রঙিন মাছের চাষ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সূচনা |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
প্রাচীনকাল থেকেই মানবসভ্যতার ইতিহাসে মাছের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ খাদ্য দ্রব্য হিসাবে মাছের খাদ্যগুন মাছকে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলে সাহায্য করেছে৷ আবার বাহারী গুনের জন্য বহু মাছকে ঘর সাজানোর উপকরণ হিসাবে ব্যবহারও বহুকাল যাবত্৷ রোমান যুগে প্রথম মাছকে পোষ মানিয়ে কৃত্রিম জলাধারে রাখা হয় বলে অনেকের বিশ্বাস৷ তবে চীন ও জাপানে প্রায় ১০০০ বছর ধরে gold Fish এবং Koi Carp বাহারী মাছ হিসাবে ঘর সাজানোর কাজে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে৷ ক্রমে বিভিন্ন মাছ নানান রঙ ও বৈচিত্রের জন্য বিভিন্ন দেশে সমাদৃত হয়৷ মানুষের এই শখ বা নেশার চাহিদা পূরনের জন্য প্রথমের দিকে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে শুরু হলেও ক্রমবর্দ্ধমান চাহিদা পূরনের জন্য এর প্রজনন ও চাষ শুরু হয়৷ বর্তমানে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, ইজরায়েল, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে রঙিন মাছের ব্যবসায়িক ভাবে চাষ হচ্ছে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ভারতবর্ষে রঙিন মাছ পোষার শখ যথেষ্ট বৃদ্ধি হলেও এর ব্যবসানুযায়ী চাষ এখনও খুব একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি৷ মূলত প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে পোষা হয় বা রপ্তানী করা হয়৷ আমাদের দেশে বিভিন্ন জলাশয় নানা বৈচিত্রের মাছ বসবাস করে৷ বেশীরভাগ মাছের গুরুত্ব আমরা এখনও উপলব্ধি করতে পারিনি এবং সেগুলিকে আমরা অবহেলাভরে অবাঞ্ছিত মাছ ভেবে নষ্ট করে ফেলেছি বা ফেলা হচ্ছে কিন্তু এই সব দেশীয় রঙিন মাছের বিদেশের বাজারে যথেষ্ট কদর আছে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পশ্চিমবঙ্গে ব্যক্তি প্রচেষ্টায় রঙিন মাছের চাষ কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে যা কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করলে সহজেই উপলব্ধি করা যায়৷ বহু মানুষ রঙিন মাছ চাষের বিভিন্ন পর্যায়ের উপর তাদের পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছেন৷ কেউ প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে কেবল বাচ্চা সংগ্রহ করেন, কেউ শুধু মাছের বাচ্চা সংগ্রহ করে নিজ জলাশয়ে বা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পালন করে বিক্রি করেন৷ আবার কেউ কেঁচো বা ডাফনিয়া সংগ্রহ করে রঙিন মাছের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করেন৷ কেউ মাছের প্রজনন করে বাচ্চা উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত, আবার কেউ রঙিন মাছের আমদানি বা রপ্তানীর সঙ্গে যুক্ত৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়াম কি এবং কেন |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মানুষ মাত্রেই কিছু না কিছু শখ থাকে৷ মাছ পোষাও তেমনি একটা শখ৷ এ শখ অপরাপর কোন শখ থেকে কম বিচিত্র তো নয়ই বরং অনেক কিছুর থেকেই বেশী আকর্ষনীয়, আনন্দদায়ক ও পরিচ্ছন্নতায় শ্রেষ্ঠ৷ ভারতবর্ষ ক্রান্তীয় দেশের মধ্যে অন্যতম এবং আমাদের দেশের মত আবহাওয়া পৃথিবীর যে যে জায়গায় আছে সেখানের মিষ্টি ও নোনা জলাশয় বহু সংখ্যক রঙিন মাছের প্রাকৃতিক বিচরণ স্থান৷ এই সব মাছ সাধারণত কাঁচের তৈরী কৃত্রিম জলাধারে রাখা হয়, যা Aquariam নামে খ্যাত৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সাধারণত বাড়ীর বৈঠকখানায় Aquariam রাখা হয় ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াবার জন্য৷ এছাড়া কাঁচের তৈরী কৃত্রিম জলাধার মাছ সম্বন্ধে জানবার একটি গবেষণাগার৷ কৃত্রিম জলস্থান দেখবার আগ্রহে তাকিয়ে মানুষ ও মাছ সন্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কৃত্রিম জলাধারে মাছ পুষে আমরা জানতে পারি-- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মাছ কি খেতে ভালবাসে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়াম এর ভেতরের পরিবেশ ও আকোয়ারিয়াম সজ্জা |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
একটা জলাধারের তলার জীবন্ত দৃশ্য সকলের আকর্ষণ লাভ করতে বাধ্য৷ অবশ্য এর জন্য Aquariam কে সাজানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ৷ নীচের জিনিষগুলি এই সাজ-সজ্জায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
বালি- জলাধারের তলাতে মোটা বালি বিছিয়ে দিতে হবে৷ বালি বিছানোর সময় জলাধারের পেছন দিকে ২ ইঞ্চি পুরু থাকবে এবং ক্রমশ ঢালু হয়ে সামনের দিকে ১ ইঞ্চি হবে৷ এই ভাবে বালিকে ঢালু করে দেবার উদ্দেশ্য হলো সামনের দিক থেকে সমস্ত মাছ ও গাছ দেখা যাবে৷ দেখা যাবে অন্য যা কিছু দিয়ে Aquarium সাজানো হবে সব কিছু৷ এছাড়াও ময়লা যা কিছু জমা হবে সবই সামনের দিকে চলে আসায় সহজেই পরিস্কারের সুবিধা হবে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জলজ উদ্ভিদ- বালিতে কয়েকটি জলজ উদ্ভিদ বসিয়ে দেওয়া দরকার৷ গাছের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট রঙিন মাছ যখন খেলা করবে তখন দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে৷ তেমনি দিনের বেলায় দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহন করে বিনিময়ে অক্সিজেন গ্যাস উত্পাদন করে মাছেদের জীবন রক্ষায় অনেক- খানি সাহায্য করে৷ এছাড়া আকোয়ারিয়ামে গাছ পচন ও নাইট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে উত্পন্ন নাইট্রেট শোষন করে, বড় মাছের হাত থেকে ছোট মাছকে রক্ষা করে ও আশ্রয় দেয়, ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ প্রদান করে সাধারণত Aquarium এর পক্ষে উপযোগী গাছ হলো ভ্যালিসনেরিয়া৷ কারণ, এই জাতীয় গাছ জলের মধ্যে খুব সহজেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
এছাড়াও আরও কতকগুলি গাছ আকোয়ারিয়ামে ব্যবহার হয়৷ যেমন- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
গেঁড়ি ও ঝিনুক- জলের মধ্যে দু চারটে গেঁড়ি ও ঝিনুক ছেড়ে দেওয়া দরকার৷ এরা চৌবাচ্চায় বা জলাধারের ময়লা খেয়ে ফেলে৷ ফলে জল পরিস্কার থাকবে৷ তবে এদের বংশ বাড়তে দেওয়া উচিত হবে না৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
Aquarium- এর ভেতরে সাজানোর জন্য অথবা দূর থেকে যাতে দেখতে সুন্দর লাগে সেই কারণে বালির উপর নুড়ি সাজিয়ে রাখা যেতে পারে৷ কিন্তু এগুলি সংখ্যায় বেশী থাকা উচিত নয়৷ কারণ, এতে মাছের খাবার খুঁজে পেতে অসুবিধার সৃষ্টি হয়৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জল- Aquarium এ জল ভর্ত্তি করে দেবার পরই যেন মাছ ছাড়া না হয়৷ কমপক্ষে ৭ দিন অপেক্ষা করে তারপর মাছ ছাড়া চলতে পারে৷ Aquqrium এ যে জল দেওয়া হবে সেটা পুকুর অথবা বৃষ্টির জল হলে ভাল হয়৷ অবশ্য কলের জলও ব্যবহার করা যেতে পারে৷ সেক্ষেত্রে দেখতে হবে যাতে ক্লোরিন বেশী না থাকে৷ যে জলই ব্যবহার করা হোক না কেন, প্রতি গ্যালন জলের জন্য ৫ গ্রাম অথবা ছোট চায়ের চামচের এক চামচ খাবার নুন মিশিয়ে দেওয়া দরকার৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়াম রাখবার জায়গা |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
Aquarium এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে খুব আলো বাতাস পাওয়া যাবে৷ সাধারণভাবে Aquarium রাখা হয় বাড়ীর বৈঠকখানায় অথবা শোবার ঘরে৷ তবে যে জায়গাতেই রাখা হোক না কেন দেখতে হবে সরাসরি রোদ যেন না লাগে৷ Aquarium অন্যান্য ক্ষেত্রেও নানা ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷ যেমন-অফিসে ---- সৌন্দর্য বৃদ্ধি
করতে৷
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়াম পরিচর্যা |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কাঁচ পরিস্কার- Aquarium এর চার দেওয়ালের গায়ে এক ধরনের সবুজ শ্যাওলা জমা হয়৷ যদিও এই শ্যাওলা মাছেরা খেয়ে থাকে এবং ক্ষতিকারক নয়, তবুও মাঝে মাঝে পরিস্কার করা দরকার৷ কারণ, এতে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়৷ আর যে উদ্দেশ্যে করা অর্থাত্ মাছের দৃশ্য দেখা, সেটাও ব্যাঘাত ঘটে৷ সেই কারণে মাঝে মাঝে পরিস্কার কাপড় দিয়ে ভেতরের অংশ মুছে দেওয়া দরকার৷তলদেশের ময়লা পরিস্কার- Aquarium এর তলায় শ্যাওলা বা অন্যান্য ময়লা জমা হয়ে থাকে৷ মাসে অন্ততঃপক্ষে দু’ বার এই ময়লা পরিস্কার করা দরকার৷ দরকারে জল পাল্টানো জরুরী৷ জল পাল্টানো- জলের রং যদি ঘোলা হয়ে যায় অথবা বাদামী দেখায় তা হলে অবশ্যই জল পাল্টে দিতে হবে৷ওষুধ প্রয়োগ- Aquarium এর জল যাতে দূষিত না হয় এবং মাছের শরীরে ছত্রাক জনিত রোগের আক্রমণ না ঘটে তার জন্য মেথিলিন ব্লু সপ্তাহে একদিন চার ফোঁটা সকালের দিকে জলে প্রয়োগ করা দরকার৷অক্সিজেনের অভাব- অক্সিজেনের অভাব হলে Aquarium এর মাছেরা ঘন ঘন জলের ওপর দিকে উঠে অক্সিজেন নেবার চেষ্টা করে৷ মাছেদের এই রকম করতে দেখলেই জল সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিয়ে নতুন জল দিয়ে Aquarium ভর্তি করতে হবে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়াম পরিচর্যার ক্ষেত্রে কিছু লক্ষ্যনীয় বিষয়-স্বাভাবিক অবস্থায় আকোয়ারিয়ামের জলে কোন রকম দূর্গন্ধ থাকবে না৷ আকোয়ারিয়ামের ভেতরে উদ্ভিদ-এর রং সব সময় উজ্বল থাকবে৷ উদ্ভিদের কোন অংশে যদি পচন ধরে তবে তাত্ক্ষনিক সেই অংশ বাদ দিয়ে দিতে হবে৷ প্রয়োজনে সম্পূর্ণ গাছটি পাল্টে ফেলতে হবে৷ আকোয়ারিয়ামের জল সব সময় স্বচ্ছ বা হাল্কা সবুজ হবে৷ জলস্তরের উপরাংশে কোন রকম ময়লা- স্তর বা তৈলাক্ত পদার্থ থাকবে না৷ আকোয়ারিয়ামের ভেতরে বালি ব্যবহার করলে লক্ষ্য রাখতে হবে সেই বালিস্তর যেন সব সময় পরিস্কার থাকে৷ বালিস্তর যেন ঝুরঝুরে থাকে৷ সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় মাছ চনমনে থাকবে এবং পাখনা সোজা রেখে চলাফেরা করবে৷ মাছের পেট থেকে কালো সূতোর মত পায়খানা ঝুলবে না৷ আকোয়ারিয়ামের মধ্যে কোন মরা মাছ বা দূর্বল মাছ থাকবে না৷ রঙিন মাছ চাষের শুরুতেই যে তথ্যগুলি জানা দরকার এবং যা থেকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোনো যায় তা হল- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষের দরকারী কথা |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষের শুরুতেই যে তথ্যগুলি জানা দরকার এবং যা থেকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোনো যায় তা হল-* কি ধরনের মাছ পালন করা হবে৷* জলাধারের আয়তন অনুযায়ী মাছের মাপ ঠিক হচ্ছে কিনা৷* মিষ্টি জলের মাছ বা নোনা জলের মাছ৷* নির্বাচিত মাছ ক্রান্তীয় মাছ কিনা৷* মাছের বিশেষ প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও বসতি৷* মাছের সঠিক চাহিদা পূরণ সম্ভব কিনা৷
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষের উপকরণ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষে বেশ কিছু উপকরণ প্রয়োজন৷ উপকরণ নির্বাচনের সঠিকতা এবং সহজ প্রাপ্যতা রঙিন মাছ চাষে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কোথায় কিভাবে রঙিন মাছের চাষ শুরু করবেন |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
বাড়ীতে এক কাঠা জায়গা থাকলে কিংবা ছোট উঠোন হলে রঙিন মাছ যে কেউ চাষ করতে পারেন৷ সে জায়গা যদি নাও থাকে তবে ঘরের মধ্যে বা বাড়ীর ছাদে কৃত্রিম জলাধার বানিয়ে রঙিন মাছ চাষ করে কিছু আয় করা যায়৷ জলাধারগুলি আয়তাকার হলে ভাল৷ সাধারণত কাঁচ দিয়ে এই জলাধার বানানো হয়৷ আকোয়ারিয়ামের গভীরতার উপর কাঁচের থিকনেস কম বা বেশী করতে হয়৷ সাধারণত ১৬-১৮ ইঞ্চি গভীরতার জন্য ১/৪ ইঞ্চি পুরু প্লেট কাঁচ, ১৯-২২ ইঞ্চির জন্য ৩/৮ ইঞ্চি পুরু প্লেট কাঁচ এবং ২৩-৩০ ইঞ্চি গভীরতার জন্য ১/২ ইঞ্চি পুরু প্লেট কাঁচ ব্যবহার করতে হয়৷ সিমেন্টের চৌবাচ্চা কৃত্রিম জলাধার রূপে ব্যবহার করলে ৩-৫ ইঞ্চি দেওয়ালই যথেষ্ট৷ প্লাস্টিকের চাদর দিয়েও জলাধার বানিয়ে রঙিন মাছের চাষ সম্ভব৷ জলাধার কত বড় বানাতে হবে তা নির্ভর করে একসাথে কতগুলো মাছ চাষ করা হবে তার উপর৷ মাছের চারা মজুত সংখ্যা নির্ভর করে জলাধারের উপরিতলের ক্ষেত্রফলের উপর৷ সাধারণত মিষ্টি জলের মাছের ক্ষেত্রে (লেজ বাদ দিয়ে) প্রতি সেন্টিমিটার মাছের জন্য ২০ বর্গ সেন্টিমিটার জায়গা প্রয়োজন৷ চৌবাচ্চা মাটির নীচে অর্থাত জমির সমতল থেকে নীচে করা উচিত নয়৷ তাতে নিয়মিত জল পরিবর্তন করতে অসুবিধা হবে এবং জল নিষ্কাশনের জন্য পাম্প ব্যবহার করার দরকার হবে৷ তাই চৌবাচ্চা জমির সমতল থেকে একটু উঁচুতে করাই ভাল৷ সাধারণত রঙিন মাছের চাষে চৌবাচ্চার মাপ লম্বায় ২ মিটার, চওড়ায় ১ মিটার এবং গভীরতায় ০.৫ মিটার করা ভালো৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
বিভিন্ন প্রকার রঙিন মাছের সাধারণ পরিচয় |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ বলতে আমরা সাধারণভাবে বিদেশী রঙিন মাছ যেমন সোর্ডটেল, প্লাটি, মলি, আনজেল, ডিসকাস্, ফাইটার, গোল্ডফিস, টাইগার শার্ক, সিলভার শার্ক, টাইগার বার্ব প্রভৃতি মাছের কথা ভাবি৷ কিন্তু আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সুন্দর রঙ ও বৈচিত্র্য, শান্ত স্বভাব, সাধারণ খাবার খাওয়ার স্বভাব ও ছোট আবদ্ধ স্থানে সহজে থাকতে পারার কারণে বিদেশের বাজারে ইন্ডিয়ান আকোয়ারিয়াম ফিস হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে৷ সাধারণত ভারতের যে মাছগুলি দেশে ও বিদেশে রঙিন মাছ হিসেবে সমাদৃত তা নীচে দেওয়া হল- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছের প্রজনন |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছের প্রজনন বিভিন্ন প্রজাতির জন্য বিভিন্ন রূপ৷ যাই হোক প্রজননের বৈশিষ্ট অনুযায়ী রঙিন মাছকে মূলত বাচ্চা পাড়া বা অন্তজ জনন (Live bearer) গোষ্ঠী ও ডিম পাড়া বা অন্ডজ জনন (Egg layar) গোষ্ঠীতে ভাগ করা যায়৷ বাচ্চা পাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে গাপ্পি, সোর্ড টেল, মলি, প্লাটি, গাম্বুসিয়া উল্লেখযোগ্য এবং ডিমপাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে পুঁটি, খলসে, চাঁদা, পায়রাচাঁদা, জেব্রা, দাঁড়কে, ট্যাংরা, মৌরলা, ঘুঁতে, ভুতো বেলে, আনজেল, ডিসকাস, ফাইটার, টেট্রা, শার্ক এবং গোল্ডফিস৷ আবার ডিমপাড়া গোষ্ঠীর স্বকীয় বৈশিষ্টের জন্য এদেরকে চারটি ছোট দলে ভাগ করা যেতে পারে- আলগা ডিম পাড়ে এমন দল৷ যেমন- জেব্রা৷ আঠালো ডিম পাড়ে এমন দল৷ যেমন- গোল্ডফিস, বিভিন্ন জাতের পুঁটি, টেট্রা৷ বাবল নেষ্টের মধ্যে ডিম পাড়ে এমন দল৷ যেমন- খোলসে, ফাইটার, গোরামী৷ আঠালো ডিম যত্ন নিয়ে পাড়ে এমন দল৷ যেমন- আনজেল, ডিসকাস্৷ Live bearing মাছেদের বাচ্চা তোলা খুবই সোজা৷ এরা প্রায় বারো মাসেই বাচ্চা দেয়৷ দেখা যায় এরা বেশীর ভাগ একাদশী, আমাবস্যা, পূর্ণিমা এইসব দিনে বাচ্চা দেয়৷ বাচ্চা ছাড়তে আরম্ভ করলে সাধারণত ৪ ঘন্টার মধ্যে সব বাচ্চা ছেড়ে দেয়৷ এই জাতের মাছেরা যখন বাচ্চা দিতে আরম্ভ করে তখন তিনবার পর পর ২০-২১ দিন বাদে বাদে দেয়৷ অনেক সময় মাছেরা নিজেদের পেট ভরা খাবার না পেলে নিজেদের বাচ্চাদের খেয়ে ফেলে৷ Live bearing মাছেদের পুরুষ ও স্ত্রী চেনা খুব সহজ৷ পুরুষদের পেটের কাছে একটি ছুঁচালো পাখনা হয় যাকে ইংরাজীতে Gonopodium বলে, স্ত্রী মাছেদের পাখনা গোল হয় এবং মোটা পেটে কালো দাগ দেখা যায় যাকে Gravid spot বলে৷সারা বছর ধরে গাপ্পি ও গোল্ড ফিসের প্রজনন ও চাষ করা হয়৷ যদিও শীতে গাপ্পি কম বাচ্চা দেয় ও গ্রীষ্মে গোল্ডফিস কম ডিম পাড়ে৷ শীতকালের প্রজননের জন্য আদর্শ-মাছ হচ্ছে গোল্ড ফিস, কই কার্প, ম্যানিলা কার্প, ক্যাট ফিস ইত্যাদি৷ গ্রীষ্মকালে টাইগার বার্ব, রোজীবার্ব, উইডো টেট্রা, শার্পে টেট্রা, সোর্ডটেল, মলি, প্লাটি প্রজনন করানো ভাল৷ বর্ষাকালে পার্ল গোরামী, কিসিং গোরামী, ডোয়ার্ফ গোরামী, ব্লু চিকলিড, জেব্রা চিকলিড, টেট্রা, টাইগার বার্ব করা ভাল৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
![]() |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষের বিভিন্ন ধাপ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছের চাষ ব্যাপক, প্রায় নিবিড়, নিবিড় বিভিন্ন পদ্ধতিতে হয়৷ তবে যে কোন চাষে সাধারণ যে বিষয়গুলির উপর নজর দিতে হয় তা হল- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জলাধার প্রস্তুতি- কাঁচ, সিমেন্টের চৌবাচ্চা বা প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে জলাধার তৈরীর পর জল ভর্তি করে ৩-৪ দিন রেখে দেবেন৷ জলাধার-এর উপর আচ্ছাদন থাকা ভাল৷ তবে ভাল আলো বাতাস যাতে লাগতে পারে সে দিকেও নজর দিতে হবে৷ পুকুরের জল, বৃষ্টির ধারা বা কলের জল, যেটা সুবিধে হয় চৌবাচ্চায় ব্যবহার করা যেতে পারে৷ মাছ ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে প্রতি পাঁচ গ্যালন জলে ৫ শতাংশ মেথিলিন ব্লু এক ফোঁটা ও লবন চায়ের চামচের ২চামচ মিশিয়ে দিতে হবে৷মাছের চারা সংগ্রহ ও মজুত- জেব্রা, খলসে, ঘুঁতে, পুঁটি, ব্যাডিস প্রভৃতি দেশী মাছের বাচ্চা৷ সাধারণত এর প্রাকৃতিক বাসস্থান খাল, বিল, পুকুর, নদী, নালা, ধানক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হয় আর গোল্ড ফিস, প্লাটি, মলি, আনজেল ইত্যাদি বিদেশী মাছের বাচ্চা হাওড়া বা কলিকাতার হাতিবাগান বাজারে পাওয়া যায়৷ এছাড়া বাড়ীতে প্রজনন ঘটিয়েও এ মাছের চারা চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়৷ মাছ নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সমস্ত মাছ আপনি একত্রে এক চৌবাচ্চায় ছাড়তে চান তারা এক সঙ্গে থাকবার উপযুক্ত মাছ কিনা৷ মাছের চারা চৌবাচ্চায় ছাড়ার আগে অবশ্যই শোধন করে নেওয়া উচিত যাতে রোগ জীবাণু থাকলে নষ্ট হয়৷ চাষের জন্য চারা সর্বদা সুস্থ, সবল এবং ক্ষতশূন্য হওয়া দরকার৷ রুগ্ন বা অপুষ্ট চারা বেছে বাদ দেওয়াই ভাল৷ চারা শোধন করার জন্য সাধারণত পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (Potassium permanganate) ব্যবহার করা হয়৷ ১০ লিটার পরিষ্কার জলে আঙ্গুলের এক টিপ (FingerTip) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে মাছের চারাগুলি ৫ থেকে ১০ মিনিট ওই জলে রেখে পরে পরিষ্কার জলে ধুয়ে চৌবাচ্চায় ছাড়তে হয়৷ মাছের খাবার প্রয়োগ- রঙিন মাছ কৃত্রিম জলাশয়ে পালন করা হয় তাই মাছের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য প্রয়োগ করা জরুরী৷ সঠিক খাদ্যের উপর মাছের রং, বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রজনন নির্ভর করে৷ যদিও মাছকে বাজারের বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম খাদ্য দেওয়া হয় তবুও জীবন্ত খাদ্য (Live food) একান্ত প্রয়োজন৷ রঙিন মাছের জন্য বিভিন্ন প্রকার জীবন্ত খাদ্য নিম্নরূপ- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ব্রাইন শ্রিম্প (Brine shrimp)- নোনা জলের এই কবচী প্রাণী যেমন আর্টিমিয়া স্যালিনা (Artemia salina) সদ্য জন্মানো বাচ্চা মাছের খুবই প্রিয় খাদ্য৷ইনফুসুরিয়ান্স (Infusorians)- এককোষী এই প্রাণী যেমন প্যারামেসিয়াম যা সমস্ত জলাশয়ে পাওয়া যায় তা বাচ্চা মাছের প্রথম খাদ্য (First food) রূপে বিশেষ সমাদৃত৷ওয়াটার ফ্লি (Water flea)- ক্ষুদ্র এই কবচী খাদ্য কণার মধ্যে ডাফনিয়া ও সাইক্লপস উল্লেখযোগ্য৷ বড়গুলি পরিণত মাছের জন্য এবং বাচ্চাগুলি ঘন কাপড়ে ছেঁকে নিয়ে সদ্য জন্মানো ছোট্ট মাছকে খাওয়ানো হয়৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
স্লাডজ ওয়ার্মস (Sludge worms)- টিউবিফেক্স এক সমাকৃতি পাঁকের কৃমি সব রঙিন মাছের খুবই প্রিয় খাদ্য৷ কেঁচো (Earth worms)- জীবন্ত কেঁচো অথবা কুঁচানো কেঁচো রঙিন মাছের যথেষ্ট প্রিয় খাদ্য৷ব্লাড ওয়ার্ম (Blood worms)- পতঙ্গ শ্রেণীর জলজ দশার লার্ভাগুলি আকোয়ারিয়াম মাছের বিশেষ খাদ্যরূপে চিহ্নিত৷ যে খাবারই দিন খুব অল্প পরিমাণে দেবেন যা মাছেরা দশ মিনিটের মধ্যে খেয়ে নিতে পারে৷ রোজ সকালে ও বিকালে খেতে দিতে পারলে সবচেয়ে ভাল৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
জল পরিবর্তন- নিয়মিত জল পরিবর্তন রঙিন মাছ চাষের জন্য একান্ত প্রয়োজন৷ খাবার বেশী দিলে, মাছেরা সব খাবার খেয়ে উঠতে পারে না বলে অবশিষ্ট খাবার পচে জল নষ্ট করে৷ এছাড়া মাছের বর্জ্য পদার্থ পড়ে জল ধীরে ধীরে খারাপ হয়৷ জল খারাপ হবার চিহ্ন হল, জলের অক্সিজেনের অভাব হওয়ায় সমস্ত মাছেরা উপরে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেবার চেষ্টা করে৷ এ রকম অবস্থা দেখলে তত্ক্ষণাত চৌবাচ্চার জল পাল্টে দেবেন৷জলে বায়ু সঞ্চালন করা- চৌবাচ্চায় যদি বায়ু সঞ্চালন বা হাওয়ার বন্দোবস্ত করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়৷ হাওয়া বৈদ্যুতিক মোটর ও পাম্পের সাহায্যে দেওয়া যায়৷ হাওয়া দেওয়ার বন্দোবস্ত করলে অক্সিজেনের অভাব পড়বে না ও সাধারণত চৌবাচ্চায় যা রাখবার নিয়ম তার চতুর্গুন মাছ রাখতে পারবেন৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছের বিভিন্ন প্রকার রোগ ও তার প্রতিকার |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে এ মাছের রোগ বিশেষ কিছু হয় না৷ মাছের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কয়েকটি বিশেষ করনীয় কাজ৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষে সচরাচর যে রোগগুলি বা সমস্যা দেখা যায় তা হল- |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সাদা দাগ রোগ- এই রোগে মাছের সারা গায়ে আলপিনের ডগার মত সাদা দাগ দেখা যায়৷ ঋতু পরিবর্তনের সময় এই রোগ বেশী হয়৷ সাধারণত ডিসকাস, সিবোরাম, টাইগার শার্ক, ক্রোকোডাইল, পায়রাচাঁদা বেশী আক্রান্ত হয়৷ জলের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত বাড়ানো গেলে এই রোগ থেকে মাছের নিরাময় হয়৷ এছাড়া, আক্রান্ত মাছকে ম্যালাকাইট গ্রীন বা তুঁতে বা লবন জলে স্নান করালে সুফল পাওয়া যায়৷ মাউথ ফাঙ্গাস- এই রোগে মাছেদের ঠোঁট সাদা হয়ে যায় এবং মাছ খুব দূর্বল হয়ে পড়ে৷ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা যায়৷ আনজেল, মলি, প্লাটি, সোর্ডটেল এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়৷ প্রতি লিটার জলে ১০,০০০ আই.ইউ (IU) হিসাবে পেনিসিলিন প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়৷লেজ ও পাখনা পচা রোগ- এই রোগে মাছের লেজ ও পাখনা পচে খসে পড়ে৷ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এই রোগ বেশী দেখা যায়৷ আনজেল, সিবোরাম, কিসিং গোরামী, সোর্ড টেল এই রোগে সহজে আক্রান্ত হয়৷ জলাধারের জলে অক্সিটেট্রাসাইক্লিন প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়৷ড্রপসি- মাছের শরীরের মধ্যে জল জমে সমস্ত দেহ অস্বাভাবিক ফুলে যায়৷ আঁশ খাড়া হয়ে ওঠে৷ আঁশ উঠে গিয়ে ঘাও দেখা যায়৷ আক্রান্ত মাছকে আলাদা পাত্রে রাখতে হবে এবং সেই জলে ক্লোরোমাইসেটিন ক্যাপসুল গুলে স্নান করতে হবে৷ছত্রাক ঘটিত রোগ- এই রোগে মাছের গায়ে তুলোর মত জিনিস লেগে থাকতে দেখা যায়৷ আক্রান্ত মাছকে আলাদা জলাধারে রেখে ম্যালাকাইট গ্রীন বা লবন গোলা জলে স্নান করাতে হবে৷হাইড্রা ঘটিত সমস্যা- অনেক সময় নুড়ি, কাঁচের গায়ে অথবা গাছের পাতায় সাদা সুতার মত প্রায় আধ ইঞ্চি লম্বা প্রাণী দেখা যায়৷ এদের মুখের দিকে ৫-৬ টা ডাল থাকে৷ এরা সাধারণত বাচ্চা মাছ খেয়ে থাকে৷ কোন বাচ্চা মাছ ডালগুলির ভিতর এসে পড়লেই ডালগুলি গুটিয়ে তাদের ধরে ফেলে৷ ব্লু অথবা কসবী গোরামী জলাধারে ছাড়লে খুঁটে খুঁটে সব হাইড্রা খেয়ে নেবে৷পায়খানা কষে যাওয়া- মাছেদের পায়খানা পরিষ্কার না হওয়ার সমস্যাও মাঝে মাঝে দেখা যায়৷ এসময়ে মাছেদের পেট থেকে কালো সুতার মতন পায়খানা ঝুলতে থাকে৷ পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাফনিয়া খাওয়ালে পায়খানা পরিষ্কার হবে এবং মাছ সুস্থ থাকবে৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
আকোয়ারিয়ামে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় প্রধান কিছু ওষুধ এবং তাদের ব্যবহার বিধি |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছ চাষের আয় ব্যয় |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
রঙিন মাছের চাষ শুরু করতে হলে প্রথমেই গাপ্পি, সোর্ডটেল, মলি বা প্লাটি দিয়ে শুরু করা ভাল৷ এই মাছ খুব কষ্ট সহনশীল, সহজে প্রজনন করে এবং পালন করাও সহজ৷ বেকার ভাই-বোনেরা এবং গ্রাম ও শহরের মায়েরাও এই মাছের চাষ শুরু করে বাড়তি আয় করতে পারেন৷ একটু সচেষ্ট হলেই প্রতি মাসে আনুমানিক ২,৫০০.০০ - ৪,৫০০.০০ টাকা সহজেই আয় করা সম্ভব৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ক্যাপটেন ভেড়ি মত্স্য গবেষণাগারের পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মাছ পরিবহনের সময় মাছেদের বিভিন্ন কারণে শ্রান্তি (Stress) হতে পারে৷ শ্রান্তি (Stress) বেশী হলে মাছ দূর্বল হয়ে মারা পর্যন্ত যায়৷ এক্ষেত্রে Valium 5 (৫) ppm - 6 (৬) ppm হারে জলে মিশিয়ে দিয়ে সেই জলে মাছ পরিবহন করলে মাছের শ্রান্তি (Stress) কম হয় ও বাঁচার হার বৃদ্ধি পায়৷ যে কোন মাছকে সুদীর্ঘ পথ পরিবহনের পর তাদের শ্রান্তি (stress) কমানোর জন্য ১৫ লিটার জলে ১টি আসপিরিন জাতীয় ট্যাবলেট দিয়ে সেই জলে তাদের ঘন্টাখানেক ছেড়ে রাখলে মাছ সুস্থ হবে তাড়াতাড়ি৷ কোন মাছকে প্রয়োজন সাপেক্ষে হাতে ধরে নাড়াচাড়া করতে হলে তাকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হতে পারে৷ এক্ষেত্রে ৩৬-৪০ পি.পি.এম (ppm) হারে Clove oil (লবঙ্গ তেল) ব্যবহার করলে ভাল কাজ পাওয়া যায়৷ চিকিত্সার জন্য বড় মাছকে এইভাবে অজ্ঞান করে ইনজেকসন দেওয়া সহজ হবে৷ কিন্তু একটা বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে বিড়াল মাছের (Cat Fish) ওপর Clove oil সেরকম একটা প্রভাব ফেলতে পারে না৷ মাছের গায়ে ছত্রাক আক্রমণ করলে কিটোকোনাজল বা ফ্লুকোনাজল গ্রুপের ঔষধ (যেমন সিসকান) ১৫ লিটার জলে একটি ট্যাবলেট গুলে মাছকে ১৫-২০ মিনিট রেখে তুলে নিলে উপকার পাওয়া যায়৷ অনেক সময় মাছের গায়ে অসংখ্য সাদা বুটি (White Spot) বেরোতে দেখা যায়৷ এরকম হলে আকোয়ারিয়ামের জলে ব্রাইন শ্রিম্প ছেড়ে দিন৷ এরা মাছকে ঐ রোগের হাত থেকে সারিয়ে তুলবে৷ পরিণত মাছকে জ্যান্ত কেঁচোখাওয়ালে প্রজননে ভালো ফল পাওয়া যায়৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সবশেষে মনে রাখা দরকার যে, মাছের রোগ যাই রোগ হোক না কেন, রোগাক্রান্ত মাছ যতশীঘ্র সম্ভব অন্য জলাধারে সরিয়ে সেই ট্যাঙ্কে যথেষ্ট অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করে প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করতে হবে৷ মাছটিকে তখনই মূল জলাধারে ফিরিয়ে দেবেন যখন নিশ্চিত হবেন যে মাছটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে৷ নতুন মাছ জলাধারে ছাড়ার আগে ০.০১ পি.পি.এম মিথিলিন ব্লু দ্রবণে ৩০ মিনিট রেখে ছাড়লে বাইরে থেকে আনা নতুন কোন রোগ সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়৷ তবে সব চেয়ে বড় কথা হ’ল আকোয়ারিয়ামের প্রাণীদেরকে ভালবাসা এবং গভীর পর্যবেক্ষণ, যার সাহায্যে অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়৷ কেননা কোন সন্দেহ নেই আপনার আকোয়ারিয়ামের পুষ্যিরাই তাদের অস্বাভাবিক ব্যবহার দিয়ে আপনাকে সিস্টেম এর গন্ডগোল সম্পর্কে সচেতন করে দেয়, জানিয়ে দেয় তার শরীরে সবে আশ্রয় নেওয়া রোগের কথা৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
কিছু তথ্য |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা শহরের গ্যালিফ স্ট্রীটে প্রতি রবিবার বোধহয় রঙিন মাছের সবচেয়ে বড় হাট বসে৷ এখানে আসছে White milk চিকলিড, ব্যানানা চিকলিড, জাকু, সিলভার সার্ক, চেন্নাইয়ের ব্লু আরাগাস, সিলভার ডলার, মোনো আঞ্জেল, আসাম থেকে জেব্রা (নদীর মাছ), সিঙ্গাপুর থেকে সিঙ্গাপুর অস্কার, কাকদ্বীপ থেকে সার্জেন্ট মাছ, পাফার এরকম আরো অনেক নিত্য নতুন মাছ৷ মাছ বিক্রি করছেন সুপ্রিয় রায় ডানকুনি থেকে, অসিত দে বরানগর থেকে, ভাস্কর দাস কাকদ্বীপ থেকে এবং এরকম অসংখ্য যুবক৷ কোন প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই তারা রোজগারের খাতিরে জানেন অনেক তথ্য৷ প্রতিদিন সংযোজিত হচ্ছে আরও নতুন তথ্য৷ কিন্তু এরা সবাই মিলে এখনও পর্যন্ত তথ্য আদান প্রদান করার মত জায়গা বা ব্যবসায়িক সংগঠন তৈরী করতে পারেন নি৷ এর ফলে সম্পদ অনুযায়ী দেশ এবং বিদেশের ক্রেতাদের জন্য বাজার এখনও তৈরী হয়নি৷ রঙিন মাছ ও তার চাষ সম্পর্কে শেষ কথা কোনদিনই বলা যাবে না৷ আশা রাখি সম্পূর্ণ বাস্তব প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক ভাবে রঙিন মাছ চাষীদের কাছে কিছুটা পথনির্দেশিকার কাজ করবে৷ উত্সাহী আকোয়ারিস্ট / জলবাগানের মালীরা আগে বিশদ পড়াশুনা এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সুসংহত উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবেন এমনই এক বাস্তব স্বপ্নের শুভেচ্ছা থাকলো৷ এই একুশ শতকে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার দুজনেই এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা, আর্থিক অনুদান দিতে শুরু করেছেন৷ এটাই আশার কথা৷ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||