হাঁস পালন

                                  

কেন হাঁস পালন করবেন

হাঁসের প্রকার ভেদ

খাঁকী ক্যাম্বেল চাষের কারণ

বাসস্থান কেমন হবে

হাঁস পালন পদ্ধতি

হাঁসের প্রজনন

ডিম ফোটানো

হাঁসের রোগ ও তার প্রতিকার

হাঁসের  টিকা

হাঁসের খাবার

নমুনা প্রকল্প

এক পলকে হাঁস পালন

গ্রাম বাংলায় খাল, বিল, নদী, নালা, ছোট বড় পুকুর ডোবার অভাব নেই এর ফলে এখানে হাঁস চাষ করার পরিবেশ যথেষ্ট অনুকুল তার কারণগুলি হল-

১) পরিবার ভিত্তিতে চাষ করলে এর জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন হয় না বা খুব কম প্রয়োজন, এরা জলাশয় থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরাই সংগ্রহ করতে পারে

২) এদের রোগ ব্যধি মুরগীর তুলনায় খুবই কম    

৩) বর্তমানে মিশ্রচাষ খুব জনপ্রিয় ও অর্থকরী পদ্ধতি এতে হাঁসের সাথে মাছ চাষ করা হয় তাতে যেমন হাঁসের বিষ্ঠা থেকে মাছ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে তেমনি হাঁসও জলাশয় থেকে পায় তার প্রয়োজনীয় আহার ও পুষ্টি

৪) উন্নত প্রজাতির হাঁসের থেকে পাওয়া যায় যেমন প্রচুর ডিম, তেমন মাংসও এই ডিমের পুষ্টি মূল্য মুরগীর ডিমের পুষ্টি মূল্যের সমান উপরন্তু ডিম ও মাংস অনেক সুস্বাদু

হাঁসের প্রকার ভেদ

পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের হাঁস পাওয়া যায় যেমন-

১) বেশী ডিম পাড়া হাঁস-  খাঁকী ক্যাম্বেল, বালি, ইন্ডিয়ান রানার রাফঅরপিংটন

২) বেশী মাংস পাওয়া যায় এমন হাঁস- এলিসবেরি, পেকিন, মাসকভি, রোঁয়েন

সাধারণ ভাবে হাঁসের আয়ু ১২ বত্সর ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার সময় ২৮ দিন  শুধু মাসকভির বেলায় ৩৫ দিন

বর্তমানে গ্রাম বাংলার আবহাওয়া, পরিবেশ, জলাশয়ের পরিমাণ ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে খাঁকী ক্যাম্বেল চাষই হবে সব থেকে লাভজনক

খাঁকী ক্যাম্বেল চাষের কারণ

১) এটি একটি সংকরায়ন পদ্ধতিতে উত্পন্ন উন্নত প্রজাতির হাঁস ১৯০০ সালে ইন্ডিয়ান রানার, ওয়াইল্ড ম্যালারড ও ফ্রান্সের রোঁয়েনের মধ্যে সংকরায়ন ঘটিয়ে সৃষ্টি করা হয়

২) এই হাঁস ১২০ - ১৩০ দিনেই ডিম পাড়তে শুরু করে যা অন্যান্য হাঁসের তুলনায় অনেক আগে

৩) উপযুক্ত পরিচর্যা থাকলে বত্সরে ২৮০ - ৩০০টি ডিম দিতে পারে

৪) এদের জন্য বড় জলাশয়ের দরকার হয় না, শুধুমাত্র স্নান করার মত জল ও জলের গভীরতা থাকলেই যথেষ্ট, বরং খুব বেশী সাঁতার কাটলে এদের ডিম পাড়ার হার কমে যায়

৫) হাঁস ছেড়ে পুষলে ৭০ - ৮০ ভাগ খাবার নিজেরাই যোগাড় করে নেয়

৬) এদের বিষ্ঠা মাছের সুখাদ্য

একটা পুর্ণ বয়স্ক হাঁসের ওজন-   ২.২ কেজি

একটা পুর্ণ বয়স্ক হাঁসীর ওজন-   ২.০ কেজি

একটা যুবক হাঁসের ওজন-  ২ কেজি

একটা যুবতী হাঁসীর ওজন-  ১.৮ কেজি

বাসস্থান কেমন হবে

যে কোন রকম খামার করতে গেলে প্রথমেই যা দরকার তা হল তাদের জন্য ঘর বা আবাস স্থল হাঁস উড়তে পারে না৷ তাই বাসস্থান তৈরী করার সময় মনে রাখতে হবে এদের নিরাপত্তার কথা৷

শুধুমাত্র ডিম পাওয়ার জন্য অল্প সংখ্যক হাঁস পুষলে ছেড়ে বা আংশিক ছেড়ে পোষাই অধিক লাভজনক ঘর বা বাসস্থান তৈরী করার আগে কোথায় ঘর তৈরী করা হবে তার জায়গা নির্ধারণ করার দরকার হয় কতগুলি বিষয়ের উপর দৃষ্টি রেখে যেমন-

১) জায়গাটা হতে হবে উঁচু যাতে অতিরিক্ত জল সহজে নিষ্কাশিত  হতে পারে

২) ঘরে বিক্ষিপ্ত সুর্যালোক পৌঁছানো দরকার যাতে মেঝে যেমন শুকাতে পারে তেমনি রোগ জীবাণুও ধ্বংস হয়

ঘর তৈরী করার সময় কতগুলি জিনিসের উপর বিশেষ নজর দিতে হয়-

১) ঘরের মেঝে দুরকম ভাবে করা সম্ভব যেমন ধাতব তারজালি দিয়ে ও পাকা মেঝে হাঁসের বিষ্ঠাতে জলীয় ভাগ অত্যন্ত বেশী তাই পাকা মেঝে বা তার লিটার ভিজে গেলে রোগ হওয়া ও ছড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেড়ে যায়

২) কত বড় ঘর তৈরী হবে তা নির্ভর করে কত সংখ্যক হাঁস রাখা হবে  ঘরের মেঝের আকার কেমন হবে তার একটা হিসাব দেওয়া হল-

বয়স (সপ্তাহ)

তারজালির মেঝে

পাকা মেঝে

০ - ১

১/৪ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

১/২ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

১ - ২

১/৩ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

৩/৪ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

২ - ৩

১/২ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

১ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

৩ - ৪

২ - ২.৫ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

২ - ২.৫ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

পূর্ণ বয়স্ক

-

৪ - ৫ বর্গফুট  হাঁস প্রতি

হাঁস পালন পদ্ধতি

হাঁসের প্রতিপালনকে মোটামুটি বয়স ও প্রকৃতি হিসাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয় যেমন- ১) আতুড় ঘরে পালন (ব্রুডার রেয়ারিং), ২) বড় হওয়ার জন্য প্রতিপালন (গ্রোয়ার রেয়ারিং) ও ৩) ডিমপাড়া হাঁসের প্রতিপালন (লেয়ার রেয়ারিং)

১) আতুড় ঘরে পালন- এটি হল ১ - ৪ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত একদিনের বাচ্চাকে একটা বিশেষ তাপমাত্রার মধ্যে রাখতে হয় এই ব্রুডারের তাপমাত্রা ৯০ডিগ্রী - ৯৫ডিগ্রী ফারেনহাইট দিয়ে শুরু করতে হয় এবং প্রতি সপ্তাহে ৫ডিগ্রী ফারেনহাইট করে কমাতে হয় যতক্ষণ না ৭৫ডিগ্রী ফারেনহাইট এ পৌঁছায় এই তাপ ধরে রাখতে ইলেকট্রিক বাল্ব ব্যবহার করা হয় না থাকলে কেরোসিনের হ্যারিকেন ও ব্যবহার করা যায় এই তাপকে ধরে রাখতে একটা টিন বা কাডবোর্ডের তৈরী বেড়া (গার্ড) ব্যবহার করা যেতে পারে

 

২) বড়হাঁসের প্রতিপালন (৫ - ২০ সপ্তাহ)- আতুড় ঘর থেকে নিয়ে পালক হওয়া হাঁসকে তিন ভাবে প্রতিপালন করা যায় ক) পুকুরের জল, খ) ডিপ লিটারে ও গ) রানযুক্ত ডিপ লিটারে

  • পুকুরের জলে- সাধারণ ভাবে প্রাকৃতিক পুকুরে পালন করলে এদের রাতে থাকার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করলেই হয় এতে এদের জন্য বিশেষ কোন খাবার দেওয়ার দরকার হয় না

  •  ডিপ লিটারে- এতে চরবার জায়গার দরকার হয় না শুধু মাত্র থাকবার জায়গা ও স্নান করার জন্য ৯ইঞ্চি গভীর ও ১.৫ইঞ্চি চওড়া কৃত্রিম নালার দরকার এদেরকে পুরোপুরি ম্যস জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়

  •  রান যুক্ত ডিপ লিটারে - এতে থাকার জায়গার বাইরে চরবার জন্য হাঁস প্রতি চার বর্গফুট জায়গা ঘেরা থাকে এখানেও স্নান করবার জন্য নালার দরকার এই পদ্ধতিতেও হাঁসকে তার প্রয়োজনীয় খাবার দিতে হয়

৩) ডিম পাড়া হাঁসের পালন- ২০ সপ্তাহ বয়সে হাঁস ডিম দিতে শুরু করে তখন খাবারে বেশী পরিমাণ ক্যালসিয়াম দিতে হয় কারণ ডিমের খোলা এই ক্যালসিয়াম দিয়েই তৈরী  হয় এই সময় আলো ১৪ - ১৬ ঘন্টার মত দিতে হবে কম করে একনাগাড়ে ২ - ২.৫ বত্সরে ২৯০ - ৩০০টি ডিম পাড়বে তারপর আস্তে আস্তে উত্পাদন কমতে শুরু করে বত্সরে যখন পালক পড়ে তখনও উত্পাদনও কমে, তবে সাময়িক ভাবে

হাঁসের প্রজনন

হাঁস চার মাস বয়সেই প্রাপ্ত বয়স্ক হয় শুধুমাত্র ডিমের জন্য হাঁস পুষলে পুরুষ হাঁসের কোন দরকার হয় না মাংসের জন্য হাঁস পুষলে এবং তার ডিম থেকে বাচ্চা নিতে গেলে স্ত্রী ও পুরুষ হাঁসের অনুপাত হবে ৪:১

ডিম ফোটানো

একটা হাঁসী এক সঙ্গে ১০ - ১২টার বেশী ডিম তা দিতে পারে না তাই এক সঙ্গে বেশী ডিম ফোটাতে গেলে কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়  যার নাম ইনকিউবেটর  বাড়ীতে অল্প ডিম ফোটাতে গেলে এই যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে করা যায়  হাঁস ভাল তা দেয় না  কিন্তু মুরগীর এই অভ্যাসটা খুব প্রবল তাই মুরগী দিয়ে হাঁসের বাচ্চা অনায়াসে ফোটানো যায়  এখানে একটি মুরগী দিয়ে ১০ - ১২ টি ডিম তা এ বসালে যথারীতি ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা হবে 

হাঁসের রোগ ও তার প্রতিকার

সাধারণ ভাবে অন্যান্য পাখীর তুলনায় হাঁসের রোগ অত্যন্ত কম হাঁসের রোগ হয়েছে তা কতগুলি লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে৷   যেমন-

  • খাওয়া বন্ধ করে দেয়

  • পায়খানার রঙের পরিবর্তন হয়

  • হাঁস ঝিমুতে শুরু করে

  •  নাক ও চোখ দিয়ে জল পড়ে

  • পা ও ডানার পক্ষাঘাত হয়, খুঁড়িয়ে চলে

রোগ কি কি ভাবে ছড়াতে পারে-

  • সুস্থ হাঁস রোগাক্রান্তর সংস্পর্শে আসলে

  • বায়ু বাহিত হয়ে

  • খাবারের সাথে

  • জলের মাধ্যমে

  • বন্য পাখীদের মাধ্যমে

  • ইঁদুর, ব্যাঙ প্রভৃতির মাধ্যমে

  • ডিমের মাধ্যমে

হাঁসের  টিকা

  • ডাক কলেরা- এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ ৪ - ৫ মাস বয়সের হাঁস আক্রান্ত হয় এই রোগের লক্ষণ ক্ষুধামন্দা, জ্বর, সাদা জলের মত বা হালকা সবুজ রঙের মল, শ্বাসকষ্ট ও চলাফেরায় অসুবিধা হয়

          চিকিত্সা-  সালফামেজাথিন (৩৩%) ৩০ মিলি ৫লিটার জলে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে৷  

 
  • ডাক প্লেগ-  ভাইরাসজনিত এই রোগটি মাঝারি থেকে বয়স্ক হাঁসের মধ্যে দেখা যায় এই রোগের লক্ষণগুলি হল অবিন্যস্ত পালক, ঝিমুনি, সবুজ জলের মত পায়খানা, চোখের পাতা ফুলে চোখে পিছুটি পড়া, নাক দিয়ে জলপড়া, দুর্বল,  হাটতে না পারা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি

          চিকিত্সা-  এই রোগের ভাল কোন চিকিত্সা নেই

 
  • আফলাটক্সিকোসিস-  এটি একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ছত্রাক জনিত রোগ এই রোগের লক্ষণগুলি হল ক্ষুধামন্দা, আলস্যভাব, ঝিমুনি, ডানা ঝুলে পড়া, খিচুনি, মেরুদন্ড  ও ঘাড় ধনুকের মত পিছনে বেঁকে যাওয়া, ডিম পাড়া বন্ধ করা প্রভৃতি

          চিকিত্সা-  রোগ ধরা পড়লে প্রথমে খাবার পরিবর্তন করতে হবে গ্লুকোজের জল দিতে হবে প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত খাবার   বেশী পরিমাণে দিতে হবে

প্রতিরোধ-

  • পানীয় জল ও খাবার পাত্র সব সময় ভাল করে শোধন করতে হবে

  • ভেজা ও পুরানো খাবার দেওয়া যাবে না

  • খাদ্যকে ভাল ভাবে শুষ্ক করে সংরক্ষণ করতে হবে

  • খাবারের সাথে ছত্রাকনাশক পদার্থ ব্যবহার করতে পারলে ভাল হয় যেমন- জেনসিয়ান ভায়োলেট (২.০৫ ), প্রোপায়নিক আসিড (০.০৫%) ইত্যাদি

                     

হাঁসের টিকার তালিকা

নাম

পদ্ধতি

পরিমাণ

বয়স

ডাক কলেরা

চামড়ার তলায়

১ মিলি

৩ - ৪ সপ্তাহ

২ মিলি

প্রথম টিকার এক মাস পরে

ডাক প্লেগ

চামড়ার তলায়

১ মিলি প্রতি বত্সর

৮ - ১২ সপ্তাহ

 

হাঁসের খাবার

হাঁসের ডিম দেওয়া, শরীর বৃদ্ধি এমন কী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে সুষম এবং পরিমিত আহারের উপর সাধারণত দিনে ২ বার খাবার দেওয়া হয় প্রথম সপ্তাহে বাচ্চা হাঁসকে শুকনো গুঁড়া খাবার দেওয়া হয়দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভিজিয়ে দিতে হয় এতে খাবার কম নষ্ট হয় এবং হাঁস সহজে গিলতে পারে

খাদ্য গুণ ও পরিমাণ হিসাবে

বয়স

খাদ্য

ক্রুড প্রোটিন (%)

এনার্জি

( কি. ক্যা.)

পরিমাণ

৩ দিন থেকে ৩ সপ্তাহ

ডাক স্টার্টার

২১

২৮৫০

৪ গ্রা. থেকে শুরু করে ২১ দিনে দাঁড়ায় ৯০ - ১০০ গ্রা. প্রতিদিন

৪ সপ্তাহ থেকে ১৬ সপ্তাহ

ডাক গ্রোয়ার

১৭

২৯০০

১০০ গ্রা.- ১২০ গ্রা. প্রতিদিন

১৬ সপ্তাহের বেশী

ডাক লেয়ার

১৮

২৮০০

১৩০ গ্রা.- ১৬০ গ্রা. প্রতিদিন

 

খাদ্যের উপাদান ভিত্তিক ফর্মূলা

উপাদান

স্টার্টার

(০ - ৩ সপ্তাহ) %

গ্রোয়ার

(৪ - ১৬ সপ্তাহ) %

লেয়ার ১৬ সপ্তাহের বেশী %

ভাঙ্গা ভুট্টা

২৫

৪০

৩০

ভাঙ্গা গম

৩৫

২৫

২০

চালের কুড়া

১০

১৭

সয়াবিন খোল (তেলহীন)

২৫

১৫

২০

শুকনো মাছ

খনিজ লবণ

ঝিনুক লবণ

-

-

 

১০০

১০০

১০০

                    এর সঙ্গে মেশাতে হবে-

ভিটামিন (A, B2, D3)

১০ গ্রাম

ডেল্টামিন 

৩০০ গ্রাম

কোলিন ক্লোরাইড

৩৫ গ্রাম

খাবারের উপাদান নির্ভর করে কী কী পাওয়া যায় তার উপরেতবে উপাদানগুলির গুণ ও মান ভাল হতে হবে

এক হাজার খাঁকি ক্যাম্বেল হাঁসের একটি নমুনা প্রকল্প

মুলধনী খরচ-

ঘর বাবদ

১) একটি ব্রুডার ও গ্রোয়ার এর ঘর একসঙ্গে ১০০০ বর্গফুট

৬০,০০০ টাকা

২) একটি লেয়ারের এর ঘর ২০০০ বর্গফুট   (প্রতি ব.ফু. ২০ টাকা হিসাবে)

যন্ত্রপাতি

৫ টাকা হাঁস প্রতি

 ৫,০০০  টাকা

হাঁস বাচ্চা

১১০০ (১০০০+১০% বেশী) মেয়ে হাঁস ১০ টাকা করে প্রতিটি

১১,৫০০ টাকা

খাবার খরচ

০ - ২০ সপ্তাহ প্রতি হাঁস ১১ কেজি (প্রতি কেজি খাদ্য ৮ টাকা করে)

৯৬,৮০০ টাকা

ঔষধ, টীকা, লিটার

ও শ্রমিক

  হাঁস প্রতি ১০ টাকা করে

১০,০০০ টাকা

মোট

      ১,৮২,৮০০ টাকা

আবর্ত খরচ-

প্রতি বত্সর

খাবার প্রতি হাঁস ৫০ কেজি (প্রতি কেজি ৮ টাকা)

৪,০০,০০০ টাকা

লিটার, ঔষধ, শ্রমিক ইত্যাদি প্রতি হাঁস ৮ টাকা

     ৮,০০০ টাকা

                                        মোট

৪,০৮,০০০ টাকা

রোজগার-

১) ২,৮০,০০০ টি ডিম (২৮০ ডিম প্রতি হাঁস প্রতি বত্সর) প্রতি ডিম   ১.৫০ টাকা

           ৪,২০,০০০ টাকা

২) ৪০ টন সার (৪০০ টাকা প্রতি টন)

              ৬,০০০ টাকা

৩) হাঁস বিক্রি করে (প্রতি হাঁস ৪০ টাকা)

             ৪০,০০০ টাকা

                                       মোট 

          ৪,৭৬,০০০ টাকা

                                    

               মোট রোজগার                    

         ৪,৭৬,০০০ টাকা

                                আবর্ত খরচ                                 

         ৪,০৮,০০০ টাকা

                                                    

                                মোট লাভ  

               (৪,৭৬,০০০-৪,০৮,০০০) 

            ৬৮,০০০ টাকা

১৫% সুদ মূলধনের (১,৮২,৮০০টাকার)     ২৭,৪২০ টাকা                       

 প্রকৃত লাভ  = ৬৮,০০০-২৭,৪২০ টাকা      ৪০,৫৮০ টাকা                  

১০০ টি খাঁকি ক্যাম্বেল হাঁসের প্রকল্প (ছেড়ে পুষলে)

মুলধনী খরচ-

১) ঘর বাবদ                               ৫,০০০ টাকা

২) যন্ত্রপাতি প্রতি হাঁস ৫ টাকা            ৫০০ টাকা

৩) ১০০ টি বাচ্চা  ১০ টাকা করে     ১,০০০ টাকা

৪) খাবার

ক) ০ - ৪ সপ্তাহ ১.৫ কেজি / হাঁস

(৮ টাকা / কেজি)

    ১,২০০টাকা

খ) ৫ - ২০ সপ্তাহ ২০ গ্রাম / হাঁস / দিন (৮ টাকা / কেজি)

    ১,৮০০টাকা

৫) ঔষধ, টীকা ইত্যাদি

( প্রতি হাঁস ৫ টাকা)

      ৫০০ টাকা

                                         মোট      ১০,০০০ টাকা

আবর্ত খরচ (প্রতি বত্সর)-

খাবার - ২০ গ্রাম /হাঁস / দিন প্রতি কেজি ৮ টাকা

     ৫,৮৪০ টাকা

ভিটামিন, ঔষধ ইত্যাদি

(প্রতি হাঁস ১০ টাকা)

      ১০০ টাকা

                                        মোট      ৬,৮৪০ টাকা

রোজগার-

ডিম থেকে ২২৫ টি প্রতি হাঁস প্রতি ডিম ১.৫ টাকা করে

   ৩৩,৭৫০ টাকা

হাঁস বিক্রি করে 

(প্রতি হাঁস ৩০ টাকা)

    ৩,০০০ টাকা

প্রকৃত লাভ = ৩৬,৭৫০ -

(৬,৮৪০+১৫% সুদ ১০,০০০ টাকার) =     ২৮,৪১০ টাকা

খাঁকী ক্যাম্বেল হাঁসের প্রাপ্তিস্থান-

১) গোবরডাঙ্গা রাজ্য মুরগী খামার, প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগ, পঃ বঃ সরকার, উত্তর ২৪ পরগণা

২) মেদিনীপুর  রাজ্য হাঁস ও মুরগী খামার, প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগ, পঃ বঃ সরকার, মেদিনীপুর (পশ্চিম)

এক পলকে হাঁস পালন

  • খাকি ক্যাম্বেল গড়ে ২৮০ - ৩০০ টি ডিম দেয়

  • খাকি ক্যাম্বেল ডিম পাড়া শুরু করে সাড়ে চার মাস বয়স থেকে
  • ডিমের ওজন ৬০ - ৭০ গ্রাম  যা মুরগীর ডিমের চেয়ে প্রায় ১৫ - ২০ গ্রাম বেশী

  • হাঁস বেঁচে থাকে প্রায় ১০ - ১১ বছর

  • হাঁসের ডিম দেওয়ার ক্ষমতা সাড়ে তিন থেকে চার বছর খাকি ক্যাম্বেল ও দেশী হাঁসের সংকর বাচ্চার উত্পাদন ক্ষমতা দেশী হাঁসের চেয়ে অনেকগুণ ভাল
  • হাঁসের ডিমের উপাদান-

জল

আমিষ

ফ্যাট

ছাই

শক্তি (ক্যালরি)

৭০.৫%

১৩.৩%

১৪.৫%

১৯১ ( প্রতি ১০০  গ্রামে)

  • একটি হাঁসের ডিম দুই গ্লাস দুধের সমান

  • একটি হাঁসের ডিমে দুধের চেয়ে ৩ গুণ প্রোটিন, সাড়ে তিনগুণ চর্বি, ৭ গুণ ভিটামিন-এ, ৪ গুণ ভিটামিন-বি৬ থাকে

  • ডিম ফোটানোর সময়কাল ২৮ দিন
  • সকাল ৯টার ভিতর শতকরা ৯৫ ভাগ ডিম দেয়
  • ৩ - ৪ সপ্তাহ বয়সের পর খাকি ক্যাম্বেল হাঁসকে জলে ছাড়া যেতে পারে

  • একটি হাঁস একসাথে ৭ - ৮ টি ডিমে তা দিতে পারে

  • একটি বড় আকারের মুরগীর সাহায্যে ১০ - ১২ টি হাঁসের ডিমে তা দেওয়া যেতে পারে

  • পাখী পিছু মেঝের জায়গা ৪ - ৫ বর্গফুট

  • দিনে অন্ততঃ দুবার জল খাওয়ানো দরকার
  • ১০০০ টি ডিম পাড়া হাঁস দিনে ৩০০ লিটার জল পান করে
  • হাঁস প্রতি স্টার্টার ম্যাশ লাগে ১.৫ কিলো

  • হাঁস প্রতি গ্রোয়ার ম্যাশ লাগে ১০ কিলো
  • হাঁস প্রতি লেয়ার ম্যাশ লাগে ৬০ কিলো
  • খাকি ক্যাম্বেল হাঁসের মরণশীলতা-

০ - ৮ সপ্তাহ বয়স

২ - ৩ শতাংশ

 ৮ - ২০ সপ্তাহ বয়স

২ - ৫ শতাংশ

২০ - ৭২ সপ্তাহ বয়স

৫ - ৭ শতাংশ

  • পুরুষ ও স্ত্রী হাঁসের অনুপাত ১:৬ - ৭

  • হাঁস ও মাছের নিবিড় মিশ্র চাষে এক বিঘা পুকুরে ৪০ টি খাকি ক্যাম্বেল হাঁস এবং প্রায় ৮০০ - ১০০০ টি চারাপোনা প্রয়োজন