১) জলজ উদ্ভিদ পুকুরের মাটি ও জলের পুষ্টিকর উপাদন কমিয়ে দেয় ৷
২) জলে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে যার ফলে সবুজকণা কম জন্মায় ৷
৩) ভাসমান জলজ উদ্ভিদ জলের ওপর হাওয়া চলাচলে বাধা দেয়, ফলে যথেষ্ট পরিমাণ বায়ু থেকে অক্সিজেন জলে দ্রবীভূত হতে পারে না ৷
৪) পুকুরে জাল দেবার সময় বাধা সৃষ্টি করে ৷
৫) জলজ উদ্ভিদ ক্ষতিকারক কীট পতঙ্গের ও তাদের লার্ভার আশ্রয় স্থল ৷
৬) কাঁটাযুক্ত জলজ উদ্ভিদ মাছের গায়ে ক্ষত সৃষ্টি করে ৷
৭) পচে জল দূষিত করে ৷
১) মাছকে দরমের সময় ছায়া প্রদান করে ৷
২) কোন কোন মাছ (যেমন- গ্রার্স কার্প) জলজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে ৷
৩) দিনের বেলায় জলের দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান বাড়াতে সাহায্য করে ৷
৪) অনেক মাছের ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে ৷
৫) শিশু মাছ শত্রু র হাত থেকে রক্ষা পেতে জলজ উদ্ভিদের আড়ালে আশ্রয় নেয় ৷
৬) জলের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে ৷
৭) অতিরিক্ত পচা পদার্থ (organic load)শোষণ করে ৷
৮) জলে দ্রবীভূত ভারী ধাতু যেমন ক্যামিয়াম, ক্রোমিয়াম, লেড ইত্যাদিকে শোষণ করে জল পরিষ্কার করে ৷
প্রশ্ন- তাহলে জলজ উদ্ভিদ রাখা উচিত না তুলে ফেলা উচিত ?
কোন অবস্থাতেই পুকুর থেকে একেবারে সব সবুজ সরিয়ে ফেলা ঠিক নয় ৷ পুকুরে জলজ উদ্ভিদ থাকবে তবে নিয়ন্ত্রিত ভাবে ৷ আবার দেখতে হবে পুকুর যেন আগাছায় পরিপূর্ণ না হয় ৷ কিছু পরিমাণ জলজ উদ্ভিদ পাড়ের কাছে রাখতে হবে যাতে কিনা জলজ আগাছার ক্ষতিকারক প্রভাবও পড়বে না আবার এদের উপকারী দিকগুলোও মাছ পাবে ৷
প্রশ্ন- কি কি উপায়ে জলজ উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ করা যায় ?
১) কায়িক শ্রমের দ্বারা ৷
২) যন্ত্রের সাহায্যে ৷
৩) রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে ৷
৪) জৈবিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করে ৷
প্রশ্ন- সবচেয়ে সুলভ পদ্ধতিটি কি ? উপরের পদ্ধতিগুলির সুবিধা অসুবিধাই বা কি ?
যেহেতু আমাদের দেশে কাজ করবার লোকের অভাব নেই, তাই কায়িক শ্রমের দ্বারা আগাছা তোলাই শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি ৷ এতে যতটুকু আগাছা তোলা দরকার ঠিক ততটাই তোলা সম্ভব ৷ এছাড়া কিছু লোকের রোজগারও হয় আবার এর জন্য মাছের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না বা কোন দামী যন্ত্রের দরকার হয় না ৷
আর একটি ভাল পদ্ধতি জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ৷ এর মূল কথা হচ্ছে কিছু মাছ আছে (যেমন- গ্রার্স কার্প) জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে ৷ পুকুরে এদের ছাড়লে এরা জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ করে ৷
তবে আজকাল বিশেষ করে বড় বড় জলাশয়ে আগাছানাশক হিসাবে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহার হচ্ছে ৷
প্রশ্ন- কচুরীপানা বিনাশে কি রাসায়নিক ব্যবহার করা যায় ?
সোডিয়ামযুক্ত ২,৪-ডি হেক্টর প্রতি ৪.৫-৭ কেজি হারে কচুরীপানার পাতার এপর ছড়িয়ে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই পাতা হলদে হয়ে শুকিয়ে গাছ মরে যায় ৷ তবে এই রাসায়নিকটি রৌদ্রজ্জ্বল দিনেই ব্যবহার করা উচিত, বর্ষার সময় নয় ৷ এই পরিমানে ২,৪-ডি ব্যবহার করলে মাছের ওপর প্রভাব ফেলে না ৷
প্রশ্ন- জলে নিমজ্জিত উদ্ভিদের নিয়ন্ত্রণ কি রাসায়নিক উপায়ে সম্ভব ?
সাইমাজিন ৩-৫ পি.পি.এম হারে প্রয়োগ করলে ফল পাওয়া যায় ৷
প্রশ্ন- কপার সালফেট প্রয়োগ করে শৈবাল দমন করা যায় কি ?
এটা ঠিকই কপার সালফেট প্রয়োগ কিছু শৈবাল দমন করা যায়, কিন্তু তার জন্য যে মাত্রা প্রয়োগের দরকার হয় তাতে মাছ পর্যম্ত মারা যায় ৷ তাই শৈবাল দমনে এই রাসায়নিক পুকুরে ব্যবহার করা ঠিক হবে না ৷
প্রশ্ন- জলে ডুবে থাকা শৈবাল দমন কি করা উচিত ?
১) চুন প্রয়োগ করলে শৈবালের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া বাধা পায় ৷
২) মাইক্রোসিসটিস নষ্ট করার জন্য ০.৫- ১.০ পি.পি.এম হারে সাইমাজিন প্রয়োগ করা যায় ৷
৩) ভিজা তুলোর মত সবুজ বাদামী বর্ণের শৈবাল নিয়ন্ত্রণে কায়িক শ্রমই শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি ৷
৪) তিলাপিয়া, জাপানী পুঁটি সূত্রাকার শৈবাল খেতে পছন্দ করে ৷
প্রশ্ন- ক্ষুদি পানা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ?
ভাসমান ক্ষুদি পানা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভাল উপায় পুকুরে হাঁস ছেড়ে দেওয়া ৷ হাঁস ক্ষুদি পানা খেতে ভালবাসে ৷
প্রশ্ন- গ্রার্সকার্প কিভাবে জলজ উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ করে ?
গ্রার্সকার্প জলজ উদ্ভিদ খেয়েই বেঁচে থাকে ৷ এরা উলফিয়া, লেমনা, কারা, হাইড্রিলা পছন্দ করে ৷
প্রশ্ন- Aquatic Ecosystem (জলজ বাস্তুতন্ত্র )- এ নাইট্রোজেনের ভূমিকা কি ?
সমস্ত প্রকার জলাশয়ে নাইট্রোজেন যে বিভিন্ন রূপে থাকে তা হল নাইট্রেট (NO3), নাইট্রাইট (NO2), আমোনিয়াম (NH4+), মুক্ত আমোনিয়াম (NH3), জৈব নাইট্রোজেন ও গ্যাসীয় নাইট্রোজেন (N2)৷ নাইট্রোজেনের এই সমস্ত রূপ (Form) গুলির জলজ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা আছে ৷ বিভিন্ন প্রকার জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই রূপগুলি পরস্পরের মধ্যে রূপান্তরিত হতে পারে ৷ এগুলি নাইট্রোজেন চক্রের এক একটি অংশ ৷
জলাশয় উপস্থিত সবুজকণা (Phytoplanaton) সরাসরি NO3 ও NH4+ রূপে বিদ্যমান নাইট্রোজেনকে শারীরবৃত্তিয় কাজের জন্য গ্রহণ করে যা সবুজ কণার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ৷
জলাশয়ে অধিক মাত্রায় মুক্ত আমোনিয়া থাকলে তা আবার জলাশয়কে দূষিত করে ৷ জল দূষণের এক নির্ভর যোগ্য মাপকাঠি হল মুক্ত আমোনিয়ার উপস্থিতি ৷