খরগোশ পালন

ভূমিকা

খরগোশের বিভিন্ন প্রজাতি

খরগোশের প্রজনন

খাবার বানানোর পদ্ধতি

বাড়ীতে খাবার তৈরীর ফর্মূলা

খরগোশের মাংস

খরগোশের মাংস থেকে প্রস্তুত খাদ্য দ্রব্য

খরগোশের বাসস্থান

রোগ ও প্রতিকার

খরগোশ পালনের প্রকল্প মাংস উত্পাদনের জন্য

একনজরে খরগোশ পালন

ভূমিকা

  • খরগোশ সাধারণতঃ মাংসের জন্য পালন করা হয় খরগোশের মাংস সুস্বাদু ও খাদ্যগুণে ভরপুর ইহাতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী থাকে এবং ফ্যাট, কোলেস্টেরোল ও সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে এই জন্য খরগোশের মাংস রোগীকে খাওয়ানো যায়

      
  • গবেষণাগারে বিভিন্ন পরীক্ষার কাজে খরগোশ ব্যবহার করা হয়

  • বিভিন্ন প্রদর্শনীতে খরগোশ ব্যবহার করা যায়

  • খরগোশ অল্প দিনের মধ্যে বেশী মাংস উত্পাদন করতে পারে বলে খরগোশ পালন খুবই লাভজনক

  • খরগোশের লোম ও চামড়া থেকে বিভিন্ন ধরনের সৌখিন দ্রব্য প্রস্তুত করা যায়

  • অন্যান্য প্রাণী পালনের তুলনায় খরগোশ পালনে স্থায়ী মূলধন অনেক কম লাগে

  • খরগোশের মাংস খাওয়ার উপর কোন ধর্মীয় বিধি নিষেধ নেই

খরগোশের বিভিন্ন প্রজাতি

  • সোভিয়েত চিনচিলা

  • নিউজিল্যান্ড গ্রে

  • পলিশ মিডিয়াম হোয়াইট খরগোশ (Polish medium white Rabbit)

  • পলিশ স্মল হোয়াইট খরগোশ (Polish small white Rabbit)

  • ড্যানিশ হোয়াইট খরগোশ (Danish white Rabbit)

  • চিনচিলা জাইগান্টা খরগোশ (Chinchilas Giganta Rabbit)

  • নিউজিল্যান্ড খরগোশ (Newzeland Rabbit)

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতে সোভিয়েত চিনচিলা ও নিউজিল্যান্ডের গ্রে পালন করা খুবই উপযুক্ত

সোভিয়েত চিনচিলা

এই প্রজাতির জন্মস্থান সোভিয়েত রাশিয়া এবং গায়ের রং উজ্বল ধূসর এই প্রজাতির খরগোশ মাংস উত্পাদনের জন্য পালন করা হয় এবং পূর্ণবয়স্ক খরগোশের গড় ওজন সাড়ে তিন কেজি হয়

নিউজিল্যান্ড গ্রে

এই প্রজাতির খরগোশের জন্মস্থান নিউজিল্যান্ড এদের গায়ের রং ঘসা ধূসর ও পূর্ণবয়স্ক খরগোশের গড় ওজন প্রায় তিন কেজি হয়

খরগোশের প্রজনন

পুং খরগোশ (Buck)-     পুং খরগোশ ৮ মাস বয়সে প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে একটি ভাল খরগোশ প্রায় ২ - ৩ বছর প্রজনন ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে পারে

স্ত্রী খরগোশ (Doe)-      স্ত্রী খরগোশের যৌন পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঋতু, খরগোশের প্রজাতি এবং পুষ্টির উপর নির্ভর করে ছোট প্রজাতির খরগোশ     ৩ - ৪ মাস বয়সে এবং বড় প্রজাতির খরগোশ ৮ - ৯ মাস বয়সে প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে

যৌন মিলন (Mating)খরগোশ গরম হয়েছে কিনা বোঝা খুবই কষ্টকর তবে স্ত্রী খরগোশটি অস্থির হয়ে যেতে পারে বা খাঁচার গায়ে মাথা ও চিবুক ঘষতে পারে ভালতা ফুলে যাবে ও বেগুনি রঙের হয়ে যাবে যৌনমিলনের প্রকৃত সময় হল সকাল এবং সন্ধ্যা যদি স্ত্রী খরগোশ যৌনমিলনে অনিচ্ছুক হয় তখন খরগোশটিকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হাতে করে ধরে যৌন মিলনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে

    ব্যবসায়িক ভিত্তিতে খরগোশ পালন করলে বাচ্চা প্রসবের পর ২১ দিনের মাথায় যৌন মিলন করতে হয় এতে খরগোশ বছরে ৫ - ৬ বার বাচ্চা প্রসব করতে পারে

গর্ভাবস্থা (Pregnancy)খরগোশের গর্ভাবস্থা সাধারণতঃ ২৮ - ৩২ দিন বাচ্চা প্রসবের ৫ - ৬ দিন আগে গর্ভবতী খরগোশকে নেস্ট বক্সে স্থানান্তরিত করতে হবে এই সময় খরগোশকে সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়াতে হবে

বাচ্চা প্রসবের পদ্ধতি (Kindling)- খরগোশের বাচ্চা প্রসব করার পদ্ধতিকে কিন্ডলিং বলে সাধারণতঃ গভীর রাতে বা ভোরে খরগোশ বাচ্চা প্রসব করে বাচ্চা প্রসব করতে প্রায় ৭-৩০ মিনিট সময় লাগে

বাচ্চাকে মা খরগোশ থেকে সরানো (Weaning)খরগোশ সাধারণতঃ ২১ দিন বয়স হওয়ার পর থেকে মা ছাড়া বাঁচতে পারে  কিন্তু ৪ সপ্তাহের আগে বাচ্চা খরগোশকে মায়ের থেকে সরানো অনুচিত

খাবার বানানোর পদ্ধতি

দুধের বিকল্প খাদ্য ক্রিপ ম্যাস (Creep Diet) বা প্রি-স্টার্টার (Pre-starter) বানানোর পদ্ধতি

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition %)

ওটস

১৯.০০

গম

১০.০০

বার্লি

১০.০০

গমের ভূষি

৬.৪০

সোয়াবিন মিল

১২.০০

রেপসিড মিল

২.৫০

মাছের মিল

৩.২০

শুষ্ক আলফা আলফা মিল

 ২৩.৭০

ড্রায়েড ব্রিউয়ারস ইস্ট

৩.০০

ড্রায়েড হোয়ে (Dried whey)

৮.০০

ঝোলাগুড়

১.০০

লবণ (আয়োডিন যুক্ত)

০.৫০

ভিটামিন, খনিজ লবণ

০.৭৭৫

DL-মিথিওনিন

০.০৭

খাদ্য গন্ধক (Feed Flavour)

০.০৫

 
  • উইনার ম্যাস (Weaner Diet)-  এই ধরনের খাদ্যে তন্তুর ভাগ বেশী ও শ্বেতসারের পরিমাণ কম থাকা উচিত

  • খরগোশ বৃদ্ধির উপর বিভিন্ন ধরনের উইনার ম্যাসের প্রভাব (Effect of type of weaning diet on performances of weaning diet)

ম্যাস বা খাদ্য     (Diet)

গড় দৈনিক বৃদ্ধি

গড় দৈনিক খাদ্য গ্রহণ

খাদ্য / বৃদ্ধি

মৃত্যুহার

শ্বেতসার সমৃদ্ধ (54% Corn)

৩৯.৯ গ্রাম

১০২ গ্রাম

২.৫৪

২৭.৮

তন্তু সমৃদ্ধ    (54% Alfalfa)

৩৬.৫ গ্রাম

১২৪ গ্রাম

৩.৪১

১৬.৭

শ্বেতসার সমৃদ্ধ ও কম তন্তু যুক্ত

৩৮.০ গ্রাম

১০৯ গ্রাম

২.৮৬

২৭.৮

তন্তু সমৃদ্ধ ও কম শ্বেতসারযুক্ত

৩৮.৬ গ্রাম

১১৭ গ্রাম

৩.০২

৫.৬

৪ - ১২ সপ্তাহ বয়সের খরগোশের খাবার

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition)

আলফা আলফা মিল

৫৪.০ শতাংশ

গমের ভূষি

৩৬.৫ শতাংশ

সোয়াবিন মিল

৬.০ শতাংশ

ঝোলাগুড়

৩.০ শতাংশ

লবণ (Trace, mineralised)

০.৫ শতাংশ

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition)

আলফা আলফা মিল

৪০.০ শতাংশ

ওটের গুঁড়ো

২৭.৫ শতাংশ

বার্লির গুঁড়ো

২০.০ শতাংশ

সোয়াবিন মিল

৯.০ শতাংশ

ঝোলাগুড়

৩.০ শতাংশ

লবণ (Trace, mineralised)

০.৫ শতাংশ

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition)

আলফা আলফা মিল

৪০.০ শতাংশ

বার্লির গুঁড়ো

২৫.০ শতাংশ

গমের ভূষি

২৩.৫ শতাংশ

কটনসীড মিল

৮.০ শতাংশ

ঝোলাগুড়

৩.০ শতাংশ

লবণ (Trace, mineralised)

০.৫ শতাংশ

দুগ্ধপানকারী খরগোশের দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণ (Feeding of sucking females in kg / head / day)

উপাদান (Ingredients)

      শীতকাল

    গ্রীষ্মকাল

দানাজাতীয় শস্য

০.৯ কেজি

০.৬ কেজি

আলু

০.১ কেজি

০.০৮ কেজি

বিচুলি (Hay)

০.২৫ কেজি

০.০৫ কেজি

গাছের মূল

০.৪ কেজি

----

সবুজ ঘাস বা পাতা

----

০.৬ কেজি

দুগ্ধপ্রদানকারী মা খরগোশের খাবার (Lactation diets in rabbit)

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition)

আলফা আলফা মিল

৪০.০ শতাংশ

বার্লির গুঁড়ো

২০.২৫ শতাংশ

গমের ভূষি

২০.০ শতাংশ

সোয়াবিন মিল

১৪.০ শতাংশ

ঝোলাগুড়

৩.০ শতাংশ

স্নেহপদার্থ

১.৫ শতাংশ

ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট

০.৭৫ শতাংশ

লবণ (Trace, mineralised)

০.৫ শতাংশ

 

উপাদান (Ingredients)

ভাগ (Composition)

আলফা আলফা মিল

৩০.০ শতাংশ

ওটের গুঁড়ো

২৬.৫ শতাংশ

বার্লির গুঁড়ো

২৩.০ শতাংশ

সোয়াবিন মিল

১৬.০ শতাংশ

ঝোলাগুড়

৩.০ শতাংশ

ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট

১.০ শতাংশ

লবণ (Trace, mineralised)

০.৫ শতাংশ

খাদ্য তালিকা (Feeding Schedule)

একটি গর্ভবতী খরগোশের সবুজ ঘাসের সঙ্গে দৈনিক ২০০ - ২৫০ গ্রাম সুষম খাদ্যের প্রয়োজন গর্ভবতী খরগোশকে ১০০ গ্রাম সবুজ ঘাস দেওয়া প্রয়োজন

মাংস উত্পাদনকারী খরগোশের আনুমানিক প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জলের পরিমাণ

  (Approximate feed and water consumption for broiler rabbit)

বয়স

ওজন

প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ

প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণ

৬ সপ্তাহ

৯২০ গ্রাম

১৩৩ গ্রাম

৮৪.৫ গ্রাম

৭ সপ্তাহ

১২০০ গ্রাম

১৭৭ গ্রাম

১১৩ গ্রাম

৮ সপ্তাহ

১৫১০ গ্রাম

২২০ গ্রাম

১৪০ গ্রাম

৯ সপ্তাহ

১৫১০ গ্রাম

২৪৩ গ্রাম

১৫৩ গ্রাম

১০ সপ্তাহ

২০৭০ গ্রাম

২৫৮ গ্রাম

১৬১ গ্রাম

১১ সপ্তাহ

২৩০০ গ্রাম

২৬৭ গ্রাম

১৬৫ গ্রাম

১২ সপ্তাহ

২৫১০ গ্রাম

২৬৭ গ্রাম

১৬৮ গ্রাম

প্রাপ্ত বয়স্ক

৪০০০ গ্রাম

৩০০ গ্রাম

১৫০ - ১৭০ গ্রাম

বাড়ীতে খাবার তৈরীর ফর্মূলা

প্রজননে ব্যবহৃত হয় না এমন খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাদ্যের নমুনা (Home made feed for non- breeding Rabbit)

উপাদান

  ভাগ

উপাদান

  ভাগ

আলফা আলফা বিচুলি

৬৪.০ শতাংশ

ওটস

 ১৫.০ শতাংশ

বার্লি

১৫.০ শতাংশ

সোয়াবিন

 ৬.০ শতাংশ

গর্ভবতী খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাবার(Home made diet for Pregnant Rabbit)

উপাদান

  ভাগ

উপাদান

  ভাগ

আলফা আলফা বিচুলি

 ৬৪.০ শতাংশ

ওটস

১৪.০ শতাংশ

বার্লি

১৪.০ শতাংশ

সোয়াবিন

৮.০ শতাংশ

দুগ্ধ প্রদানকারী খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাবার (Home made diet for Lactating Rabbit)

উপাদান

 ভাগ

উপাদান

 ভাগ

আলফা আলফা বিচুলি

  ২১ শতাংশ

ওটস

 ৩১ শতাংশ

বার্লি

১১ শতাংশ

সোয়াবিন

 ৩৭ শতাংশ

খরগোশের মাংস

খরগোশের মাংস সহজপাচ্য এবং বয়স্ক মানুষের পক্ষে খুবই ভাল খরগোশের ওজন এক বছরের মধ্যে ১০ - ১৫ গুণ  বৃদ্ধি পায় এদের মাংসের রং সাদা হয় এবং খাদ্যগুণ অন্যান্য মাংসের সমতুল্য খরগোশের মাংসে ফ্যাট, কোলেস্টেরোল এবং সোডিয়াম তুলনামূলকভাবে কম থাকার জন্য হার্টের রোগীদের ক্ষতি করে না অন্যান্য মাংসের মত খরগোশের মাংসের কোন গন্ধ নেই এবং মাংস চিবাতে সুবিধা হয়

খরগোশের মাংস থেকে প্রস্তুত খাদ্য দ্রব্য

খরগোশের মাংস থেকে রাবিট (Rabbit) মিট প্যাটিস, বারবেকিউ, কাবাব, বার্গার, তন্দুরি রাবিট (Rabbit) ইত্যাদি তৈরী করা যায়  কিন্তু এই সমস্ত খাদ্য বড় বাজার বা হোটেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তবে ভবিষ্যতে এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা আছে

খরগোশের বাসস্থান

খরগোশ পালনের আদর্শ পরিবেশ

  • আলোর ব্যবস্থা (Lighting)

  • তাপমাত্রা (Temperature)

  • খরগোশের খাঁচা

  • প্রজননের খাঁচা

  • প্রজননের পুং খরগোশ ও স্ত্রী খরগোশ রাখার খাঁচা

  • নেস্ট বক্স (Nest Box)

তাপমাত্রা (Temperature)-  খরগোশ ৫ডিগ্রি -  ৩৩ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে তবে খরগোশ পালনের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হল  ১০ডিগ্রি -  ২৬ডিগ্রি  সেন্টিগ্রেড এরা প্রখর শীত সহ্য করতে পারলেও প্রখর গরম সহ্য করতে পারে না এই জন্য গ্রীষ্মকালে খরগোশের ঘরে ঠিকমত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা উচিত

খরগোশের খাঁচা-  খাঁচা তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তারের অগ্রভাগ বেরিয়ে না থাকে তাতে খরগোশ চোট পেতে পারে

প্রজননের খাঁচা-   খরগোশের প্রজাতির আকৃতির উপর নির্ভর করে খাঁচা বিভিন্ন আকৃতির হয়

  • বড় আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (৫ কেজি) জন্য                        ৬১ × ১২২     বঃসেমি মেঝে

  • মাঝারি আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (৪ -  ৫ কেজি) জন্য                 ৬১ × ৯১    বঃসেমি মেঝে

  • ছোট আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (২.৫ -  ৪ কেজি) জন্য                 ৬১  ×৭৬    বঃসেমি মেঝে

প্রজননক্ষম পুং খরগোশ ও স্ত্রী খরগোশ রাখার খাঁচা

পুং খরগোশ ও বাচ্চা ছাড়া স্ত্রী খরগোশকে নিম্নলিখিত জায়গার মধ্যে রাখা যায়

খরগোশের ওজন

খাঁচার দৈর্ঘ্য

খাঁচার প্রস্থ

খাঁচার উচ্চতা

বড় (৫ কেজির উর্দ্ধে)

১২০ সেমি

৬০ সেমি

৬০ সেমি

মাঝারি (৪ -  ৫ কেজি)

১০০ সেমি

৬০ সেমি

৫৫ সেমি

ছোট (২.৫ -  ৪ কেজি)

৮০ সেমি

৬০ সেমি

৫০ সেমি

নেস্ট বক্স (Nest Box)বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানোর আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন

ঘটলে খরগোশের বাচ্চার মৃত্যুর হার বেড়ে যায় তাই নেস্ট বক্সে বাচ্চা প্রসব ও

বাচ্চা পালন উভয় ব্যবস্থাই রাখতে হবে খরগোশ খাঁচায় রেখে পালন করলে বাচ্চা

প্রসবের পূবে গর্ভবতী খরগোশকে নেস্ট বক্সে নিয়ে আসা উচিত একটি নেস্ট বক্সে

সাধারণ আয়তন হল ১.৮ মিটার × ০.৯ মিটার মূত্র-নির্গমনের জন্য মেঝেতে

কয়েকটি ফুটো রাখা উচিত

রোগ ও প্রতিকার

মিক্সোমাটোসিস (Myxomatosis)

এটি খরগোশের একটি প্রাণনাশক রোগ আঙ্গোরা, ফ্লেমিস রাবিট, জ্যাক রাবিট ইত্যাদি

প্রজাতির খরগোশের এই রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশী

এই ভাইরাস পক্স ভাইরাস শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত রোগগ্রস্ত অবস্থায় খরগোশের

প্রজনন ঘটালে মুখ, নাক, ঠোঁট, কান, চোখের পাতা ইত্যাদি অঙ্গে ইডেমা হয়  

কান দেহ থেকে ঝুলে পড়তে পারে  কখনও কখনও শ্বাসকষ্ট হয়

  • চিকিত্সা-  এই রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নেই রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিত্সা করতে হয় সেফালেক্সিন বা এনরোফ্লক্সাসিন জলের সাথে মিশিয়ে খরগোশকে খাওয়ানো যেতে পারে

  • প্রতিরোধ ব্যবস্থা-  অসুস্থ খরগোশকে মেরে ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে

  • ফর্মালিন বা ৩ শতাংশ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দিয়ে খরগোশের খামার জীবাণুমুক্ত করতে হবে
  • প্রতিষেধক টীকা পাওয়া গেলে খরগোশকে টীকা দিতে হবে

 

সালমোনেল্লেসিস (Salmonellosis)

সালমোনেল্লা টাইফিমুরিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের কারণ এই রোগে খরগোশের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও পাতলা পায়খানা হয় গর্ভবতী খরগোশের গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এই রোগে খরগোশের মৃত্যুহার অনেক বেশী

  • চিকিত্সা-  এনরোফ্লক্সাসিন বা সেফালোক্সিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিন নামক আন্টিবায়োটিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়

  • প্রতিরোধ ব্যবস্থা-  খরগোশের খামার পরিষ্কার রাখতে হবে

  •  দুষিত জল বা খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করতে হবে

  • মৃত খরগোশেকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে
  •  খরগোশের খামারটিকে ভালভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে

পরজীবী ঘটিত রোগ (Parasitic diseases)

                                                                  

হেপাটিক কক্সিডিওসিস (Hepatic Coccidiosis)

আইমেরিয়া স্টাইডি নামক পরজীবী এই রোগের কারণ  সাধারণত কম বয়স্ক খরগোশের এই রোগ হয়

  • চিকিত্সা-  সালফাকুইনক্সালিন ডেরিভেটিভ এই রোগের খুব ভাল ঔষধ খাদ্যে শতকরা ০.০২৫ ভাগ হিসাবে ও পানীয় জলের শতকরা ০.০৪ ভাগ হিসাবে এই ঔষধ খরগোশটিকে খাওয়ালে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়

ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিস (Intestinal Coccidiosis)

আইমেরিয়া সিকিওলা, আইমেরিয়া ফ্লাভেসেনস, আইমেরিয়া ইন্টেসটিনালিস, আইমেরিয়া ইরেসিডুয়া, আইমেরিয়া ম্যাগনা, আইমেরিয়া মোডিয়া, আইমেরিয়া পারফোরানস, আইমেরিয় পিরিফর্মিস- এই আটটি প্রজাতির আইমেরিয়া ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিসের কারণ

  • লক্ষণ- এই রোগের প্রধান কয়েকটি লক্ষণ হল পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসবে, ক্ষুধামন্দাভাব, পেট ফুলে থাকবে এবং চকলেট রঙের মলত্যাগ করবে

  • প্রতিরোধ ব্যবস্থা-  খরগোশের খামার মিয়মিতভাবে জীবানুমুক্ত করতে হবে

  • খাবার ও জলের পাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • খাদ্যে কক্সিডিওসিস রোধকারী ঔষধ মেশাতে হবে

মাংস উত্পাদনের জন্য খরগোশ পালনের প্রকল্প

পুরুষ ও স্ত্রী খরগোশের অনুপাত

 ১ : ২

প্রজনন ঘটানোর বয়স

 ১০০ - ১১০ দিন

প্রজননের সময় পুরুষ খরগোশের ওজন 

৩ কেজি (আনুমানিক)

বাজারজাত করার বয়স

১০০ দিন (আনুমানিক)

প্রয়োজনীয় খাবারের পরিমাণ

১৫ দিন বয়স পর্যন্ত -   কেবল মাত্র মায়ের দুধ

১৬ - ২২ দিন বয়স পর্যন্ত - পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘাস

৪৩ - ১০০ দিন বয়স পর্যন্ত -  ঘাসের সঙ্গে ৩০ - ৬০ গ্রাম দানা খাবার

পূর্ণবয়স্ক   

ঘাসের সঙ্গে ৮ - ১০০ গ্রাম দানা খাবার

স্থায়ী মূলধন

পূর্ণবয়স্ক খরগোশের খাঁচা প্রস্তুতি বাবদ খরচ

(প্রতি খাঁচা ৩০০ টাকা করে দুটি খাঁচা) 

৬০০.০০ টাকা    

প্রজননে ব্যবহৃত খরগোশের খাঁচা প্রস্তুতি বাবদ খরচ

৫০০.০০ টাকা

খরগোশ ক্রয় করা বাবদ খরচ  (প্রতি খরগোশ ৬০ টাকা দরে তিনটি খরগোশ) 

১৮০.০০ টাকা

বীমাকরণে খরচ   (খরগোশের মূল্যের ৬ শতাংশ)

১০.০০ টাকা

                                      মোট 

১৩৯০.০০ টাকা

       

একনজরে খরগোশ পালন

  • পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মাংসের জন্য ও চামড়া বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়িক

        ভিত্তিতে খরগোশ পালন উপযুক্ত

  • খরগোশের মাংস নরম ও সুস্বাদু এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকার জন্য হার্টের রোগীদের পক্ষে উপযুক্ত

  • পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতে সোভিয়েত চিনচিলা ও নিউজিল্যান্ড গ্রে- প্রজাতির খরগোশ পালন উপযুক্ত

  • খরগোশকে খাঁচার মধ্যে পালন করা সুবিধাজনক ও লাভজনক

  • সাধারণতঃ খরগোশের খাঁচা ৩ ফুট × ২ ফুট × ১৫ ইঞ্চি মাপের হয়

  • খরগোশ ৫ডিগ্রী - ৩৩ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে তবে খরগোশপালনের উপযুক্ত তাপমাত্রা ২০ডিগ্রী - ২৬ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড

  • ঘরের মুখ সাধারণতঃ পূর্ব বা দক্ষিণমুখী হওয়া দরকার যাতে ঘরে যথেষ্ট আলো বাতাস থাকে

  • একটি পূর্ণবয়স্ক খরগোশকে সারাদিনে ৫০০ মিলি জল দেওয়া উচিত

  • খরগোশের গর্ভদশা প্রায় ৩০ - ৩২ দিন

  • খরগোশ একবারে ৬ - ১২ টি বাচ্চা প্রসব করতে পারে

  • সাধারণতঃ খরগোশ বছরে ৫ - ৬ বার বাচ্চা প্রসব করতে পারে

  • সাধারণতঃ খরগোশ ৫ - ৬ মাস বয়সের মধ্যে যৌবনপ্রাপ্ত হয়

  • খরগোশের কোন রোগ প্রতিষেধক টীকা লাগে না

  • খরগোশের বাচ্চা সাধারণতঃ ১২ - ১৪ সপ্তাহ বয়সে মাংসের জন্য

         বিক্রয়ের উপযুক্ত হয়ে যায়

  • খামারে স্ত্রী ও পুরুষ খরগোশের অনুপাত ১০:১ হওয়া উচিত

  • পুরুষ খরগোশ ৬ বছর বয়সের পর ও স্ত্রী খরগোশ ৩ বছর বয়সের পর প্রজননের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়

  • সাধারণতঃ যৌন মিলনের ৯ - ১৩ ঘন্টার মধ্যে ডিম্বানু নিঃসরণ হয়