হয় যখন ঐ ক্ষতস্থানে ছত্রাক আক্রমণ করে |  জোঁকের আক্রমণ হলে মাছকে ২.৫ % লবণ জলে ডুবিয়ে নিতে

           পারলে উপকার হয় |

 

               এদের স্ত্রী প্রাণীরাই মাছের দেহে  ক্ষত সৃষ্টি করে ঢুকে পড়ে, যেখানে পরে ব্যাকটিরিয়া আক্রমণ করে | এই                 Secondary Infection - এই মাছ মারা যায় | আকোয়ারিয়ামে গোল্ডফিস খুব এই রোগে আক্রান্ত হয়                           | পরজীবিকে চিমটা দিয়ে তুলে ফেলতে হবে | ০.১ শতাংশ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে মাছকে ডুবালে                 উপকার পাওয়া যায় | আক্রান্ত মাছকে ১ : ৬০০০ ফর্ম্যালডিহাইড দ্রবণ / ঘন লবণ দ্রবণে এক ঘন্টা এবং               ০.১ ppm ০.০২ ppm lindane দ্রবণে রাখলে উপকার পাওয়া যায় |

 

       একটি ছোট ক্রিম রঙের থলির মধ্যে থাকে | এই থলি বা নডিউল বা গুটি মাছের মাথা, দেহ ও পাখনায় দেখা

        যায় |  আক্রান্ত মাছের গুটি ছুরি দিয়ে কেটে পরজীবিকে চিমটা দিয়ে বের করে মারকিউরোক্রোম লাগিয়ে দিতে

                    হবে |

  

 

        হালকা নীল বা সবুজ রংয়ের শ্লেষ্মার পর্দা তৈরী হয় |  Chilodon নামক সিলিয়াযুক্ত                                         প্রোটোজোয়াও কার্প, ক্যাটফিস ইত্যাদি মাছে একই রোগ সৃষ্টি করে |  আক্রান্ত মাছকে

        একঘন্টা ১ : ৪০০০ ফর্ম্যালিন দ্রবণ বা ১ : ৫০০ আসেটিক আসিড দ্রবণে ডুবালে উপকার হয় | বিঘা প্রতি ৫ -         ১৩ কেজি মোটা নুন দিতে পারেন |

 

 

                       লবণজলে রাখলে সহজেই পরজীবিটি দূরীভূত হয় |

 

 

 

 নামকরণের কারণ হল লার্ভাবস্থা থেকে দুটি কৃমি তাদের সাকার বা চোষক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যুক্ত হয়ে যায় | এরা মাছকে আক্রমণ করলে ০.৫ শতাংশ মিথিলিন ব্লু  দ্রবণ বা পিকরিক আসিড দ্রবণে মাছকে কিছুক্ষণ           ডুবিয়ে রাখতে হবে |

  

       সুতার মত অনুসূত্র মাছের দেহে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে পুষ্টিরস শোষণ করে | অনুসূত্রগুলি জাল বিস্তার করে                    এবং ত্বকের নীচে কিছু কোষ কলাকে ঘিরে ফেলে এবং ধীরে ধীরে মাছের মৃত্যুর কারণ হয় | মাছের ডিম                ও ক্ষতে এরা দ্রুত বৃদ্ধি পায় | তবে সরাসরি এরা মাছকে আক্রমণ করে না | কোন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হল সেখানে         এরা আক্রমণ করে |  স্থানটিতে ধূসর বর্ণের তুলোর মতো ছত্রাক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায় |

 

যদি মাছের ত্বকের অল্প কিছু অংশে ছত্রাক আক্রমণ করে তবে মাছটিকে আলাদা করে ১ : ১০ মারকিউরোক্রোম দ্রবণ বা ১ শতাংশ পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট দ্রবণে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে | এরপর এক সপ্তাহ ১ : ২৫০০০ পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট দ্রবণে রাখতে হবে | আক্রান্ত মাছকে ১ : ৫০০০ ম্যালকাইট গ্রীন দ্রবণে ১০ - ৩০ মিনিট ডোবালেও ফল পাওয়া যায় | তবে যেহেতু ম্যালকাইট গ্রীন কারসিনোজেনিক, তাই খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় এমন মাছে এই ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয় |

  

       দেখা যায় | প্রতিটি গুটি প্রকৃতপক্ষে এক একটি সিষ্ট যাতে Ichthyophthirius নামক         সিলিয়াযুক্ত        প্রোটোজোয়া পরজীবি হিসাবে বিদ্যমান | এই রোগে আক্রান্ত মাছ খুব অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করে | 

                            মিষ্টি ও উষ্ণ জলে বেশী পরিমান মাছ Stock করলে এই রোগ হতে পারে |

 

 

প্রতিকার হিসাবে মাছকে ৩ শতাংশ লবণ দ্রবণ বা ১ : ৪০০০ ফর্ম্যালিন দ্রবণে রাখলে কিছুটা ফল পাওয়া যায় | আকোরিয়ামে মিথিলিন ব্লু  ০.৫ শতাংশ দ্রবণ কয়েকফোটা যোগ করলেও মাছ রোগমুক্ত হয় | তবে সবচেয়ে ভাল কাজ হয় কুইনাইন হাইড্রোক্লোরাইডের ১ : ১০০,০০০ দ্রবণে |  ১ - ২ সপ্তাহের মধ্যে মাছ রোগমুক্ত হয় |

   

            শুধুমাত্র যখন প্রচুর পরিমাণে গ্রচিডিয়া লার্ভা মাছের ফুলকা আক্রমণ করে তখন ফুলকা নষ্ট হয়ে মাছ মরে পর্যন্ত যায় | 

  

 

 

                        ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও তারপরে পাখনা ঝরে পড়তে থাকে |  মাছকে ১ : ২০০০ কপার সালফেট দ্রবণে

                        ডোবালে উপকার পাওয়া যায় |

 

                             উপকার পাওয়া যায় |

 

রোগের নাম

লক্ষণ

কেন হয়

প্রতিকার

  • ফুলকা পচা

মাছ জলে ভাসতে থাকে | ফুলকা পচে যায় |

মাছের শ্বাসকষ্ট হয় |

ছত্রাক ঘটিত রোগ |

(১) পুকুরে হেক্টর প্রতি ২০০ কেজি চুন দিতে হবে |

(২) খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে |

(৩) জলের পি.এইচ ৯.০ এর মধ্যে রাখতে হবে |

  • লেজ ও পাকনা পচা রোগ

মাছের লেজ ও পাখনার পচন ধরে এবং খসে পড়তে থাকে |

ব্যাকটিরিয়া ঘটিত রোগ |

(১) পুকুরে ১ পি.পি.এম হারে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দেওয়া যেতে পারে |

(২) রোগাক্রান্ত মাছ কপার সালফেট দ্রবণে (দু লিটার জলে এক গ্রাম) ডুবিয়ে নিলে উপকার হয় |

(৩) মাছকে বাইরে থেকে খাদ্য দিলে প্রতি কেজি খাদ্যের সঙ্গে ১০০ মিগ্রা টেরামাইসিন বা সালফাডায়াক্সিন পরপর সাতদিন দিতে হবে |

  • শোথ রোগ বা ড্রপসি

মাছের পেটে জল জমে ফুলে যায় এবং সেখানের আঁশ সামান্য খাড়া হয়ে যায় | পেটে চাপ দিলে জল বেরোয় |

ব্যাকটিরিয়া ঘটিত রোগ |

(১) আক্রান্ত মাছ পুড়িয়ে ফেলতে হবে |

(২) পুকুরে ১ পি.পি.এম হারে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিন |

এরপর একদিন বাদে পুকুরে বায়ু সঞ্চালক যন্ত্রের মাধ্যমে বায়ু সঞ্চালন অবশ্যই করতে হবে |

  • সাদাগুটি রোগ

মাছের গায়ে ও ফুলকার ওপর সাদা গুটি দেখা যায় |

মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় |

ছোট ও শিশু মাছে এদের প্রাদুর্ভাব বেশী |

রোগের কারণ মিক্সোস্পোরিডিয়াম নামে একধরণের এককোষী প্রাণী |

(১) পুকুরে মাছের সংখ্যা কমাতে হবে |

(২) শতকরা দুভাগ লবণ জলে মাছকে ডুবিয়ে নিয়ে পুকুরে ছাড়তে হবে |

(৩) হেক্টর প্রতি ২২৫ - ৩০০ কেজি চুন দিতে হবে |

  • কৃমি রোগ

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বর্ষায় চারা মাছকে আক্রমণ করে |

এরা চামড়া ও ফুলকা আক্রমণ করে |

আক্রান্ত মাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে জীবনীশক্তি কমে যায় ও উজ্জ্বলতা নষ্ট হয় এবং মারা পর্যন্ত যায় |

গাইরোড্যাকটাইলাস ও ড্যাকটাইলোগাইরাস নামে দুটি চ্যাপ্টা কৃমি |

(১) পুকুরে চুন দিয়ে পি.এইচ বজায় রাখতে হবে |

(২) আক্রান্ত মাছকে পরপর কয়েকদিন ৩ শতাংশ লবণ দ্রবণ বা ২ পি.পি.এম ফর্ম্যালিন দ্রবণে ডুবিয়ে নিলে ফল পাওয়া যায় |

  • মাছের উকুন

মাছ চঞ্চল হয় |

পাড়ে এসে গা ঘসতে থাকে |

বৃদ্ধি কমে যায়, রোগা ও দুর্বল হয়ে পড়ে |

আরগুলাস নামে একধরনের সন্ধিপদ প্রাণী |

(১) নুভান ১০ এম.এল / বিঘা/ মিটারে প্রয়োগ করুন |

চারদিন পর আবার দিন |

এর ফলে আরগুলাসের থেকে যাওয়া ডিমগুলো থেকে যে বাচ্চা ফুটে বেরোবে সেগুলোও মারা যাবে |