উত্তর - চাষযোগ্য যেকোন জীবের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত উত্পাদনের চেষ্টা সেই জীবের জীবনধারনণর ক্ষেত্রে এক অভিশাপ | সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে খাদ্যের প্রয়োজনে, গবেষণার প্রয়োজনে বা বিনোদনের জন্য জলজ প্রাণীর ব্যবহার এই শতাব্দীতে অনেকগুণ বেড়ে গেছে | যে কোন জীবের অনিয়ন্ত্রিতহারে এবং অসামঞ্জস্য সংখ্যাবৃদ্ধি সমস্ত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে নষ্ট করে | কোন বাস্তুতন্ত্রে কোন প্রজাতির মাত্রাতিরিক্ত একক চাষ সেই বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহের ক্ষেত্রে বিপদজনক, কারণ বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত ইকোলিজিক্যাল নীস সমানভাবে ব্যবহৃত না হবার জন্য গোটা বাস্তুতন্ত্রের ছন্দপতন ঘটে, যা কোন জীবের ক্ষেত্রে মঙ্গলজনক নয় | তাই কোন প্রজাতির একক চাষ যদিও সাময়িকভাবে লাভজনক হয় কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত চারাপোনার মজুত, রোগ সংক্রামণের অন্যতম পূর্বশর্ত হয়ে ওঠে | অব্যবহৃত ইকেলজিক্যাল নীস হয়ে ওঠে জীবাণুর বেড়ে ওঠার জন্য অদৃশ্য জৈবক্ষেত্র | সেখানে রোগজীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ছড়িয়ে পড়ে চাষযোগ্য জীবের দেহে, মূলতঃ প্রোটিনের লোভে | জীব ও জীবাণু একই পরিবেশে থাকে | স্বাভাবিক অবস্থায় জীব প্রভাব বিস্তার করে তাই সে সুস্থ ও সবলভাবে বেঁচে থাকে | কিন্তু পরিবর্তিত পরিবেশে যখন জীবাণু প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে তখনই শুরু হয় রোগ এবং মহামারী |

 

 

 

 

উত্তর - সংক্ষেপে বলতে গেলে চিংড়ি মাছের রোগের কারণ -

         (১) তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও পি.এইচ- এর হঠাত্ বেড়ে যাওয়া |

 

         (২) উচ্চহারে অনুন্নত মাপের বীজ মজুত করা |

 

         (৩) বীজ খামারে ছাড়ার সময় শোধন না করা |

 

         (৪) অনিয়ন্ত্রিতভাবে অনুন্নত মানের খাবার পরিবেশন |

 

         (৫) খামারের তলায় জমে থাকা অতিরিক্ত পচে যাওয়া খাবারের অংশ, চিংড়ির মল, ঠিক সময় জল পরিবর্তনের মাধ্যমে

              এবং বায়ুসঞ্চালক যন্ত্রের সাহায্যে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে খামারের তলা পরিষ্কার রাখার উদ্যোগের অভাব |

 

         (৬) গাঁয়ে মানে না আপনি ডাক্তার এর বা হতুড়ের পরামর্শে বা নিজেই ডাক্তারের মানসিকতায় অনিয়ন্ত্রিত ভাবে, কোন

               পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা না জেনে বিভিন্ন ধরনের আন্টিবায়োটিক ঔষধ ও বিভিন্ন রাসায়নিক প্রয়োগ |

 

         (৭) রোগের পূর্বলক্ষণ দেখেও প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষজ্ঞর পরামর্শ না নেওয়া |

         (৮) জল পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় জলের উতসের অভাব |

 

         (৯) জলের নিম্নগুণগত মান এবং এর থেকে চিংড়িমাছের অপুষ্টি |

 

         (১০) উপযুক্ত চাষ সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব ও প্রাপ্ত সময়ের মধ্যে অনেক লাভ করে বেড়িয়ে যেতে হবে এই ধরনের

                দায়িত্বজ্ঞানহীন (rape & run) মানসিকতার জন্যই ৫০ শতাংশ খামারের মালিকই খামার নিঃসৃত জল

                পরিশোধন ছাড়াই সমুদ্র বা খাঁড়িতে ফিরিয়ে দেন | আজকে তাই সমুদ্র থেকে বড় মা-বাবা চিংড়ি মাছ ধরা হচ্ছে

                হ্যাচারীতে ডিম ফোটানোর জন্য সেখানেও পাওয়া যাচ্ছে ভাইরাসের উপস্থিতি |

 

এভাবেই রোগগ্রস্ত খামারের নিঃসৃত জল শত শত খামারে রোগ ছড়িয়ে দেয় |  জলপরিবর্তনের প্রয়োজনে চাষী যে জল পরিবর্তন করেন তা দূষণযুক্ত না থেকে জীবাণুযুক্ত হয়ে থাকে |

 

উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও মেদিনীপুরের সমুদ্র সন্নিহিত এলাকার নোনাজলের ঘেরীতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন |  এমনিতে এই চাষ খুবই লাভজনক |  কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এক ধরনের রোগ মাছচাষীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে যা চিংড়ির সাদা দাগ রোগ (White Spot Disease) নামে পরিচিত |  কিন্তু পুকুরে সঠিকভাবে পরিচালনা করে নিচে বর্ণিত উপায়ে রাসায়নিক ওষুধগুলো ব্যবহার করলে এই রোগ দমন করা মোটেই কঠিন নয় |

 

 

 

উত্তর -- রোগ সনাক্ত করুন

 

মনে রাখবেন, এই রোগ দমনের জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরী তা হলো প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় |  রোগ যদি ব্যাপকভাবে পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে তখন ওষুধ প্রয়োগ করেও বিশেষ ফল পাওয়া যায় না |  তাই,

 

(১)  চাষ শুরু করার পর রোজ ভেড়ীর পাড়ের কাছের জল ভালো করে দেখুন কোল মাছ মরে পড়ে আছে কিনা |  এছাড়া রোজ

      জাল ফেলে চিংড়ির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করুন |

 

(২)  যদি মরা মাছ পান তবে দেখুন আক্রান্ত চিংড়ির মাথার খোলকে সাদা দাগ আছে কিনা |  দাগের আকৃতি সর্ষে দানার মতো

      এবং খোলকটা ছাড়িয়ে ফেলে দিয়ে ঘসে দেখুন এই দাগ থাকে, না উঠে যায় |  যদি দাগ স্থায়ী হয় তবে আপনি ধরে নিতে

      পারেন যে এটা সাদা দাগ রোগ বা ‘White Spot Disease’ |  

 

(৩) অনেক সময় চিংড়ির শরীরে লালচে রং এসেও মাছ মারা যায় | এখানে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভেড়ীর মাটির ওপরে

     কালচে খয়েরি রংয়ের আস্তরণ জমে গ্যাস তৈরী হয়ে গেছে | 

 

প্রতিকার -

 

বর্ণিত লক্ষণগুলির কোন একটি দেখা গেলেই কোন মত্স বিশেষজ্ঞকে খবর দিন ও আক্রান্ত মাছ দেখান |  রোগটি সাদা দাগ রোগ (White spot Disease)  বলে চিহ্নিত হলে নিচে লেখা দুটি পদ্ধতির যে কোন একটি অনুসরণ করতে পারেন | 

 

প্রথম পদ্ধতি -

 

(১) ৩ কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ১০ কেজি চুন / হেক্টর ভালোভাবে মিশিয়ে পুকুরে ছড়িয়ে দিতে হবে |

 

(২) ভোর রাতের দিকে বায়ু সঞ্চালক যন্ত্রের ব্যবহার করতে হবে |

 

(৩) জিওলাইট প্লাস ১০ কেজি / ৫ হেক্টর খামারে ব্যবহার করতে হবে এর ফলে জমে ওঠা দূষিত গ্যাস জিওলাইট শোষন করে

     নেবে এবং জল অনেক পরিস্কার হবে |

 

দ্বিতীয় পদ্ধতি -

(১) পুকুরে হেক্টর প্রতি ১০ লিটার ক্লোরিন ডাই অক্সাইড (CLO2) প্রয়োগ করুন, পর পর দুদিন

 

প্রয়োগবিধি -

 

(১) বাজারে যে ক্লোরিন ডাই-অক্সাইড কিনতে পাওয়া যায় তাতে প্রতি বাক্সে দুটি ৫ লিটারের আধার ও কুড়িটি ৫০ গ্রামের

     প্যাকেট থাকে | একটি প্লাস্টিকের বড় বালতিতে প্রথমে তরল ক্লোরিন-ডাই-অক্সাইড ও তারপর প্যাকেটের গুঁড়ো পদার্থ

     ঢেলে ভালভাবে মগ দিয়ে মিশিয়ে নিন | ০.৫ হেক্টর পুকুরের জন্য ৫ লিটারের এক আধার তরল ও দশটি প্যাকেট গুলে

     সমস্ত ভেড়ীতে সমানভাবে ছড়িয়ে দিন | কখনই আলুমিনিয়াম পাত্রে দ্রবণটি মিশাবেন না |   

 

(২) ক্লোরিন-ডাই-অক্সাইড দেবার ২৪ ঘন্টা বা একদিন পর জলের পি.এইচ অতি অবশ্যই দেখা দরকার |  পি.এইচ যদি ৬ -

      ৬.৫ এর মধ্যে হয় তবে হেক্টর প্রতি ৩০ কেজি ডলোমাইট, যদি পি.এইচ ৬.৫ - ৭ তবে হেক্টর প্রতি ২২ কেজি এবং

      পি.এইচ ৭.৫ হলে ১৫ কেজি ডলোমাইট অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে |  কারণ ক্লোরিন-ডাই-অক্সাইড প্রয়োগ করলে

     জলের পি.এইচ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে |   

 

(৩) জিওলাইট প্লাস ১০ কেজি / ৫ হেক্টর খামারে ব্যবহার করতে হবে | এর ফলে জমে ওঠা দূষিত গ্যাস জিওলাইট শোষন করে

     নেবে এবং জল অনেক পরিস্কার হবে |

      

তৃতীয় পদ্ধতি --

 

(১) হেক্টর প্রতি ৩৫ কেজি নিমখোল রাত্রে জলে ভিজিয়ে রাখুন | পরদিন ভালো করে খোলের নির্যাস বার করে ছেঁকে নিয়ে ঐ

     জল সারা ভেড়িতে ছড়িয়ে দিন |

 

(২) নিমখোল নির্যাস প্রয়োগে চিংড়ির ডাইরিয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে |  সেজন্য নিমখোল নির্যাস প্রয়োগের আগের দিন

     থেকে  দুদিন পর পর্যন্ত প্রদেয় খাদ্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত | নিমের নির্যাস ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে |  এছাড়া

    এমনিতেই রোগ হলে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখা দরকার |  

 

(৩) নিমের নির্যাস প্রয়োগের দুদিন পর পুকুর / ভেড়ীর জলে হেক্টর প্রতি ৮০ গ্রাম মিথিলিন ব্লু  ভালো করে জলে গুলে ছড়িয়ে

     দিন |  মিথিলিন ব্লু  ভিব্রিও জাতীয় সুযোগ সন্ধানী ব্যাকটিরিয়ার ওপর কাজ করবে, অর্থাত্ তারা মারা যাবে |

 

(৪) এর সাথে বায়ুসঞ্চালক যন্ত্র ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায় |

 

(৫) জিওলাইট প্লাস ১০ কেজি / ৫ হেক্টর খামারে ব্যবহার করতে হবে | এর ফলে জমে ওঠা দূষিত গ্যাস জিওলাইট শোষন করে

     নেবে এবং জল অনেক পরিস্কার হবে |

 

আর কি কি করবেন --

 

(১) প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১ গ্রাম ভিটামিন সি, ৪.৫ গ্রাম সেলেনিয়াম ও ২ গ্রাম ইষ্ট পাউডার ফিস অয়েল বা গুয়ার গাম বা

     ডিম ভেঙে বা সাবু গরম করে তাতে মিশিয়ে খাবারে মাখিয়ে একটু শুকনো করে চিংড়িকে খেতে দিন |

 

 

(২)  ওষুধ প্রয়োগের সাত দিন পর পর্যন্ত খামারের জল পরিবর্তন বন্ধ রাখবেন | যখন জল পরিবর্তন করবেন তখন অবশ্যই

      প্রবেশ ক্যানালের জলের গুণাগুণ দেখে নেবেন এবং নিকাশী নালাতে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে খামারের দূষিত জল বের

      করবেন |  নয়ত দূষিত জীবাণুযুক্ত জল সেখান থেকে অন্য খামারে ঢুকে রোগকে মহামারীর চেহারা দেবে |

 

(৩) কিছু বায়ু সঞ্চালক ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজনীয়তা আছে | কারণ জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি বিশেষতঃ জলের তলার

     দিকে ভিব্রিও জাতীয় সুযোগ সন্ধানী ব্যাকটেরিয়াদের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলে যা থেকে মাছের শরীর লাল হয়ে যাওয়া রোগ

     দেখা যায় |

 

 

উত্তর - এই রোগে আক্রান্ত পুকুরের জলের পি.এইচ হয় বেশী অর্থাত্ ক্ষারীয় | জলের তাপমাত্রাও বেশী থাকে |

 

এই রোগের কারণ যে জীবাণু ভাইরাস তা ভেড়ীতে প্রায়োগকরা কৃত্রিম খাদ্যের মাধ্যমে বা মীনের মাধ্যমে আসতে পারে |

 

এছাড়াও পরিবেশগত কারণ যেমন জলে দ্রবীভুত অক্সিজেন কমে গেলে তা রোগ ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে |

 

এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় লক্ষ্য করা গেছে যে  Vibrio parahemoliticus প্রজাতির ব্যাকটিরিয়ার সংখ্যা জলে বেড়ে যায় |  সুতরাং বলা যায় সাদা দাগ রোগের ক্ষেত্রে V.parahemoliticus indicator প্রজাতির কাজ করে |

 

 

 

উত্তর -- (১) ভাল, রোগমুক্ত মীন পুকুরে মজুত করতে হবে |

 

          (২)  পুকুরে জল ঢোকানোর আগে তার গুণাগুণ পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে |  জল পরিবহন সন্ধ্যায় করা বাঞ্ছনীয় |

 

          (৩) চিংড়ির যদি পরিপূরক খাদ্য দেওয়া হয় তবে তা নিজেকে বানিয়ে নিতে হবে |

 

          (৪) সপ্তাহে ২ - ৩ দিন জলে নেমে হাঁটতে হবে | ফলে মাটিতে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস যথা H2S নিষ্ত্রান্ত হবে |

 

          (৫) রোগের জন্য Antibiotic বা মিথিলিন ব্লু  দিলে তার তিনদিন পর থেকে ধীরে ধীরে জলটা পরিবর্তন করে দিতে

               হবে | নীচে থেকে জল বার করে জল ঢোকাতে হবে |

 

          (৬) চাষ চালাকালীন অতিরিক্ত চুন দেবার দরকার নেই | প্রয়োজনে ডালোমাইট দেওয়া যেতে পারে |

 

আরও কিছু দরকারী কথা --

 

(১) ভেড়ীতে যদি শ্যাওলার আধিক্য (Algal bloom) দেখা যায় তবে তার আংশিক তুলে ফেলা জরুরী | এক্ষেত্রে মনে রাখা

     দরকার যে এক চতুর্থাংশ অংশে শ্যাওলা জলাশয়ের প্রাণীদের উপকারই করে |

 

 

(২) ভেড়ীতে ভাঙা পাইপ, কাটা টায়ার ইত্যাদি জিনিস যাতে চিংড়ি খোলস ত্যাগের পর লুকিয়ে থাকতে পারে, তা থাকা জরুরী |

 

 

 

(৩) জলবাহী নালায় (Inlet Canal)  ঝিনুকের খোল রাখা যেতে পারে |  ঝিনুকের খোলায় বন্ধু ব্যাকটিরিয়া তৈরী হয় যা

     জলের আমোনিয়াকে অক্সিজেনযুক্ত করে স্বাভাবিক গুণমান বজায় রাখতে সাহায্য করে |

 

(৪) বহির্বাহী নালা (Outlet Canal) ও বায়োপন্ডের (Biopond) চারদিকে লবণাম্বু উদ্ভিদ লাগানো পরিবেশের পক্ষে

     হিতকর | ভেড়ীর চারপাশেও কিছু এই ধরনের গাছ (Mangrove plant) লাগানো যায় | এরা ‘Extra nutrient

     load’ বা জমে থাকা অতিরিক্ত খাদ্য নিজেদের খাদ্য হিসাবে শোষণ করে জলের গুণমান বজায় রাখতে সাহায্য করবে |

 

 

(৫) মাছ তুলে সঙ্গে সঙ্গে বরফ দিতে হবে | তারপর তা বাজারে চালান দিতে হবে |

 

চিংড়ির লাল হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ----

এটি খাবারে থাকা ছত্রাকের থেকে সংক্রামিত রোগের লক্ষণ হতে পারে | চিংড়ির  Immunity system বা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা খুবই দুর্বল ও অনুন্নত | তাই খারাপ খাবার থেকে চিংড়ি সহজেই রোগাক্রান্ত হয় |

 

 

(৬) ভোরবেলায় যখন ভেড়ীর দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায় তখন ভেড়ীর চারপাশে ঘুরে দেখা উচিত কোন চিংড়ি মাছ পাড়ের কাছে ভাসছে কিনা | এইরকম ভাসতে থাকা মাছকে আলোর বিপরীতে ধরে দেখতে হবে পাচননালী (Intestive) খাদ্যে পূর্ণ কিনা |  যদি দেখা যায় পচননালী খালি তবে বুঝতে হবে মাছ রোগগ্রস্থ | এক্ষেত্রে পুকুরে খাবার দেওয়া একদম বন্ধ করতে হবে | পুকুরে নেমে হাঁটতে হবে যাতে নীচের মাটি ঘেঁটে যায় | এরপর নীচ থেকে জল বার করে জল ঢোকাতে হবে |

 

 

 

উত্তর - চিংড়ির গায়ে শ্যাওলা পড়া রোগ - এই রোগের ক্ষেত্রে চিংড়ির দেহ দেখে মনে হয় কাদামাটির আস্তরণ পড়ে আছে | আদতে এটা জূথামনিয়াম (Zoothamnium) নামের প্রোটোজোয়া জাতীয় জীবণুর আক্রমণ | এতে চিংড়ি মাছ দুর্বল হয়ে পুকুরের ধারে বসে থাকে এবং মারা যায় | এক্ষেত্রে পুকুরে মিথিলিন ব্লু  দিয়ে বায়ু সঞ্চালক যন্ত্রের সাহায্য নিতে হবে | জল পরিবর্তন করেও এই রোগ প্রতিহত করা যায় | ক্লোরিন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে |

 

রোগের পূর্বাভাস -

 

(১)  চিংড়ি মাছের খাওয়া কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় | এক্ষেত্রে সাথে সাথে সতর্ক হতে হবে | যদি জল পরিবর্তনের সূব্যবস্থা

      থাকে শুধুমাত্র তবেই ভালোরকম  জল পরিবর্তন করতে হবে নয়তো জল পরিবর্তন সম্পূর্ন বন্ধ রেখে পাম্পের সাহায্যে

      জলে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে |  কৃত্রিম খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে | খামারে জল ও তলার মাটি সাথে সাথে

      সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারে নিয়ে গিয়ে জলের পি. এইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, মাটি, লবণাক্ততা, আমোনিয়া, নাইট্রাইট ইত্যাদি

      পরীক্ষা করতে হবে ওবং বিশেষজ্ঞর পরামর্শ অনুযায়ী যদি চুন বা অন্য কোন কিছু দিতে হয় তা দিতে হবে |

 

(২)  চিংড়ি মাছ পুকুরের ধার ঘেষে অস্বাভাবিকভাবে সাঁতার দেয় লাফিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে তার মানে, হয় খামারের

      জল দূষিত হয়ে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গেছে, নয় খামারে মাছের খাদ্যের অভাব ঘটেছে |

 

 

 

 

 

উত্তর - একটি থেকে দুটি চিংড়ি মাছ মাঝে মাঝে জল থেকে তুলে রোদের দিকে রেখে তার খাদ্য নালী ভর্তি আছে কিনা দেখা দরকার | যদি খাদ্যনালী খালি থাকে তবে সতর্ক হতে হবে কারণ রোগ আসছে / হয়েছে |

 

 

উত্তর - চিংড়ি মাছের ফুলকা অনেক সময় কালো হয়ে যায় | এটা দুটো কারণে হতে পারে |

 

(১) প্রথমতঃ খামারে জলের তলায় নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বেশী হয়ে গেলে মাটির ওপর যেমন একটা কালো

     আস্তরণ তৈরা হয় তেমনি ঐ দূষিত পদার্থ জমা হয় ফুলকার উপর | যদি ভালো জলের মধ্যে বেশ কিছুক্ষন চিংড়ি মাছ রেখে

     দিলে ফুলকার কালো রং পরিষ্কার হয়ে যায় তাহলে ধরে নিতে হবে এটা পদার্থের দূষণে হয়েছে | পুকুরে ধীরে ধীরে জল

    পরিবর্তন করলে, বিশেষতঃ তলায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে পারলে সমস্যার সমাধান হবে |

 

(২) দ্বিতায়ত অনেক সময় একবিশেষ ধরনের ছত্রাক রোগ (Fusarium sp) বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের দরুণ এই ধরনের

     কালো ছোপ হতে পারে | এক্ষেত্রে ১ পি.পি.এম হারে ক্লোরিন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করতে হবে পর পর দুদিন, তারপর

     একদিন বাদে জলের পি.এইচ দেখে ডলোমাইট বা চুন দিতে হবে | 

 

 

উত্তর - অনেক সময় জলের তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে বা জলে অক্সিজেন কম হলে বা খাদ্য কমে গেলে চিংড়ি মাছের 

        (ক) বৃদ্ধির হার কমে যায়, (খ) খোলস ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, (গ) খোলস নরম হয়, (ঘ) পেটের কাছে সাদা

        ছোপ হয় | এই সব ক্ষেত্রে প্রথমেই জলের গুণগত মানের পরীক্ষা করতে হয় | প্রয়োজনীয় কৃত্রিম খাবার বা শামুক

        ঝিনুকের মাংস, ভিটামিন দিতে হবে, নয়ত বায়ুসঞ্চালক যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে | সবই নির্ভর করছে জল পরীক্ষায় প্রাপ্ত

        ফলের ওপর | একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে চিংড়ি মাছের বৃদ্ধি এবং রোগ দুটোই নির্ভর করে -

(১) পরিপূরক খাদ্যের উপস্থিতি এবং গুণাগুণ

(২) জলের রাসায়নিক গুণ

(৩) পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার উপর

চিংড়ি মাছের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু চিংড়ি মাছের সাথে খামারেই একই পরিবেশে থাকে বা জল পরিবর্তন করা হচ্ছে তার মধ্যে থাকে | চিংড়ি মাছ পরিবেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে, জীবাণু সংখ্যায় কম থাকে | পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন খামারের জল দূষিত হয়ে যায় এবং তলার দিকে অক্সিজেনের পরিমাণ (খামারে জলের ওপরের দিকের অক্সিজেনের পরিমাপ এবং নীচের তলার অক্সিজেনের পরিমাপ এক নাও হতে পারে) কমে গেলে সুযোগ সন্ধানী অল্প অক্সিজেন লোভী ব্যকটেরিয়ার বংশ বৃদ্ধি ঘটে, এরাই তখন পরিবেশের ওপর অধিপত্য বিস্তার করে | অর্থাত অল্প অক্সিজেনে বাঁচতে গিয়ে এমনিতেই চিংড়ি মাছ শ্বাসকষ্টজনিত কষ্টে দুর্বল হয়ে পড়ে তখন রোগ সৃষ্টিকারী  ব্যকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে সহজেই চিংড়ি মাছের রোগ তৈরী করে |  এই কারণে যেখানেই White Spot Disease হয় সেখানেই আগে ভিব্রিও জাতীয় কম অক্সিজেন লোভী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে |

অতএব ভালো পরিচালন ব্যবস্থা ও সঠিক নজরদারীই হচ্ছে রোগমুক্তির শেষ কথা |

 

 

উত্তর - (১) চিংড়ি চাষকে বছরে দুটো পর্যায়ে ভাগ করে নিন | প্রথম পর্যায়ে শীতকালীন চাষ শুরু করুন জানুয়ারীর মাঝামাঝি | ফসল তুলে নিন এপ্রিলের মাঝামাঝির মধ্যে | এই চাষে চিংড়ির সাথে রাখুন পার্শে ও ভাঙনকে | দ্বিতীয় পর্যায় জুন থেকে শুরু করুন | এখানে বাগদার সঙ্গে রাখুন গলদা, ভাঙন, ট্যাংরা ইত্যাদি | বর্যার চাষে মাঝে মাঝে পাতলা করে গুলে চুন দিতে হবে | আর পনের দিন বাদে গোবর জল গুলে DAP ২ কেজি / বিঘা হিসাবে দিতে হবে | শীতের চাষে পুকুর তৈরীর সময় চুন দেবার পর আর চুন দেবার দরকার নেই |

 

(২) চিংড়ি চাষ শুরু করার আগে ভেড়ীর জল বার করে নীচে থেকে দুই ইঞ্চি পাঁক মাটি তুলে ফেলতে হবে |

 

(৩) মাটির অল্প ভেজা অবস্থায় (অর্থাত ভেজা মাটির ওপর দিয়ে হাঁটলে পায়ের ছাপ পড়ে এমন) পোড়া চুন (Cao) গুঁড়ো করে

     বিঘা প্রতি কমপক্ষে ৫০ কেজি হারে ছড়িয়ে দিয়ে লাঙল দিতে হবে | 

 

(৪) এরপর রোদে মাটি শুকিয়ে নিন | শীতকালের চাষে আর চুন দেওয়ার দরকার হবে না | এরপর অল্প জল ঢুকিয়ে ডাই-

     আমোনিয়াম ফসফেট (DAP) ২ কেজি / বিঘা হারে দিতে হবে | এটা শুকনো গোবর জলে গুলে পুকুরে দিলে ভালো | এর

     সাথে পটাশ সার বিঘা প্রতি ১ কেজি হারে দিতে হবে একবারই | জলে হলদে রঙ এলে পুরো জল ঢুকিয়ে নিন |

 

(৫) জলের রং চিংড়ি চাষের উপযুক্ত হলে হেক্টর প্রতি অন্তত কমপক্ষে ২০,০০০ সংখ্যায় মীন একদিনে ছাড়তে হবে | নয়তো

     মাছ দুটো গণ বাদ দিয়ে ছাড়ুন | মীন ভেড়ীতে ছাড়ার আগে ০.৫ শতাংশ মিথিলিন ব্লু  দ্রবণে ১০ মিনিট ডুবিয়ে শোধন করে

     নিতে হবে | চিংড়ির মীন ছাড়ার একমাস বাদে একটু বড় সাইজের ভাঙন, পার্শে ইত্যাদি বাচ্চা ছাড়ুন ২,৫০০ প্রতি হেক্টর

     হিসাবে |

 

(৬) প্রথম ১৫ দিন কোন খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই |

 

(৭) এরপর প্রয়োজনে সন্ধ্যায়, রাত্রে ও সকালে তিনবার খাদ্য দিতে হবে | খাদ্য ছড়িয়ে না দিয়ে বাঁশের ট্রেতে দিতে হবে |

     ভেড়ীতে যে খাদ্য দেওয়া হবে তা নিজেদের বানিয়ে নিতে হবে | এতে কাঁচামালের গুণাগুণ সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে |

     মাছের খাদ্য প্রস্তুত সম্পর্কে ক্যাপ্টেন ভেড়ী মত্স গবেষণা কেন্দ্র থেকে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে | আগ্রহী ব্যক্তিরা বইটি

     বিনা মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন |

 

(৮) চাষের ৩০ তম দিনে, ৪৫ তম দিনে, ৬০ তম দিনে ও ৭৫ তম দিনে প্রোবায়োটিক্স বা ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট জেল বদলাবদলি

     করে দিতে হবে | প্রতিবার এগুলি পরপর ৭ দিন ব্যবহার করে তরপর বন্ধ রাখুন |

 

প্রোবায়োটিক্স দু ধরনের হয় - একটা পুকুরে দেওয়ার জন্য, অন্যটি খাওয়ানো যায় | পুকুরে প্রোবায়োটিক্সের মধ্যে থাকে কিছু এনজাইম এবং অনুবীক্ষনীক প্রাণী যারা আমোনিয়া সালফাইডকে অক্সিজেন যুক্ত করে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরী হতে দেয় না |

 

আর ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট হয় বিভিন্নরকম, যেমন লাইপোপলিস্যাকারাইড, পেপটিডোগ্লাইক্যান এবং গ্লাইক্যান এবং এটা খাবারের সাথে দিতে হয় | ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট দিয়ে চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় কিন্তু এর ক্রিয়া থাকে ৫ - ৬ দিন তাই এটা ৭ দিন বাদে আবার দিতে হবে |

 

(৯) চাষের ৪৫ দিনের মাথায়, বিশেষতঃ যদি তলার মাটি কালো হয়ে যায় ও দুর্গন্ধ ছড়ায় তবে হেক্টর প্রতি ২০ কেজি

     জিওলাইট প্লাস দিতে হবে | দিনের হিসাবের থেকেও প্রয়োজন পর্যবেক্ষন | যদি গণের সময় ঢোকানো জলের চরিত্র ভালো

     না হয় বা অতিরিক্ত কালো হয় তাহলে জল ঢুকিয়ে জিওলাইট প্লাস দিতে পারেন | যদি মাছের শ্যাওলা পড়া রোগ হয়

     তাহলে ক্লোরিন ডাই অক্সাইড দিলে তাত্ক্ষণিক ফল পাওয়া যায় |

 

(১০) সপ্তাহে দুবার খ্যাপলা জাল ফেলে চিংড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে | এটা চাষের ১ মাস পর থেকে করতে হবে | আসল

       কথা জলে নেমে হাঁটতে হবে | ফলে পুকুরের তলার জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস বেরিয়ে যাবে | ঠিক এইভাবে যেদিন

       আকাশে মেঘ করবে, গুমোট থাকবে, বেশী বৃষ্টি হবে বা খুব গরমের দিনে জলে নেমে হাঁটবেন |

 

(১১) জলবাহী নালাকে (Inlet Canal) যৌথভাবে শোধন করতে হবে |  প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সুলভে যে ব্যবস্থা

       নেওয়া যেতে পারে তা হলো -

 

 

(ক)  জলবাহী নালায় ঝিনুকের খোলা, কোরাল যত্রতত্র ফেলে রাখতে হবে | এতে আমোনিয়াকে জারিত করে নিস্ক্রিয় করে দিতে

       পারে এমন বন্ধু ব্যাকটিরিয়া জন্মায় এবং এতে জল কিছুটা পরিশোধন হবে |

 

 

(খ) জলবাহী নালার ধারে ম্যানগোভ জাতীয় গাছ লাগাতে হবে যা অতিরিক্ত জৈব পচা পদার্থ সার ও খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে

     জলকে কিছুটা পরিষ্কার রাখবে |

 

 

(১২) গরমকালে এপ্রিল / মে মাসে প্রায়ই চিংড়ির লাল হয়ে যাওয়া রোগ হয় | এই রোগ একে অন্যকে খেয়ে আরও বেড়ে যায় |

       পুকুরের মাঝখানে মাঝে মাঝে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তার ওপর নারকেল গাছের পাতা দিয়ে ছাউনি করে দিলে অতিরিক্ত

       গরমের থেকে রক্ষা পেতে চিংড়ি তার তলায় আশ্রয় নিতে পারে | এরসাথে পুকুর থেকে সব জলজ উদ্ভিদ বা শ্যাওলা তুলে

       না ফেলা ভাল, যা দূর্বল চিংড়ির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করবে | এছাড়া ভাঙা পাইপ রাখা যেতে পারে | খামারের মধ্যে

       কয়েকটা জায়গা একটু বেশী গভীর করে কেটে রাখলে তাতেও গিয়ে চিংড়ি আশ্রয় নিতে পারবে | খোলস পাল্টানোর পর ২

       / ১ দিন চিংড়ির দেহ নরম থাকে | এই অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ের দরকার হয় |

 

 

(১৩)  চিংড়ি চাষ এপ্রিলের মাঝ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে কারণ এই সময় জল গরম হয়ে গিয়ে জলে

        অক্সিজেনের পরিমান কমে যায় ও ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমান বেড়ে যায় | তাই সহজেই চিংড়ির রোগ আসে |

 

 

(১৪) বর্যার চাষে গলদা ছাড়া যেতে পারে চব্বিশ পরগণা জেলাতে | কাঁথি মহকুমাতে গলদা ছাড় যাবে | তবে এখানে প্রয়োজন

       হবে শ্যালো টিউবলের জল বা অন্য কোন মিষ্টি জলের যোগান |

 

 

(১৫) ভেড়ীতে রোগদমনের জন্য মিথিলিন ব্লু  বা কোন আন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে তিনদিন পর ভেড়ীর নীচের জল বার

       করে সমপরিমান জল ঢোকানোর ব্যবস্থা করতে হবে | গলদার শ্যাওলা পড়া রোগ হলে বা Iuminous bacteria - র

       আক্রমণ (যখন চিংড়ির গা থেকে আলো বেরোয়) হলে ক্লোরিন-ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যাবে | কিন্তু

       মনে রাখতে হবে পুকুরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সেই ওষুধযুক্ত জল ধীরে ধীরে বের করে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত |

 

সাদা দাগ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে Ciprofloxasin + নিমের নির্যাস দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া গেছে | কিন্তু এমন ওষুধ দেবার চেষ্টা করবেন যাতে তিনদিনের মধ্যে কিছুটা জল অন্ততঃ পরিবর্তন করতে পারেন | যেখানে জল পরিবর্তন করা যাবেনা তাতে নিয়মিত ১৫ দিন বাদে বাদে ১ পি.পি.এম হারে ব্লিচিং পাউডার দিলে রোগ হওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে |

 

 

(ক) রোগ হলে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখবেন |

(খ) আপনার পুকুর কেমন আছে ? রোগ আসছে কিনা তা জানতে হলে খুব সকালে পুকুরের পাড়ে হাঁটুন, লক্ষ্য করুন মাছ /

     চিংড়ি পাড়ের দিকে ভাসছে কিনা, দাগ আছে কিনা, খাবার নলি ভর্তি আছে কিনা | পাড়ের দিকে জলের উপর মাছ ভাসা

    মানে জলে অক্সিজেন কম | ভোর রাত্রে ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত পাম্প চালিয়ে দিন বা যেকোন ভাবে অক্সিজেন বাড়ানোর চেষ্টা

    করুন | নিদেন পক্ষে জলে নেমে হাঁটুন |

 

সতর্কতা - অক্সিজেন কমে গেলে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট প্রয়োগ কিন্তু স্থায়ী প্রতিকার নয় |

 

 

 

 

উত্তর - মাছের রোগ দমনে আন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে | তার কারণ যে রোগ জীবাণুঘটিত তাকে মারার জন্য দরকার

         আন্টিবায়োটিক | তবে ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারলে বা তার হঠকারী ব্যবহারের ফল খারাপ হতে পারে |

         আন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে তার থেকে প্রতিরোধী ব্যাকটিরিয়া সৃষ্টি হতে পারে যাদের ঐ আন্টিবায়োটিক ব্যবহারে

         আর মারা যাবে না |  ক্লোরামফেনিকল নামক আন্টিবায়োটিক মাছের রোগদমনে ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয় |

         কারণ ক্লোরামফেলিকলকে পরিবেশ থেকে সহজে সরানো যায় না (Non-biodegrable) | এমনকী ৫০ ডিগ্রি

         সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়ও এটির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় না | তাই সহজেই অব্যবহৃত ক্লোরামফেনিকল ব্যাকটিরিয়ার সংস্পর্শে

         এসে ক্লোরামফেনিকল প্রতিরোধী ব্যাকটিরিয়ার জন্ম দেয় যা ক্ষতিকর |  তাছাড়া আন্টিবায়োটিকগুলি রোগ দমনের সঙ্গে

         সঙ্গে মাছের শরীরের ক্ষতিসাধন করতে পারে | আবার ক্লোরামফেনিকলের মতো আন্টিবায়োটিকগুলি মাছের মাধ্যমে

         মানুষের শরীরে প্রবেশ করে অবাঞ্চিত ফল দিতে শুরু করে |

 

তাই শুধুমাত্র পাখনাপচা রোগেই অক্সিটেট্রাসাইক্লিন (OTC) ব্যবহার করুন | সাদা দাগ রোগ বা EUS এ ব্যবহার না করাই ভাল | ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে না |

 

 

 

উত্তর - (ক) চিংড়ি চাষের জন্য পুকুরের জল বের করে মাটি শুকিয়ে ফেলুন | তবে একদম খটখটে শুকনো করবেন না | মাটি

               অল্প ভিজে থাকবে এবং তার ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে পায়ের ছাপ থাকে, এরকম শুকনো করাই ভালো |

 

(খ) এরপর হালকা করে লাঙ্গল দিয়ে আরও দুদিন শুকিয়ে নিন |

 

          (গ)  প্রথমে পুকুরে ৪ ইঞ্চি জল ঢোকাবেন |

 

          (ঘ)  বিঘা প্রতি ৪০ কেজি মহুয়াখোল, ৬৭৫ গ্রাম ইউরিন এবং ১৫০ গ্রাম টি.এস.পি. দিয়ে ভালোভাবে ঘেটে দিয়ে 

                দুদিন ফেলে রাখুন |         

 

          (ঙ)  এরপর প্রচুর উদ্ভিদ ও প্রাণীকণা তৈরী হবে  এখন জলের গভীরতা বাড়িয়ে ২০ ইঞ্চি করুন |

 

 

(চ)  খাদ্যকণার পরিমাণ বাড়লে গভীরতা ৩২ ইঞ্চি করুন |

 

 

          (ছ)  জলের পি.এইচ দেখুন পি.এইচ ৭.৫ এর কম হলে চুন দিতে হবে |

 

          (জ)  তবে পুকুরে সার বা চুন দেওয়ার আগে পুকুরের মাটি পরীক্ষা করে তবেই সার ও চুন প্রয়োগের সঠিক মাত্রা বলা

                 সম্ভব |

 

 

 

 

উত্তর - প্রতি বিঘায় মাছ ছাড়ার সংখ্যা - একক চাষে - ৪ - ৬ সেন্টিমিটার সাইজের বাগদা মীন হেক্টর প্রতি ৩০,০০০ -

         ৬০,০০০ মিশ্র চাষে - চিংড়ি - ২০,০০০ - ৩০,০০০ প্রতি হেক্টরে |

 

         পার্শে, ভাঙন - ১,৫০০ - ২,০০০ প্রতি হেক্টরে |        

 

 

 

 

উত্তর - বাগদা চিংড়ি ও এই প্রকার চিংড়ির সাথে পার্শে, ভাঙন প্রভৃতি মাছ চাষ করার জন্য মত্স্যচাষীরা বিভিন্ন প্রকার আর্থিক

          সাহায্য ব্যাঙ্ক লোন ও অনুদান আকারে যাতে পেতে পারেন তার বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা রয়েছে | এই সুবিধা গ্রহণের জন্য

          আপনার ব্লক অফিসে মত্স্যচাষ সম্প্রসারণ আধিকারিক বা জেলা স্তরের মত্স্যদপ্তরের অফিস মীনভবনে যোগাযোগ

          করুন |

 

 

 

উত্তর - হ্যাচারীর মাছ ভেড়ী বা পুকুরে ছাড়ার আগে মাছগুলিকে জীবাণুনাশক দ্রবণে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে জীবাণুমুক্ত করে

         তারপর জলাশয়ে ছাড়া উচিত | হ্যাচারীর মাছ যে জলে আছে তার লবণাক্ততা এবং পুকুরের লবণাক্ততা একরকম হওয়া

        জরুরী | হ্যাচারীর মাছ জীবাণুমুক্ত কিনা তার প্রমাপত্র দেখে নেওয়া দরকার |

 

 

 

 

উত্তর - নোনাঘেরীতে বাগদা চিংড়ি উত্পাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্নপ্রকার পরিপূরক খাবার দেওয়া হয় | মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণের

         জন্য অনেকেই না বুঝে যথেচ্ছ ভাবে বিভিন্নপ্রকার ওষুধ, আন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ব্যবহার করেন | ভেড়ীতে দেওয়া খাবার

         যদি মাছ না খায় তবে তা পচে গিয়ে জলদূষণ ঘটায় এছাড়া নির্বিচারে আন্টিবায়োটিক প্রয়োগ আরও ক্ষতিকারক |  তাই

         মাছের খাবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেতে করে দিন | যদি দেখেন যে খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেছে তবে তা তুলে ফেলে দিন

         এবং পরের বার পরিমাণমতো খবার দেবেন | সবসময় লক্ষ্য রাখবেন অভুক্ত খাবার যেন জলে না মেশে বা ঘেরীর নীচে

         না জমা হয় | দ্বিতীয়ত, মাছের রোগ হলে বাজারচলতি ওষুধ না কিনে মত্স্য দপ্তরের কর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন |

 

 

 

উত্তর -এক্ষেত্রে রোগ সংক্রামনের যথেষ্ট সম্ভাবনা | পাশের ভেড়ীর জল না ঢোকে, তাদের জাল বা অন্য কিছু ব্যবহার চলবে না |  

         জলের পি.এইচ. ৭.৫ - ৮.০ রাখতে হবে | মিথিলিন ব্লু  ১০ গ্রাম / বিঘা হারে জলে মিশিয়ে দিতে হবে | খাবারের সাথে

         ভিটামিন সি - ১ গ্রাম / কেজি হারে দিতে হবে |

 

 

 

উত্তর - White spot হলে মাছ তুলে বিক্রি করে দিতে হবে |

 

 

উত্তর - নোনাজলে নুনের ঘনত্ব কমে গেলে চিন্তার কোন কারণ নেই | বাগদা চিংড়ি ১ পি.পি.টি -তেও বেঁচে থাকতে পারে |

         পরের গোনে জল পরিবর্তন করার সময় নুনের ঘনত্ব ঠিক হয়ে যাবে | কখনই নুন প্রয়োগ করে লবণতা বাড়াতে যাবেন

         না |

 

 

 

উত্তর - ঘেরী বড় হলেও Supplimentary feed দেবার নিয়মের কোন পরিবর্তন নেই |  ট্রেতে feed রেখে ঘেরীর বিভিন্ন

        স্থানে দিনের এক নির্দিষ্ট সময় feed  দিতে হবে | শুধু ট্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে |

 

 

 

উত্তর - সার পরিবেশ দূষিত করে না | মাটি পরীক্ষা করে পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করুন | তাহলে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে

         পারবেন |

 

 

 

উত্তর - খাবার যদি পুরোনো হয় তাহলে দূষণ হয় এবং রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে | নিজেই খাবার বানিয়ে দেওয়া যায়

         মিশ্রচাষের ক্ষেত্রে | একক চাষের ক্ষেত্রে বাজারের খাবার দিতে পারেন | তবে ১৫ দিন বাদে বাদে pond probiotic

         দিতে হবে অথবা কোনো দূষিত গ্যাস শোষনকারী যাতে ভেড়ীর জল দূষনমুক্ত থাকে |

 

 

 

উত্তর - চিরাচরিত প্রথায় মাছচাষ করলে দূষণের কোনও আশঙ্কা নেই | শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে জলে বা ভেড়ীর নীচে অভুক্ত

        খাবার না মেশে এবং খেয়ালখুশীমতো কোন antibiotic প্রয়োগ করা চলবে না |

 

 

 

উত্তর - সঠিক ভাবে ঘেরী তৈরী, মাটি পরীক্ষা করে, জল ও মাটির পি,এইচ দেখে চুন ও সার প্রয়োগ, পরিমাণমতো পরিপূরক
         খাদ্য প্রদান এবং মাছ
Treatment করে ছাড়লে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রন করা যায় |

 

 

 

উত্তর - অবশ্যই প্রয়োজন | প্রাকৃতিক বা হ্যাচারী যে কোন উত্স থেকে সংগৃহীত চিংড়ির মীন ভেড়ীতে ছাড়ার আগে তা শোধন

         করে জীবাণুনুক্ত করা দরকার | এরজন্য মিথিলিন ব্লু  দ্রবণ ব্যবহার করতে পারেন |

 

 

 

 

উত্তর - রোগ সংক্রমণের জীবাণুর  প্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় | ভাইরাস তো নয়ই | এক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা হলো ভেড়ীর

         জল দূষণমুক্ত রাখা ও চুন প্রয়োগ পরিমাণ ও প্রয়োজনমতো | তা সত্বেও যদি রোগ দেখা দেয় তবে মাছের রোগ নির্ণয়ক

         কেন্দ্রের পরামর্শ নিন |

 

            পড়ে যায় যা পরে মাটি ও জলের বিক্রিয়ার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় |

 

উত্তর - সার কখনো বেশী প্রয়োগ করা যাবে না | মাটি পরীক্ষা | পুকুর তৈরীর সময় তলার মাটি কিছুটা তুলে ফেলে দিতে হবে |

 

 

 

উত্তর - ঘেরীতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার একেবারে উচিত নয় |

 

 

 

উত্তর - ভেড়ীতে চিংড়ির মড়ক লাগলে চুন প্রয়োগ করে তার প্রতিকার করা যায় না | এক্ষেত্রে জল, মাটি ও রোগাক্রান্ত মাছ

         পরীক্ষা করে ঠিক করা দরকার কি করণীয় |

 

 

 

উত্তর - মাটি পরীক্ষার জন্য আপনার ব্লকের FEO -র সঙ্গে যোগোযোগ করে তাঁকে দিতে পারেন | অথবা রাজ্যের মত্স্যদপ্তরের

         গবেষণাগারে সরাসরি পৌঁছে দিতে পারেন |

 

কলকাতায় - ক্যাপ্টন ভেড়ী, EM By Pass -এ Microbiology & Parasitological Research Centre  

(MPRC) ও কল্যাণীতে কুলিয়া |

 

 

উত্তর - আমাদের দেশের বাগদা চিংড়িচাষে সাদাদাগ রোগ মহামারী হয়ে দেখা দিচ্ছে প্রায়ই | এই রোগ চিংড়ি চাষীদের কাছে

         আতঙ্কের কারণ | দক্ষিণ-পূর্ব্ব এশিয়ার বাগদা চিংড়ির মধ্যেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব, আবার এই বাগদা চিংড়িই অনেক

         সময় রোগটিকে সহন (tolerate) করতে পারে | প্রকৃতপক্ষে দেখা যায় যে চিংড়ি বীজের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস

         বহন করলেও তাদের রোগের লক্ষণ থাকে না | (Baticados et. al 1991; Lightner et. al. 1992) |  রোগ

         সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন চিংড়ির পক্ষে প্রতিকুল পরিবেশের ফলে রোগজীবাণুরা সুবিধা পায় এবং তারা দ্রুত বংশ

         বিস্তার করে |

WSSV বা হোয়াইড স্পট সিনড্রোম ভাইরাস সেই সমস্ত কলাকোষকে আক্রমণ করে যাদের উত্পত্তি হল একটোডারমাল ও মেসোডারর্মাল কলা থেকে | এপিথেলিয়াল কলা, পাকস্থলী, হাইপোডার্মাল কলা, উপাঙ্গ, রক্তসৃষ্টিকারী কলা, লসিকা কোষে এই

 

ভাইরাস আক্রমণ করে | এই ভাইরাস চিংড়ি ছাড়াও কাদা কাঁকড়া (Scylla serrata), কপিপড ইত্যাদি কবচী প্রাণীকেও আক্রমণ করে তার প্রমাণ আছে | যখন WSD প্রথম ভারতে দেখা দেয় (১৯৯৪ - ১৯৯৫) তখন আক্রান্ত মাছের শতকরা ১০০ শতাংশই মারা যেত | পরবর্তীকালে যখন এই রোগ দেখা দিয়েছে তখন দেখা গেছে যে মাছের মৃত্যুর হার কম এবং সঠিক পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চাষে সফলতা পাওয়া গেছে |

 

রোগ প্রতিরোধী কৌশল -

প্রায় অর্দ্ধশতাব্দী পূর্বে প্যাথলজিস্টি Sinezko বলেছিলেন যে জলীয় পরিবেশে রোগ জীবাণু, পোষক প্রাণী ও পরিবেশের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে | এটা চিংড়ির সাদা দাগ রোগের ক্ষেত্রে ভীষণ ভাবে সত্যি |

 

(১) রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে এড়িয়ে চলা - ভাইরাস রোগের ক্ষেত্রে রোগ জীবাণুকে এড়িয়ে থাকার বিষয়টা খুবই জরুরী | এটা এড়াতে গেলে জানতে হবে যে জীবাণুর বাসস্থান, তার পোষক এবং কি করে জীবাণুটি পরিবেশে বেঁচে থাকে সেই নিয়মগুলি | চিংড়ির সাদা দাগ রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বেশ কয়েকটি কবচী প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে | পরিবেশের কিছু কিছু অবস্থায় কোন কোন প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতে পারে | এইসব অবস্থায় নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ও তার উপস্থিতির ফলে কোন কোষীয় পরিবর্তন সাধারণ Histopatological পরীক্ষায় ধরা যায় না | বর্তমানে এই ভাইরাস আক্রমণ PCR (পলিমারেজ চেন রিআকশন) পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায়, এমনকী তা নিষ্ক্রিয় ভাইরাস হলেও অতি আধুনিক nested PCR পদ্ধতিতেই এই ভাইরাসকে যে কোন পোষক বা বাহক প্রাণীতে নির্ণয় করা যায় | তাই হ্যাচারীতে Brood Stock Post Larva দের নিয়মিত PCR পরীক্ষা করাই হলো ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানোর প্রথম পদক্ষেপ |

 

কিন্তু মাছ ছাড়ার পরেও জলের সঙ্গে বা অন্য কোন বাহক মারফত সাদা দাগ রোগের ভাইরাস ভেড়ীতে ঢুকে পড়তে পারে | তাই জলে ক্লোরিন ও ফর্ম্যালিন প্রয়োগ করা যেতে পারে | কিন্তু এক্ষেত্রে অসুবিধা হলো এদের প্রয়োগে জলে প্ল্যাঙ্কটন ও অতি প্রয়োজনীয় জীবাণু যারা জৈব ভূরাসায়নিক চক্রে অংশগ্রহণ করে তারা মারা যায় |

 

(২) পোষক প্রাণীর অবস্থার উন্নতি -  মেরুদন্ডী প্রাণীর একটি নির্দিষ্ট ইমিউনিটি সিস্টেম থাকে | কিন্তু চিংড়ির এই তন্ত্র খুবই অনুন্নত |  প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায় যে চিংড়ির cellular humoral - এই দুইধরনের ইমিউনিটি সিস্টেমই আছে | চিংড়ির রক্ত ও লসিকায় জীবাণু, আন্টিজেন, তঞ্চক ইত্যাদি নির্দ্ধারণের জন্য লেকটিন পাওয়া যায় এবং রক্ত কোষের জীবাণুনাশক কার্যক্ষমতা,উত্সেচক ক্ষরণ ক্ষমতা ও ফেলন অক্সাইড সিস্টেম ইত্যাদি বর্তমান | চিংড়ির ইমিউনিটি সিস্টেম লাইপোপলিস্যাকারাইড, পেপটিডোক্লাইক্যান এবং গ্লুকানের ব্যবহারে অধিক কর্মক্ষম হয় | এগুলি চিংড়িকে খাদ্যের সঙ্গে দেওয়া যায় | ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট জেল ব্যবহারে রোগগ্রস্থ চিংড়ির বাঁচার হার বাড়তে দেখা গেছে | কিন্তু এদের প্রভাব ৫ - ৬ দিন মাত্র থাকে | তাই ঐ সময় পর আবার ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট জেল ব্যবহার করা যেতে পারে | পরীক্ষা লব্ধ ফলে দেখা গেছে WSD আক্রান্ত ভেড়ীতে ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট জেল ব্যবহারে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চিংড়িকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে |

 

 

পরিবেশের প্রভাব -

রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু রোগ তৈরী করবে কিনা তা অনেকাংশে নির্ভর করে পরিবেশের উপর | জলাশয়ে বর্জ্য পদার্থের সঞ্চয়, আমোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পরিবেশকে দূষিত করে | তাই দরকার নিয়মিত জল পরিবর্তন | বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থগুলি NH3 N2S কে জারিত করতে পারে এমন জীবাণু দিয়ে ভেঙে দেওয়া দরকার | তাই চিংড়ি চাষে জীবাণুর ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ | আধুনিককালে প্রোবায়োটিক্স নামে কতকগুলি জিনিস বাজারে পাওয়া যায় | যাতে জল শোধনের জন্য বিভিন্ন ধরণের জীবাণু ও উতসেচক থাকে | যারা NH3 H2S কে জারিত করতে পারে |

 

তাই PCR টেস্ট, ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট জেল ও প্রোবায়োটিক্সের, সঠিক ব্যবহারই চিংড়ি চাষে সাফল্য আনতে পারে |

 

উত্তর - বাগদার লাল হয়ে যাওয়া এবং তার ফলে ভেড়ীতে মড়ক লাগা একটি সাধারণ সমস্যা | লাল হয়ে যাওয়া চিংড়ি থেকে

         Vibrio Spp ব্যাকটিরিয়া এবং ২৫০ এন.এম - ২৮০ এন.এম X ১২ এন.এম আকৃতির ব্যাসিলিওফর্ম ভাইরাস পাওয়া

         গেছে | চিংড়ির পাচননালীর গায়ের হাইপারট্রফিক এপিথেলিয়াল কোষের নিউক্লিয়াসে এবং ক্যারাপেসের যে অংশে সাদা

         দাগ পড়েছে তার নীচের আবরণী কলাকোষে প্রচুর পরিমান ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে | এই দুই প্রকার

         Pathogen - ই স্বাভাবিক চিংড়িকে রোগগ্রস্থ করতে সক্ষম |

 

        চিংড়ির লাল হয়ে যাওয়া ও ভিব্রিওদ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কারণ হল Stress | ভেড়ীতে জলের গুণমান খারাপ হয়ে যাওয়া

       ও তারফলে চিংড়ির পরিবেশ দূষিত হলে ভিব্রিও ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণ ঘটে | একই ঘটনা ঘটে মাছের সাদা দাগ রোগের

        ক্ষেত্রে | এখানেও লক্ষ্য করা যায় যে রোগের পূর্বে জলের পরিবেশের গুণমান খারাপ হয়ে যায় | এইসমস্ত রোগের ক্ষেত্রে

        দেখা গেছে যে অপরিষ্কার বালি মাটি, উচ্চ জৈবপদার্থ পূর্ণ ম্যানগ্রোভ মাটি, অধিক মাত্রায় চিংড়ি Stock করা ইত্যাদি

        রোগ ডেকে আনে | উল্টোদিকে কাদামাটিতে চিংড়ি তুলনায় ভাল হয় |

 

       এই রোগের ক্ষেত্রে জলের পি.এইচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ | কম জল পরিবর্তন, উচ্চ পুষ্টিযুক্ত জল প্রচুর পরিমাণ প্ল্যাঙ্কটনের জন্ম

       দেয়, আর জলে NH3 -র আধিক্য প্ল্যাঙ্কটনকে মেরে ফেলে | জলের পি.এইচ ৭.৮ - ৮.২ এর মধ্যে থাকা উচিত | জলে

      প্ল্যাঙ্কটনমাত্রা বজায় রাখার জন্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা দরকার | জলে স্রোত সৃষ্টির জন্য বেশী করে বায়ু সঞ্চালক

      যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে | যেসব চুন জলের পি.এইছ মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তাদের চাষের সময় ব্যবহার করা উচিত নয় |

 

উত্তর - দেখা গেছে যে, ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট, ব্যবহার করে ব্যাকটিরিয়া ও ভাইরাস উভয়ের বিরুদ্ধেই মাছের রোগ প্রতিরোধক

         ক্ষমতা বাড়ে | কিন্তু চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র (Immunity System) দুর্বল হবার জন্য এই ইমিউনোমুল্যান্টের

         কার্যকারিতা থাকে মাত্র চারদিন পর্যন্ত | তাই কাজ পেতে গেলে এই পদার্থটি প্রতি চারদিন অন্তর খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে

         চিংড়িকে খাওয়াতে হবে | ইমিউনোস্টিমুল্যান্ট চিংড়ির নিজের ইমিউনিটি সিস্টেমকে সক্রিয় করার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ

         করে |

 

             চিংড়ি মাছের খোলস ছাড়া কখনো ঠিক সময় হচ্ছে কখনো হচ্ছে না কি করা উচিত ?

 

উত্তর - ভিটামিন সি মাছ ও চিংড়ির বৃদ্ধি ও পেশীর ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে | বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে

         ইহা কোলাজেন তৈরীতে সাহায্য করে |

 

ভিটামিন সি খাদ্যরূপে গ্রহণ করলে অর্গ্যানোক্লোরিন ও অর্গ্যানোফসফেট যৌগের বিষক্রিয়া প্রতিরোধী হিসাবে কাজ

করে | পরীক্ষায় দেখা গেছে যে উচ্চহারে গ্রহণ করলে এই খাদ্যপ্রাণ কীটনাশকের প্রতিরোধকের কাজ করে (Guha et,

al 1993) | ভিটামিন সি হাইড্রক্সিলেশনের মাধ্যমে এইসব ক্ষতিকর যৌগকে জলে দ্রবনীয় করে তা রেচনক্রিয়ার 

মাধ্যমে দেহের বাইরে পাঠিয়ে দেয় |

 

          ভিটামিন সির অনুপস্থিতিতে মাছের প্রজনন কার্যে বিঘ্ন ঘটে (Hilton et, al 1979) | স্ত্রী মাছের ডিমে কুসুম তৈরীতে

          ভিটামিন সি খুবই দরকার এছাড়া প্রয়োজন মাছের ভ্রূণের পরিস্ফুরণের জন্যও |

 

ভিটামিন সি ফুলকা, হাড়, পেশী ও চামড়ার ‘Ca’ শোষনের হার বাড়ায় |

 

 

 

ভিটামিন সির অভাবে চিংড়ি ও কাঁকড়ার স্বাভাবিক খোলস ত্যাগের হার ব্যহত হয় | অসম্পূর্ন খোলস ত্যাগও পরিলক্ষিত

হয় |

 

ভিটামিন সির অভাবে  মাছের বাড় কমে যায়, চিংড়ি কালো হয়ে মারা যায়, চট করে মাছ ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে,

মাছের মড়ক দেখা দেয়, Phagocytic-activity কমতে থাকে এবং লিম্ফোসাইটের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় | যার

ফলস্বরূপ মাছচাষ ও মাছচাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয় |

 

         মাছের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য যেমন জলজ পতঙ্গ, কাইরোনমিড লার্ভা, অলিগোকীট ও কিছু শৈবালের মধ্যে ভিটামিন সি

         থাকে | নিবিড় মাছ চাষে পরিপূরক খাদ্যে এই ভিটামিন দেওয়া দরকার |

 

         ভিটামিন সি সহজেই জলে দ্রবণীয় ও তাপ প্রয়োগে ভেঙে যায় | আধুনিককালে পরীক্ষায় দেখা গেছে যে  L আসকরবিক

        আসিডের ল্যাকটোন বলয়ের ভঙ্গুর C-2 স্থানে ফসফেট যৌগের উপস্থিতি এর স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং মাছ ও চিংড়িতে এই

        পরিবর্তিত যৌগ ভিটামিন সি হিসাবেই কাজ করে |

 

         বাগদায় ৫০০০ মিলিগ্রাম / কেজি খাদ্যে, গলদায় ১০৪ মিলিগ্রাম / কেজি খাদ্যে, IMC র ক্ষেত্রে ১০০ মিলিগ্রাম

         / কেজি খাদ্যে, মাগুরে ৬৯ মিলিগ্রাম / কেজি খাদ্যে এবং তেলাপিয়াতে ১৫০ মিলিগ্রাম খাদ্যে ভিটামিন ‘C’ খাকা

         দরকার |

 

উত্তর - ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদের বন উপকূলের একটি উত্পাদক অঞ্চল যার অনেক উপকারী দিক আছে | অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু মাছ ও জলজ প্রাণীর আঁতুড়ঘর হল এই জোয়ারভাটা খেলা লবণাম্বু উদ্ভিদের বন | প্রকৃতপক্ষে এইসব এলাকায় জলে লবণাম্বু উদ্ভিদের পাতা পড়ে তা সার হিসাবে কাজ করে এবং প্রচুর পরিমাণ খাদ্যকণা উত্পাদন করে | বাগদা, বিভিন্নকরম চিংড়ি, গ্রুপার, মালেট, মিল্ক ফিস ইত্যাদি মাছের বাচ্চারা খাদ্যের জন্য এই ধরণের বনাঞ্চালের জলে আশ্রয় নেয় | এছাড়া ভৌগলিক বৈশিষ্টের জন্য (খাদ্যের প্রাচুর্য্য, কাদা মাটি, জলের উঠা নামা, উদ্ভিদ শিকড়ের খাঁজ) এই অঞ্চলে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমান কাদা কাঁকড়ার বীজ ও পরিণত দশা | আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল লবণাম্বু উদ্ভিদের বন ও এখানকার পরিবেশ সামুদ্রিক ঝঞ্ঝার থেকে নিকটবর্তী এলাকাকে রক্ষা করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে বন্যা নিয়ন্ত্রন করে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং একাধিক বন্যপ্রাণীকে আশ্রয় দেয় | বহির্বাহী নালার ধারে ম্যানগ্রোভ লাগালে এরা জলের অতিরিক্ত Organic Load শোষণ করে দূষণের সম্ভাবনা কমায় |

 

          এইসব কারণে বাগদা ভেড়ীর চারপাশে লবণাম্বু উদ্ভিদের গাছ লাগালে ভেড়ী উপরিউক্ত উপকারী দিকগুলির সুবিধা পায় | 

উত্তর - Soft Shell Disease হওয়া চিংড়ি থেকে Vibrio alginoiyticus এবং V. parahaemolyticus ব্যাকটিরিয়া আলাদা করা সম্ভব হয়েছে | প্রথম ব্যাকটিরায়াটি সনাক্ত হয় Oregon State University, Oregon -এ এবং দ্বিতীয়টি কোলকাতার National Institute of Cholera Research and Enteric Diseases -এ |

 

 

উত্তর - ১০ - ২০ টি রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে তার আক্রান্ত অংশ জীবাণুমুক্ত ব্লেড দিয়ে কেটে নেওয়া হয় | কর্তিত অংশগুলি ১ মি.লি. জীবাণুমুক্ত সমুদ্রজলে রেখে homogenize করা হয় | Homogenized দ্রবণটিকে ১০ গুণ (10 fold dilution) লঘু করে নেওয়া হয় যাতে ব্যাকটিরিয়ার অধিক বৃদ্ধি (Overgrowth) না আসে | এরপর এই লঘু দ্রবণ থেকে জল নিয়ে TCBS agar, Seawater Nutrient Agar এবং alkaline peptone water tube - এ দেওয়া হয় | এদের ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২৪ - ২৮ ঘন্টা রাখা হয় | Nutrient agan plate - এ একই রকম Colony গুলো নিয়ে pure culture করা হয় | ব্যাকটিরিয়াগুলি Bachanan & Gibbons (1984) এবং West & Colwell (1984) পদ্ধতি অনুযায়ী সনাক্ত করা হয় | 

 

 

উত্তর - চিংড়ি মাছ harvesting এর অন্ততঃ ২০ দিন আগে এই রোগ দেখা দিলে Ciprofloxacin খাদ্যের সঙ্গে নির্দ্ধারিত মাত্রায় মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে | অথবা, Bactogel ব্যবহার করেও উপকার পাওয়া যায়

 

উত্তর - যেহেতু চিংড়ির সাদা দাগ রোগের কোন নিশ্চিত ওষুধ এখনও পর্যন্ত বার করা যায়নি, তাই এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় হল যাতে রোগ না হয় তার দিকে নজর দেওয়া | অর্থাত রোগ প্রথমাবস্থায় নির্ণয় করা এবং যতটা সম্ভব রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে পুকুর থেকে দূরে রাখা যায় তার ব্যবস্থা করা | যেহেতু PCR পদ্ধতি চিংড়ি বীজের মধ্যে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে সনাক্ত করতে সাহায্য করে তাই এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি | শুধু তাইই নয় PCR পদ্ধতিতে জীবাণুটিকে স্বতন্ত্র ভাবে (Specific) নির্ণয় করা যায় যদি তা খুব অল্প সংখ্যায় থাকে তা হলেও | চিংড়ি চাষীকে PCR - Ve বীজ নিশ্চিত করে যে অন্ততঃ বীজের মাধ্যমে ভেড়ীতে সংক্রামণ ঘটছে না | অর্থাত বীজ সুস্থ | কিন্তু যেহেতু PCR পদ্ধতিতে পরীক্ষিত বীজ ছাড়াও বিভিন্নভাবে ভেড়ীতে WSSV - র সংক্রামণ হতে পারে, তাই PCR-Ve বীজ Stock করলেই রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া গেল তা নয় | কারণ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস জলের সঙ্গে, অন্যান্য কবচী প্রাণী যথা কাঁকড়ার সঙ্গে, পরিপূরক খাদ্যের সঙ্গে জলে প্রবেশ করতে পারে | তাই দরকার উন্নত খামার পরিচালন ব্যবস্থার |

 

          আর একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে | PCR - এর দুটি  ধাপ আছে | যে চিংড়ি বীজ প্রথম ধাপেই রোগের লক্ষণ দেখায় তাতে মড়কের হার ও চাষের ব্যর্থতার হার বেশী | অন্যদিকে যদি শুধুমাত্র দ্বিতীয় ধাপ +Ve হয় তবে যোগ্য পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষে সফলতা পাওয়া গেছে |

উত্তর - পোনামাছের যে ক্ষতরোগ হয় তা EUS  বা Epizotic Ulcorative Syndrome নামে পরিচিত ৷ এই রোগ এখনও পর্যন্ত চিংড়ির হয় নি ৷

 

উত্তর -দীঘা এক্সপেরিমেন্টাল প্রণ হ্যাচারী থেকে এই চারা পেতে পারেন