|
|
খাদ্য তালিকা (Feeding Schedule)
|
একটি গর্ভবতী খরগোশের সবুজ ঘাসের সঙ্গে দৈনিক ২০০ - ২৫০ গ্রাম সুষম খাদ্যের
প্রয়োজন৷ গর্ভবতী
খরগোশকে ১০০ গ্রাম সবুজ ঘাস দেওয়া প্রয়োজন৷ |
মাংস উত্পাদনকারী খরগোশের আনুমানিক প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জলের পরিমাণ
(Approximate feed and water consumption for broiler
rabbit) |
বয়স |
ওজন |
প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ |
প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণ |
৬ সপ্তাহ |
৯২০ গ্রাম |
১৩৩ গ্রাম |
৮৪.৫ গ্রাম |
৭ সপ্তাহ |
১২০০ গ্রাম |
১৭৭ গ্রাম |
১১৩ গ্রাম |
৮ সপ্তাহ |
১৫১০ গ্রাম |
২২০ গ্রাম |
১৪০ গ্রাম |
৯ সপ্তাহ |
১৫১০ গ্রাম |
২৪৩ গ্রাম |
১৫৩ গ্রাম |
১০ সপ্তাহ |
২০৭০ গ্রাম |
২৫৮ গ্রাম |
১৬১ গ্রাম |
১১ সপ্তাহ |
২৩০০ গ্রাম |
২৬৭ গ্রাম |
১৬৫ গ্রাম |
১২ সপ্তাহ |
২৫১০ গ্রাম |
২৬৭ গ্রাম |
১৬৮ গ্রাম |
প্রাপ্ত বয়স্ক |
৪০০০ গ্রাম |
৩০০ গ্রাম |
১৫০ - ১৭০ গ্রাম | |
|
|
|

|
বাড়ীতে খাবার তৈরীর
ফর্মূলা |
প্রজননে ব্যবহৃত হয় না এমন খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাদ্যের নমুনা (Home
made feed for non- breeding Rabbit) |
উপাদান |
ভাগ |
উপাদান |
ভাগ |
আলফা আলফা বিচুলি |
৬৪.০ শতাংশ |
ওটস |
১৫.০ শতাংশ |
বার্লি |
১৫.০ শতাংশ |
সোয়াবিন |
৬.০ শতাংশ |
গর্ভবতী খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাবার(Home made diet for Pregnant
Rabbit) |
উপাদান |
ভাগ |
উপাদান |
ভাগ |
আলফা আলফা বিচুলি |
৬৪.০ শতাংশ |
ওটস |
১৪.০ শতাংশ |
বার্লি |
১৪.০ শতাংশ |
সোয়াবিন |
৮.০ শতাংশ |
দুগ্ধ প্রদানকারী খরগোশের জন্য বাড়ীতে তৈরী খাবার
(Home made
diet for Lactating Rabbit) |
উপাদান |
ভাগ |
উপাদান |
ভাগ |
আলফা আলফা বিচুলি |
২১ শতাংশ |
ওটস |
৩১ শতাংশ |
বার্লি |
১১ শতাংশ |
সোয়াবিন |
৩৭ শতাংশ | |
|
|
|

|
খরগোশের মাংস |
খরগোশের মাংস সহজপাচ্য এবং বয়স্ক মানুষের পক্ষে খুবই ভাল৷ খরগোশের ওজন এক বছরের
মধ্যে ১০ - ১৫ গুণ বৃদ্ধি পায়৷ এদের মাংসের রং সাদা হয় এবং খাদ্যগুণ অন্যান্য
মাংসের সমতুল্য৷ খরগোশের মাংসে ফ্যাট, কোলেস্টেরোল এবং সোডিয়াম তুলনামূলকভাবে কম
থাকার জন্য হার্টের রোগীদের ক্ষতি করে না৷
অন্যান্য মাংসের মত খরগোশের মাংসের কোন গন্ধ নেই এবং মাংস চিবাতে সুবিধা হয়৷ |
|

|
খরগোশের মাংস থেকে
প্রস্তুত খাদ্য দ্রব্য |
|
খরগোশের মাংস থেকে রাবিট (Rabbit) মিট
প্যাটিস, বারবেকিউ, কাবাব, বার্গার, তন্দুরি রাবিট (Rabbit) ইত্যাদি তৈরী করা যায়৷
কিন্তু এই সমস্ত খাদ্য বড় বাজার বা হোটেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ৷
তবে ভবিষ্যতে এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা আছে৷ |
|

|
খরগোশের বাসস্থান |
খরগোশ পালনের আদর্শ পরিবেশ |
-
আলোর ব্যবস্থা (Lighting)
-
তাপমাত্রা (Temperature)
-
খরগোশের খাঁচা
-
প্রজননের খাঁচা
-
প্রজননের পুং খরগোশ ও স্ত্রী খরগোশ রাখার খাঁচা
-
নেস্ট বক্স (Nest Box)
|
তাপমাত্রা (Temperature)- খরগোশ ৫ডিগ্রি - ৩৩ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সহ্য করতে
পারে৷ তবে খরগোশ পালনের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হল ১০ডিগ্রি -
২৬ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড৷ এরা
প্রখর শীত সহ্য করতে পারলেও প্রখর গরম সহ্য করতে পারে না৷
এই জন্য গ্রীষ্মকালে খরগোশের ঘরে ঠিকমত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও ঠান্ডা রাখার
ব্যবস্থা করা উচিত৷ |
খরগোশের খাঁচা- খাঁচা তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তারের
অগ্রভাগ বেরিয়ে না থাকে৷
তাতে খরগোশ চোট পেতে পারে৷ |
প্রজননের খাঁচা- খরগোশের
প্রজাতির আকৃতির উপর নির্ভর করে খাঁচা বিভিন্ন আকৃতির হয়৷
-
বড় আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (৫ কেজি)
জন্য
৬১ × ১২২ বঃসেমি মেঝে
-
মাঝারি আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (৪ - ৫ কেজি)
জন্য
৬১ × ৯১ বঃসেমি মেঝে
-
ছোট আকৃতির খরগোশের প্রজাতির (২.৫ - ৪ কেজি)
জন্য
৬১ ×৭৬ বঃসেমি
মেঝে |
|
প্রজননক্ষম পুং খরগোশ ও স্ত্রী খরগোশ রাখার খাঁচা
|
|
পুং খরগোশ ও বাচ্চা ছাড়া স্ত্রী খরগোশকে নিম্নলিখিত জায়গার
মধ্যে রাখা যায় |
খরগোশের ওজন |
খাঁচার দৈর্ঘ্য |
খাঁচার প্রস্থ |
খাঁচার উচ্চতা |
বড় (৫ কেজির উর্দ্ধে) |
১২০ সেমি |
৬০ সেমি |
৬০ সেমি |
মাঝারি (৪ - ৫ কেজি) |
১০০ সেমি |
৬০ সেমি |
৫৫ সেমি |
ছোট (২.৫ - ৪ কেজি) |
৮০ সেমি |
৬০ সেমি |
৫০ সেমি | |
|
|
নেস্ট বক্স (Nest Box)-
বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানোর আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন
ঘটলে খরগোশের বাচ্চার মৃত্যুর
হার বেড়ে যায়৷ তাই নেস্ট বক্সে বাচ্চা প্রসব ও
বাচ্চা পালন উভয় ব্যবস্থাই রাখতে
হবে৷ খরগোশ খাঁচায় রেখে পালন করলে বাচ্চা
প্রসবের পূবে গর্ভবতী খরগোশকে নেস্ট বক্সে
নিয়ে আসা উচিত৷ একটি নেস্ট বক্সে
সাধারণ আয়তন হল ১.৮ মিটার ×
০.৯ মিটার৷
মূত্র-নির্গমনের জন্য মেঝেতে
কয়েকটি ফুটো রাখা উচিত৷ |
|

|
রোগ ও প্রতিকার |
মিক্সোমাটোসিস (Myxomatosis)
|
এটি খরগোশের একটি প্রাণনাশক রোগ৷ আঙ্গোরা, ফ্লেমিস
রাবিট, জ্যাক রাবিট ইত্যাদি
প্রজাতির খরগোশের এই রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশী৷
এই
ভাইরাস পক্স ভাইরাস শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত৷ রোগগ্রস্ত অবস্থায় খরগোশের
প্রজনন ঘটালে
মুখ, নাক, ঠোঁট, কান, চোখের পাতা ইত্যাদি অঙ্গে ইডেমা হয়৷
কান দেহ থেকে ঝুলে পড়তে
পারে৷ কখনও
কখনও শ্বাসকষ্ট হয়৷ |
-
চিকিত্সা- এই রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নেই৷ রোগের লক্ষণ
অনুযায়ী চিকিত্সা করতে হয়৷
সেফালেক্সিন বা এনরোফ্লক্সাসিন জলের সাথে মিশিয়ে খরগোশকে খাওয়ানো যেতে পারে৷ |
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- অসুস্থ খরগোশকে মেরে
ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে৷
-
ফর্মালিন বা ৩ শতাংশ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দিয়ে খরগোশের খামার
জীবাণুমুক্ত করতে হবে৷
-
প্রতিষেধক টীকা পাওয়া গেলে খরগোশকে টীকা দিতে হবে৷ |
| |
সালমোনেল্লেসিস (Salmonellosis)
সালমোনেল্লা টাইফিমুরিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের কারণ৷ এই রোগে
খরগোশের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও পাতলা পায়খানা হয়৷ গর্ভবতী খরগোশের
গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷
এই রোগে খরগোশের মৃত্যুহার অনেক বেশী৷ |
-
চিকিত্সা- এনরোফ্লক্সাসিন বা সেফালোক্সিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিন
নামক আন্টিবায়োটিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়৷ |
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- খরগোশের খামার পরিষ্কার রাখতে হবে৷
-
দুষিত জল বা খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করতে হবে৷
-
মৃত খরগোশেকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে৷ -
খরগোশের খামারটিকে ভালভাবে জীবাণুমুক্ত
করতে হবে৷ |
পরজীবী ঘটিত রোগ (Parasitic diseases)
|
হেপাটিক কক্সিডিওসিস (Hepatic Coccidiosis) |
আইমেরিয়া স্টাইডি নামক পরজীবী এই রোগের কারণ৷
সাধারণত কম বয়স্ক খরগোশের এই রোগ হয়৷ |
-
চিকিত্সা- সালফাকুইনক্সালিন ডেরিভেটিভ এই রোগের খুব ভাল ঔষধ৷
খাদ্যে শতকরা ০.০২৫ ভাগ হিসাবে ও পানীয় জলের শতকরা ০.০৪ ভাগ হিসাবে এই ঔষধ
খরগোশটিকে খাওয়ালে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়৷ |
ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিস (Intestinal Coccidiosis)
আইমেরিয়া সিকিওলা, আইমেরিয়া ফ্লাভেসেনস, আইমেরিয়া ইন্টেসটিনালিস,
আইমেরিয়া ইরেসিডুয়া, আইমেরিয়া ম্যাগনা, আইমেরিয়া মোডিয়া, আইমেরিয়া পারফোরানস,
আইমেরিয় পিরিফর্মিস- এই আটটি প্রজাতির আইমেরিয়া ইন্টেসটিনাল কক্সিডিওসিসের
কারণ৷ |
-
লক্ষণ- এই রোগের প্রধান কয়েকটি লক্ষণ হল পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত
আসবে, ক্ষুধামন্দাভাব, পেট ফুলে থাকবে এবং চকলেট রঙের মলত্যাগ করবে৷ |
-
প্রতিরোধ ব্যবস্থা- খরগোশের খামার মিয়মিতভাবে জীবানুমুক্ত করতে
হবে৷
-
খাবার ও জলের পাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে৷ -
খাদ্যে কক্সিডিওসিস রোধকারী ঔষধ মেশাতে হবে৷ | |
|

|
মাংস উত্পাদনের
জন্য খরগোশ পালনের প্রকল্প |
পুরুষ ও স্ত্রী খরগোশের অনুপাত
|
১ : ২
|
প্রজনন ঘটানোর বয়স
|
১০০ - ১১০ দিন
|
প্রজননের সময় পুরুষ খরগোশের ওজন
|
৩ কেজি (আনুমানিক)
|
বাজারজাত করার বয়স
|
১০০ দিন (আনুমানিক)
|
প্রয়োজনীয় খাবারের পরিমাণ
|
১৫ দিন বয়স
পর্যন্ত - কেবল মাত্র মায়ের
দুধ
|
১৬ - ২২ দিন বয়স পর্যন্ত - পর্যাপ্ত
পরিমাণে ঘাস
|
৪৩ - ১০০ দিন বয়স পর্যন্ত - ঘাসের সঙ্গে ৩০ -
৬০ গ্রাম দানা খাবার
|
পূর্ণবয়স্ক
|
ঘাসের সঙ্গে ৮ - ১০০ গ্রাম দানা খাবার
|
স্থায়ী মূলধন
|
পূর্ণবয়স্ক খরগোশের খাঁচা প্রস্তুতি বাবদ খরচ
(প্রতি খাঁচা ৩০০ টাকা করে দুটি খাঁচা)
|
৬০০.০০
টাকা
|
প্রজননে ব্যবহৃত খরগোশের খাঁচা প্রস্তুতি বাবদ খরচ
|
৫০০.০০
টাকা
|
খরগোশ ক্রয় করা বাবদ খরচ (প্রতি খরগোশ ৬০ টাকা দরে তিনটি খরগোশ)
|
১৮০.০০ টাকা
|
বীমাকরণে খরচ (খরগোশের মূল্যের ৬ শতাংশ)
|
১০.০০ টাকা
|
মোট
|
১৩৯০.০০ টাকা
|
|
|
|
|
|

|
একনজরে খরগোশ পালন |
-
পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মাংসের জন্য ও চামড়া বিক্রয়ের জন্য
ব্যবসায়িক
ভিত্তিতে খরগোশ পালন
উপযুক্ত৷
-
খরগোশের মাংস নরম ও সুস্বাদু৷
এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকার জন্য হার্টের রোগীদের পক্ষে উপযুক্ত৷
-
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতে সোভিয়েত চিনচিলা ও নিউজিল্যান্ড গ্রে-
প্রজাতির খরগোশ পালন উপযুক্ত৷
-
খরগোশকে খাঁচার মধ্যে পালন করা সুবিধাজনক ও লাভজনক৷
-
সাধারণতঃ খরগোশের খাঁচা ৩ ফুট × ২ ফুট × ১৫ ইঞ্চি মাপের হয়৷
-
খরগোশ ৫ডিগ্রী - ৩৩ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড
তাপমাত্রার মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে৷ তবে খরগোশপালনের
উপযুক্ত তাপমাত্রা ২০ডিগ্রী - ২৬ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড৷
-
ঘরের মুখ সাধারণতঃ পূর্ব বা দক্ষিণমুখী হওয়া দরকার যাতে ঘরে
যথেষ্ট আলো বাতাস থাকে৷
-
একটি পূর্ণবয়স্ক খরগোশকে সারাদিনে ৫০০ মিলি জল দেওয়া উচিত৷
-
খরগোশের গর্ভদশা প্রায় ৩০ - ৩২ দিন৷
-
খরগোশ একবারে ৬ - ১২ টি বাচ্চা প্রসব করতে পারে৷
-
সাধারণতঃ খরগোশ বছরে ৫ - ৬ বার বাচ্চা প্রসব করতে পারে৷
-
সাধারণতঃ খরগোশ ৫ - ৬ মাস বয়সের মধ্যে যৌবনপ্রাপ্ত হয়৷
-
খরগোশের কোন রোগ প্রতিষেধক টীকা লাগে না৷
-
খরগোশের বাচ্চা সাধারণতঃ ১২ - ১৪ সপ্তাহ বয়সে মাংসের জন্য
বিক্রয়ের
উপযুক্ত হয়ে যায়৷
-
খামারে স্ত্রী ও পুরুষ খরগোশের অনুপাত ১০:১
হওয়া উচিত৷
-
পুরুষ খরগোশ ৬ বছর বয়সের পর ও স্ত্রী
খরগোশ ৩ বছর বয়সের পর প্রজননের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়৷
-
সাধারণতঃ যৌন মিলনের ৯ - ১৩ ঘন্টার মধ্যে ডিম্বানু নিঃসরণ হয়৷
|
|

|