চাষ / লাঙল দেওয়া |
পুকুরের জমিতে লাঙল দেওয়ার উদ্দেশ্য হল তলার কালচে মাটিকে
উল্টে দেওয়া যাতে রোদ, হাওয়া, অক্সিজেন পেয়ে পুরো নীচের মাটির স্তর বা
স্তরগুলি জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়׀ যদি পাঁক থেকেও যায় তা অক্সিজেনের সংস্পর্শে
শোধন হয়ে যাবে׀ যদি মাটি ভিজে থাকে এইভাবে তার থেকে ভাল ফল পাওয়া যায়,
কেননা ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে কালচে জৈব বর্জ্য ভেঙে গিয়ে মাটিতে রূপান্তরিত
হয়׀ যদি প্রতি বর্গমিটারে ৬-১০টি চারা মজুত করার পরিকল্পনা থাকে তাহলে
অবশ্যই লাঙল দিতে হবে, বিশেষ করে যন্ত্রপাতির সাহায্যে বা লোক লাগিয়ে যখন
পুরো পাঁক সাফ না করা যায়׀ লাঙল চাষে ৫/৭দিন ধরে মাটি শুকোতে হবে׀
তাতেও যদি কালচে ভাব থাকে, ফের লাঙল দিতে হবে׀ যদি ভারী ট্রাকটর
দিয়ে চষা হয় তবে পুকুরে কিছুটা জল ঢুকিয়ে মাটিতে ভিজে ভাব আনতে হবে, তারপর
আবার শুকোতে হবে׀ চাষ মাটিতে জলভরে পুকুরের চিংড়ি মজুত করে পালন করতে
গেলে পুকুরের তলার স্তরে ঘোলাটে ভাব দেখা যায়׀ এইজন্য তলার মাটি
প্রস্তুত করার পর ভারি রোলার চালিয়ে নিলে মাটি বেশ সমান আর আঁটসাঁট হয়ে যায়׀
এতে জল ঘোলাটে হবার সম্ভাবনা থাকে না, চিংড়ি ছাড়া এবং পালন করার
সুবিধে হয়׀ |
|

|
 |
চুণ দেওয়া |
মাপমত চুণ প্রয়োগ করে চাষ শুরু করলে পুকুরের মাটি জল দুয়েরই
অম্লত্ব ক্ষারত্ব (পি.এইচ) এর ভারসাম্য রক্ষা হয়׀ চুণ প্রয়োগের আগে
দেখে নিতে হবে মাটি আর জলের পি.এইচ. কত আছে, সেই অনুযায়ী চুণ প্রয়োগ করতে
হবে׀ এখানে সারণীতে দেখানো হয়েছে কোন জমিতে কতটা চুণ লাগবে׀ জমির
পি.এইচ. মাপার মিটার ব্যবহার করে পি.এইচ. মাপা যায়׀ অন্যথা,
কিছুটা মাটি যে শুকিয়ে গুড়ো করে তাতে সমান ওজনের জল মিশিয়ে (ডিসটিলড
ওয়াটার), ভালভাবে গুলে একরাত রেখে দিতে হবে তারপর পি.এইচ. মাপার সলিউশন
ব্যবহার করা যাবে׀ |
|
মাটির পি.এইচ. যদি ৫এর নীচে হয়ে থাকে তবে কলিচুণ ব্যবহার
করতে হবে׀ ৫এর ওপর থাকলে, কলিচুণ ব্যবহার করলে জলভরার পর পুকুরের সেই
জলেও বহুদিন ক্ষারত্ব থাকবে, এটার ফল ভাল হবে না׀ মাটির পি.এইচ. ৫এর
ওপর থাকলে সাধারণ চুণ বা ডলোমাইট ব্যবহার করাই ভাল׀ |
|
পুকুরের মাটিতে যদি আসিড সালফেট (কমলা রঙ) না থাকে তাহলে
শামুকপোড়া চুণ বা সাধারণ চুণ পুকুরের তলদেশের মাটিতে সমানভাবে এবং ধারের
ঢালু পাড়ে ছড়াতে হবে (পুকুরে জল ছাড়ার আগে)׀ যদি মাটিতে আসিড সালফেট
দেখা যায় তাহলে মাটিতে সরাসরি চুণ প্রয়োগ করা উচিত নয়׀ সেক্ষেত্রে
পুকুরে জল ভরার পর এমন পরিমাণে চুণ দিতে হবে যাতে পি.এইচ. এ পৌঁছায়׀ যে
পুকুরে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্লিচিং (ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট) ব্যবহার
করা হয় সেখানে ৩-৪দিন বাদে চুণ দেওয়া উচিত׀ যদি চুণ দেওয়ার পর ওই ধরণের
রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তবে তার তেজ কমে যায়׀ |

|
চাষের পুকুর প্রস্তুত করার জন্য চুণ
ব্যবহারের বিধি |
|
মাটির পি.এইচ. |
ব্যবহার্য চুণের পরিমাণ |
ব্যবহার্য কলিচুণের পরিমাণ |
৬এর বেশী |
প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজির কম |
প্রতি হেক্টরে ৫০০ কেজির কম |
৫-৬ |
প্রতি হেক্টরে ২০০০ কেজির কম |
প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজির কম |
৫এর কম |
প্রতি হেক্টরে ৩০০০ কেজির কম |
প্রতি হেক্টরে ১৫০০ কেজির
কম | |
|

|
পুকুরে জল ভরা এবং জল উর্বর
করা |
সম্ভাব্য ঝুঁকি |
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, পুকুরে জল ভর্তি করা এবং
চাষের উপযোগী জল প্রস্তত করার সময় চিংড়ি চারা ছাড়ার আগে পর্যন্ত নানা রকম
ঝুঁকি থাকে׀ সুপরিকল্পিত, সময়োচিত পরিচালন ব্যবস্থা থাকলে এই ঝুঁকি
এড়ানো যায়׀ |
১) প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৬০টা ফুটো যুক্ত জাল / ছাঁকনি এর
মাধ্যমে পুকুরে জল ঢোকাতে হবে׀ তাহলে, রোগবাহী সুক্ষ্ম প্রাণী বা
অন্যপদার্থ ঐ জলে আটকে যাবে, রোগ সংক্রামণের সম্ভাবনাও
কমবে׀ |
২) যেখানে বেশী সংখ্যায় চারা মজুত করা হয় সেখানে জল প্রবেশ
করানোর সময় পরিশোধন করে নিলেও ঝুঁকি কমে׀ |
৩) যেখানে অল্প সংখ্যায় চারা মজুত করা হয় সেখানে জলে সার
প্রয়োগের পরই রোগ আক্রমণের সম্ভাবনা কমে আসে׀ |
উক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা কালে দেখা গেছে, জলাধার ব্যবহার করে
সংক্রমণ প্রতিরোধ বা উত্পাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার
ঘটেনি׀ অথচ চিংড়ির চাষের ক্ষেত্রে জলাধারের জলকে উন্নতমানের মাধ্যম
বলেই ধরা হয়׀ অতঃপর এই সিদ্ধান্তেই আসতে হয়েছে যে চিংড়ি চাষীরা
জলাধারের জলকে ঠিকভাবে বা সঠিক পদ্ধতিতে কাজে লাগাতে
পারেনি׀ |
চিংড়ি চাষের জন্য জলের সুনিয়ন্ত্রণ এবং তত্বাবধান একান্ত
জরুরি׀ এইজন্য, জলের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে
জলাধারের জল ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে׀ |

|
চারা বাছাই এবং মজুত
পদ্ধতি |
সম্ভাব্য ঝুঁকি |
গবেষণায় দেখা গেছে যে চিংড়ির চারা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনেক
বিপদের ঝুঁকি থাকতে পারে- |
১) নীচুমানের চিংড়ি (নিস্তেজ, নার্শারিতে পালিত
১৬মিলিমিটারের চিংড়ির বাচ্চা অর্থাত জুভেনাইল, পরিবহনের সময় প্রায়ই মারা
যায়) থেকে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা׀ |
২) পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ৫% চিংড়ি চারা (পি.এল.) যদি
সাদা মত রোগের ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তবে মড়ক দেখা দিতে পারে এবং উত্পাদন
স্বাভাবতই ব্যাহত হতে পারে׀ |
৩) যদি অনেক দুর থেকে (৬ঘন্টার বেশী রাস্তা) মজুত করার জন্য
চিংড়ি চারা পরিবহন করতে হয় তবে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা
থাকে׀ |
৪) যদি সংশ্লিষ্ট চিংড়ি খামারেই পোস্ট-লার্ভা (পি.এল)
আতুড় পুকুরে লালন-পালন করা হয় তাহলে রোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমে
যায়׀ |

|
পরিচালন পদ্ধতি |
চিংড়ি খামারের বিভিন্ন ধরনের পরিচালনার পদ্ধতি রয়েছে, যা
অনুসরণ করলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারা যায়- |
১) কিনবার আগে চিংড়ির পি.এল. গুলির কেমন অবস্থা, তা
হ্যাচারিতেই পরীক্ষা করে নিতে হবে׀ হ্যাচারিতে দু একটি ভাল জলাধারে
দেখে নিতে হবে পি.এল. এর স্বাভাবিক রঙ, আকার ও গতিবিধি স্বাভাবিক কিনা׀
পি.এল. সব একই মাপের ও একই রঙের হলে ভাল׀ একটা গোল টবে আঙ্গুল
দিয়ে জল ঘোরালে চারাগুলি সাঁতার কাটার সময় চনমনে আছে কিনা বোঝা যাবে׀
যদি কোন মরা বা ফ্যাকাশে রঙের পি.এল. দেখা যায় তবে ঐ জলাধারের চিংড়ির
বাচ্চা কেনা উচিত হবে না׀ |
২) যদি চোখে দেখে পি.এল. ঠিক আছে মনে হয়, তখন এখান থেকে
ওখান থেকে হাত বাছাই ৫৯টি চারা সংগ্রহ করে পি.সি.আর. গবেষণাগার / পরীক্ষাগারে
পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে শতকরা ৫ভাগের বেশী পি.এল. সাদা ক্ষত রোগের ভাইরাস
আক্রান্ত কিনা׀ দু-ধাপে পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় চারাগুলি সুস্থ আছে
তবে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ঐ চারা মজুত করা যাবে׀ |
৩) হ্যাচারি থেকে চিংড়ি খামারে যত তাড়াতাড়ি চারাগুলি
নিয়ে আসা যাবে ততই ভাল ফল পাওয়া যায়׀ অর্থাত ৬ঘন্টার কম পরিবহন সময় হলে
তা আদর্শ দুরত্ব׀ প্রতিটি ব্যাগে যতটা সম্ভব কম পি.এল. নিতে হবে׀
পরিবহন করার সময় চারার পরিমাণ / মাত্রা এইরকম হতে
হবে׀ |
পি.এল. ১৫ |
১০০০ - ২০০০ পি.এল. প্রতি লিটার
জলে |
পি.এল. ২০ |
৫০০ - ১০০০ পি.এল. প্রতি লিটার
জলে | |
|
৪) দুর্বল এবং মরা পি.এল. পুকুরের ধারেই বাতিল করতে হবে׀
বাছাই করার একটা পদ্ধতি ঠিক করে নিতে হবে׀ এর জন্যে পরিবাহিত
ব্যাগ থেকে পি.এল. প্রথমে একটি প্লাস্টিক অথবা ফাইবার-গ্লাসের চৌবাচ্চায়
স্থানান্তরিত করতে হবে যাতে অন্তত ৫০০লিটার জল ধরে׀ এরপর ১০০০লিটার জলে
১০০মিলি লিটার ফরমালিন, এই অনুপাতের দ্রবণ প্রস্তুত করে পি.এল. গুলিকে অন্তত
আধঘন্টা রাখতে হবে׀ লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে চৌবাচ্চাগুলিতে খোলামেলা
হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা বা সুযোগ থাকে׀ এর জন্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার
ব্যবহার করতে পারলে আরও ভাল׀ এরপর চৌবাচ্চার জল ভালভাবে নাড়াচাড়া
করতে হবে যাতে মরা বা নিস্তেজ পি.এল. তলায় থিতিয়ে পড়ে׀ এরপর সুস্থ সবল
পি.এল.এর ঝাঁক পরিষ্কার প্লাস্টিকের নলের সাহায্যে চৌবাচ্চার একপাশের জলের
উপর তল থেকে সাইফন করে বের করে নিতে হবে׀ এইভাবে তিন চতুর্থাংশ জল বার
করে নিলে তলায় থিতিয়ে পড়া যত মরা পি.এল. দেখতে পাওয়া যাবে׀ শেষমেষ
তলায় থিতিয়ে থাকা মরা পি.এল. পাতলা প্লাস্টিকের নল দিয়ে সাইফন করে বার করে
নিতে হবে׀ এই পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে
হবে׀ |
ক) স্বাভাবিক বায়ু চলাচল বা অক্সিজেন সরবরাহের পরিবেশ
থাকলে, তবেই ফরম্যালিন ব্যবহার করতে হবে׀ |
খ) পরিবহন কালে চিংড়ি যদি খোলস ছাড়ে বা বেশ কিছু পরিমাণে
মারা যায় তবে ফরম্যালিন ব্যবহার নিষেধ׀ |
গ) যদি নার্শারি থেকে চারা আনা হয়, তাহলে তাদের
১৫০পি.পি.এম. (১টন জলে ১৫০মিলি লিটার) ফরম্যালিনের দ্রবণ বানিয়ে ১৫মিনিট রেখে
পরিশোধন করতে হবে׀ দুর্বল চারাগুলি সাধারণত একটু বড় আকারের হলেও তাদের
সহজে বাছাই করা যায় না কিন্তু এই অনুপাতের দ্রবণের যা তেজ, তা সহ্য করতে
পারে׀ এই পরিশোধন প্রক্রিয়ায় বহিরাগত পরজীবী বা সংক্রমণ রোধ করা যায়׀
দ্রবণের শক্তির পরিমাণ এর চেয়ে বেশী বাড়ালে চারাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে
পারে׀ |
৫) উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় নিস্তেজ চারা বাছাই করার সময়
চৌবাচ্চায় ধীরে ধীরে পুকুরের জল মেশাতে হবে যাতে তারা জলের লবণাক্ততার সঙ্গে
নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে׀ |
হ্যাচারী পরিক্রমা, পি.সি.আর. পরীক্ষাগারের কাজ, চারা
পরিবহন, পুকুরপাড়ের বাছাই তথা পরিশোধন পর্ব ইত্যাদি সমগ্র ক্রিয়াকর্ম চারা
মজুত করার পূর্ববর্তী ২-৩দিনের মধ্যে সেরে ফেলতে হবে׀ |

|
পুকুরের তলদেশের
তত্বাবধান |
সম্ভাব্য ঝুঁকি |
পুকুরের নিজস্ব তলানির সঙ্গে রোগ সংক্রমণের সরাসরি কোন
সম্পর্ক এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে পাওয়া যায়নি׀ তবে অন্যান্য জায়গায়
যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষী চালানো হয়েছিল তা থেকে দেখা গেছে যে পুকুরের তলার
মাটির রঙ কালচে হলে বা কালো আস্তরণ থাকলে তার থেকে রোগ ছড়াবার চিংড়ি বৃদ্ধি
বাধাপ্রাপ্ত হওয়া সর্বোপরি উত্পাদন নষ্ট হবার ঘটনা ঘটেছে׀ |
পরীক্ষা থেকে জানা গেছে যে অধিক সংখ্যায় বীজ মজুত, খাদ্যের
হার ও দূষিত পুকুর তলদেশের মধ্যে সম্পর্ক আছে׀ অতঃপর সিদ্ধান্ত এই যে,
পুকুরের অনুর্বর বা দূষিত মাটি, বেশী সংখ্যায় চিংড়ি মজুত করা এবং খাবার
সরবরাহ এইগুলোই উত্পানের মূল অন্তরায়׀ সুতরাং বেশী ঘন মজুত হলে পুকুরের
তলার মাটির অবশ্যই যত্ন নিতে হবে׀ |

|
পরিচালন বিধি |
পুকুরের যেসব জায়গায় খাবার দেওয়া হয় বা নালা রয়েছে সেখানকার
তলার মাটি সপ্তাহে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত׀ যদি দেখা যায় মাটির
ওপর কালচে স্তর বা রঙ আসছে বা বেনথিক শ্যাওলা জমছে বা বদগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে
তাহলে, সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিতে হবে׀ পরিপূরক খাবার দেওয়ার
পরিমাণ কমাতে হবে আর জল পালটে টাটকা জল পুকুরে ঢোকাতে হবে׀ জল ছাড়া
এবং বার করার সময় মাটির কালচে জায়গা বা খাবার জমার জায়গা (যদি থাকে) আস্তে
আস্তে নাড়া-ঘাঁটা করলে দূষিত অংশ ধুয়ে বেরিয়ে যাবে׀ রোজকার খাবার
এমনভাবে মাপ করে দিতে হবে (ট্রে-তে দিলে ভার বোঝা যাবে) যাতে খাবার নষ্ট না
হয় বা তলায় জমে জল-মাটি দূষিত করতে না পারে׀ |
|

|
রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ও চিকিত্সা
বিধি |
চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে বেশ কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করে দেখা
গেছে রোগ নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন ভূমিকা নেই׀ যে সব জায়গায় বেশি সংখ্যায়
চিংড়ি মজুত করা হয়, সেখানে বেশি মাত্রায় রাসায়নিক ওষুধ বারে বারে ব্যবহার
করার প্রবণতা দেখা যায়׀ পরীক্ষা করে দেখা গেছে বেশ কিছু সংখ্যক
আন্টিবায়োটিক এবং প্রো-বায়োটিক প্রয়োগ করে মড়ক প্রতিরোধে বিশেষ কিছু ফলাফল
পাওয়া যায়নি׀ |
যেখানে নিবিড় চাষ করা হয় সেখানে অল্পমাত্রা সার এবং মাপমত
চুণ এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করে রোগনিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া
গেছে׀ |
বিভিন্ন জায়গায় যেখানে বেশি সংখ্যায় চিংড়ি চাষের পুকুরের
মজুত করা হয়েছিল সেখানে খাবারের সঙ্গে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া, ভিটামিন এবং কিছু
খনিজ মিশ্রণ করে সদর্থক ফল পাওয়া গেছে׀ এইসব পদার্থের কিন্তু রোগ
সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নেই׀ |
যেসব চিংড়ি খামারে চিংড়ির মজুত একটু হালকা সেখানে
জীবাণুনাশক হিসাবে নুভান এবং এন্ডোসালফান এর মত কীটনাশক ব্যবহার করে সুফল
পাওয়া গেছে׀ এই সমস্ত কীটনাশক চট করে ব্যবহার করা উচিত নয়, কেননা এই
সমস্ত রাসায়নিকের কিছু পরিমাণ পরিণত চিংড়ির শরীরে থেকে যায় যা বাজারজাত হলে
মানুষের শরীরে নানা অপক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে׀ সংক্রমণ রোধক হিসাবে
কেবলমাত্র ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট (ব্লিচিং পাউডার) ব্যবহার করা যেতে পারে׀
অন্যান্য রাসায়নিক যেমন বিভিন্ন চুন, সার, জিয়োলাইট বা ঐ জাতীয়
অন্যান্য যৌগ, যা পরিণত চিংড়ির শরীরে থেকে যায় না, তা ব্যবহার করলে পুকুর
এবং চিংড়ি উভয়ের পক্ষে স্বাস্থ্যসম্মত হয়׀ |
মত্স্য দপ্তরের কারিগরি সহায়তায় চিংড়ি চাষের যেসব
প্রদর্শনী ক্ষেত্র পরিচালনা করা হয়েছিল তাতে দেখা গেছে যে, আন্টিবায়োটিক বা
অন্যান্য রাসায়নিক খুব সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করে উচ্চমানের অধিকমাত্রায়
উত্পাদন পাওয়া গেছে׀ খুব সামান্য পরিমাণে রাসায়নিক ব্যবহার করলে এবং
নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করলে উত্পাদনের খরচ কমে এবং রপ্তানি
ক্ষেত্রে তথা অন্তর্দেশীয় বাজারে ফসল বিক্রি করা অনেক সহজ হয়ে
যায়׀ |
আন্টিবায়োটিকের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ, চিংড়ি খামার
পরিচালনা করতে গেলে আন্টিবায়োটিক ওষুধ পরিত্যাগ করতে হবে׀ মত্স্য দপ্তর
উপদেশ দিচ্ছে যে নিম্নে বর্ণিত যে সমস্ত আন্টিবায়োটিক ও সক্রিয় শারীর বৃত্তিয়
বস্তু জলজ সম্পদ চাষে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সেগুলি কোন ক্ষেত্রেই ব্যবহার
করা যাবে না׀ |
তালিকাটি নিচে দেওয়া হল- |
|
১ |
যাবতীয় নাইট্রোফিউরান
ফিউরাজোলিডন, নাইট্রোফিউরাজোন, ফিউরালটাডোন,
নাইট্রোফিউরানটোয়ান, ফিউরিলফিউরামাইড, নাইফিউরাটেল, নাইফিউরোক্সাইম,
নাইফুরপ্রাজাইন এবং এদের অন্যান্য উত্পাদক |
১১ |
সালফোনামাইড (অনুমোদিত সালফাডাইমেথক্সিন,
সালফাব্রোমোমেথাজাইন এবং সালফাএথক্সিপাইরিডাজাইন
ছাড়া) |
২ |
নিওমাইসিন |
১২ |
কোলচিসিন |
৩ |
ন্যালিডিক্সিক আসিড |
১৩ |
ড্যাপসোন |
৪ |
সালফামেথোক্সাজোন |
১৪ |
ডাইমেট্রিড্যাজোল |
৫ |
আরিস্টোলোচিয়া এবং অন্যান্য প্রকরণ |
১৫ |
মেট্রোনিড্যাজোল |
৬ |
ক্লোরোফর্ম |
১৬ |
রনিড্যাজোল |
৭ |
ক্লোরপ্রোম্যাজাইন |
১৭ |
আইপ্রোনিড্যাজোল |
৮ |
ক্লোরোকুইনোলোনস |
১৮ |
অন্যান্য নাইট্ররমিড্যাজোল |
৯ |
গ্রাইকোপেপটাইডস |
১৯ |
ক্লেনবুটেরল |
১০ |
ক্লোরামফেনিকল |
২০ |
ডাইএথিলস্টিলকেন্ট্রল | |
|

|
চিংড়ির স্বাস্থ্য
পরীক্ষা |
সপ্তাহে অন্তত একবার জাল দিয়ে গড়পড়তা কিছু চিংড়ি চাষের
পুকুর থেকে তুলে দেখতে হবে তাদের বাইরের চেহারা বা স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা׀
ওই সময় পরীক্ষা করে দেখা উচিত তাদের রঙ স্বাভাবিক আছে কিনা, কোনও
প্রত্যঙ্গ খোয়া গেছে কিনা, ফুলকার অবস্থা কেমন, ফুলকায় কোনও দূষণ হয়েছে না
অন্যভাবে কোনও দূষণ ঘটেছে, না কালো ফুলকার অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে
শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে কিনা, এও দেখতে হবে যে- পেটের বা পৌষ্টিক নালীর
অবস্থা কেমন আছে, দৈর্ঘ্য বা ওজন স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কিনা׀ তাদের
ক্ষুধা, ক্ষুধামান্দ্য এবং গতিবিধি / স্বাচ্ছন্দ্য কেমন থাকছে- তার ওপর সর্তক
নজর রাখতে হবে׀ সাপ্তাহিক পরীক্ষার তথ্য একটি খাতায় নথিবদ্ধ করতে হবে׀
|
এই নথিবদ্ধ তথ্য সময়মত রাখতে পারলে তার পরম্পরা থেকে জানা
যাবে জল ও মাটির ধারাবাহিকতা থাকছে না কোনও পরিবর্তন হচ্ছে, হলে তা কেমন
ধরনের এবং এই তথ্য অনুসরণ করলে চিংড়ির স্বাস্থ্যের তথ্য খাদ্য পরিবেশনের
তদারকি ব্যবস্থা তথা চিংড়ির খামার পরিচালনা সহজ হবে׀ কোনও চিংড়ি
রোগাক্রান্ত হলে তা জলের ওপরতলায় সাঁতার কাটবে আর পুকুরের পাড়ে আসার বা
থাকার চেষ্টা করবে׀ যদি বেশ কিছু চিংড়ির মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ দেখা
যায় তবে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে׀ এই সময় খাবার ট্রে লক্ষ্য করলে
এবং ধারাবাহিক নথিবদ্ধ তথ্য অনুসন্ধান করলে জল বা মাটির আকস্মিক গুণগত
পরিবর্তন এবং মানের অবনতি বা দূষণ ধরা পড়বে׀ অতঃপর রোগ লক্ষণ প্রকাশের
কারণও অনুমান করা যাবে׀ ফলে চিকিত্সার সুরাহা হবে׀ তাই তলার
মাটির আর জলের নিয়মমাফিক পরীক্ষা করলে পরিবেশের অবনতি রোধ করা যাবে মহামারী
দেখা দেওয়ার ভয়ও থাকবে না׀ |
|

|
চিংড়ির রোগ, মড়কের
মোকাবিলা |
সবরকম সাবধানতা অবলম্বল করার পরেও একজন চিংড়ি চাষী চিংড়ির
রোগ তথা মড়কের সম্মুখীন হতে পারেন׀ তাই ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার এবং
আশপাশের খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে׀
|
বিপদের আভাস- |
১) যে কোনও খামারে যখনই কোনও দূর্বল, রোগলক্ষণ যুক্ত চিংড়ি
দেখতে পাওয়া যাবে তখনই ধরে নিতে হবে বিপদ আসছে׀ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে׀
|
২) আবহাওয়া পরিবর্তন, বিশেষত মেঘলা, বর্ষণমুখর সময়ে এই
সমস্যা দেখা দিতে পারে׀ |
৩) জলের রঙ বদলও বিপদের সঙ্কেত׀ |
৪) পুকুরের তলার মাটিতে হঠাত কালচে আস্তরণ׀
|
৫) পুকুরের ধারে চিংড়ির আসার চেষ্টা, মৃত চিংড়ির সংখ্যা
বৃদ্ধি׀ |
উপরোক্ত পরিস্তিতিতে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে
হবে- |
১) জল, মাটির অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে তা সংশোধন করতে
হবে׀ |
২) মৃত চিংড়ি দ্রুত তুলে নিন এবং চাষের খামার / খামারগুলি
থেকে বেশ কিছু দূরে নিরাপদ জায়গায় পুঁতে ফেলুন׀ |
৩) যদি মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যায় এবং চিংড়িগুলি খাওয়া
বন্ধ করে দেয় তখন খেপলা জালে তাদের তুলে ফেলতে হবে যাতে দূষিত জলের ছিটে জল
সরবরাহের উত্স স্থলে না যেতে পারে׀ |
৪) দূষিত জল নালায় ছেড়ে দেওয়ার আগে অন্তত ৭দিনের জন্য
ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাখতে হবে׀ |
৫) আশপাশের খামারে রোগ সংক্রমণ এড়াবার জন্য সংশ্লিষ্ট চাষী
বা মালিকদের সমস্যার কথা জানতে, আপত্কালীন জরুরীভিত্তিক ফসল তোলা এবং নালায়
জল ছাড়ার দিনক্ষণ জানিয়ে দিতে হবে׀ |
৬) সাধারণ জায়গা বা জলের উত্স বা প্রবাহে জল ছাড়ার আগে
ভারত সরকারের আকোয়াকালচার অথরিটি নির্দেশিত পদ্ধতিতে তা দূষণমুক্ত করে নিতে
হবে׀ এই নির্দেশ নিয়ন্ত্রিত উপকূল এলাকায় (সি.আর.জেড) ৫ থেকে ১০
হেক্টরের জল করে এবং ওই এলাকার বাইরে ১০ হেক্টরের উর্দ্ধে যেসব জলকর তাদের
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য׀ ছোট ছোট খামারের চাষীরা যৌথভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের
উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারেন׀ |
৭) রোগের প্রাদুর্ভাব হলে পাশাপাশি যত চিংড়ি চাষী আছেন
তাদের খামারে জল পরিবর্তন কর্মসূচী স্থগিত রাখতে হবে এবং জাল, নৌকো, পাম্প,
কৃত্রিম জলাধার, বালতি, হাঁড়ি ইত্যাদি যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে সাময়িকভাবে
বিরত থাকতে হবে׀ কেননা কীসের থেকে কখন এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ হবে
বলা যায় না׀ |
৮) এইসময় খাবার পরিবেশন হ্রাস করতে হবে এবং জলের গুণমান
বজায় রাখার সবরকম চেষ্টা করতে হবে׀ তাহলে জল পরিবর্তনের প্রয়োজন হবেনা׀
পি.এইচ. ৭.৫ এর ওপর রাখা দরকার
হলে চূণ প্রয়োগ করা যেতে পারে׀ |
একটা খামার থেকে আরেকটা খামারে যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে সেই
উদ্দেশ্যে সমস্ত নিকটবর্তী চাষীরা / পুকুরের মালিকরা মিলেমিশে একটি সাধারণ
কর্মসূচী পালন করতে পারেন׀ |

|
চিংড়ির চাষে জল ও মাটির
গুণাগুণ |
১) অল্প সংখ্যক চিংড়ীর চারা এবং কম পরিমাণে আহারদান-
যথেষ্ট পরিমাণ জৈব পদার্থ জলাশয়ের তলায় জমতে দেয় না׀ যাই হোক চিংড়ী চারার
উপযুক্ত জীবন ধারন এবং বেঁচে থাকার জন্য জলাশয়ের তলাকার মাটিকে বিশেষ অবস্থায়
নিয়ে আসতে হবে׀ সবচেয়ে ভাল উপায় হল পুকুর বা জলাশয়কে সম্পূর্ণ শুকনো করে
ফেলা׀ এ অবস্থা জৈব পদার্থের সঙ্গে খনিজ পদার্থে সংযোগ ( mineralisation of organic)
ঘটাবে׀
২) মাটির pH (অম্লত্ব
বা ক্ষারত্ব পরিমান) সংশোধনের ক্ষেত্রে চুন প্রয়োগ একটি ভাল উপায়׀ এটা
জীবানু নাশকও বটে׀ জমিতে অন্য খনিজ উপাদানের সংযোগ ঘটাতেও সাহায্য করে׀ যদি
মাটির pH এর মান ৭.৫ এর নীচে না থাকে
তাহলে কমপক্ষে ৩০০-৫০০ কিলো চুন প্রতি হেক্টরে দেওয়া যেতে পারে׀ মাটির pH এর মান যেখানে কম অর্থাত যেখানে মাটির pH এর মান ৩ সেখানে কি ধরনের চুন ব্যবহার করা
হবে, তার উপর নির্ভর করে চুন প্রয়োগ করতে হবে׀ কি ভাবে মাটিতে পাথুরে চুন এবং ভেজা
মেশানো চুন ব্যবহার হবে তার নির্দেশ বর্ণিত হল׀
|
মাটির পি.এইচ (pH) |
পোড়া চুন * (টন/হেঃ) |
ভেজা চুন**(টন/হেঃ) |
৫.০ |
৯.২ |
১৭.০ |
৫.৫ |
৬.৯ |
১২.৭ |
৬.০ |
৪.৬ |
৮.৫ |
৬.৫ |
২.৩ |
৪.২ |
*পুকুর তৈরীর
সময়
**চাষের সময় | |
সার প্রয়োগের মাত্রা (যা মাটির জৈব কার্বণের পরিমাণের ওপর
নির্ভর করে) |
মাটিতে জৈব কার্বণ (%) |
কাঁচা গোবর (কেজি/হেঃ) |
শুকনো মুরগীর লিটার (কেজি/হেঃ) |
১ |
৫০০ |
১৭৫ |
০.৫ |
১০০০ |
৩৫০ |
০.২৫ |
২০০০ |
৭০০ | |
৪) একই ভাবে মাটির নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস এর পরিমাণের ওপর
নির্ভর করে রাসায়নিক সার দেওয়া যেতে পারে׀ |
পর্যাপ্ত নাইট্রোজেনের উপর নির্ভর করে ইউরিয়ার
ব্যবহার |
মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন
(মি.গ্রা/১০০গ্রা. মাটি) |
ইউরিয়ার ব্যবহার (কেজি/হেঃ) |
১২.৫ |
১০০ |
২.৫০ |
৫০ |
৫০.০ |
২৫ | |
|
পর্যাপ্ত ফসফরাসের উপর নির্ভর করে সুপার ফসফেটের
ব্যবহার |
মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন
(মি.গ্রা./১০০গ্রা. মাটি) |
ইউরিয়ার ব্যবহার (কেজি/হেঃ) |
১.৫ |
১০০ |
৩.০ |
৫০ |
৬.০ |
২৫ | |
| |
|

|
খামারের তথ্য সংরক্ষণ |
খামার পরিচালনার যাবতীয় তথ্য নথিবদ্ধ করা এবং তা সংরক্ষণ
করা প্রয়োজনীয় এবং মূল্যবান অভ্যাস׀ চাষের খামারে গোটা পরিবেশে এবং
কার্যসূচীতে কোথায় কখন কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং কেমন করে তা সামলানো হচ্ছে
সমস্ত নথিবদ্ধ করে রাখা উচিত׀ সুস্থ, উন্নতমানের, উচ্চফলনশীল চিংড়ির খামার
চালানোর জন্য সমস্ত তথ্য আদ্যোপান্ত লিখে রাখলে বরাবর তার সাহায্য নেওয়া
যাবে׀ ভবিষ্যত চাষে ঝুঁকিও কমে যাবে׀ অনেক আগের থাকতে একটা
পরিচ্ছন্ন পরিচালন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা যাবে׀ মজুতের পরিমাণও
নির্ধারণ করা যাবে׀ |
এইধরণের খামারের নথিতে থাকবে পুকুরের প্রস্তুতি, চারা
নির্বাচন ও মজুতকরণ׀ খামারের তদারকি, জলের গুণাগুণ ক্রম এবং তার
তত্বাবধান, পুকুরের তলদেশে প্রস্তুত এবং রক্ষণাবেক্ষণ, মাছের স্বাস্থ্যে এবং
বাড়ের তথ্যাদি এবং সবশেষ ফসল তোলা এবং ফলাফল׀ একটি চার্ট এইজন্য
ব্যবহার করতে হবে׀ |
|

|