জলকৃষিতে ব্যবহৃত দ্রব্যের গুণগত মান
|
জলকৃষিতে ব্যবহার্য্য
দ্রব্যের মান
|
জলকৃষিকে পরিবেশ বন্ধু এবং
স্থিতিশীল করবার লক্ষ্যে গুণমানের দ্রব্য ব্যবহার করা খুবই অপরিহার্য׀
যা-হোক, জলকৃষিতে ব্যবহার্য দ্রব্যের উত্পাদক, বিক্রেতা এবং ব্যবহারকারিদের
নিয়ন্ত্রনের কোনও সঠিক ব্যবস্থা নেই, অনেক পণ্যচিহ্নের দ্রব্য জলকৃষিতে
ব্যবহার করা হচ্ছে, যদিও জলজপ্রাণী ও তার বাস্তুতন্ত্রের উপর ঐ সব ব্যবহৃত
দ্রব্যের কার্যকারী ক্ষমতা / উপকারীতা সম্বন্ধে একেবারেই অজানা׀ আমাদের পদ্ধতিতে অন্য একটা ফাঁকও রয়ে গেছে যে,
চাষী জলকৃষিতে ব্যবহারের দ্রব্য ঠিকমত নির্ণয় করতে পারে না কারণ ঐ সব
দ্রব্যের মান ও বাছবার জন্যে কোনও নির্দিষ্ট নিয়মাবলি বা নির্দেশিকা নেই׀
|
জলকৃষিতে ব্যবহার্য
দ্রব্যের মান, চিংড়ি চাষীদের স্থায়ী ও দায়িত্ববান জলকৃষি চালু রাখবার পক্ষে
সহায়ক হবে׀
|
অনুমোদিত মানগুলি হল-
|
১) চিংড়ি বীজ-
|
ক) ভাইরাস- চিংড়ির বীজ
সবসময় যে কোনও ভাইরাস মুক্ত হতে হবে, যা নির্ণয়ের জন্য প্রাপ্ত নির্ণায়ক কিট
অথবা পি.সি.আর. পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে׀
|
খ) অন্য মান
|
ভিবরিও হারভি
|
থাকবে না
|
জুথামনিয়াম
|
থাকবে না
|
পীড়ন পরীক্ষা (লবণতা)
|
১০০ পি.পি.এম.
ফরামালিনে ৯৫ শতাংশ বেঁচে থাকবে׀ লবণতা-৩০ পিপিটি থেকে ১৫পিপিটিতে কমিয়ে আনা-
২ঘন্টায় কোনও বীজ মরবে না׀
|
|
বীজ পরীক্ষার সুবিধা
|
প্রতি হ্যাচারীতেই বীজ
পরীক্ষার সুবিধা রাখতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অন্য পরীক্ষাগার থেকেও
পরীক্ষা করা যেতে পারে যেমন- এম.পি.ই.ডি.এ., সি.এম.এফ.আর.আই., সি.আই.বি.এ.,
সি.আই.এফ.ই., এবং নির্বাচিত কিছু ফিশারিজ কলেজ׀ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
আকোয়েটিক রিসোর্স হেল্থ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, পৈলান, দক্ষিণ ২৪পরগণা׀
|
২) চিংড়ির খাদ্য
|
স্থিতি মাপ
|
খাদ্য
|
স্টার্টার
|
গ্রোয়ার
|
ফিনিশার
|
অসংশোধিত প্রোটিন (শতকরা)
|
৪০-৪৫
|
৩০-৩৫
|
৩০-৩৫
|
প্রোটিন বর্জিত নাইট্রোজেন (শতকরা)
|
<০.২
|
<০.২
|
<০.২
|
স্নেহ পদার্থ (শতকরা)
|
৬-৮
|
৬-৮
|
৬-৮
|
অসংশোধিত তন্তু (শতকরা)
|
৩-৪
|
৩-৫
|
৩-৫
|
বিপাকীয় শক্তি
(কিলোক্যালোরি / কিলোগ্রাম খাদ্য)
|
৩২০০-৩৬০০
|
৩২০০-৩৬০০
|
৩২০০-৩৬০০
|
ফ্যাটি আসিড সমূহ
লিনোলেয়িক আসিড +
লিনোলেয়িক আসিড (শতকরা)
|
০.৫
|
০.৫
|
০.৫
|
আইকোসাপেনটেনোয়িক আসিড
(EPA)
এবং ডেকোসাহেকসানোয়িক আসিড
(DHA%)
|
০.৫
|
০.৫
|
০.৫
|
ফসফোলিপিড (লেসিথিন) (শতকরা)
|
১
|
০.৪
|
০.৪
|
কোলেস্টেরল (শতকরা)
|
০.৫
|
০.২
|
০.২
|
আস্টাজানথিন (পি.পি.এম)
|
-
|
-
|
২০০
|
আবশ্যক আমিনো আসিড সমূহ
অর্জিনিন (শতকরা)
|
২.০৩-২.৩২
|
১.৭৪-২.০৩
|
১.৭৪-২.০৩
|
আইসোলিউসিন (শতকরা)
|
১.২২৫-১.৪
|
১.০৫-১.২২৫
|
১.৭৪-২.০৩
|
মেথিয়োনিন (শতকরা)
|
০.৮৪-০.৯৬
|
০.৭২-০.৮৪
|
০.৭২-০.৮৪
|
ফিনাইল আলানিন ও টাইরোসিন (শতকরা)
|
১.৮৯-২.১৬
|
১.৬২-১.৮৯
|
১.৬২-১.৮৯
|
ফিনাইল আলানিন (শতকরা)
|
১.৪-১.৬
|
১.২-১.৮
|
১.২-১.৪
|
ট্রিপটোফোন (শতকরা)
|
০.২৮-০.৩২
|
০.২৪-০.২৮
|
০.২৪-০.২৮
|
হিষ্টিডিন (শতকরা)
|
০.৭৩৫-০.৮৪
|
০.৬৩-০.৭৩৫
|
০.৬৩-০.৭৩৫
|
লাইডিন (শতকরা)
|
১.৮৫৫-২.১২
|
১.৫৯-১.৮৫৫
|
১.৫৯-১.৮৫৫
|
থ্রিয়োনিন (শতকরা)
|
১.২৬-১.৪৪
|
১.০৮-১.২৬
|
১.১৮-১.২৬
|
ভ্যালিন (শতকরা)
|
১.৪-১.৬
|
১.২-১.৪
|
১.২-১.৪
|
ভিটামিন সমূহ
ভিটামিন-এ (আই.ইউ)
|
>৫০০
|
>৫০০
|
>৫০০
|
ভিটামিন-ডি৩ (আই.ইউ)
|
>১০০০
|
>১০০০
|
>১০০০
|
ভিটামিন-ই (আই.ইউ)
|
>২০০
|
>২০০
|
>২০০
|
ভিটামিন-কে (মি.গ্রা.)
|
>১০
|
>১০
|
>১০
|
|
জলে দ্রবীভূত ভিটামিন
ভিটামিন-সি (আসকরবিল পলিফসফেট)
(মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
৩০০-র
কম নয়
|
৩০০-র
কম নয়
|
৩০০-র
কম নয়
|
সায়ানাকোবালমিন বি ১২(মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
০.১
|
>
০.১
|
>
০.১
|
বায়োটিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
১
|
>
১
|
>
১
|
কোলিন (কোলিন ক্লোরাইড)
(মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৬০০
|
>
৬০০
|
>
৬০০
|
ফোলিক আসিড (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৫
|
>
৫
|
>
৫
|
ইনোসিটল (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
২০০
|
>
২০০
|
>
২০০
|
নিয়াসিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
১০০
|
>
১০০
|
>
১০০
|
প্যান্টোথেনিক আসিড (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৭০
|
>
৭০
|
>
৭০
|
পাইরিকডসিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৩০
|
>
৩০
|
>
৩০
|
রাইবোফ্লোভিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৩০
|
>
৩০
|
>
৩০
|
থিয়ামিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
>
৫০
|
>
৫০
|
>
৫০
|
মিনারেল এবং অনু পদার্থ সমূহ
ক্যালসিয়াম (শতকরা)
|
<
১.২
|
<
১.২
|
<
১.২
|
ফসফরাস (প্রাপ্ত ফসফরাস) (শতকরা)
|
<
১
|
<
১
|
<
১
|
ম্যাগনেশিয়াম (শতকরা)
|
<
০.০৬
|
<
০.০৬
|
<
০.০৬
|
তাম্র (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
২৫
|
<
২৫
|
<
২৫
|
ম্যাঙ্গানিজ (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
২০
|
<
২০
|
<
২০
|
দস্তা (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
৫০
|
<
৫০
|
<
৫০
|
লৌহ (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
১০
|
<
১০
|
<
১০
|
কোবাল্ট (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
১০
|
<
১০
|
<
১০
|
সেলেনিয়াম (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
১
|
<
১
|
<
১
|
আয়োডিন (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
৫
|
<
৫
|
<
৫
|
সোডিয়াম (শতকরা)
|
০.৬
|
০.৬
|
০.৬
|
পটাশিয়াম (শতকরা)
|
০.৯
|
০.৯
|
০.৯
|
গন্ধক (মি.গ্রা. / কে.জি. খাদ্য)
|
<
২০০
|
<
২০০
|
<
২০০
|
কীটনাশক সমূহ
অলড্রিন এবং ডাই অলড্রিন
(মাইক্রোগ্রাম / কে.জি. খাদ্য)
|
<
০.০০৩
|
<
০.০০৩
|
<
০.০০৩
|
বি.এইচ.সি. (মাইক্রোগ্রাম / কে.জি.
খাদ্য)
|
<
০.০৪
|
<
০.০৪
|
<
০.০৪
|
ডি.ডি.টি. (মাইক্রোগ্রাম / কে.জি.
খাদ্য)
|
<
০.০০১
|
<
০.০০১
|
<
০.০০১
|
পুষ্টি প্রতিবন্ধক পদার্থ
আফোটকসিন (পিপিবি)
|
<
২০
|
<
২০
|
<
২০
|
|
গুণগত পরিমাপের পরিবেশ-
CMFRI, CIBA, NATIONAL INSTITUTION OF
ANIMAL NUTRITION & PHYSIOLOGY ব্যাঙ্গালোর
ইত্যাদি খাদ্যের গুণমান নির্ধারণে
সক্ষম׀
CIFT
কীটনাশক
নির্ধারণ করতে পারে׀
CDRL
লাখনৌ এবং মহিশূর, আন্টিবায়োটিকের মান নির্ণয়
করতে পারে׀
MPEDA /EIA /CIBA
আকোয়াটিক রিসোর্স হেল্থ
ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, মত্স্য দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পৈলান, দক্ষিণ
২৪পরগণা ইত্যাদিকেও ব্যবহার করা যেতে পারে কারণ তাদের পরিক্ষাগারে সব রকম
যন্ত্রপাতি আছে যার মাধ্যমে উক্ত সকল পরীক্ষা করা যায়׀
|
ক) জিয়োলাইট- জিয়োলাইট
সাধারণত পুকুরের তলদেশ থেকে বিষপূর্ণ গ্যাস যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড ও
আমোনিয়াকে নির্মূল করতে ব্যবহার করা হয়׀
মোটামুটি ৫০রকমের জিয়োলাইট পাওয়া যায়׀ আয়নের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষপূর্ণ গ্যাসকে শোধন করতে
জিয়োলাইটের ক্ষুদ্র রন্ধ্র এবং কেলাস মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে׀
|
তাই সামুদ্রিক জলের পরিবেশে
জিয়োলাইটের ব্যবহার এবং তার কার্যক্ষমতা সন্দেহজনক׀ যাইহোক, খবরাখবরের উপর
ভিত্তি করে, কমিটি জিয়োলাইটের উপাদানের নিম্নে বর্ণিত শতকরা মাত্রা নির্ধারণ
করেছেন׀
|
পোড়া চুন
|
শতকরা ১৫ - ১৮
|
আলুমিনা
|
শতকরা ১৮ - ২২
|
সিলিকন ডাই অকসাইড
|
শতকরা ৫০ - ৬৫
|
|
খ) উপাদানের সঙ্গে
অক্সিজেনের যৌগিক মিশ্রণ- প্রাথমিক ভাবে পুকুর তৈরীতে এটা জৈবিক পদার্থের
প্রাচুর্য্যকে কমাতে ব্যবহার করা হয়׀ নিম্নোক্ত মাত্রাযুক্ত উপাদান যা অক্সিজেনের যৌগিকের
সঙ্গে মিশ্রিত, চিংড়ি চাষে ব্যবহারের জন্য কমিটি এটা সুপারিশ করেছেন׀
|
১) ক্যালসিয়াম
হাইড্রোক্লোরাইড- অবশ্যই শতকরা ৩০শতাংশ ক্লোরিণ থাকতে হবে׀
|
২) হাইড্রোজেন পারঅকসাইড-
H2O2
এর শক্তিমাত্রা অবশ্যই ৩৫শতাংশের কম না হয়׀
|
৩) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট
(KMno4)-
অবশ্যই ভারতীয় আই.পি.
(IP)
মাত্রা অনুযায়ী
হবে׀
|
গ) চুনজাতীয় দ্রব্য-
চুনজাতীয় দ্রব্যের যৌগিক মিশ্রণের ব্যবহারের সময় সাধারণত হয় ক্যালসিয়াম অথবা
ক্যালসিয়ান এবং ম্যাগনেসিয়ামের যৌগিক পদার্থের ঋণাত্মক আয়ন বা আম্লিকতাকে
সমতায় আনে׀ বহুল ব্যবহৃত
চুনজাতীয় দ্রব্যগুলি হল-
|
১
|
CaCO3
|
ক্যালকার্বনেট-কৃষিজ
পাথরচুন
|
২
|
CaO
|
পোড়াচুন
|
৩
|
Ca(OH)2
|
ক্যালসিয়াম
হাইড্রোকসাইড-কলিচুন
|
৪
|
CaMg(CO3)2
|
ডোলোমাইট
|
|
সকল দ্রব্য অবশ্যই কৃষিজ
মাত্রায় হবে׀
|
১) কৃষিজ পাথর চুন- অবশ্যই
৬০শতাংশ
CaCO3
থাকতে হবে׀
|
২) সোধক চুন- অবশ্যই শতকরা
৭৫শতাংশ
Ca(OH)2
(কলিচুন) থাকতে হবে׀
|
৩) পোড়া চুন- অবশ্যই শতকরা
৬৫শতাংশ
CaO
থাকতে হবে׀
|
৪) ডলোমাইট- অবশ্যই
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বনেটের অনুপাত ১:১:১
এবং কণাগুলির আকার সকল ক্ষেত্রে ৫০মিউ মিলিমিটার
(μm)
হতে হবে׀
|
দ্রষ্টব্য- কণার আকার
অনুযায়ী, কৃষিজ পাথর চুনের গুড়ো ৬০ ছিদ্রযুক্ত চালনির (০.২৬ মি.মি.) ভিতর
দিয়ে পতিত হবে׀ যেগুলি ২০
ছিদ্রযুক্ত চালনির (০.৮৫৫ মি.মি.) ভিতর দিয়ে পতিত হয় এবং ৬০ ছিদ্রযুক্ত
চালনিতে আটকে যায় তা ৬০ শতাংশ কার্যকরী হিসাবে ধরতে হবে׀ আর যেগুলি ৮ ছিদ্রযুক্ত (২.৩৬ মি.মি.) চালনির
ভিতর দিয়ে পতিত হয় সেগুলি ০শতাংশ কার্যকরী হিসাবে গণ্য হবে׀
|
পরীক্ষা করবার সুযোগ-
সি.আই.এফ.টি (CIFT)
আকোয়াটিক রিসোর্স হেল্থ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার মত্স্য দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ
সরকার, পৈলান, দক্ষিণ ২৪পরগণা׀
|
| |