শুকর পালন ও উদ্দেশ্য

                              

ভূমিকা

শুকর পালনের উদ্দেশ্য

শুকর পালনের সুবিধা

শুকরের জাত

শুকরের প্রজনন

শুকরের সাধারণ প্রজনন ঘটিত বৈশিষ্ট্য

বিভিন্ন পর্যায়ে শুকর প্রতিপালন

শুকরের বাসস্থান

শুকরের খাবার

শুকরের রোগব্যাধি

শুকর পালনের প্রকল্প

এক পলকে শুকর পালন

 

ভূমিকা

শুকর পালন একটি সহজসাধ্য ও লাভজনক ব্যবসা  গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে একমাত্র শুকরের সর্বাধিক বাচ্চা দেবার ক্ষমতা আছে এবং ঐ বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে এদের বংশ বৃদ্ধি প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ ১০টি শুকরী ও ১ টি  শুকর বছরে প্রায় ১৬০টি বাচ্চা দিতে পারে এরা অল্প বয়সে বাচ্চা দেয় এবং বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ বার বাচ্চা দেয় দানাজাতীয় খাদ্যশস্য মাংসে পরিণত করার ক্ষমতা এদের বেশী প্রতি কেজি দৈহিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি সুষম খাদ্য

শুকর পালনের উদ্দেশ্য

প্রধানত মাংসের (পোর্ক) জন্য শুকর পালন করা হয়  তাছাড়া এর  মলমূত্র মূল্যবান সার হিসাবে ব্যবহৃত হয় মিশ্রণ চাষে বা মাছ ও শুকরের নিবিড় চাষে শুকরের বর্জ্য পদার্থ মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়  শুকরের লোম নানা শিল্পে ব্যবহৃত হয় এছাড়া শুকরের মাংস থেকে তৈরী হ্যাম, বেকন, সসেজ ইত্যাদির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে

শুকর পালনের সুবিধা

১) খুব ভালভাবে সুষম খাদ্যকে (ম্যাস) মাংসে পরিণত করতে পারে

২) ৬ মাসে খুব তাড়াতাড়ি ও ভাল মুনাফায় বাজারজাত করা যায়

৩) উন্নত বিদেশী জাতের শুকর বছরে দুবার বাচ্চা দেয় এবং ৮ - ১৬ টি বাচ্চা দিতে পারে

৪) অনেক অপ্রয়োজনীয় খাবার খাইয়ে মাংসে পরিণত করা যায়

৫) ৩ কেজি খাবার খাইয়ে শুকরের মাংস ১ কেজি পাওয়া যায়, সেখানে ৫ কেজি খাবার লাগে ১ কেজি গরুর মাংস তৈরী করতে

৬) শুকরের মাংসে হাড়ের পরিমাণ কম থাকার জন্য মাংসের পরিমাণ বেশী হয়  দেহের ওজনের প্রায় ৬০ - ৮০ ভাগ মাংস পাওয়া যায়, যেখানে ছাগল ও ভেড়ার পাওয়া যায় ৫০ - ৫৫ ভাগ

শুকরের জাত

সারা পৃথিবীতে প্রায় ৬০ টি জাতের গৃহপালিত শুকর আছে  তবে এ রাজ্যে সাধারণতঃ তিন ধরনের শুকর পালন করা হয়  যেমন কালো রঙের দেশী শুকর, সাদা রঙের বিদেশী শুকর এবং কালো দেশী ও সাদা বিদেশী শুকরের মিলনে সংকর শুকর

  • দেশী শুকর-   গায়ের রং কালো, ধুসর, বাদামী বা মিশ্র প্রকৃতির হয়, সমাজের দুর্বলতর শ্রেণী বংশানুক্রমে আদিকাল থেকে এই শুকর পালন করে আসছে  এই শুকর তাড়াতাড়ি বাড়ে না, কম সংখ্যায় বাচ্চা দেয়  বছরে সাধারণতঃ একবার বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবারে ৫ - ৬ টি বাচ্চা দেয়  ঐ বাচ্চার দেড় বছর বয়সে ওজন হয় ৩৫ - ৫০ কেজি এর মাংসের দাম কম

  • বিদেশী শুকর-   ব্যবসায়িক ভিত্তিতে অধিক লাভের জন্য শুকর পালন করতে গেলে উন্নত বিদেশী জাতের শুকর পালন করা বোঝায়  যেমন বড় জাতের সাদা ইয়র্কশায়ার, মাঝারি আকারের সাদা ইয়র্কশায়ার, বার্ক শায়ার, হ্যাম্পশায়ার, ডিউরোক, ল্যান্ডড্রেস ইত্যাদি যা ভারতের বিভিন্ন স্থানে চাষ হয়

(ক) লার্জ হোয়াইট ইয়র্কশায়ার- এদের উত্স ইংল্যান্ড ভারতে এবং পশ্চিমবঙ্গে এই জাতটা বিশেষ পরিচিত  বিশেষ করে সংকর জাতের শুকর উত্পাদনে  এদের গায়ের রং সাদা, লম্বাটে, মাংসল, ঘাড়ের দিক মোটা পূর্ণবয়স্ক শুকরের ওজন ৩০০ - ৪৫০ কেজি ও শুকরীর (স্ত্রী) ওজন ২৫০ - ৩৫০ কেজি এরা একসঙ্গে অনেকগুলি (১২ - ১৪টি) বাচ্চা দিতে পারে এদের মাংস বেকনের জন্য প্রসিদ্ধ

বিদেশী শুকর

আমেরিকা

ব্রিটেন

ডেনমার্ক

              (১) হ্যাম্পশায়ার

(১) লার্জ হোয়াইট ইয়র্কশায়ার

(১) ল্যান্ডড্রেস

              (২) ডিউরোক 

(২) মিডল হোয়াইট ইয়র্কশায়ার

 
 

(৩) বার্ক শায়ার

 
 

(৪) ট্যামওর্থ

 
 

(খ) মিডল হোয়াইট ইয়র্কশায়ার- ইংল্যান্ডে বড় জাতের শুকরের সাথে ছোট জাতের শুকরের মিলনে এই মাঝারি জাতের শুকরের সৃষ্টি হয়েছে এরা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে কম খরচে পোর্ক (শুকরের মাংস) তৈরি করে  এদের পেছনের দিক লম্বা ও সমান, পাছার মাংস (হ্যাম) লম্বা ও গভীর এরা প্রধানত বেকনের জন্য ব্যবহৃত হয়   বয়স্ক  পুং শুকরের ওজন ২৫০ -  ৩৪০ কেজি ও স্ত্রী শুকরীর ওজন ১৮০ - ২৭০ কেজি

শুকরের প্রজনন

সংকর শুকরের প্রজনন-   ৫টি দেশী শুকরীর (স্ত্রী) সাথে ১ টি সাদা শুকর (পুরুষ) নিয়ে সংকর শুকর পালন করা যায়  প্রজননের কাজে ব্যবহৃত ১ টি সাদা পুরুষ শুকর পিছু ১০ থেকে ২০ টি স্ত্রী শুকরীর জন্য রাখা যেতে পারে

সাদা শুকরের প্রজনন-   অধিক লাভের জন্য বিদেশী সাদা শুকর ১ টি ও ৫ - ১০ টি সাদা শুকরী নিয়ে এই চাষ করা যায়

পুরুষ শুকরের প্রজনন ও বাছাই-   নয় মাস বয়সের আগে পুং শুকরকে কখনও প্রজননের কাজে ব্যবহার করা হয় না  প্রথমদিকে শুকরকে ৩ সপ্তাহ অন্তর একবার প্রজননের কাজে ব্যবহার করা উচিত  কয়েকমাস বাদে সপ্তাহে একবার করে প্রজনন করানো যেতে পারে  এরপর ১ বছর বয়স হলে পূর্ণমাত্রায় অর্থাত সপ্তাহে ২ বার করে প্রজনন করানো যেতে পারে  

স্ত্রী-শুকরীর প্রজনন ও বাছাই-  সাধারণতঃ স্ত্রী শুকরীকে ১০ মাসের পর প্রজননের কাজে ব্যবহার করা হয়  ২১ দিন বাদে এরা গরম হয়  একটানা ২ থেকে ৩ দিন গরম থাকে  বেশী বাচ্চা পেতে হলে গরম হওয়ার ১৪ - ২০ ঘন্টার মধ্যে একবার প্রজনন করানো দরকার এবং প্রথমবারের ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা পর দ্বিতীয়বার প্রজনন করানো উচিত  শুকরীর গরম হওয়ার লক্ষণ হলো অস্থিরতা প্রকাশ, কাছাকাছি কোন শুকর থাকলে তার কাছে ছুটে যাওয়া বা অন্য কোন শুকরীকে অযথা বিরক্ত করা  এছাড়া ঐ শুকরীর দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, খাদ্যে অনীহা আসে

একটি হিসাবে দেখা গেছে যে, কোন খামারী ভাই যদি ৫ টি সংকর শুকরী নিয়ে ব্যবসা করেন এবং প্রতিমাসে ১ টি করে শুকরীকে প্রজনন করান তবে চারমাস বাদে প্রতি মাসে ৫ টি করে বাচ্চা পাবেন  এর ৬ মাস পরে ৫ টি করে শুকর বেচতে পারবেন  অনুরূপ ভাবে ১০ টি শুকরী নিয়ে ব্যবসা করলে এবং প্রতি মাসে ২ টি শুকরী প্রজনন করালে ৪ মাস বাদে  ১০ টি বাচ্চা পাওয়া যাবে প্রতি মাসে  আর ৬ মাস পরে প্রতি মাসে ১০ টি করে শুকর বেচতে পারবেন

শুকরের সাধারণ প্রজনন ঘটিত বৈশিষ্ট্য

  • পূর্ণতাপ্রাপ্তির সময়                            -                       ৬ - ৭ মাস

  • প্রজননের সময় (শুকরীর)                    -                    ১০ - ১২ মাস

  • প্রজননের সময় ওজন (শুকরীর)             -                  ৯০ - ১০০ কেজি

  • প্রজননের সময় (শুকরের)                    -                      ৯ - ২৪ মাস

  • প্রজননের শুকরীসংখ্যা প্রতি শুকর পিছু     -                           ১০ টি

  • কতদিন পরপর গরম                          -                   ১৯ - ২৩ দিন (গড় ২১ দিন)

  • গরম থাকার সময়                             -                        ২ - ৩ দিন

  • গরম শুরু হওয়ার পর প্রজনন করানোর সময়       -     ১৪ - ২০ ঘন্টা, তারপর ১২ - ১৪ ঘন্টা

  • কতবার প্রজনন করানো উচিত                 -                   ২ বার, ১২ - ১৪ ঘন্টা অন্তর

  • বাচ্চা হতে সময় লাগে                          -                     ১১২ - ১১৪ দিন

  • বাচ্চা হবার পর গরম হতে সময় নেয়          -                            ৪৫ দিন

  • মায়ের কাছ থেকে বাচ্চা সরিয়ে দেওয়ার সময়     -                   ৩ - ৪ সপ্তাহ

  • একসাথে বাচ্চা দেয়                            -                       ১০ - ১৪ টি

  • খাসি করার বয়স                              -                        ৪ - ৮ সপ্তাহ

বিভিন্ন পর্যায়ে শুকর প্রতিপালন

(ক) গর্ভবতী শুকরীর যত্ন ও পরিচর্যা -  গর্ভবতী শুকরীকে প্রসবের অন্তত ৮ - ১০ দিন আগে আলাদা ঘরে আনতে হবে এবং ঐ ঘরটি ডেটল, ফিনাইল বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে গর্ভবতী শুকরীর পিছনের দিক ও পালান প্রতিদিন পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশানো জল দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে ও মাঝে মাঝে মালিশ করতে হবে প্রসবের ২ - ৩ দিন আগে হাল্কা খাবার দিতে হয়, খাবারের পরিমাণ ১/৩ ভাগ কমিয়ে দেওয়া দরকার এবং প্রসবের ১২ ঘন্টা আগে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়

         প্রসবের জন্য গড়ে ২ - ৫ ঘন্টা বা কিছু বেশী সময় লাগে এবং প্রতি ১২ - ২০ মিনিট অন্তর এক-একটি বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়  প্রতিটি বাচ্চাকে শুকনো কাপড় বা ভাল চট দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হয়  তারপর পেটের দিক থেকে ১ইঞ্চি  বাদ দিয়ে নাভির বাকী অংশটা দুদিকে সুতো দিয়ে বেঁধে, কাঁচি বা ব্লেড দিয়ে কেটে দিতে হয় এবং ঐ জায়গায় টিংচার আয়োডিন বা আন্টিসেপটিক্ অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দিতে হয় বাচ্চা দেওয়ার ২ ঘন্টা পরে সাধারণতঃ ফুল পড়ে যায়  যদি সময় মত না পড়ে তত্ক্ষণাত চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া দরকার  ঐ ফুল ও অন্যান্য ময়লা যত শীঘ্র সম্ভব সরিয়ে ফেলতে হয় কেননা শুকরী ওটি খেয়ে ফেলতে পারে   প্রসবের পর প্রথম ২ -৩ দিন হালকা খাবার দিতে হয় এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হয়

(খ) শুকর ছানার যত্ন ও পরিচর্যা

জন্মানোর প্রথম ৩ - ৪ দিনের মধ্যে শুকর বাচ্চার মৃত্যু হার বেশী যথাসম্ভব যত্ন  ও লক্ষ্য না দিলে এই সময় বেশ কয়েকটি বাচ্চা মরে যায়  সাধারণতঃ চাপা পড়ে ও দুধের অভাবে বা খাদ্যে আয়রনের অভাবে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে সেই জন্য প্রসবের পর ১ লিটার জলে ৫০ গ্রাম ফেরাস সালফেট মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে শুকরীর বাঁট ভালভাবে ধুয়ে দিতে হয়  বাঁটে দুধ না এলে অক্সিটোসিন দিয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে ইনজেকসন করা হয়

        শুকর ছানা জন্মানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে দাঁড়াতে পারে ও মায়ের বাঁটে মুখ দিয়ে গাঁজলা দুধ খায় জন্মের পর  ২মাস পর্যন্ত এদের শারীরিক বৃদ্ধি খুব বেশী, তাই পর্যাপ্ত খাবার  দেওয়া প্রয়োজন  তাছাড়া ২ - ৩ সপ্তাহের পর বাচ্চা শুকরকে  অধিক দৈহিক বৃদ্ধি ও দুধের বিকল্প খাদ্য হিসাবে বিশেষভাবে তৈরী ক্রীপ ফিডিং করানো যেতে পারে

সুঁচ দাঁত-   সদ্যোজাত বাচ্চা শুকরের ৪ জোড়া সুঁচ দাঁত প্লিয়ার বা ফরসেফ দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তুলে ফেলা দরকার কেননা ঐ দাঁত কোন কাজে লাগে না উপরন্তু শুকরীর বাঁটে ক্ষতের সৃষ্টি করে

মায়ের কাছ থেকে বাচ্চাকে ছাড়ানো-    শুকর ছানার পৃথক থাকার ব্যবস্থা সাধারণতঃ ৩ - ৮ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে থাকে  এই সময় বাচ্চাকে শতকরা ১৮ ভাগ প্রোটিন যুক্ত প্রারম্ভিক সুষম খাবার খেতে দিতে হয়  ১০ সপ্তাহ পর ঐ বাচ্চাগুলিকে কৃমির ঔষধ খেতে দিতে হয়

খাসীকরণ-     ৩ - ৪ সপ্তাহের মধ্যে যে সমস্ত পুরুষ বাচ্চা শুকর প্রজননের কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদের খাসীকরণ করা উচিত এতে অল্প সময়ে শুকরকে বাজারজাত করা যায় এবং ভালমানের মাংস পাওয়া যায়

শুকরের বাসস্থান

শুকরের ঘর একটু উঁচু জায়গায় হওয়া দরকার যেখানে বর্ষার সময় সহজে জল জমে না, আলো-বাতাস সহজে চলাচল করে ঘর ভিজে স্যাঁতসেতে থাকলে শুকরের অসুখ বেশী হয়

শুকরের ঘরের প্রকার ভেদ-  সাধারণতঃ ২ প্রকার শুকরের থাকার ব্যবস্থা হয়  মুক্তাঞ্চল পদ্ধতি ও আবদ্ধ পদ্ধতি তবে অনেক স্থানে এই দুটি পদ্ধতির মাঝামাঝি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় দেশী শুকর প্রথম পদ্ধতিতে এবং সংকর ও বিদেশী শুকর দ্বিতীয় পদ্ধতিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়

ঘরের মেঝে-  ঘরের মেঝে এমনভাবে তৈরী করতে হবে যাতে মেঝে সবসময় খঠখঠে শুকনো থাকে  সাধারণভাবে ২ - ৬ মাস বয়সের প্রতিটি শুকরের জন্য ১০ - ১৬ বর্গফুট জায়গা দরকার  ৬ মাসের বেশী শুকরের জন্য প্রয়োজন ১৬ - ২০ বর্গফুট জায়গা গাভীন হলে আলাদা রাখা দরকার এবং তখন  থেকে বাচ্চা হওয়ার পর একমাস অবধি প্রতিটি শুকরীর বাচ্চাসহ দরকার ৬০ - ৮০ বর্গফুট জায়গা প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পুরুষ শুকরের জন্য দরকার ৪০ - ৫০ বর্গফুট জায়গা

সংকর শুকরের জন্য জায়গা-   প্রতিটি বাচ্চার জন্য গড়ে ৬ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন বাচ্চাগুলি প্রথম ২ মাস মায়ের সঙ্গে থাকবে  সুতরাং বাচ্চা সহ শুকরীর জন্য লাগবে ২০ বর্গফুট জায়গা

বিদেশী শুকরের জায়গা-   বিদেশী সাদা শুকরের চেহারা বড় তাই ঘরের মাপও বেশী হয়  সংকর শুকরের প্রায় আড়াই গুণ বড় ঘরের মাপ হয় এবং সেইসঙ্গে ঘর তৈরীর খরচও বেশী লাগে

৫ টি সাদা শুকরী ও ১ টি শুকরের জন্য নিম্নোক্ত হারে স্থান দরকার-

  • পুরুষ শুকরটির জন্য ( ১ টি )                                       ৫০ বর্গফুট

  • প্রসুতি শুকরীর ৮০ বর্গফুট করে ৫ টির জন্য                       ৪০০ বর্গফুট

  • বাচ্চার জন্য ১৬ বর্গফুট করে (৫ টি শুকরীর মোট

        ৪০ টি প্রতি শুকরীর ৮ টা বাচ্চা হিসাবে ) বাচ্চার জন্য            ৬৪০ বর্গফুট

  • প্রজননের জন্যে রাখা ৫ টি শুকরী ও

          ১ টি শুকরের ২০ বর্গফুট করে                                    ১২০ বর্গফুট

  • খাবারের গুদাম ঘর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির জন্য                      ৪০ বর্গফুট

  • ঘরের মাঝে যাতায়াতের জন্য

       (দৈর্ঘ্য ৬২.৫ এবং প্রস্থ ৩ ফুট হিসাবে )                             ১৮৭ বর্গফুট

  • ড্রেনের জন্য                                                       প্রয়োজন ভিত্তিক

ঘরের মোট আয়তন হবে ১৪৩৭ বর্গফুট, যার দৈর্ঘ্য হবে ৬২.৫ ফুট এবং চওড়া হবে ২৩ ফুট ঘরের বা শুকর শেডের মাঝখানে ৩ ফুট রাস্তা রেখে চওড়ার দুপারে ১০ ফুট করে থাকার ব্যবস্থা করা যায়                                                             

শুকরের ঘরের ছাদ ও দেওয়াল-   মেঝে থেকে ঘরের দেওয়াল ৩ ফুট উঁচু হবে  দেওয়াল ইট, বালি, সিমেন্টের হলে ভাল হয় দেওয়ালের উপরে বাকী জাল দিতে হবে ৬ ফুট পর্যন্ত  তার উপর ছাদ দিতে হবে এবং ঐ ছাদ কংক্রিট, টিন, টালি বা খড়ের হতে পারে

শুকরের মলমূত্রের ব্যবহার-  পরিণত শুকর প্রতিদিন প্রায় ২ কেজি মল ত্যাগ করে প্রতিদিনের মল-মূত্র নিষ্কাশনের একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকা দরকার ঐ জমানো মল-মূত্র পচিয়ে, শুকিয়ে চাষের জমিতে ব্যবহার করা যায় জৈব সার হিসাবে

বাসস্থানে জলের ব্যবস্থা-  শুকরের বাসস্থানে সবসময় পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে প্রতিকেজি শুকনো খাবারের জন্য শীতকালে ২ - ৩ লিটার জল ও গরমকালে ৪ - ৫ লিটার জলের প্রয়োজন বা প্রতি ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২ - ৬ লিটার জলের দরকার হয়

বাসস্থানে খাবারের জায়গা-  শুকরের স্বভাব খাবারের পাত্র উল্টিয়ে দেওয়া তাই দরকার খুব ভারী পাত্র পূর্ণবয়স্ক শুকরের জন্য মেঝে থেকে খাদ্যপাত্রের উচ্চতা হবে ৯ ইঞ্চি আর প্রস্থ হবে ১৫ ইঞ্চি

শুকরের খাবার

পুষ্টির খাবার একমাত্র সুষম খাদ্য বা ঘাসের মাধ্যমে যোগান দেওয়া সম্ভবপর কিন্তু শুকরকে সাধারণতঃ বাড়িতে রান্না করা তরকারী, মূলজাতীয় ফসল, শাক-সবজি, কুমড়া, চালকল ও আটাকলের গুড়া, ছানার জল, মাছ-মাংসের ছাঁট, গুটি পোকার বীজ, হোটেলের অবশিষ্ট ভাত, তরকারী, ভাতের মাড়, দুধের কারখানার পরিত্যক্ত অংশ, ইত্যাদি খাওয়ানো হয়  উন্নত মানের শুকর পালনের জন্য চাই সুষম খাদ্য বা ম্যাস

বিভিন্ন প্রকার সুষম খাদ্য / ম্যাস -  শুকরের মোটামুটি তিন ধরনের খাবার পাওয়া যায় (১) বাচ্চার জন্য প্রারম্ভিক খাবার, (২) মাঝারী বয়সী শুকরের জন্য গ্রোয়ার খাবার এবং (৩) প্রজননক্ষম বা মা শুকরীর জন্য ফিনিসার খাবার

১) বাচ্চার ম্যাস কি দিয়ে করবেন ?

উপাদান

ভাগ

ভুট্টা ভাঙ্গা বা গম ভাঙ্গা

২০

চালের খুদ

৩০

চালের কুড়া

১০

চালের খুদ

৭.৫

বাদাম খইল গুড়া

২০

তিল খইল

মাছের গুড়া

খনিজ লবন

খাবার লবন

০.৫

ভিটামিন (A,B2D2)

১০ গ্রাম

মোট

১০০

তবে জন্মের ৭ - ১০ দিন পরে কচি বাচ্চা বা অনাথ বাচ্চা শুকর শাবককে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত বা ৩.৫ - ৬.৫ কেজি থেকে ৮.৫ কেজি ওজন পর্যন্ত ক্রিপ মিক্সচার বা প্রি-স্টার্টার বা শিল্প রিপ্লেসার খাবার খাওয়ানো যায় সেখানে প্রোটিনের ভাগ এক বেশী প্রায় ২০ ভাগ

 

দুধের বিকল্প খাদ্য কিভাবে বানাবেন ?

উপাদান

ভাগ

হলুদ ভুট্টা গুড়া

৪০

দুধ (স্কিমড)

২০

বাদাম খইল

১০

তিল খইল

১০

গমের ভুষি

১০

ঝোলা গুড়

১০

মাছের মিল

ব্রিউয়ার ইষ্ট

খনিজ লবন

ভিটামিন ( A,B2D3)

১০ গ্রাম

মোট

১০০

২) মধ্যবয়সী শুকরের খাবার -  এই খাবারকে গ্রেয়ার ম্যাস বলে এই ম্যাস ২০ - ৩৫ কেজি ওজন থেকে ৭০ -৯০ কেজি ওজন পর্যন্ত দেওয়া যায় 

কিভাবে গ্রোয়ার ম্যাস তৈরি করবেন-

উপাদান

ভাগ

ভুট্টা

৩০

গমের ভুষি

৪০

বাদাম খইল

২০

মাছের মিল

৭.৫

খনিজ লবন

২.৫

ভিটামিন (A,B2D3)

১০ গ্রাম

মোট

১০০

 

প্রজননক্ষম শুকরের খাবার- এই খাবারে প্রোটিন ১৬ ভাগ থাকবে

কিভাবে বানাবেন-

উপাদান

ভাগ

ভুট্টা

৫০

গমের ভুষি

২৭

বাদাম খইল

১৫

মাছের মিল

খনিজ লবন

১.৫

সাধারণ লবন

০.৫

মোট

১০০

 

উন্নত জাতের শুকরের বয়স অনুযায়ী খাদ্যের পরিমাণ ও দৈহিক ওজন-

বয়স

গড় দৈহিক ওজন

দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ

মোট খাদ্যের পরিমাণ

বাচ্চা শাবক

১ - ১.৫ কেজি

ইচ্ছামত মায়ের দুধ

-

১৪ দিন - ১ মাস

৪ - ৫ কেজি

দুধ + ১০০ - ২০০ গ্রাম

-

১ মাস - ২ মাস 

১২ - ১৫ কেজি

দুধ + ৫০০ গ্রাম

১৫ কেজি

২ মাস - ৩ মাস

১৫ - ২৭ কেজি

১ কেজি

৪৫ কেজি

৩ মাস - ৪ মাস

৩৬ - ৪০ কেজি

১.২৫ কেজি

৮২.৫ কেজি

৪ মাস - ৫ মাস

৪৫ - ৫০ কেজি

১.৫ কেজি

১২৭.৫ কেজি

৫ মাস - ৬ মাস 

৫৫ - ৭০ কেজি

২ কেজি

১৮৭.৫ কেজি

শুকরের রোগব্যাধি

শুকরের নানা প্রকার রোগ হতে পারে

  • শুকরের কলেরা (সোয়াইন ফিভার)-  এটি একটি ভাইরাস জনিত ছোঁয়াচে রোগ এবং হঠাত মৃত্যু ঘটতে পারে  অল্পবয়সী শুকরের এই রোগ বেশী দেখা যায়

লক্ষণ

  • এই রোগে তাপমাত্রা বেড়ে ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ১০৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত  হয়  সাথে পাতলা পায়খানা ও বমি হয় খিদে কমে যায় চোখ ও নাক দিয়ে পুরু রস বের হয়

 প্রতিরোধ

  • আক্রান্ত শুকরকে কেবলমাত্র সিরাম সহযোগে চিকিত্সা করলে কিছুটা সুফল পাওয়া যায়

 
  • শুকরের কৃমি রোগ- এটি শুকরের একটি প্রধান রোগ সাধারণত গোল বা সুতা কৃমির দ্বারাই শুকর বেশী আক্রান্ত হয়

লক্ষণ

  • এই রোগে শুকরের ওজন ঠিকমত বাড়ে না পুষ্টিকর খাবারও কাজে লাগে না  শুকর দুর্বল হয়ে পড়ে

 প্রতিরোধ

  • একমাস বয়স থেকে শুকরকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে এরপর প্রতিমাসে একবার করে ঐ ওষুধ খাইয়ে যেতে হবে ওষুধের পরিমাণ প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২০০ মিলি গ্রাম  (০.২ গ্রাম) পাইপারজিন এডিপেট পাউডার খাওয়াতে হবে

 
  • এঁষো রোগ (এফ.এম.ডি.)-  এটি একটি ভাইরাস জনিত ও ছোঁয়াচে রোগ  গরুর মত শুকরের এই রোগ হতে পারে বছরের যে কোন সময়ে

লক্ষণ

  • এই রোগ হলে মুখে ও পায়ে ঘা হয়, পায়ের ক্ষুরের মাঝে ও জিভের আশেপাশে, ভিতরে ও মাড়িতে, দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় ক্ষিদে কমে যায়

 প্রতিরোধ

  • কোন জীবানুনাশক ওযুধ মিশ্রিত জলে যেমন ২ ভাগ তুঁতে বা ফটকিরি মিশ্রিতজলে পায়ের ঘা ও মুখের ঘা ধুয়ে দিতে হয় পায়ের ঘায়ে পটাশ জল বা হিমাক্স, সোরিন জাতীয় কোন মলম ব্যবহার করা যায়

  • রক্তশূন্যতা (আনিমিয়া)- এটি একটি  অপুষ্টি জনিত রোগ যেসব বাচ্চা চরতে যায় না কিংবা খাবারে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রণ, কপার, কোবাল্ট বা ভিটামিন-বি থাকে না তাদের রক্ত কমে যাওয়া অসুখ হয়

লক্ষণ

  • এই রোগে বাচ্চা বাড়ে না, ভাল খায় না, শুকিয়ে যায়, হাঁপাতে থাকে, ছোটাছুটি করে না এবং মারা যায় গায়ের চামড়া, চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়

 প্রতিরোধ

  • হাফ কেজি জলে হাফ কেজি ফেরাস সালফেট ও ১০০ গ্রাম মধু মিশিয়ে মায়ের বাঁটে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায় তাছাড়া আয়রন ইনজেকশন (ইমফেরাম) বা আয়রন টনিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়

শুকরের রোগের কিছু লক্ষণ ও কারণ-

লক্ষণ

কারণ

১) হঠাত মৃত্যু হলে

১) সোয়াইন ফিভার (কলেরা রোগ), সোয়াইন ডিসেন্ট্রি (পাতলা পায়খানা) খাবারে বিষক্রিয়া

২) পাতলা পায়খানা হলে

২) সাধারণ উদরাময় (এনটেরাইটিস), পেটে কৃমি, ডিসেন্ট্রি, সোয়াইন ফিভার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবার বেশী আঁশযুক্ত

৩) চামড়া ও লোম খারাপ হলে

৩) লবণ ও প্রোটিনের অভাব

৪) রক্তশূন্যতা

৪) আয়রণ, কপার ও কোবাল্টের ও ভিটামিন-বি এর অভাব

৫) রাতকানা

৫) ভিটামিনের অভাব

৬) বাচ্চা শুকরের লোমহীন অবস্থা হলে

৬) আয়োডিনের অভাব

৭) খোড়ানোভাব, রিকেট, প্যারালাইসিস হলে

৭) ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন- এ, ডি,ও বি এর অভাব

৮) ক্ষিদে কমে যাওয়া

৮) প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন  ও ক্যালসিয়ামের অভাব

৯) প্রজনন ক্ষমতা কমে গেলে বা বৃদ্ধি হলে

৯) খুব বেশী মোটা বা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, ভিটামিন- এ ও ই এর অভাব

১০) কম দৈহিক বৃদ্ধি হলে

১০) দানাশস্যের অভাব, কম খেতে দেওয়া, পুষ্টিকর খাবার না দেওয়া খাবারে মিনারেল ও ভিটামিনের অভাব কৃমি রোগ ইত্যাদি

শুকর পালনের প্রকল্প

(৫টি সাদা শুকরী ও ১টি সাদা শুকরের প্রকল্প)

(ক)  মূলধনী ব্যয়-

১.  ঘরবাড়ী- শুকরের ঘর তৈরির জন্য খরচ মোট ১৪০০ বর্গফুট,

 প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা হিসাবে                                                     

৫৬০০০.০০ টাকা

২.  সরঞ্জাম ও উপকরণ, জলের পাত্র, খাবারের পাত্র, আলো ও জলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য খরচ

৪০০০.০০ টাকা

৩.  শুকর কেনার খরচ ৫টি শুকরীর প্রতিটি ২৫০০ টাকা হিসাবে ও ১টি শুকর ৩০০০ টাকা  হিসাবে

১৫৫০০.০০ টাকা

 মোট মূলধন =  (৫৬০০০.০০ + ৪০০০.০০ + ১৫৫০০.০০ টাকা)

৭৫৫০০.০০ টাকা

   

(খ) মূলধনের উত্স - ব্যাঙ্কের ঋণ - ৭৫৫০০.০০ টাকা

 

১.  মূলধন বিনিয়োগের উপর সুদ (বার্ষিক ১২ শতাংশ হিসাবে)

৯০৬০.০০ টাকা

২.  অপচয় বাবদ

১২০০.০০ টাকা

খরচের পরিমাণ  (৯০৬০.০০ + ১২০০.০০ টাকা)

১০২৬০.০০ টাকা

   

(গ) কার্যকরী মূলধন-

 

১.  ৬টি বড় সাদা শুকরের খাবার প্রতিটির জন্য ২.৫ কেজি খাবার হিসাবে মোট ১৫ কেজি × ৩৬৫ দিন = ৫৪৭৫ কেজি খাবার, ৭.০০ টাকা কেজি হিসাবে খাবারের খরচ

৩৮৩২৫.০০ টাকা

২.  ৪০ টি শুকর বাচ্চার (বছরে ২ বার বাচ্চা দেওয়া হিসাবে ) ৫০০ গ্রাম হিসাবে প্রতিদিন, মোট ৪৫ দিন পর্যন্ত = ০.৫× ৪০ × ৪৫ দিন × ২ বার = ১৮০০ কেজি খাবারের খরচ

১২৬০০.০০ টাকা

৩.  ৪০ টি বাচ্চার ১ কেজি হিসাবে ৩০ দিনের খাবারের খরচ = (২ - ৩ মাস)  = ৪০ × × ৩০ দিন = ১২০০ কেজি

৮৪০০.০০ টাকা

৪.  ৪০ বাচ্চার ১.২৫ কেজি হিসাবে × ৩০ দিন = ১৫০০ কেজি (৩ - ৪ মাস)

১০৫০০.০০ টাকা

৫.  ৪০ × ১.৫ × ৩০ দিন (৪ - ৫ মাস) = ১৮০০ কেজি

১২৬০০.০০ টাকা

৬.  ৪০ × ২ কেজি × ৩০ দিন (৫ - ৬ মাস) = ২৪০০ কেজি

১৬৮০০.০০ টাকা

   

মোট খাবারের খরচ =

৯৯২২৫.০০ টাকা

   

৭.  পরিশ্রমী ১ জন সহ

৬০০০.০০ টাকা

৮.  চিকিত্সা বাবদ খরচ

৫০০.০০ টাকা

৯.  অন্যান্য খরচ

৫০০.০০ টাকা

 

মোট কার্যকরী মূলধনের খরচ    =    ১০৬২২৫.০০ টাকা

বার্ষিক মোট খরচ  = ১০৬২২৫.০০ + ১০২৬০.০০  = ১১৬৪৮৫.০০ টাকা

 

(ঘ) আয়-

১.  ২ মাস বয়স পর্যন্ত ৪০টি বাচ্চা বিক্রি বাবদ আয় প্রতিটির ওজন ১৫ কেজি হিসাবে ও ৫০ টাকা কেজি হিসাবে মোট ৪০ × ১৫ কেজি × ৫০ টাকা

৩০০০.০০ টাকা

২.  ৪০টি বড় শুকরের ৬ মাসে ৭০ কেজি ওজন হিসাবে ও ৫০ টাকা কেজি হিসাবে  আয় ৪০ × ৭০ কেজি × ৫০ টাকা

১৪০০০০.০০ টাকা

৩.  ৬টি প্রজনন শুকরের প্রতিটির ৩০০০ টাকা মুল্য হিসাবে আয়

১৮০০০.০০ টাকা

৪.  বস্তা ও ব্যাগের মূল্য ২৫০টি প্রতিটি ১০ টাকা হিসাবে

২৫০০.০০ টাকা

৫.  শুকরের মল, ১৫ টন, ২০০ টাকা প্রতি টন হিসাবে

৩০০০.০০ টাকা

                                                                   মোট আয়                  ১৯৩৫.০০ টাকা

 

(ঙ) লাভ-

বছরে লাভ = ১৯৩৫০০.০০ - ১১০৪৮৫.০০ = ৭৭০১৫.০০ টাকা

প্রতি মাসে = ৬৪১৮.০০ টাকা

এক পলকে শুকর পালন

  • প্রজননক্ষম বয়স - মাদী ৮ - ৯ মাস, ওজন ৭৫ - ৮০ কেজি মদ্দা  ৮ মাস বয়স

  • উন্নতমানের একটি বিদেশী শুকর একসঙ্গে ১০ - ১২ টি বাচ্চা প্রসব করতে পারে  একটি দেশী শুকর প্রসব করে একসঙ্গে ৪ - ৫ টি

  • বাচ্চা দেয় বছরে দুবার অথবা তিন বার
  • বাজারজাত ওজন - দেশী শুকর ৩০ - ৪৫ কেজি ১৮ মাস বয়সে বিদেশী শুকর ৯০ - ৯৫ কেজি ৫ - ৬ মাস বয়সে

  • প্রতি ৩ - ৩.৫ কেজি সুষম খাবারে এদের এক কেজি দৈহিক ওজন বাড়ে

  • পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত ১ : ২

  • ঋতুচক্র - ১৮ - ২৪ দিন (গড়ে ২১)

  • ডিম্বানু নিঃসরণ - গরম হবার ৪৮ ঘন্টা পর

  • গাভীনকাল - ১১৪ দিন (৩ মাস ৩ সপ্তাহ ৩ দিন)

  • খাসীকরণের বয়স -   ৪ - ৬ সপ্তাহ বয়সে

  • পালানে বাঁটের সংখ্যা -  ১৪ - ১৬ টি

  • বাচ্চা প্রসব হতে সময় লাগে  ২ - ৮ ঘন্টা

  • ফুল পড়তে সময় লাগে বাচ্চা হওয়ার ২ ঘন্টার মধ্যে
  • প্রসবের পর থেকে পুনরায় পাল খাওয়ানোর সময়ের ব্যবধান দেড় মাস
  • খামারে মাদী রাখা যেতে পারে ৬টি বিয়ান পর্যন্ত
  • খামারের মদ্দা রাখা যেতে পারে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত
  • শুকরী একাধিক্রমে তিনদিন গরম থাকে, সেজন্য বেশী বাচ্চা পেতে হলে গরম হবার ১৪-২০ ঘন্টা পর একবার এবং ১২ - ২৪ ঘন্টার মধ্যে আর একবার শুকর দেখানো উচিত

  • বাচ্চাসহ প্রতি শুকরীর জন্য মেঝে দরকার ৬০ - ৮০ বর্গফুট 

  • প্রজননক্ষম প্রতিটি শুকরীর জন্য মেঝে দরকার ৪০ - ৫০ বর্গফুট

  • খাবার জলের জায়গা ৯ ইঞ্চির বেশী চওড়া হলে শুকর জল বা খাবারের জায়গায় শুয়ে থাকবে
  • শুকরের বাচ্চার মাতৃদুগ্দ্ধ ছাড়ানোর বয়স ৫ - ৬ সপ্তাহ

  • প্রজননক্ষম শুকর যার দৈহিক ওজন ৮০ কেজির উপর দৈনিক সুষম খাবার লাগে ২.৫ - ৩ কেজি

  • ১৫ - ১৭ কেজি ওজনের ২ - ৩ মাস বয়সের শুকরের দৈনিক খাবার লাগে ১ কেজি

  • দুগ্ধবতী শুকরীর ৮ - ১০টি বাচ্চা সহ দৈনিক জল লাগে ২২ - ২৭ লিটার

  • পরিণত একটি মদ্দার দৈনিক জল প্রয়োজন ২০ - ২৫ লিটার