)ছত্রাকজনিত (২) জীবাণুজনিত  (৩) এককোষী প্রাণী জনিত (৪) কৃমিজনিত ও (৫) কবচী প্রাণীজনিত

ছত্রাকজনিত কারণে - দুই প্রকারের রোগ হয়
পাখনা পচা রোগ - মাছ পরিবহন বা জাল টানার সময় আঘাত লেগে ক্ষতস্হানে সাদা সাদা সুতোর টুকরোর মত এক প্রকার জলজ ছত্রাক বাসা বাঁধে  এর আক্রমণে মাছ দূর্বল হয়ে পড়ে, ঘা বেড়ে চলে এবং পরিশেষে মাছ মারা পড়ে
প্রতিকার - ৩% লবণজলে অথবা ০.৩% তুঁতের জলে মাছকে যতক্ষণ না অসাচ্ছন্দ বোধ করে ততক্ষণ চান করিয়ে ছেড়ে দিলে রোগের উপশম হয় প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা দরকার

ফুলকা পচা রোগ

সাধারণতঃ গ্রীষ্ককালে পুকুরের জল কমে গেলে একজাতীয় ছত্রাক মাছের ফুলকায় বাসা বাঁধে এবং রক্তবাহী শিরাগুলি বন্ধ করে দেয় ফলে শ্বাসকষ্টে মাছ ভেসে ওঠে এবং চরম অবস্হায় মারা যায়
প্রতিকার- ৩-৫% লবনজলে অথবা ৫ পি.পি.এম পটাশ পারম্যাঙ্গানেটের জলে ৫ মিনিটকাল স্নান করান এছাড়া বিঘা প্রতি জলে ১০-১৫ কেজি কলিচূণ ছড়িয়ে দিন

পাখনা ও লেজ পচা রোগ

জীবাণুজনিত রোগ তিন প্রকারের দেখা যায়-
পাখনা ও লেজ পচা রোগ এক প্রকার জীবাণুর আক্রমণে হয়ে থাকে
পাখনা বা লেজের কিনারা থেকে রোগের আক্রমণ শুরু হয় এবং দেহের প্রান্তে এসে যখন পৌঁছায় তখন পরিস্থিতি সঙ্কটজনক সম্পূর্ণ লেজটা খসে গিয়ে লেজের গোড়াটা ফুলে যায় এই অবস্থায় মাছ মারা যায় এইভাবে শিঙ্গি, মাগুর মাছের শুঁড়ও পচে খসে যায় আক্রান্ত মাছের পাখনার পচনের সীমায় সাদা রেখার মত দেখায়
প্রতিকার- ০.৩% তুঁতের জলে মাছকে পরপর ৩-৪ দিন প্রত্যহ ১ মিনিট কাল স্নান করান

উদরি বা শোথ রোগ

উদরি বা শোথ রোগের আক্রমণে শরীরের মধ্যে জল জমে পেট ফুলে যায় আঁশগুলি খাড়া হয়ে ওঠে এবং আঁশের গোড়ায়ও জল জমে রোগটি ছোঁয়াচেও বটে এবং প্রতিকারের পথও সহজ নয় তাই মাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলাই ভাল

চোখের রোগ

চোখের রোগ প্রধানতঃ কাতলা মাছের দেখা যায়, এবং এই জীবানুর আক্রমণে মাছ অন্ধ হয়ে যায় বা দেহে ঘা দেখা যায়
প্রতিকার- ব্যাপক আকারে দেখা দিলে সম্পূর্ণ মাছ তুলে ফেলে পরিষ্কার জলে ছাড়া দরকার এবং পুকুরের জল চূণ দিয়ে ভাল করে শোধন করে নেওয়া উচিত সম্ভব হলে জল শুকিয়ে চূণ দেওয়াই ভাল আক্রান্ত মাছকে লিটার প্রতি জলে ৮ মি.গ্রা ক্লোরোমাইসেটিন গুলে সেই জলে এক মিনিট ডুবিয়ে রেখে ছেড়ে দিতে হয় এইরূপ পরপর তিনদিন করলে রোগ সারে

এককোষী প্রাণী জনিত রোগ

এককোষী প্রাণী জনিত রোগ বিভিন্ন প্রকার এককোষী প্রাণীর আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে পুকুরে মাছ বেশী সংখ্যায় রাখলে বিশেষ করে লালন পুকুরে বর্ষার শেষে বা শীতের মুখে মাছের গায়ে বসন্ত গুটির মত সাদা সাদা, হলদে সাদা বা কালচে সাদা রঙের গুলি দেখা যায় চাষীরা বলে থাকেন বসন্ত রোগ এই সমস্ত গুটি মাছের ফুলকোতেও আক্রমণ করে তখন মাছের শ্বাসকষ্ট হয় শক্তি ও স্বাস্থ্য হারায় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়
প্রতিকার - আক্রান্ত পোনাদের এক গামলায় ৩% লবন জলে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেড়ে দিতে হয় সপ্তাহে দিন তিনেক এইরূপ করা উচিত, অখবা ১:২৫০০ অনুপাতে ফরম্যালিনের জলে ১০- ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলেও এই রোগ সারে পুকুরে মাছ হালকা করে দিলে, ভাল খাবার দিলে বা খাবারের সাথে YEAST এর বড়ি (প্রতি কেজিতে একটি) মিশিয়ে খেতে দিলেও ভাল ফল পাওয়া যায় পুকুরে কলিচূণ দিয়ে এইসব পুকুরের তলদেশ শোধন করা উচিত

কৃমিজনিত রোগ

কৃমিজনিত রোগ - দুই প্রকার কৃমির আক্রমণ হতে দেখা যায়

চ্যাপ্টাকৃমি (TREMATODE) জাতীয় পরজীবীরা অতি ক্ষুদ্র, খালিচোখে প্রায় দেখা যায় না এরা সূক্ষ্ম হুকের সাহায্যে মাছের দেহে, ফুলকায় আটকিয়ে থেকে রক্ত শোষণ করে খায় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে বর্ষাকালেই এদের ডিম ফুটে বাচ্চা হয় এবং লালন বা পালন পুকুরে পোনার খুব ক্ষতি করে এদের আক্রমণে দেহে জ্বালা, লালা ক্ষরণ, শ্বাসকষ্টে মাছ ধীরে ধীরে মারা যায়
প্রতিকার - আক্রান্ত মাছকে পরপর কয়েকদিন% লবণ জলে ৫ মিনিট স্নান করিয়ে ছেড়ে দিলে সুফল পাওয়া যায় তবে এদের আক্রমণ যাতে ভবিষ্যতে না হয় এইজন্য পুকুরের তলদেশ, জল শুকিয়ে, শোধন করে নেওয়া ভাল

ফিতাকৃমি

ফিতাকৃমি (CASTODE) তাদের জীবনচক্রের এক অংশ মাছেদের পেটের মধ্যে কাটায় এদের আক্রমণ বর্ষার শেষে চারাপোনাদের মধ্যে দেখা যায় রোগ চরমে যখন ওঠে তখন মাছের পেটে ফুলে এবং ফেটে পরজীবীরা বাইরে আসে ফলে মাছের মৃত্যু হয়
প্রতিকার - সরাসরি কোন প্রতিকার নাই আক্রান্ত মাছ তুলে ফেলাই ভাল এবং পুকুরের জল নিকাশ করে তলদেশের পঙ্কোদ্ধার ও চূণ দিয়ে শোধন করে নেওয়াই উচিত

কবচী প্রাণী জনিত রোগ

কবচী প্রাণী জনিত রোগ (COPEPODA)- ছোট ছোট কিছু প্রাণী মাছের শরীরে উকুনের ন্যায় আশ্রয় গ্রহণ করে এদের মধ্যে আরগুলাসই প্রধান এদের খালি চোখেই দেখা যায় এবং খুঁটে ফেলা যায় পুকুরের তলায় পাঁক জমলে অথবা গ্রীষ্মে জল কমে গেলে এদের আক্রমণ শুরু হয় এরা শরীরের বিভিন্ন স্হানে আটকে থেকে রক্ত চুষে খায় ফলে মাছ শক্তি হারায় বাড়ে না বা রোগা হয়ে যায় খুব বেশী আক্রমণে মারা যায়
প্রতিকার- পুকুরের মাঝে কয়েকটি অমসৃন কাঠ বা বাঁশ পুঁতে দিলে সেগুলিতে গা ঘষে মাছ এইসব পরজীবীদের ছাড়িয়ে ফেলতে পারে মাছগুলিকে ৩% লবণ জলে ডুবিয়ে রাখলেও এদের ছাড়ান যায় তবে পুকুরের জল শোধোন করা দরকার
জলে দ্রবণীয়- গ্যামাক্সিন (BHc 6.25%) অর্ধ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার জলের হিসাবে পুকুরে সপ্তাহে২-৩ বার প্রয়োগ করলে এদের নির্মূল করা যায় বিঘা প্রতি জলে প্রতি মিটার গভীরতায় প্রায় ৭০০ গ্রাম গ্যামাক্সিন এক একবারে লাগে এছাড়া পুকুরের জল নেড়ে চূণ দিয়ে শোধন করাও যেতে পারে

ক্ষত রোগ

ক্ষত রোগ (এপিজুটিক আলসারেটিভ সিনড্রোম)- মাছের এই রোগ (EP।ZOOT।C ULCERT।VE D।SEASE) পশ্চিমবঙ্গে মহামারী ক্ষত রোগ নামে পরিচিত এই রোগ ১৯৮৮ সালে প্রথম আমাদের দেশে মহামারীর আকার ধারণ করে এর পর থেকে প্রতি বছরই শীতের শুরুতে অল্পসংখ্যক মাছ এই রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যাচ্ছে তবে ১৯৮৮ সালের পর ১৯৯৩ সালে এবং এরপর ১৯৯৫ সালে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেশীভাবে দেখা দিয়েছে এর একটা সাধারণ যোগসূত্র হচ্ছে ১৯৮৮, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৫ এই তিন বছরই বর্ষার দীর্ঘদিন স্থায়িত্বের ফলে, বন্যা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন বর্ষার জলে মাঠ-ঘাঠ, ধানক্ষেত, পুকুর, জলাশয় সব একাকার করে রেখেছিল এই পরিস্থিতি ক্ষতরোগ মহামারী হবার একটা পূর্বশর্ত
রোগের লক্ষণ- এই রোগে আক্রান্ত মাছের গায়ে প্রথম দিকে লালচে ক্ষত দেখা যায় তারপর লাল চাকা চাকা হয়ে গায়ের ওপর ফুটে ওঠে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় এক এক সময় এই ক্ষত এত সাংঘাতিক হয় যে মাছের দেহের বিভিন্ন অংশ বিশেষত লেজ খসে পড়তে থাকে  দেহের ভিতরের কাঁটা পর্যন্ত বেরিয়ে যায় কোনও কোনও মাছ এই ক্ষত রোগ নিয়ে মাসখানেক বেঁচে থাকতে পারে আক্রান্ত মাছ ক্রমশ সাঁতার কাটার ক্ষমতা হারিয়ে জলের ওপরের দিকে ভাসতে থাকে

প্রতিরোধ- ১) বন্যার সময় খেতখামার- খোয়া জল যাতে পুকুরে এসে না পড়ে তার জন্য পুকুরের পাড় উঁচু করে দিতে হবে ২) খেতখামারে যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে